

Buy যেখানে রোদেরা ঘুমায় Online in Bangladesh
লেখক: শরীফুল হাসান
- Author: শরীফুল হাসান
- Publisher: চিরকুট
- Number Of Pages: 320
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
নব্বইয়ের দশকের সময় নিয়ে উঠে আসা গল্পগুলোতে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় সাংসরিক টানাপোড়েনে চলা জীবনের চিত্র৷ এর বাহিরেও সমাজে অন্য আর দশজন রয়েছে, তারা থেকে যায় আড়ালে। তাদের নিয়ে যে গল্প লেখা হয়নি তা কিন্তু নয়। হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু উল্লেখ করার মতো খুব বেশি বই আমাদের হাতে নেই৷ বর্তমান সময়ে তরুণ লেখকদের অন্যতম জনপ্রিয় লেখক এবং বাংলা সাহিত্যে সামাজিক থ্রিলারের অগ্রদূত শরীফুল হাসানের নতুন উপন্যাসে উঠে এসেছে নব্বই দশকের এক মফস্বলের কিছু মানুষের চিত্র৷ যাদের জীবনে সাংসরিক টানাপোড়ন ছাপিয়ে থাকে জীবনের টানাপোড়ন৷ যাদের বেঁচে থাকতে হয় অন্যদের দমিয়ে। পাশার দান হাত বদল হয়ে গেলে লুকিয়ে পরতে হয় লোকচক্ষুর আড়ালে। 'মেঘ বিষাদের গল্প' কিংবা 'ছায়া সময়', শরীফুল হাসান প্রমাণ করেছেন এই জনরায় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেটা নিয়ে যে কোনো ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও তা মুছে দিবে "যেখানে রোদেরা ঘুমায়"। যারা বইয়ের অক্ষরে ডুব দিয়ে হারিয়ে যেতে চান অচেনা মফস্বলের প্রান্তরে৷ তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

অসাধারণ একটি গল্প। গল্পটা সমকালীন হলেও থ্রিলার অনেকটাই থ্রিলারে ভরপুর ছিলো। তবে শেষ টার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ। কিন্তু কি আর করার তবে আমি সত্যিই চাই বইটার আরেকটা খন্ড বের হোক। এই বইটার সমস্ত কষ্ট অই খন্ডে মিলিয়ে যাক। যারা সমকালীন সামাজিক প্লাস থ্রিলার গল্প পড়তে ভালোবাসেন তারা নিশ্চিতে বইটা নিতে পারেন।
Matro shesh korlam pora. Amar bolar kisu nei shudhui ekta dirgho shas

#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বই: যেখানে রোদেরা ঘুমায় লেখক : শরীফুল হাসান জনরা : সমকালীন প্রকাশনী : চিরকুট প্রকাশনী "তারপর সব ক্লান্তি শেষে তুমি আর আমি যাবো অনেক দূর কোনো দেশে যেখানে পাখিরা হাসে যেখানে জোসনা নিভে গেলে, চাঁদ নেমে আসে নিচে, যেখানে রোদেরা ঘুমায়"। ⏩ রাজনীতি এবং ভালোবাসা দুইটা ভিন্ন জিনিস হলেও এই দুইটা কিন্তু মানুষের জীবন অস্ফুট ভাবে পরিবর্তন করে দিতে পারে। "যেখানে রোদেরা ঘুমায়" তেমনই এক উপন্যাস যেখানে নব্বই দশকের নষ্টালজিক সময়ের শেষ টুকু তুলে ধরা হয়েছে রাজনৈতিক দিক, ভালোবাসা,ক্ষমতা, হত্যা, সব কিছুর প্রেক্ষাপটকে ঘিরে। ⚠️ [বই সারসংক্ষেপ] দক্ষিনাঞ্চলের ছোটোখাটো এক মফস্বল শহর মির্জাপুরের, শংকরপুর এলাকায় বেড়ে উঠা এক উঠতী তাগড়া তরুন যুবক, ঝাকড়া চুলের শ্যামলা বর্ণের চেহারা, চোখ দুটো বড় বড়,স্বচ্ছ কালো চোখের মনি, শরীর ভর্তি সাহস, যার মধ্যে ভয়ভীতি নাই বললেই চলে, নাম তার ইফতেখার উদ্দিন রুপু,বয়স ২৫ মাত্র !! যাকে সবাই দক্ষিনাঞ্চল এর নাম্বার ওয়ান ত্রাশ হিসেবেই চিনে। যার নাম শুনলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শত্রুর পক্ষেরও মনে আতঙ্কে লেগে যায়। দক্ষিনাঞ্চলের এই এলাকায়, চোরাচালান, ড্রাগস থেকে শুরু করে, সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করে রুপু ও তার গ্যাং এর পুলাপাইন। দক্ষিনাঞ্চলে কোন এলাকায় কোথায় কি হবে, পুলিশি ঝামেলা থেকে শুরু করে থানার কোন এসপি থাকবে, কার বদলি কোথায় হবে সবই হয় রুপুর ইশারায়। ⏩ রুপু তার পরিবারের মেঝো ছেলে। বড় ভাই এর নাম অপু এবং ছোট ভাই এর নাম বিপু। ছোট থাকতেই রুপুর বাবা পরলোক গমন করেন। এর পরে থেকেই মা ও ভাইদের এবং বন্ধুদের সাথেই তার বেড়ে উঠা । বড় ভাই অপুর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও রুপুর বিন্দুমাত্রও ছিলো না। আর পড়াশোনার প্রতি এই অনীহা থেকেই ধীরে ধীরে রুপু নিজের পথ নিজে বেছে নেয়!! তার মত বিপুও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে তার পথে যোগ দেয়৷ রুপু এমন এমন সাহসী সব কাজ করে ফেলে এবং গ্যাং তৈরি করে মির্জাপুরে নিজের জায়গা তৈরি করে নেয়। সব কিছুর পরেও সে মির্জাপুরে অনেক জনপ্রিয় গ্যাংস্টার হিসেবে খ্যাত, দারুন জনপ্রিয়তা তার। সবাই তাকে ভালোবাসে। সবাই তাকে অনেক বেশি পছন্দ করে, সম্মানও দেয় ৷ কিন্তু এতো কিছু পরেও রুপুর হাত যেনো থাকে বাধা থাকার মতন, তাকেও উপর মহলের কেউ একজন নিয়ন্ত্রন করে। সে আর কেউ নয় দক্ষিনাঞ্চল এর মন্ত্রী জামাল খন্দকার । জামাল খন্দকার এর সকল কাজ কর্ম রুপুকে দিয়েই করায়। কিন্তু রুপু এইটাও ভালো করেই জানে কোনোভাবেই রুপুকে কেউ টপকাতে পারবে না কারন রুপুর মত এমন জনপ্রিয় আর দুর্দান্ত সাহসী যুবক আর কোথাও খুজে পাবে না। ⏩ একদিকে রুপু অন্যদিকে জামাল খন্দকার এর সকল অনৈতিক ব্যবসা বানিজ্য দেখা করা দুই বন্ধু শফিক আর মিলনকে নিয়ে। সবই ঠিকঠাক চলছিলো। দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে ঘুরাঘুরি করা আর মদ, সিগারেট খাওয়া আর গুন্ডামি করা এই ছন্নহারা রুপুর জীবনে এরই মধ্যে হঠাৎ করেই উদয় এক ভালোবাসা, যার নাম অনিন্দিতা। কিন্তু এইখানেই ঘটে গেলো সব চেয়ে বড় এক বিপত্তি। অনিন্দিতা এবং রুপুর মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মন্ত্রী জামাল খন্দকার!! কিন্তু কেনো? তা জানতে হলে পাঠকে শেষ পর্যন্ত উপন্যাসের পাতায় চোখ বুলাতে হবে। ⚠️[ উপন্যাসের চরিত্রায়ন ] ⏩ [মিলন, শফিক] বন্ধুত্বের বিশ্বস্ততার আরেক নাম মিলন ও শফিক। পুরো উপন্যাসে সবাই রুপুকে ছেড়ে গেলেও এই দুইটা মানুষ রুপুকে কখনো একা ছাড়েনি। বাচলে এক সাথে বাচবে মরলে এক সাথে মরবে। রুপু তার সকল কাজে তার এই দুই বন্ধুকে সব সময় পাশে রাখে। কিছু খেতে হলেও