

Buy ঘর Online in Bangladesh
লেখক: শারমিন আক্তার সাথী
- Author: শারমিন আক্তার সাথী
- Publisher: বইবাজার প্রকাশনী
- Number Of Pages: 432
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপের লেখা: আয়াত তনয়ার পাশে হাঁটছে। পাবলিক প্লেস বলে হাত ধরতে লজ্জা করছে দুজনারই। তবুও সংকোচ ভুলে আয়াত তনয়ার হাতটা ধরেই ফেলল। মৃদু হেসে তনয়াও আয়াতের আঙুলে নিজের আঙুল জড়িয়ে নিল। রাস্তার দুই পাশে বড় বড় গাছে ঘেরা। তপ্ত দুপুরেও বৃহদাকার গাছগুলো রাস্তাটাকে শীতল করে রেখেছে। একটা গাছে একটা পাখির বাসা দেখে তনয়া আঙুল উঁচিয়ে বলল, 'দেখো আয়াত পাখির ঘরটা কত সুন্দর?' 'হ্যাঁ সুন্দর। তার চেয়েও সুন্দর ওদের জোড়া। দেখবে পাখিরা শত বিপদেও একে অপরের সঙ্গ ছাড়ে না। যতই বাঁধা বিপত্তি আসুক ওদের ঘর থাকে সুখময়। ঠিক আমাদের মতো। ঝড় যতই আসুক আমরা সবসময় এক থাকব।' মৃদু হেসে তনয়া বলল, 'আর আমাদের ঘর!' 'আমাদের ঘর হবে স্বর্গসুখময় যেখানে বিলাসিতা না থাকুক কিন্তু সুখ পরিপূর্ণ থাকুক।' তনয়া আয়াতের হাত আর একটু শক্ত করে ধরে বলল, 'পূর্ণ হবে তো আমাদের শত বছর ঘর করার স্বপ্ন?' মৃদু হেসে আরো শক্ত করে তনয়ার হাত জড়িয়ে নিল আয়াত। মৃদু হাসল তনয়াও সাথে বোধ হয় মৃদু হাসল গাছের মগডালে থাকা পাখির জোড়াও। বহু দেশ ঘুরে ফিরে আমরা যতই নিজের চোখকে পরিতৃপ্ত করি না কেন, আসল শান্তি কিন্তু ঘরে ফেরার পরই হয়। বাহিরের পৃথিবী যতই সৌন্দর্যে ঘেরা হোক না কেন, ঘরের অপর নাম কিন্তু শান্তি। শত বছর এক সাথে ঘর করার স্বপ্ন দেখা, একে অপরের নেশায় আসক্ত দুটো প্রাণের স্নিগ্ধময়ী গল্প এ ঘর। কিন্তু তাদের ঘর করার স্বপ্ন সত্যি হবে তো? তারা কি বাঁধতে পারবে সুখের ঘর?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#ঘর #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ ঘর •লেখকঃ শারমিন আক্তার সাথী •ধরনঃ রোমান্টিক, সামাজিক •প্রকাশনীঃ বইবাজার প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ আরিফুল হাসান •মুদ্রিত মূল্যঃ ৬৭৫ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪২৪ •প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২২ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ ইদানিং আমার আগের মতো অবস্থা হয়েছে । আবার আগের মতো করে অনেক রাতে বই পড়তে ইচ্ছে করে । কিন্তু তখন এই আয়োজন করে বই পড়ার অভ্যাসটার কথা ভাবতে গিয়েই আর পড়া হয় না । দিনের বেলাই বই পড়তে শুরু করে দিতে হয় । বই পড়ার মাঝে আবার সামান্য একটু দূরত্ব এর পরে আজ হঠাৎ করে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো এই বইটা আজকেই পড়া উচিত । না পড়ে রেখে দিয়েছি তা এক বছর ছাড়িয়ে গেল । সেই হিসেবেই দুপুরের দিকে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম । একনাগাড়ে বইটি পড়তে পড়তে বিকেল, সন্ধ্যা’কে