

Buy ইহাদের ভিড়ে Online in Bangladesh
লেখক: রোকন উদ্দিন খান
- Author: রোকন উদ্দিন খান
- Publisher: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
- Isbn: 9789849810438
- Number Of Pages: 125
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
জহির শূন্যদৃষ্টিতে সোমার দিকে তাকিয়ে আছে। নীল শাড়ি পরিহিত মায়াবী তরুণী সোমা তার হাত ধরে বসে আছে। জহিরের মনে হলোÑতার শরীরে যদি শক্তি থাকত, তাহলে সে চিৎকার করে সোমাকে বলতÑতার একটি সুন্দর ছেলে হবে। যে ছেলে দুনিয়ার সেরা মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করবে। পদার্থবিদ্যায় সে নোবেল প্রাইজ পাবে। তার চাইতেও বড়ো কথাÑদুনিয়ায় সে-ই প্রথম টাইম ট্রাভেলের সূত্র আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে। কিন্তু জহিরের গলায় একফোঁটা শক্তি নেই। সে কিছুই বলতে পারল না। শূন্য চোখে কেবল চেয়ে থাকল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
জহির একজন উদ্যোমী তরুণ। উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ গ্রামে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। একটা কৃষি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ঢাকা যায়। কিন্তু ২০২৩ এর জহির যখন ঢাকা পৌছায় তখন চির পরিচিত ঢাকা নগরীকে তার বড্ড অচেনা লাগে। কিছুটা সময় পর সে জানতে পারে সে এখন আছে ২০৮৫ সালে। এক রহস্যময় বৃদ্ধ রায়হান সাহেব তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। কেন ৬২ বছর পরের দুনিয়ায় সে প্রবেশ করলো, কেন তাকেই শুধু এই টাইম ট্রাভেল করানো হচ্ছে সারাটা দিন সেই প্রশ্নই তার মাথায় ঘুরপাক খেলো। মৃতপ্রায় তিস্তা নদীর পাড়ের মহিপুর এর জহির এর স্বপ্ন ছিলো এক সময় আবার আগের মতোই প্রমত্তা হবে তিস্তা নদী। কিন্তু এই তিস্তার সাথে জড়িয়ে আছে বহু রাজনৈতিক হিসেব। ২০২৩ এর প্রেক্ষাপট ছিলো এটা। আবার যখন জহির ২০৮৫ সালের ভবিষ্যতে থাকে তখন সে দেখে এক স্বপ্নের বাংলাদেশ। যেখানে সবকিছু গোছানো, নিয়মতান্ত্রিক। উপন্যাস এ কখোন আমরা ফিরে আসি ২০২৩ এ আবার কখওন ও জহিরের সাথে ঘুরতে থাকি ২০৮৫ এর ঢাকার রাস্তায়। লেখকের প্রথম মৌলিক সাহিত্য এটি। প্রথম বই হিসাবে অনেক সুন্দর লিখেছেন। বইটির যে বিষয়গুলো ভালো লেগেছে: আমরা যে সুন্দর পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি এখানে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা রয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন ভুল তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সমস্যা গুলো বিশেষ করে যানযট কিভাবে দূর করা যায় এগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। তিস্তা সহ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণ এ নদী পাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকার যে ক্ষতি হয়েছে তাও তুলে ধরা হয়েছে।

ধরেন একটা বইয়ে টাইম ট্রাভেলের মতো সায়েন্স ফিকশনের উপাদান আছে, নতুন একটা নির্বাচন পদ্ধতি ও সরকার গঠন পদ্ধতির মতো রাজনৈতিক উপাদান আছে, উজানে বাঁধ নির্মাণ করে মেরে ফেলা নদীর কাঁন্না আছে, নিজেদের ন্যায্য দাবী আদায় করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়ার গল্প আছে, যানজট ও জনজটের নগরী ঢাকাকে একটা আধুনিক সুশৃঙ্খল নগরীতে রুপান্তরের ফর্মুলা দেয়া আছে, আপনি ভবিষ্যতে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন সে বাংলাদেশের চিত্র আছে। এখন এই বইটিকে আপনি কোন জনরার বা ক্যাটাগরির বই বলবেন? কি দ্বিধায় পড়ে গেলেন? হ্যাঁ, সম্প্রতি একটা বইটা পড়ার পরে আমিও দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম। তবে বইটার প্রচ্ছদে লেখা আছে এটি একটি 'রোমাঞ্চকর উপন্যাস'। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে বইটি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। বইটির নাম "ইহাদের ভীড়ে"। বইটি লিখেছেন জনাব রোকন উদ্দিন খান। জনাব রোকন উদ্দিন খান ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের দারুণ অনুবাদ করে একজন ভাল অনুবাদক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। এটি উনার প্রথম মৌলিক বই। আমি বলবো উনি প্রথম বইয়েই ওনার জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। এককথায় দুর্দান্ত লিখেছেন। এই বইয়ে উনি গল্পের ছলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ দিয়েছে। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কিছু বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার সংমিশ্রণে তিনি এই ম্যাসেজ গুলো দিয়েছেন। এই বইটি পড়ার মাধ্যমে পাঠক একটা ফিকশন বই পড়ার আনন্দের সাথে সাথে এই ম্যাসেজ গুলো থেকে ভাবনার খোরাক পাবে। সে ভাববে ইস.... এমন যদি হতো, তাহলে কতই না ভাল হতো। সে আরো ভাববে আমরা তো এগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারি। এটাই এই বইটির বিশেষত্ব। জহির নামের এক যুবক রংপুর থেকে একটা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় যায়। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে সে বিভিন্ন অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি হতে থাকে। সে মুখোমুখি হয় রায়হান চৌধুরী নামের একজন রহস্যময় মানুষের। একসময় জহির আবিষ্কার করে সে এক রাতের মধ্যেই ৬৩ বছর পরের একটা সময়ে এসে পড়েছে। তারপর আরমান নামের এক যুবকের সাথে ঢাকা শহর ঘুরে দেখতে বেরিয়েছে। কিন্তু চিরচেনা ঢাকাকে তার অচেনা মনে হয়। গণভবন, বঙ্গবভন, সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান ঢাকা শহর থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। এভাবেই বইয়ের গল্প এগিয়ে চলে। আর গল্প যত এগিয়ে যায়, সাসপেন্স ততই বেড়ে যায়। এভাবে রুদ্ধশ্বাসে এগিয়ে যেতে যেতে পাঠক একসময় আবিষ্কার করবে তার বইটা পড়া শেষ। কিন্তু বই পড়া শেষ হলেও পাঠকের ঘোরলাগা শেষ হবে না। বইটার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক হলো: ★ বইটিতে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন করে স্থায়ী সমাধানের একটা ফর্মুলা দেয়া হয়েছে। এই ফর্মুলাটা আমার কাছে ভাল লেগেছে। এই ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা গেলে নির্বাচন ও সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সমস্যার সমাধান হবে। ★ ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের কারণে এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা এখন শুকিয়ে মরুভূমি হওয়ার করুন কাহিনিও এই বইয়ে বর্নিত হয়েছে। তিস্তার এই অবস্থা নিয়ে আমাদের করনীয় কি সে দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। ★ যানজট ও জনজটের কারণে ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে উঠা ঢাকাকে একটা আধুনিক সুশৃঙ্খল নগরীতে রুপান্তরের একটা ফর্মুলাও এই বইয়ে দেয়া হয়েছে। এই ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকা এশিয়ার একটা অন্যতম আকর্ষণীয় নগরীতে পরিনত হবে বলে আমি মনে করি। ★ কিভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জনগণের জন্য অধিকতর কল্যাণকর করা যায় সেই চিত্রও এই বইয়ে অঙ্কিত হয়েছে। আপনি যে ধরনের পাঠকই হোন না কেন, এই বইটি আপনার ভাল লাগবে। কারণ আমি মনে করি এই বইটি সবধরনের পাঠকের জন্য দারুণ উপযোগী একটা বই। আমি বিশ্বাস করি এই রিভিউটা পড়ে বইটা যত ভাল মনে হচ্ছে, পড়া শেষ হলে এর চেয়েও ভাল মনে হবে ইন শা আল্লাহ। বই: ইহাদের ভীড়ে লেখক: রোকন উদ্দিন খান প্রকাশনী: গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স প্রথম প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫ নির্ধারিত মূল্য: ২০০ টাকা






