এক সাথে আর ঘুরাঘুরি হলেও এক সাথে মোটর সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পরে। যত বাধা বিপত্তি আসুক রুপুকে তারা একা ছাড়ে না। উপন্যাসে দুইটা চরিত্র পদে পদে মুগ্ধ করবে। ⏩ [অনিন্দিতা] উপন্যাসের অন্যতম এক চরিত্র অনি( অনিন্দিতা)। সদ্য ইন্টারে ভর্তি পড়ুয়া এক ছিপছাপ সুন্দর গঠনের মেয়ে বাবার সাথে দক্ষিনাঞ্চল শহর এর শংকরপুর এলাকায় থাকে। অনিন্দিতা একা একাই বড় হয়েছে, ছোট থাকতেই তার মা মারা যায়। কলেজে পড়া কালীনই রুপুর সাথে পরিচয় এবং এক পর্যায়ে প্রেম হয় অনিন্দিতার। কিন্তু কে জানতো এই কাজই তাদের জীবনে এক দুর্বিষহ ভয়াবহ পরিনাম নিয়ে আসবে। ⏩ [জামাল খন্দকার] দক্ষিনাঞ্চলের মন্ত্রী জামাল খন্দকার, যিনি বেশির ভাগ সময়ই ঢাকা থাকেন। ঢাকায় থেকে তিনি সব কিছু পরিচালনা করেন। চালাক চতুর এই মানুষ খুব বুদ্ধি খাটিয়ে তার সব কিছু নিয়ন্ত্রনে রাখেন। কখন কাকে কিভাবে টপকাতে হয়, কাকে কিভাবে ফাসাতে হয় তা তিনি আগে থেকেই ছক একে রাখেন। কাকে কোথায় বসাবেন আর কিভাবে নামাবেন এইটাও তিনি হিসেব কষে রাখেন। তার সবকিছু তেই প্ল্যান বি, সি রেডি করা থাকে। তার আদেশেই রুপু পুরো মির্জাপুর ত্রাশ করে বেড়ায়। কিন্তু শেষ পরিনতি? ⏩ [মানিক মিয়া] জামাল খন্দকার এর অন্যতম বিশেষ ব্যক্তি মানিক মিয়া। জামাল খন্দকার এর ডান হাত বলা যায়। সব সময় পাশে থাকে। জামাল খন্দকার সব কাজ তার হাতের মাধ্যমেই বেয়ে যায়। রুপুর সাথে তার সখ্যতা ভালো কিন্তু দিন শেষে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাবার গুটিও পরিবর্তন হয়ে যায়। ⏩ [সাজ্জাত হোসেন] ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চান্ন। অনিন্দিতার বাবা সাজ্জাত হোসেন পেশায় একজন হাইকোর্টের দাপুটে এক উকিল । সকল ধরনের আইনি মামলা তিনি সহজেই সমাধান করে দিতে পারেন। মন্ত্রী জামাল খন্দকার এর একমাত্র প্রিয় বন্ধু সাজ্জাত হোসেন। মন্ত্রী সাহেবের যত ধরনের খুন খারাবি সমস্যা হয় সব কিছুর সমাধান সাজ্জাত হোসেন করে দেন৷ ⏩ [নিবিড়] সদ্য কলেজ ভর্তি হওয়া এক ভদ্র ছেলে নিবিড়। শংকরপুর এলাকায় নতুন এসেছে। কলেজের প্রথম থেকেই অনিন্দিতার সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব। নিবিড় কবিতা লিখতে ভালোবাসে। তার সব কবিতা সে খাতায় লিখে রাখে। এরই মধ্যে হঠাৎ নিবিড় এর মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা শুরু করে। কথায় আছে না, সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। তেমনি নিবিড় ক্লাসের বাজে ছেলেদের সাথে মিশে বাজে নেশায় আসক্ত হয়ে যায়, ক্লাসও কম করে এবং একটা সময় পরে বুঝতে পারে সে অনিন্দিতা কে পছন্দ করে ভালোবাসে। কিন্তু এর শেষ পরিনতি?? ⏩ [ জাহাঙ্গীর ] কলেজ লাইফে জাহাঙ্গীর হচ্ছে নিবিড় এর খুব ভালো বন্ধু। নিবিড় এর সব সমস্যা তেই জাহাঙ্গীর এগিয়ে আসে। কেউ কিছু বললে তেরে আসে তাকে মারতে। নিবিড় এর