এ তুমি কেমন তুমি?
বই কালেকশন

Buy এ তুমি কেমন তুমি? Online in Bangladesh

লেখক: আদনীন কুয়াশা

4.50
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আদনীন কুয়াশা
  • Publisher: পাললিক সৌরভ
  • Isbn: 9789849637028
  • Number Of Pages: 112
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st published 2022
৳ 269৳ 30010% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

“এ তুমি কেমন তুমি?” আমি লিখেছিলাম খুবই হালকা মুডে। লিখতে লিখেতে খেয়াল করলাম গল্পটা গভীর থেকে গভীরতম হতে শুরু করেছে। সোজাসাপ্টা একটা প্রেমের গল্প লিখতে গিয়ে কেমন যেন জটিল হয়ে যাচ্ছে। লেখকের লেখা কখনও নিয়ন্ত্রণ করতে নেই আমিও করলাম না। এ বছর আমার জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আমার একমাত্র কন্যা ইরাবতী উচ্চশিক্ষার জন্য আমাকে ফেলে সাত সমুদ্র তের নদীর পারে চলে যায়। কি হাস্যকর আমাকে তো ফেলেই যাবে এটাই স্বাভাবিক সে নিশ্চই আমাকে বগলদাবা করে সবখানে নিয়ে ঘুরতে পারবে না। আমি ভেবেছিলাম সে চলে যাবার পর রাজ্যের কাজ করতে নেমে পরব। বেশ কিছু প্রজেক্ট প্ল্যান ছিল কিন্তু আমার শরীর মন দুই বদ জিনিষই বাঁধ সাধলো। আমার কাজের গতি কমে গেল। সারাক্ষণ মিউমিউ করে কন্যার কথা ভাবি। এই আমিটাকে আমি একদম চিনি না। আমি ভীষণ শক্ত মানুষ। সেই আদিযুগ থেকেই আমি নানা কিছু মোকাবেলা করেই আজকের দিনে বেঁচে আছি। অথচ কন্যা বিচ্ছেদ আমাকে কেমন যেন পোতানো বেলুনের মতো নেতিয়ে দিল। দেখা যাক কতদিন এমন পোতানো থাকবো। তবে খুব একটা খারাপ লাগছে না। মাঝে মাঝে ভাবলেশহীন জীবন কাটাতেও আনন্দ আছে। কি বলেন?

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.50
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
50%
4
50%
3
0%
2
0%
1
0%
Sakib
Sakib ভেরিফাইড
14 Oct 2022

#এ_তুমি_কেমন_তুমি? #পাঠ_অনূভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ এ তুমি কেমন তুমি? •লেখকঃ আদনীন কুয়াশা •ধরনঃ সামাজিক রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ পাললিক সৌরভ •প্রচ্ছদঃ সাদিতউজজামান •মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১১২ •প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০২২ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ এই পৃথিবীতে অন্যরকম ভাবে জীবনকে উপলব্ধি করার শুরুটা যে জায়গা বা অনুভূতি থেকে হয়, সেই অনুভূতিটা বিশেষ লাগে । কেমন একটা আলোড়ন তুলতে থাকে । সেই আলোড়ন সৃষ্টি করা উপলব্ধি আমার প্রতিটি উপন্যাস পড়া শুরু করার আগে আগেও হয় । কতক্ষণ একনাগাড়ে তাকিয়ে বইটিকে বিছানায় রেখে দিয়ে আমি জুড়ে যাই অন্য কোনো ভাবনায় । কিন্তু বইটা রয়ে যায় আমার একেবারে মনের কাছে, কিভাবে শুরু করা