

Buy ইথাকা Online in Bangladesh
লেখক: জাহিদ হোসেন
- Author: জাহিদ হোসেন
- Publisher: আফসার ব্রাদার্স
- Isbn: 9789849746430
- Number Of Pages: 208
- Language: বাংলা
- Edition: ৩য় মুদ্রণ,মে ২০২৫
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
কাহিনিটা এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ সময়ের। তখনো বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। তখনো এ ভূখন্ড পরিচিত পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। এই কাহিনির কর্তা লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি প্রাপ্ত নেওয়াজ চৌধুরী। নেওয়াজ চৌধুরী মানুষটা একটু বেয়াড়া রকমের অদ্ভুত। জন্ম, বেড়ে ওঠা সব বাংলাদেশে হলেও চিন্তাচেতনা-ধ্যানধারণায় তিনি বিলাতী সাহেব। জীবনযাপন করেন সাহেবদের মতোই। খানিকটা ছিটেল। খানিকটা খামখেয়ালী। আর একটু বেশি মাত্রায় বাতিকগ্রস্ত। তার দুর্বলতা বলতে একটাই। মানুষ নয়, জড়বস্তু। লাল টকটকে টেলিফোন বুথ। ঘটনাক্রমে তাদের শাঁখারীবাজারের বাড়ির নাকের ডগায় একটা টেলিফোন বুথ বসানো হয়। এটা মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে পাঠানো উপহার। জানা যায় স্বয়ং কিংবদন্তিতুল্য এফবিআই চিফ জে এডগার হুভারের ব্রেনচাইল্ড এই বুথ। শুধু বাংলাদেশেই নয়। বুথ বসানো হয় ভারতে, পাকিস্তানে, নেপালে, শ্রীলঙ্কায়। তারপর নেওয়াজ চৌধুরীর জীবন আমূল পাল্টে যায়। ছিটগ্রস্ততা, বাতিকগ্রস্ততা মাত্রাতিরিক্তভাবে বাড়ে। তেরপল টাঙ্গিয়ে খোলা মাঠে ব্যারিস্টারি শুরু করেন। মানুষজন উপহাস করে তার নাম দেয়ঃ তেরপল ব্যারিস্টার। উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশ গিয়ে হঠাৎই পুরনো ইতিহাস সামনে এসে পড়ে ব্যারিস্টারের পৌত্র জায়েদ চৌধুরীর। আচমকা সাক্ষাৎ হয় ব্যারিস্টারের ছোট বোনের সাথে। কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে পড়ে সাক্ষাৎ কঙ্কাল! অনুসন্ধানে লেগে পড়ে ও। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে রহস্যময় অন্তর্ধান ঘটেছিল ব্যারিস্টার পত্নী সুফিয়ার। তাকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যান স্বয়ং নেওয়াজ চৌধুরীও। কোথায় হারান তারা? জানা যায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়টুকুতে আঁতিপাঁতি করে কিছু একটা খুঁজছিলেন দু’জন। দেশের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন, গেছেন দেশের বাইরেও। কী খুঁজছিলেন দু’জন? ইতিহাসের অলিগলি পেরিয়ে, বাংলাদেশের অভ্যুদ্দয়ের উত্তালপর্ব মাড়িয়ে যে উত্তরটা সামনে বেরিয়ে আসে তা কি ভাবতে পেরেছিল কেউ? ইথাকা আত পরিচয়ের এক অনুপম কাহিনি, আত্ম অনুসন্ধানের এক অভিনব যাত্রা। গ্রীক বীর ওডিসিয়াস ট্রয় যুদ্ধ শেষে পর্বতসমান বাঁধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি ইথাকায় পা দিতে পেরেছিলেন। এ উপন্যাসের পাত্রপাত্রীরাও কি পারবে আত্মঅনুসন্ধানের এ অভিনব যাত্রার সমাপ্তিতে নিজেকে খুঁজে পেতে?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

One of the best one, but the ending could have been better!