কোনো রকম কষ্ট জাহাঙ্গীর দেখতে পারে না। কিন্তু কে জানতো কোনো এক কালো রাতে দুইজনের জীবননেই ভীষণ এক অন্ধকার নেমে আসবে । ⚠️ [পাঠপ্রতিক্রিয়া] ⏩ "যেখানে রোদেরা ঘুমায়" ৩০৪ পৃষ্ঠার এই বই পড়ে খুব একটা হতাশ হইনি তবে এইটুকুন বলবো খুব বেশি আগ্রহ নিয়ে এই বই না পড়ে নরমালি ভাবে বইটা পড়লে অরিজিনাল ফিল পাওয়া যাবে । বইটা ভিন্নরকম এক সমকালীন ও লষ্টালজিক সময়ের উপন্যাস বলা যায়। যেখানে প্রেম, ভালোবাসা, ক্ষমতা, লোভ, বিশ্বাসঘাতকতা, খুন খারাবি, সব কিছুর'ই দেখা মিলবে পাঠকের। লেখক তার কলমের খুচায় নব্বই দশকের শেষ ভাগের দক্ষিনাঞ্চল এর মফস্বল শহরের এক খন্ড প্রামান্যচিত্র তুলে ধরেছে। উপন্যাস পড়ার সময় জেমস এর গান, আর সালমান শাহ এর ছবি কথা যখন আসবে আপনার মনে অন্যরকম এক অনুভূতি জাগিয়ে দিয়ে যাবে। মনে হবে যে আপনি তখনকার সময়ে আছেন। তবে এই বই পড়ার সময় কিছুটা বিরক্তিকর ও এক ঘেয়েমিও কাজ করবে। তবে বিরক্তিকর আর এক ঘেয়েমি এক পাশে রেখে বইটা পড়লে আশা করি ভালো লাগবে। ⚠️ আর লেখকের কথা যদি বলি উনি মনে হয় অনেক বেশি হিন্দি, তামিল থ্রিলার মুভি দেখেছেন। বই পড়ার সময় অনেকটা এমনই মনে হতে পারে অনেকের।যেমন আমার মনে হয়েছে কিছু কিছু কাহিনি পড়ে। ⏩ লেখকের লিখার কিছু কিছু জায়গায় অল্প একটু ত্রুটিও রয়েছে, যেমন উপন্যাস শুরুর দিকে প্র্যায় চ্যাপ্টার গুলাতে বার বার বৃষ্টির পড়ার কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে যেটা আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়েছে আবার নাটক সিনেমার মত কলেজে গিয়ে এক দেখাতেই ভালোবেসে ফেলা এইটাও কেমন জানি লাগলো! আবার রুপুর প্রেমিকা অনিন্দিতা হুটহাট হয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার পরে অনিন্দিতা কোথায় আছে তার কোনো রকম ঠিকানা না পেয়েও কিভাবে তাকে খুজে বের করা হয়েছে এইটাও স্পষ্ট ভাবে লেখক বলেনি। পরিশেষে যদি বলি সব এক ঘেয়েমি বিরক্তিকর বিষয় গুলো বাদ দিয়ে যদি বইটা পড়েন আশা করি হতাশ হবেন না!! মফস্বল শহরে বেড়ে উঠা এক তাগড়া যুবকের দাপটের কাহিনি থেকে শুরু করে, রাজনীতি, হিংসা, ক্ষমতা লোভ ভালোবাসা সবই দেখতে পারবেন এই বইয়ে। ⏩ ব্যাক্তিগত মতামত : রেটিং ৩.৯/৫
Like i thought that this book will me tragic with magic . But it was more than my expectation . and this was a fantastic thriller book i have ever read in my whole life

আমার পড়া প্রিয় উপন্যাসের মধ্যে একটি! থ্রিলার না হয়েও এত্তো সুন্দর টান রাখা যে যায় তা চিন্তাও করি না। বেস্ট!!!!!
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটির পৃষ্ঠার সংখ্যা কত
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা 320। ধন্যবাদ।
বইটির পৃষ্ঠার সংখ্যা কত
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা 320। ধন্যবাদ।






