যাবে তা ভাবতে ভাবতে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ এবার বাড়িতে এসে একনাগাড়ে বই পড়ে যাচ্ছি । যা অনেকদিন ধরে পারিনি । এতদিন ধরে একটা উপন্যাস পড়ার পরে আমি অনেকখানি সময় নিয়েছি নতুন কোনো উপন্যাস পড়ার জন্য । যা আমাকে কোনো উপন্যাস পড়ার পরে তার রেশ মনের মাঝে নিতে সাহায্য করেছে । কিন্তু অনেকগুলো দিন পরে বারংবার উপন্যাসই পড়ছি বলে বেশ লাগছে । আজকে ঠিক সন্ধ্যা ৬টায় উপন্যাসটি পড়া শুরু করেছিলাম । পড়া যখন শেষ হলো তখন সময়টা রাত ৮টা । ♦নামকরণঃ যে উপন্যাসের নামকরণে প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) থাকে আমি সেরকম উপন্যাসগুলোর দিকে গভীর এবং গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে সন্দেহের চোখে একনাগাড়ে বসে কিছু একটা ভাবতে থাকি । এই উপন্যাসের সময়ও তাই হয়েছে । আমি ভেবেছি, প্রচুর ভেবেছি । রূপঙ্কর বাগচী এর এত সুন্দর গানটির নামটা কেনো হঠাৎ আকর্ষণ করবে! তারপরে মনে হলো, এই উপন্যাসটিই তো সেরকম । প্রতিটি মূখ্য চরিত্র অদ্ভুত এক আবেগ নিয়ে বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে প্রকাশ্যে বা মনের মাঝে একরাশ প্রশ্ন করে যায়, হয়তো নিজেকে নিয়েই কিংবা মানুষটিকে নিয়ে । এই ভালোবাসাময় পৃথিবীতে মানুষগুলোকে নিয়ে প্রশ্ন করা কি আদৌ শেষ হয়! তাই এই আশ্চর্য ভাবে ‘এ তুমি কেমন তুমি?’ দৃষ্টিকোণ রয়েই যায় । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ নীল শাড়িতে কুমুকে অসম্ভব সুন্দর লেগেছিল সেদিন । এই কথাটা সাব্বির ওকে বলতে পারে নি । কুমু প্রায়ই সবুজ রং-এর কাচের চুরি হাতে পরে আর চুরির সেই রিনরিনে আওয়াজটা সাব্বিরের ভীষণ ভালো লাগে । সাব্বিরের খুব ইচ্ছে করে লাল কাচের চুরি কুমুকে উপহার দিতে । আচ্ছা লাল কাচের চুরির রিনরিনে আওয়াজটাও কি সবুজটার মতোই শোনাবে? ♦প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদশিল্পী সাদিত ভাইয়ের করা প্রচ্ছদ হয় অদ্ভুত সুন্দর । আরো বিশেষ করে যে দৃশ্যগুলো আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে ছাপ ফেলে সেরকম আঙ্গিকে কোনো প্রচ্ছদ তৈরি করে ফেললে দেখলে মায়াই লাগে । এই প্রচ্ছদটি দেখেও তাই লাগছে । ওই যে বারান্দা ঘেরা উপরে ফুলের ছোঁয়া দেখলেই কেমন একটা উপন্যাসকে ভারসাম্যপূর্ণ করে গড়ে তুলে । এই উপন্যাসে যে বারান্দা, ছাদ খুবই গভীর ভাবে ছাপ ধরে রেখেছে । ♦উৎসর্গঃ অনেক দিন পরে একটি উপন্যাসের উৎসর্গ পড়ে আমি নিঃশ্বাস নিয়েছি । এই নিঃশ্বাস পাঠক হিসেবে ভালো লাগার মতো । কিন্তু সেই ভালো লাগাটা অদ্ভুত শব্দের মায়ায় আটকে পড়ে গভীরভাবে এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় ছাপ ফেলে যাওয়ার মতো । পৃথিবীতে ভালোবাসাই আসলে সত্য, তার ওপরে আসলে কিছুই নেই । কারণ ভালোবাসা জুড়ে যে মায়া আছে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ খুবই সামান্য কয়েকটি চরিত্র নিয়ে উপন্যাসটি গড়া হয়েছে । যে চরিত্রগুলোর মাঝেও কিছু কিছু চরিত্র নিয়ে লিখবো আমি । •আবিদা সুলতানাঃ স্নেহ দিয়ে ঘেরা মেয়েদেরকে যত্ন করে লালন পালন করা এক মা । যিনি সংসারকে ধরে রেখেছেন নিজ হাতে যত্ন করে, ভালোবেসে । বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের হাসিখুশি মানুষটি তাই সবার সাথে মিলেমিশে যেতে পারেন । •কুমুঃ কুমু একটু গম্ভীর স্বভাবের একজন নারী । যার ভীষণ আত্মবিশ্বাসী আচরণে ভালোবাসার বিশেষণে জীবনে প্রভাব ফেলে । ভালোবাসা বোধহয় এরকমই, জীবনকে নতুন মায়ায় আচ্ছন্ন করে । কুমুও আচ্ছন্ন হয়ে যায় । •সাব্বিরঃ ভীষণই একাকী স্বভাবের বই পড়তে পছন্দ করা একজন মানুষ । ভাতিজাকে নিয়ে একাকী বাড়িতে নিজ দুনিয়ায় নিজের মতো কষ্ট নিয়ে চলতে চাওয়া একজন সে । তার কষ্টের বাঁধভাঙা জীবনে উচ্ছাসে জীবনে এগিয়ে যায় । •রাকিবঃ গম্ভীর চিন্তিত স্বভাবের মানুষটি ভালোবাসা এবং প্রেম দুইটি সম্পর্কের রসায়নে বাঁধা পড়ে আরো এলোমেলো হয়ে যায় । জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে তার করা কাজকে আমার কাছে ভুলের মতো মনে হলেও তা অন্য কারো জীবনে যখনই প্রভাব ফেলেছে তখন তা দোষের মতো লেগেছে । •তরুনিমাঃ এই মেয়েটা ভীষণ মিষ্টি । হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের দুষ্টুমিষ্টি হাসিতে “আমাদের ঠিকানা” নামক বাড়িতে তার পদার্পণ । ভালোবাসা, সবার সাথে মিলেমিশে যাওয়া, কষ্ট পাওয়া সব মিলিয়ে তরুনিমা রয়ে যায় নিজ জীবনে সবকিছু নিয়ে । ♦টুকিটাকিঃ এছাড়াও রফিক শিকদারের চরিত্রটি আমার বেশ প্রিয় । এরকম চরিত্র অনেক আছে, যারা সহজে মিশতে পারে না । কিন্তু তাদের শরীরের মাঝে থাকা মনটা এক আকাশ অনুভূতি নিয়ে সবাইকে যে ভালোবাসায় ধরে রাখে তা কাউকে বুঝাতে পারে না । এছাড়াও রুমু এর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, কিংবা অয়ন এর বাচ্চামো উপন্যাসে অন্য আবহ দিয়েছে । ♦প্রিয় চরিত্রঃ আমি যখন উপন্যাসটি প্রথম থেকেই পড়ছিলাম তখনই দুইটি আঙ্গিকে উপন্যাসটিকে গড়ে তোলা হলেও আমি বুঝতে পারছিলাম কে আমার প্রিয় চরিত্র হবে । কার চরিত্র এর অনুভূতি আমাকে ছুঁয়ে যাবে । সেই ছুঁয়ে যাওয়া অনুভূতি নিয়ে তরুনিমা আমার প্রিয় চরিত্র হয়ে থাক । ♦একক উক্তিঃ এলোমেলো সবকিছুতেই বুক ভরে যায় মিষ্টি ব্যথায়” “এ তুমি কেমন তুমি? চমকে যাওয়া প্রথম দেখায় ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসটি যখন শুরু হয়েছিল তখন মনে হয়েছিল মিষ্টি মিষ্টি, হাসিখুশি আবহতে গড়া একটি উপন্যাস । হয়তো কখনও কষ্ট একটু আলগোছে ছাপ ফেলবে তবে তা জীবন থেকেও এগিয়ে যাবে । তবে ধীরে ধীরে