বইটি পড়ে দারুন লেগেছে। লেখকের অন্যান্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে আমার।

"বায়ন্নোর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের কথা পেপার-পত্রিকায় বলে না, মনে আছে? সালাম, রফিক, জব্বার এবং নাম না জানা অনেকে? আমরা হইলাম এই 'নাম না জানা অনেকে'।" কতো কিছুতেই তো আকর্ষণ জন্মায় আমাদের। কখনো ফোন বুথের প্রতি আকর্ষণ জন্মেছে কি? তেরপল ব্যারিস্টারের ছিলো সে আকর্ষণ। বিলেতি কায়দায় চলাফেরা করা এ ব্যারিস্টার ফোন বুথকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতেন, লিখালিখি করতেন তা নিয়ে। বদ্ধ ঘরে থাকতে পারতেন না ব্যারিস্টার। কোর্টের খোলা জায়গায় বসতেন ফাইল পত্তর নিয়ে। সেই লোক একদিন উধাও হয়ে গেলেন, হারানো স্ত্রীকে খুঁজতে গিয়ে! কোথায় হারালেন তারা? অনুসন্ধানের এ যাত্রায় নেমে পড়ে জায়েদ চৌধুরী, ব্যারিস্টারের নাতি। সত্যি বলতে, বইটা যখন শুরু করেছি তখন এতোটা ইনভলভ্ হবো, ধারণা করিনি। কাহিনীর বীজ বাড়িতে বুনন হয়ে, শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে চলে গেছে তিব্বতে কিংবা দার্জিলিংয়ে, সংস্পর্শ পেয়েছে আমেরিকারও এবং শেষে আবার বাড়ির শিকড়েই ফিরে এসেছে। • ডায়েরি, বয়ান ও অন্যান্য: বইটার একটা বিশেষ অংশ জুড়ে আছে ডায়েরি, স্মৃতিচারমূলক কথা ও লেখা। শুরুটা হয় দাদার মৃত বোনের ডায়েরি থেকে এবং পরে তখনকার সময়ের বৃদ্ধ মানুষ কিংবা পরিবারেরই কোনো জীবিত সদস্যের বয়ানে অনেক কথাই উঠে আসে। এমন নয় যে, পাঠককে অপেক্ষা করতে হয়েছে। বরং একাংশ জানার পরই উপন্যাসের পরের অধ্যায়ে অন্য মাধ্যমে এর পরের অংশ পাঠককে বলা হয়েছে। তবে এক পর্যায়ে অবশ্য মনে হয়েছিলো, জায়েদ চরিত্রটার জন্য সব তথ্য এতোটা সহজলভ্য করে দেয়া উচিৎ হয়নি লেখকের। কিছু ক্ষেত্রে কাজটা আরেকটু কঠিন করা যেতো তার জন্য। • চরিত্র বিশ্লেষণ ও রেফারেন্স: বইয়ে চরিত্র সংখ্যা অনেক, তবে মূল চরিত্র ও গল্পকথক জায়েদ চৌধুরী। তার এ যাত্রায় সাথে ছিলো লিজি। ইন্টারেস্টিং চরিত্র এবং ক্ষেত্রবিশেষে বেশ গুরুত্বপূর্ণও। বাকি সবাই বলতে গেলে পার্শ্বচরিত্র। চরিত্রগুলোর মাঝে একই পরিবারের সদস্য আছে বেশ কয়েকজন। প্রথমে ভেবেছিলাম, বড়সড় এই পরিবার নিয়ে পড়তে গেলে হয়তো সম্পর্ক আর নামে গুলিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু না, লেখক যার চরিত্রের যতোটা গুরুত্ব প্রয়োজন ততোটাই দিয়েছেন। আচ্ছা আরো দু'জন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আছে কিন্তু; দাদাজান নেওয়াজ চৌধুরী ও দাদি সুফিয়া। চরিত্র দুটির কোনো সংলাপ নেই, নেই তাদের নিয়ে প্রত্যক্ষ ঘটনা। তাদের কথা উপন্যাসে এসেছে শুধু ডায়েরিতে, পার্শ্বচরিত্রের সংলাপে, বর্ণিত ঘটনায়। তাও লেখক এই দুই চরিত্রকে বেশ শক্তপোক্ত গঠনে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। তবে হ্যাঁ, কিছু চরিত্র এমন ছিলো, প্রয়োজন যাদের নাম এসেছে। কিন্তু কিভাবে এসেছে তার বিস্তর কোনো ব্যাখ্যা নেই। বন্ধু কিংবা পরিচিত কারো সাথে কথপোকথন থেকে নাম এসেছে আমরা জানি, তবে সেই কথপোকথন বিস্তর করেননি লেখক। নাম আসা এসকল চরিত্রের কেউ পুরোনো পুস্তক-পত্রিকা ঘেঁটে, কেউবা স্মৃতির পাতা থেকে সাহায্য করেছে জায়েদকে। তাই, এসকল চরিত্রকে খুঁজে পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় চরিত্রকে আরেকটু ভাগদৌড় করতে দেখলে বোধয় ভালো লাগতো আমার। • লেখনশৈলী: লেখক জাহিদ হোসেনের লেখা এই প্রথম পড়ছি। যদিও লেখকের নাম প্রথমবার শুনেছিলাম 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' বইটার মাধ্যমে। মানতেই হয়, লেখকের লেখনশৈলীতে দম আছে। বইয়ের লেখার গতি কোথাও স্থির ছিলো না, এগিয়েছে খরস্রোতা নদীর মতো। তাই পাঠকের একঘেয়েমির কোনো সুযোগ নেই এখানে। গল্পটাকে ব্রিস্টেল থেকে শুরু হয়ে মুক্তিযুদ্ধ, দেশের পরিবেশ, ভ্রমণ সবটা ঘুরে এমন এক জায়গায় এসে থামানোর সাধ্য কেবল ভালো লেখার মাধ্যমেই সম্ভব। • ভ্রান্তি: বইটার এই মুদ্রনে বানান ভুল তেমন একটা চোখে লাগেনি। তবে কয়েকটা শব্দের ব্যবহার হয়তো বিভ্রান্তিকর। যেমন; 'জুই ফুফুর বয়ান' অংশটা বইটার ৮৭ পৃষ্ঠা হতে ৯৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিদ্যমান। পৃষ্ঠা ৯৪ এর প্রথম বাক্যেই 'দাদাজান' শব্দের প্রয়োগটা সঠিক লাগেনি, কেনোনা জুই ফুফু এখানে যার কথা বলছে, তিনি সম্পর্কে তাঁর বাবা এবং এর আগের ও পরের অংশে 'আব্বা' বলেই সম্বোধন করা আছে। তাই ফুফুর বয়ানের মাঝে জায়েদ চৌধুরী নিজের অভিমত জানিয়েছে, এটা বলারও সুযোগ নেই। একইভাবে, স্থানের নাম নিয়ে একটা ভ্রান্তি আছে। নিখোঁজের তিনটি স্থান উল্লেখ করা হয়েছে; ঢাকা, দার্জিলিং, কাঠমান্ডু। তবে ১৭২ পৃষ্ঠায় যখন উপেন্দ্র মান সিংয়ের নাম এলো, তখন জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে 'দার্জিলিং'। এখানে সম্ভবত 'কাঠমান্ডু' হওয়ার কথা। কারণ, দার্জিলিং একবার উল্লেখ করা হয়েছে। 'ইথাকা' গ্রীক বীর ওডিসিয়াসের দ্বীপ। তাঁর বাড়ি। ট্রয়ের যুদ্ধ শেষে নিজ বাড়িতে ফিরতে তাঁর সময় লেগেছিলো দশ বছর। ইথাকা একটা বাড়ি ফেরার গল্প। কার বাড়ি ফেরা, সেটা বলবো না। ফেরার এ জার্নিটা বরং পাঠককে উপভোগ করতে দেই। • ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫ (বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটি বেশ ভালো। কাগজের মান ও প্রচ্ছদ একটা প্রিমিয়াম ফিল দেয়। অবশ্য একটা বুকমার্ক কিংবা ফিতা যুক্ত থাকলে আরো ভালো হতো। যারা রহস্যের জার্নিটা বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য ইথাকা উপভোগ্য একটি বই।) এক নজরে, • বই: ইথাকা • লেখক: জাহিদ হোসেন • ধরণ: থ্রিলার উপন্যাস • প্রকাশনী: আফসার ব্রাদার্স • প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০২৩ • প্রচ্ছদ: রোমেল বড়ুয়া • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৮ ~ ইয়াসির আল সাইফ

এই বইটা পড়ে।রিভিউ না দেয়া এক রকম অপরাধ৷ অসাধারণ!!! ৫/৫
Good Experience






















