

Buy এখানে রোদ নেই Online in Bangladesh
লেখক: মৌলী আখন্দ
- Author: মৌলী আখন্দ
- Publisher: ভূমিপ্রকাশ
- Number Of Pages: 176
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“এখানে রোদ নেই” চার বোনের গল্প। মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তি। দুই কন্যাসন্তানের পর পুত্রসন্তানের আশায় প্রেরণা আর সমাপ্তির জন্ম। বড়ো মেয়ে মোহনা অনেক ভালোবাসা পেয়েছে পরিবারের। কিন্তু যখন সে মেডিক্যালে চান্স পায় না, পরিবারের সাথে সম্পর্ক একদিকে হতে থাকে নড়বড়ে অন্যদিকে আসিফের সাথে বন্ধন হয়ে ওঠে পাকাপোক্ত। আসিফের ঘোর থেকে মোহনা বের হতে পারবে নাকি নিয়ে নেবে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত? সান্ত্বনার কিশোরী মনে স্বপ্ন থাকে লাল টুকটুকে বউ সেজে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ের পর তার জীবনে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। যে ঝড় তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুমুখে। কী হয় ছোট্ট সমাপ্তির? প্রেরণা কি পারবে এই বিধ্বস্ত পরিবারে প্রেরণার আলো নিয়ে আসতে? পরিবার ও সমাজের যে অন্ধকারময় কোণে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না, সেখানে কি এসে পৌঁছাবে এক টুকরো রোদ?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

চমৎকার
অনেক আগেই পড়েছিলাম বইটা... ভালো লেগেছে অনেক
‘এখানে রোদ নেই’— অন্ধকারে আলোকপাত ‘এখানে রোদ নেই’ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের চার মেয়ের নানামুখী বঞ্চনার জীবনগল্প। উত্তম পুরুষ এবং লেখকবয়ানের সুষম ব্যবহারে দুটো সমান্তরাল ধারায় কাহিনি এগিয়ে গেছে তরতর করে। আমাকে যদিও একাধিক বিচ্ছিন্ন পাঠে পুরোটা শেষ করতে হয়েছে, তবুও একথা স্বীকার করতে হবে যে মৌলী আখন্দের আর সব লেখার মতো এ লেখাটাও এক বসায় একটানে পড়ে ফেলার যোগ্য। লেখকের কাহিনি নির্মাণের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ইতিবাচক, আশাব্যঞ্জক সমাপ্তি। সে ধারায় ‘এখানে রোদ নেই’ এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। তবে এ ধরনের সমাপ্তিতে আসার পথটা পঙ্কিল হয়েছে কিছু সহৃদয়হৃদয়সংবেদী বিবরণ ও সংলাপের ছাপে। শুরুতে যে দুটো সমান্তরাল ধারার ইঙ্গিত দিয়েছি, তা মোহনা ও সান্ত্বনার জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছে। ‘এখানে রোদ নেই’-এর গল্পবিবরণ প্রধানত এ দুটি ধারাতেই বয়ে চলেছে সমাপ্তির পথে। সমাপ্তির অসুস্থতার ক্ষুদ্র আখ্যানভাগ গ্রহণের শিকার হয়েছে কোথায়? এ প্রশ্নের উত্তরেই নিহিত রয়েছে মোহনা আর সান্ত্বনার ঘটনার বিকাশ। এখানে উল্লেখ্য যে ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসকে চরিত্রপ্রধান উপন্যাস না বলে ঘটনাপ্রবণ উপন্যাস বলাই শ্রেয়। আমরা এ উপন্যাসে তিনটি পরিবার দেখি— মোহনাদের পরিবার, আসিফের পরিবার এবং নিয়াজের পরিবার। ময়মনসিংহের ব্যাংক অফিসারে মোজাম্মেল সাহেবের পরিবারে ছেলে নেই। চার মেয়ের ভাগ্য নিয়ে নাসরিনের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন অফিসার। মোহনা, সান্ত্বনা, প্রেরণা আর সমাপ্তিদের সচরাচর একটা প্রশ্নই কুরে খেত— “ভাই নেই?” এই নিদারুণ পুরুষতান্ত্রিক বাস্তবতার বেশিটারই সাক্ষ্য দিয়েছে প্রেরণা। তার জবানিতেই বারবার উঠে এসেছে পরিবারটির ভোগান্তি। পাড়াপ্রতিবেশী, পুরোনো-নতুন আত্মীয়স্বজন সকলেরই মুখে এই আশ্চর্য কৌতূহল আদিমতা ছড়িয়েছে। ঘরপরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত গড়িয়েছে ব্যাপারটা। কোনো পরিবারে ছেলেসন্তান না থাকতে যদি একের পর এক মেয়ের জন্ম হয়, তখন হাসপাতালের আল্ট্রাসনো রুমেও সে পরিমাণ সাবধানতা অবলম্বন করে মন্তব্য করা হয়ে থাকে। এ এক অদ্ভুত রঙ্গমঞ্চ, যেখানে মায়ের পেটে মেয়েশিশুর অস্তিত্ব জন্ম দেয় আশ্চর্য কূটনীতির— ছেলে না মেয়ে বোঝা যাচ্ছে না। একটি ছেলের আশায় পরপর মেয়েসন্তান জন্ম দিতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত পরিবারে শেষের দিকের সন্তানেরা অবহেলার শিকার হয়। সমাপ্তির ক্ষুদ্র আখ্যানেই তা প্রমাণিত। এই স্পর্শকাতর সংকট পরের দিকে মোহনার শ্বশুরবাড়িতেও হানা দিয়েছে— ভাই নাই, এমন জায়গায় বিয়ে হলো আমার ছেলের! পরিবারের প্রত্যাশা সন্তানের মাথায় বোঝার মতো চেপে বসার বাস্তবতা মোহনার আখ্যানে পরিলক্ষিত। তাকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু আমরা দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ছে সে। পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার নিয়ে পরিবারের প্রত্যাশা যে অমূলক, তার প্রকাশ ঘটেছে মোহনার প্রেমিক আসিফের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়লেও যে জীবন শেষ হয়ে যায় না, সে কথাই সে বলতে চেয়েছে একাধিকবার। মোহনা ক্যারিয়ারের মতো জীবনসঙ্গী নির্বাচনেও ব্যক্তিগত ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েছে। পরবর্তীতে প্রেমিক আসিফ আর জীবনসঙ্গী আসিফের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফারাক উঠে এসেছে মোহনার শ্বশুরালয়ের দিনগুলোতে। শুরুতে আসিফকে যতখানি নায়কোচিত লাগে, পরের দিকে যেন তা ফিকে হয়ে যায় পারিবেশিক প্রভাবে। কিন্তু শুধু পারিবেশিক প্রভাবের ওপর দায় চাপিয়ে দিলেই ব্যাপারটি ঠিক বার্তা দেয় না বোধকরি। এটা প্রকারান্তরে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাম্পত্যজীবনের প্রকৃত সমাজচিত্রই ফুটিয়ে তোলে। যথারীতি সেখানেও পুরুষশাসনের জয়জয়কার। মোহনা এবং আসিফের আখ্যানভাগের জরুরি একটি বিষয় হচ্ছে মোহনার আত্মনির্ভরশীল হবার ইচ্ছের প্রকাশ। সে শুরুতে কিছুদিন আসিফের টাকায় চললেও একপর্যায়ে নিজে কিছু করে উপার্জন করবার বাসনা প্রকাশ করে। মোহনা-আসিফের আখ্যানের একপর্যায়ে রোজার মাস প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন লেখক। যেহেতু সমান্তরালেই প্রেরণার বয়ানে মোজাম্মেল সাহেব এবং নাসরিনের সংসারের আখ্যান চলেছে, সেহেতু সেই সংসারেও রোজার মাসের বাস্তবতা তুলে ধরাটা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছি। এ ব্যাপারটি সম্ভবত ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের বড়ো খামতির জায়গা। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে এই বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিলে বোধহয় এ উপন্যাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশটিকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়। বোধকরি এ অংশেই উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা। ডেলাইট ফটোগ্রাফিতে রোদের আলোকেই লাইট সোর্স ধরা হয়। রোদ না থাকলে ডেলাইট ফটোগ্রাফি অর্থহীন। রোদ একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ আলোক উৎস। ‘এখানে রোদ নেই’ বলতে তাই ‘এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয় না’ বোঝানো হয়েছে। ঠিকই তো। সমকালীন সমাজবাস্তবতায় এক নবপরিণীতার শোবার ঘরে তারই সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে ‘নির্মম’ বলে আখ্যা দেবে এমন কে আছে? পাঠক, ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসে বৈবাহিক ধর্ষণের বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে। সমকালে আরও একাধিক উপন্যাসে আমি এ বিষয়ে পড়লেও ‘এখানে রোদ নেই’কে সবার ওপরে রাখব। কারণটা হচ্ছে ঘটনা পরম্পরার বিন্যাস এবং চরিত্রমনস্তত্ত্বের অসাধারণ প্রকাশ। ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের সান্ত্বনা এবং নিয়াজের আখ্যানে যে করুণরস, তা আমরা এই বর্ণনাগুলোতে পাই— ক. ... আরো কিছুক্ষণ শরীরী খেলা শেষে অভিজ্ঞ নিয়াজ যখন তাকে সঠিক নিয়মে পা ভাঁজ করা শেখাচ্ছিল তখন একবার ব্যথায় যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠেছিল সান্ত্বনা। কেবল তখনই প্রথম চোখ মেলে তাকালো সে। চোখ পড়ল নিয়াজের চোখে। সেই চোখে কোনো ভালোবাসা নেই। শুধু অভ্যস্ততা। শুধু প্রয়োজন। খ. ... দু’পায়ের ফাঁকে অসম্ভব যন্ত্রণা, মাটিতে পড়ে থাকা ব্লাউজ আর পেটিকোট তুলে নিয়ে পা ফাঁক করে কোনোমতে ওয়াশরুমে গেল সে। পুশ শাওয়ারের পানির ধারায় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে শরীরের নিচের অংশ। কমোডে এক ফোঁটা রক্ত পড়ল। এটা কি ভয়ের কিছু? ... এই বিবরণদুটো যদি প্রমাণ করে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ নারীকে পুরুষ শরীরী সুখের নামে অসুখ দেয়, তবে নিচের বিবরণটি প্রমাণ করে অন্য একটা কিছু। গ. ... প্রায় সাথে সাথেই নিয়াজ জড়িয়ে ধরল সান্ত্বনাকে। সান্ত্বনা প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, “আবার? প্লিজ, আর না!” “কেন না? আগেরবার তো তাড়াতাড়ি হয়ে গেল, কিছু বুঝতেই পারলাম না! এবার আর বেশি ব্যথা পাবে না দেখো!” সান্ত্বনার কী হলো কে জানে, শরীরের সব শক্তি দিয়ে সে নিয়াজকে প্রতিরোধ করতে শুরু করল। শুরু হয়ে গেল এক অসম ধস্তাধস্তি। নিয়াজ শান্ত মুখে বলল, “তুমি আমাকে দিতে বাধ্য! আমি যতবার চাইব ততবার!” এই যে নিয়াজের শেষ সংলাপটা, এটা কী প্রমাণ করে? এটা কি পুরুষতন্ত্রের অসভ্যতম চর্চা নয়? ‘এখানে রোদ নেই’ উপন্যাসের কেন্দ্রভাগে এই যে আচমকা আলোকসম্পাত, তা সমাজের, বলা ভালো পরিবারের কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? জীবনঘনিষ্ঠ লেখা বোধহয় এ ধরনের ফিকশনই হয়ে ওঠে। সান্ত্বনা-নিয়াজের আখ্যানভাগের ধারাবাহিকতায় আমরা একটি ডাক্তার চরিত্র দেখতে পাই। ক্যামিও ধরনের এই চরিত্রের দৃঢ়তায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। এ অংশের একটা প্লটহোল চোখে পড়েছে আমার। উপন্যাসের ন্যারেটিভের অনুসরণে সান্ত্বনার শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রসঙ্গে যে পারিবারিক বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো তার শ্বশুরালয়ে, তা অনুপস্থিত ছিল। অল্প করে হলেও এ বর্ণনা আশা করেছিলাম। এ আখ্যানভাগ পড়ে পাঠক যদি সংক্ষুব্ধ হন, তবে হয়তো এর পরিণতি পাঠককে ভাবাবে— অন্য কোনোভাবে কি সমাপ্তি টানা যেত? এবারে একজন লেখক হিসেবেই বলি, আমি হয়তো সেই অন্য কিছুই ভাবতাম। লেখার একেবারে শেষে মোটা আখরে লেখা ‘শেষ নাকি শুরু’। এটা কীসের ইঙ্গিত? ‘এখানে রোদ নেই’-এর দ্বিতীয় কিস্তি আসবে? না কি লেখক চান আর কেউ এর ধারাবাহিকতায় নতুন কিছু লিখুক? © রেজওয়ান আহমেদ, মিরপুর, ঢাকা।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সেই ঘুরে ফিরে একই ধরনের গল্প আমার বিশেষ একটা ভালো লাগতো না। এখানে রোদ নেই বইটা যে এতো চমৎকার হবে আগে বুঝিনি। এতো দেরি করে পড়লাম কেনো আফসোস হচ্ছে। দারুন কনসেপ্ট নিয়ে লেখা। মৌলী আপুর লেখা আমার অনেক আগ থেকেই ভালো লাগতো এই বইটা পরে অন্ধ ভক্ত হয়ে গেলাম মনে হচ্ছে। নিয়াজ চরিত্র টা কে এত্তো ভাল লাগছে , যে ভিলেন সেই হিরো! বিশেষ করে চিঠিটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। সুপার বাজেট ফ্র্যান্ডলি এই বইটা না পড়া মানে বিসাল লস। অনেক দেরি করে রিভিউ দিলাম😢 রকমারিতে রিভিউ শেয়ার করা ভুলে গিয়েছিলাম।

"দুঃখ তাদেরই থাকে, যারা কখনও না কখনও সুখের রাজ্যে বসবাস করে। যারা ছোটোবেলাতেই বুঝে যায় পৃথিবীটা কঠিন জায়গা, এখানে বেঁচে থাকতে হলে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হবে, তাদের দুঃখ বিলাসিতার সময় থাকে না।" ------------------------------------------------ প্রাইভেট ব্যাংকের সামান্য কেরানি মোজাম্মেল সাহেব এবং তার স্ত্রী নাসরিন বেগমের কোল আলো করে এলো প্রথম সন্তান "মোহনা।" প্রথম সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়ের আবেগ-ভালোবাসা একটু বেশিই হয় সাধারণত; হাজার হোক এই সন্তানের কারণেই তারা প্রথম পিতৃত্ব-মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করে। মোজাম্মেল-নাসরিন দম্পতিও এর ব্যতিক্রম নয়, নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে বড় করেছেন মোহনাকে। একারণেই হয়তো মোহনা একটু বেশিই আহ্লাদী, অভিমানী; কারো মুখের উপর কিছু বলতে পারে না, উল্টো কেউ কিছু বললে কেঁদে দেয়। মোহনার পর জন্ম হয় সান্ত্বনার। পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণেই হয়তো বাবা-মা মেজো মেয়ের নাম রেখেছিলেন সান্ত্বনা। দুই কন্যাসন্তানের পর একটা ছেলে সন্তান পৃথিবীতে আনার আশায় প্রেরণা আর পরবর্তীতে সমাপ্তির জন্ম৷ বড়ো মেয়ে মোহনা অনেক ভালোবাসা পেয়েছে পরিবারের। কিন্তু যখন