ছাপিয়ে রাতে চলে এল পৃথিবীটা । রাতের সৌন্দর্য আমার ভীষণ প্রিয় । যে বইগুলো আমার সাথে থেকে থেকে রাতের ছোঁয়া পায় সেই মুহূর্তগুলোকে আমার ভালো লাগে খুব । ♦নামকরণঃ ইট, চুন, সুড়কি দিয়ে হোক কিংবা কাঠ দিয়ে হোক একটা ছোট জায়গায় পরিবার নামক ছোট একটা পৃথিবীর সংস্করণ একসাথে থাকতে শুরু করে কয়েকটা দেয়ালের আড়ালে গিয়ে । সেই একেকটা দেয়াল একেকটা দেয়ালের সাথে যেভাবে আবদ্ধ হয়, মানুষগুলোও নিজের ভালো, মন্দ, সুখ, দুঃখ, কষ্ট’কে পাশে নিয়ে চলতে শুরু করে সারা জীবনের জন্য । হয়তো নির্জীব থাকা এই আবদ্ধ জায়গাটায় সবসময়ের স্মৃতিচারণা গুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে তাদের সাথে বন্ধুত্ব পাতায় । ঘর শুধু কতগুলো দেয়াল যেন নয়, কিছু মানুষের একসাথে থেকে আনন্দ, কষ্ট সব একসাথে রেখে ছড়িয়ে দিয়ে দেয়ার একটা জায়গা যেন । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ আয়াত তনয়ার পাশে হাঁটছে । আশেপাশে অনেক লোকজন বলে হাত ধরতে লজ্জা করছে দুজনারই । তবুও সংকোচ ভুলে আয়াত তনয়ার হাতটা ধরেই ফেলল । মৃদু হেসে তনয়াও আয়াতের আঙুলে নিজের আঙুল জড়িয়ে নিল । রাস্তার দুই পাশ বড় বড় গাছে ঘেরা । তপ্ত দুপুরেও বৃহদাকার গাছগুলো রাস্তাটাকে শীতল করে রেখেছে । একটা গাছের ডালে একটা পাখির বাসা দেখে তনয়া আঙুল উঁচিয়ে বলল, ‘দেখো আয়াত পাখির ঘরটা কত সুন্দর?’ ‘হ্যাঁ সুন্দর । তার চেয়েও সুন্দর ওদের জোড়া । দেখবে পাখিরা শত বিপদেও একে অপরের সঙ্গ ছাড়ে না । যতই বাঁধা বিপত্তি আসুক ওদের ঘর থাকে সুখময় । ঠিক আমাদের মতো । ঝড় যতই আসুক আমরা সবসময় এক থাকব ।’ মৃদু হেসে তনয়া বলল, ‘আর আমাদের ঘর!’ ‘আমাদের ঘর হবে স্বর্গসুখময় যেখানে বিলাসিতা না থাকুক কিন্তু সুখ পরিপূর্ণ থাকুক ।’ তনয়া আয়াতের হাত আরও একটু শক্ত করে ধরে বলল, ‘পূর্ণ হবে তো আমাদের শত বছর ঘর করার স্বপ্ন?' মৃদু হেসে আরো শক্ত করে তনয়ার হাত জড়িয়ে নিল আয়াত । মৃদু হাসল তনয়াও সাথে বোধ হয় মৃদু হাসল গাছের মগডালে থাকা পাখির জোড়াও । বহু দেশ ঘুরে ফিরে আমরা যতই নিজের চোখকে পরিতৃপ্ত করি না কেন, আসল শান্তি কিন্তু ঘরে ফেরার পরই হয় । বাহিরের পৃথিবী যতই সৌন্দর্যে ঘেরা হোক না কেন, ঘরের অপর নাম কিন্তু শান্তি । শত বছর এক সাথে ঘর করার স্বপ্ন দেখা, একে অপরের নেশায় আসক্ত দুটো প্রাণের স্নিগ্ধময়ী গল্প এ ‘ঘর’ । কিন্তু তাদের ঘর করার স্বপ্ন সত্যি হবে তো? তারা কী বাঁধতে পারবে সুখের ‘ঘর’? ♦প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদটি একনাগাড়ে দেখতে থাকলে মনে হয় যেন খুব নাটকীয় একটা ছাপ আছে প্রচ্ছদে । কিন্তু প্রচ্ছদটাকে নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে খুব কাছের গিয়ে মনে হয় । গাছপালা দিয়ে ঘেরা প্রচ্ছদটাকে একনাগাড়ে দেখলে ভালোই লাগে । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসের পটভূমিটা খুবই সাধারণ । তবে সাধারণ পটভূমি থাকা কোনো উপন্যাসে আসলে সবথেকে যেটি কঠিন সেটি হলো, সেই পটভূমিকেই কিভাবে উপস্থাপন করে ফুটিয়ে তুলতে হবে তা সেভাবে সাজানো । এই উপন্যাসটিতেও তাই তা খুবই মূখ্য ছিল । তবে খুব সহজ এবং সাধারণ ভাবেই সাজানো হয়েছে বিধায় ঘটনাপ্রবাহে হোক কিংবা জীবনধারায় হোক সেভাবে গভীরতা আসেনি । উপন্যাসে আবহের জায়গা তেমন একটা ছিল না । তবে যতটুকু ছিল, তা বেশ ভালো ছিল । উপন্যাসটিতে বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির থেকেও সংলাপের ছাপ বেশি থাকায় আবহ তেমন একটা আসেনি । তবে যেহেতু উপন্যাসের পটভূমিতে সরল এবং সোজা ভাবেই ঘটনাপ্রবাহ এসেছে একের পর এক, তাই উপন্যাসটি পড়তে বেশ লেগেছে । বেশ ঝরঝরে একটা ভাবাবেগ ছিল । তবে উপন্যাসের কিছু কিছু ঘটনাপ্রবাহে সামান্য নাটকীয়তা ছিল । নাটকীয়তার এই আবেগে আমি অবাক হয়েছি খুব । উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে তাই এই ধরনের ঘনঘটার ছাপ আমাকে অবাক করে দিলেও এই উপন্যাসের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মোড় বেশ ভালো ভাবে সাজানো হয়েছে । √যেহেতু উপন্যাসে সংলাপের আধিক্য বেশি, তাই উপন্যাসের চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতিতে গভীরতার জায়গা সামান্য কম । তবে উপন্যাসটিতে চরিত্র গঠন সংলাপের দিক থেকে যথাযথ ভাবেই এসেছে এবং তাদের উপস্থিতিও বেশ সুন্দর ভাবে এসেছে । বিশেষ করে তনয়া চরিত্র এর মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভালো ভাবে এসেছে । আয়াত চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে শেষের দিকে যখন তনয়া চরিত্রের বর্ণনা করা হচ্ছিল তখন তনয়া চরিত্রটিকে অসাধারণ মনে হচ্ছিল । আমাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে ঘটনার ঘনঘটায়, গাছের চিরাচরিত পাতা ঝরে পড়ার অভ্যাসের মতো চরিত্রের সমার্থক ওই বর্ণনা বেশ ভালো ভাবে এসেছে । নীলয় চরিত্রটিকে বেশ ধীরস্থির স্বভাবের, এবং সাথে সাথে পরিস্থিতি মিলে কাজ করা একজন মনে হয়েছে । উৎস নামক চরিত্রটি কম উপস্থিতি দিয়েও তাকে উপন্যাসে বেশ ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কারণ তার উপন্যাসে গঠন বেশ ভালো ছিল । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ বইবাজার প্রকাশনী এর বই আমার অনেকগুলো পড়া হয়ে গেল । তাদের প্রকাশনীর বই বাঁধাই দারুণ ভাবে হলেও বইতে টাইপিং মিস্টেক এর সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে একটু বেশিই থাকে । এই বইতেও সেভাবেই উপন্যাসের বাঁধাই বেশ ভালো ভাবে হলেও টাইপিং মিস্টেক বেশ অনেকগুলো আছে । এক্ষেত্রে চরিত্রগত টাইপিং মিস্টেকও ছিল । বইটির প্রচ্ছদটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক শারমিন আক্তার সাথী এর বই আমার খুবই কম পড়া হয়েছে । তার লিখনশৈলী এর সাথে পাঠক হিসেবে তেমন পরিচয় না থাকলেও বেশ কয়েকটা বই আমি পড়েছি । এই উপন্যাসটিতে যেহেতু সংলাপের আধিক্য বেশি বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির তুলনায়, সাথে সাথে সেজন্য আবহের জায়গাও কম তাই এই সংলাপে শব্দপ্রয়োগ দারুণভাবে করে বাক্যালাপের একটা দারুণ বিষয় ফুটিয়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার । কিন্তু এক্ষেত্রে শব্দপ্রয়োগ বেশ ভালো ভাবে হলেও বাক্যালাপ করতে গিয়ে তার মাঝে মাঝেই বেশ ভুল শব্দ এসেছে । বোধহয় টাইপিং মিস্টেক এর জন্য এই ধরনের সমস্যা হয়েছে । তাছাড়াও উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহে নাটকীয়তার পাশাপাশি চরিত্রগুলোর মধ্যে গভীরতার সামান্য ঘাটতি আমাকে অবাক করেছে । এছাড়াও উপন্যাসে দৃশ্যপট পরিবর্তন করে অন্য আরেকটা দৃশ্যপট পরিবর্তন এর মাঝের সময়টিতে বইয়ে কোনো ফাঁকা জায়গা রাখা হয়নি । যার ফলে একই সাথে দৃশ্যপট এসেছে বলে অস্বস্তি লেগেছে বলে আমার মনে হয়েছে । বিভিন্ন জলছাপের এই সমস্যা আশা করি মিটে যাবে । আশা করি এই সমস্যাগুলো ঠিক হয়ে যাবে । লেখক হিসেবে তিনি আরো অসাধারণ কিছু চরিত্র গঠন করার পাশাপাশি দারুণ সব উপন্যাস আমাদের পাঠকের সামনে ফুটিয়ে তুলবেন । তার জন্য শুভকামনা রইলো । ♦রেটিংঃ ৩.৬/৫ ♦উপসংহারঃ আবার একটা পূর্ণাঙ্গ রাতের শুরু একটা বই শেষ করতে করতে । এই মুহূর্তটা ভাবলেই আমার আগের পাঠক হয়ে থাকার কথা মনে পড়ে । যখন আমি রাতের এই সময়টিতে বই পড়তাম এবং বই পড়া শেষ হতো সকালের শুরু হবে হবে এমন সময়ে । পাঠক হিসেবে নিজের অনুভূতি প্রকাশে নিজেকে আজকাল বেশ ভালো লাগতে থাকে যেন । মনে হয় যেন, উপন্যাসে বিভিন্ন দৃশ্যপট যেন চোখের পলকে চলে যায়, কিন্তু এরকমই ঘটনা যেন যেতে আমাদের অনেকটা সময় চলে যায় । হয়তো অনেকগুলো বছর । এই বিষয়টা ভাবতে গেলে ধৈর্য কেনো যেন খুব বেড়ে যায় ।

আমার পড়া রোমান্টিক গল্পের মধ্যে 'ঘর' আমার কাছে সেরা মনে হয়েছে। ধন্যবাদ সাথী আপু ❤️
ঘর এক প্রশান্তির নাম। ঘর হয় দু'টো মনের, ঘর হয় একাধিক মানুষের। যদিও বাহ্যিক অর্থে ঘর বলতে আমরা বাসস্থানকেই বুঝি প্রকৃতপক্ষে ঘর বলতে দৃশ্যত ঘরই নয় দু'টো মানুষের আত্মার বন্ধনে আবদ্ধ সুখময় স্বপ্নভুবনকেও বুঝায়। কিন্তু লেখক শারমিন আক্তার সাথী তার ৪র্থ উপন্যাস "ঘর" বলতে কী বুঝিয়েছেন? উপন্যাসের প্রধান দুটো চরিত্র আয়াত এবং তনয়া। উপন্যাস প্রমোশন কিংবা অনলাইনে প্রকাশিত উপন্যাসের অংশে দেখা যায় তাদের মধ্যে কখনও প্রেম, কখনও বিরহ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত সব মিলিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর একটা উপন্যাসের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুর্দান্ত একটি উপন্যাস পাওয়ার অপেক্ষায় পাঠককূল। আশা করি কেউ নিরাশ হবে না।






