সে মেডিক্যালে চান্স পায় না, পরিবারের সাথে সম্পর্ক একদিকে হতে থাকে নড়বড়ে অন্যদিকে আসিফের সাথে বন্ধন হয়ে ওঠে পাকাপোক্ত। আসিফের ঘোর থেকে মোহনা বের হতে পারবে নাকি নিয়ে নেবে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত? সান্ত্বনার কিশোরী মনে স্বপ্ন থাকে লাল টুকটুকে বউ সেজে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ের পর তার জীবনে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। যে ঝড় তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুমুখে। কী হয় ছোট্ট সমাপ্তির? প্রেরণা কি পারবে এই বিধ্বস্ত পরিবারে প্রেরণার আলো নিয়ে আসতে? ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: আমাদের সমাজে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়াই একটা অপরাধ। জন্মের পর থেকেই মেয়েদের সংগ্রাম করতে হয়। কেউকে "তোমরা কয় ভাই-বোন?" - এই প্রশ্ন করলে জবাবে "দুই বোন, তিন বোন, চার বোন" বললে আমরা পালটা প্রশ্ন করি "ভাই নেই?" ২১শ শতাব্দীতে এসেও মেয়েদের বোঝা মনে করা হয়, বিয়ে দিয়ে দিতে পারলেই যেন সব দায়িত্ব শেষ। বিয়ের পর স্বামীর সংসারে যাই ঘটুক না কেন, তার সাথে মেয়েদেরই মানিয়ে নিতে হবে। স্বামী ছেড়ে দিলে বিয়ের পরেও বাপের বাড়ি এসে থাকলে লোকে কী বলবে? আর তালাকপ্রাপ্ত মেয়েদের এই সমাজই বা কোন চোখে দেখে? "এখানে রোদ নেই" বইটির মাধ্যমে লেখিকা আমাদের সমাজের একটা অন্ধকার অংশের কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে এখন পর্যন্ত আলো পৌছায় না, এক ধরনের পরাধীনতা, বিষন্নতা বিরাজ করে। মূলত বর্তমান সমাজে নারীদের অবস্থান, অনেক নারীর না বলা কথা গুলো যা তারা সমাজের ভয়ে মুখ ফুটে বলতে পারে না, জন্মের পর থেকেই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাওয়াসহ নারীদের নিয়ে সমাজের কুসংস্কার এর বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। চার বোনের গল্পের মাধ্যমে দেখা গিয়েছে নারীদের নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ধারণা; মধ্যবিত্ত, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতার সমাজের কাছে অসহায়ত্ব। বইটা খুব বেশি বড় না হওয়ায় এবং শুরু থেকেই কাহিনির মধ্যে ডুবে যাওয়ায় একদিন সন্ধ্যায় বসেই শেষ করতে পেরেছি। সবশেষে "এখানে রোদ নেই" গল্পটি চার বোনের, যারা নিজ নিজ জায়গা থেকে লড়ে যাচ্ছে। গল্পটি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের, গল্পটি এক কন্যাদায়গ্রস্ত বাবার এবং সংসারের ঘানি টানটে টানতে ক্লান্ত এক মায়ের যাদের প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় নিজেদের সাথে, সম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থার সাথে। ◑ চরিত্রায়ন: বইটা ভালো লাগার অন্যতম কারণ হলো এর চরিত্রায়ন। খুব অল্প সময়ের মাঝেই লেখিকা চমৎকার চরিত্রায়ন করেছেন। লেখিকা চরিত্রগুলোকে বাস্তবিক মানবীয় আবেগ দিয়ে পূর্ণতা দিয়েছেন এবং বাস্তব চরিত্র হিসেবে তৈরী করেছেন। প্রত্যেকটা চরিত্রকে গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র ভাবে। মা হিসেবে নাসরিন বেগম কে কিছুটা বেশিই কঠোর মনে হয়েছে। পাশাপাশি সমাপ্তি কে নিয়ে বাবা-মা দুইজনের উদাসীনতাই লক্ষণীয় ছিল। তবে সবথেকে ভালো লেগেছে "প্রেরণা" কে। যেখানে বড় বোন মোহনা আহ্লাদী, মেজো বোন সান্ত্বনা থাকে ফ্যান্টাসি নিয়ে সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রেরণাকে বেশ পরিণত এবং বাস্তববাদী লেগেছে। পরিস্থিতি তাকে শক্ত করে গড়ে তুলেছে। বইয়ের এক জায়গায় প্রেরণা বলে,"আমি প্রেরণা কারো খেলার পুতুল হবো না। না কোনো মানুষের, না নিয়তির।" প্রেরণা চরিত্রটা কতটা শক্তিশালী এবং ম্যাচিউর তা এই একটি কথার মাধ্যমেই আন্দাজ করা যায়। পাশাপাশি ছোটবোন সমাপ্তির মায়ের আদর না পাওয়ার কষ্টটা প্রেরণাই ঘুচিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, সবসময় আগলে রাখে সমাপ্তি কে। এছাড়া ছিল নিয়াজ এবং আসিফ। কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে বদ্ধপরিকর, পূর্বে করা ভুল শোধরাতে সচেষ্ট আবার কেউ সময়ের সাথে সাথে ভুলে যায় পুরোনো কথা। সময় মানুষ বদলে দেয় এটা যেন প্রতিধ্বনিত হয় বইয়ের পাতায়। ◑ লেখনশৈলী: লেখিকা মৌলি আখন্দের লেখা এই প্রথম পড়লাম। বইয়ের ভূমিকা পড়ার পরেই মনে হয়েছে যে তিনি পাঠকদের একটি গল্প বলতে চান। সত্যিকারের গল্প, যা আমাদের চারপাশে অহরহ ঘটে যায়, সচেতন ভাবে তাকালেই যা চোখে পড়ে। আমার মতে লেখিকা শতভাগ সফল। তিনি একটি গল্প বলতে চেয়েছিলেন যা তিনি সাবলীল ভাবে বলে গিয়েছেন। তার লেখার ভঙ্গিমা, শব্দচয়নও বেশ ভালো লেগেছে। অনেকদিন পর এই ধরনের সমকালীন উপন্যাস পড়লাম। ◑ প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন, বানান ও অন্যান্য: বইটির প্রচ্ছদ করেছেন প্রচ্ছদশিল্পী আবুল ফাতাহ মুন্না। খুবই সাধারণ একটা প্রচ্ছদ তবে কেন জানি এই প্রচ্ছদটা ভালো লেগেছে। বইটি পড়ার পর মনে হলো প্রচ্ছদেও কেন জানি এক ধরনের বিষাদের ছাপ। সাথে আশার আলো, একদিন অন্ধকার এই কোণে রোদ এসে পৌঁছাবে। ভূমিপ্রকাশ প্রকাশনীর গতানুগতিক প্রোডাকশন এই বইয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রোডাকশন নিয়ে অভিযোগের অবকাশ নেই। এছাড়া বইয়ে তেমন বানান ভুলও চোখে পড়েনি। ◑ পরিশেষে: এই আধুনিক যুগে বসবাস করেও একদল মানুষ আছে যারা পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে আকড়ে ধরে থাকতে পছন্দ করে। তাদের কাছে আজও নারীরা পুরুষদের ভোগ পণ্য, দুর্বল। তারা নারীদের উপরে উঠতে দিতে চায় না। বইয়ের ফ্ল্যাপে একটি প্রশ্ন রয়েছে, সেটা দিয়েই শেষ করি। পরিবার ও সমাজের যে অন্ধকারময় কোণে কখনও রোদ এসে পৌঁছায় না, সেখানে কি কখনো এসে পৌঁছাবে এক টুকরো রোদ? ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৪/৫ ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বইয়ের নাম: এখানে রোদ নেই ➠ লেখক: মৌলি আখন্দ ➠ জনরা: সমকালীন উপন্যাস ➠ প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: আবুল ফাতাহ মুন্না ➠ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬ ➠ মুদ্রিত মূল্য: ২৯০ ৳
