জীবন এগিয়ে যায় । ভালোবাসারা এসে জাপটে ধরে । এই ভালোবাসার আঙ্গিকে উপন্যাসকে বেশ লাগে । তবে উপন্যাসের পটভূমিতে কিছু শিক্ষণীয় দৃষ্টিকোণ আছে, যা উপন্যাসকে বেশ ভালো লাগায় আটকে রেখেছে । এইরকম দৃষ্টিভঙ্গিতে সাধারণত উপন্যাসের পটভূমি থাকে না, তাই কঠিন একটা কাজকে এভাবেই ভালোবাসার দিক থেকে তুলে ধরা বেশ অন্যরকম একটা ভালোলাগা দিয়েছে আমাকে পাঠক হিসেবে । √পটভূমি এবং জীবনধারায় বেশ গভীরতা দেয় চরিত্ররা, নিজ নিজ উপস্থিতি ফেলে । তাদের উপস্থিতিতেই উপন্যাসকে অনুভূতি করতে শেখায় । এই উপন্যাসের চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতি বেশ সুন্দর ছিল । চরিত্রগুলোকে বেশ সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছে । বিশেষ করে এই উপন্যাসের আবহ তৈরি করতে চরিত্রগুলোর যে ধাপে ধাপে পরিবর্তন তা বেশ সুন্দর ছিল । তবে শেষের দিকে তরুনিমা এবং রাকিবের সম্পর্কের রসায়ন এর আরেকটু উপস্থিতি থাকলে বেশ হতো । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসের প্রথম প্রিয় অংশ তো উৎসর্গটিই । এত সুন্দর করে সাজিয়ে লেখা হয়েছে । তারপরে আরেকটি প্রিয় অংশ হলো প্রতিটি জলছাপে ছোট ছোট করে লেখা কবিতার মতো থাকা ছন্দগুলো । এত আবেগ দিয়ে লেখা হয়েছে, যখনই জলছাপ আমি পড়েছি তখনই মনের কোণে একবার হলেও ভেবেছি এই অংশে এই ছন্দটির কোন দৃষ্টি রয়েছে । তাই এগুলো বেশ প্রিয় লেগেছে । তাছাড়া কুমু-তরুনিমা এর কথোপকথন আমার বেশ ভালো লেগেছে । এছাড়া আবিদা সুলতানা এবং তরুনিমা এর আবহটিও বেশ প্রিয় । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ এবার অন্যান্য বিষয়ে আসি √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে পাললিক সৌরভ এর বই আমার আগে তেমন পড়া হয়নি । বোধহয় এটিই তাদের প্রকাশিত আমার পড়া প্রথম উপন্যাস । তবে এই উপন্যাসের পৃষ্ঠা বাইন্ডিং এবং বইটিকে সাজানো বেশ ভালো লেগেছে আমার । তবে উপন্যাসে বেশ কিছু টাইপিং মিস্টেক আছে । বইটির প্রচ্ছদটি ধরতে এত আরাম লাগে যা অবশ্যই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রকাশনীকে ধন্যবাদ । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক আদনীন কুয়াশা এর লেখা এর আগে আমার তেমন পড়া হয়নি । তাই তেমন কিছু না জেনেও শুধু প্রচ্ছদটি দেখেই বইটি নিয়েছিলাম । এখন বইটি পড়ার পরে মনে হলো, বইটি নিয়ে বেশ ভালো হয়েছে । লেখার ধরন, বর্ণনামূলক ভাবভঙ্গি বেশ সুন্দর ছিল । সাথে সরল সাদাসিধে জীবন এর একটি গল্প পটভূমিতে বাছাই করে তা দিয়ে উপন্যাসকে চলতে দেয়াটাও বেশ লেগেছে আমার । ♦রেটিংঃ ৪.২/৫ । ♦উপসংহারঃ প্রতিটি মানুষের জীবনেই ভালোবাসার ছাপ আসে । সেই ভালোবাসার গঠন এবং মানুষটির সাথে সম্পর্কের বিশেষণ একেকজনের কাছে একেকরকম হয়ে ধরা দেয় । তবুও মানুষ ভালোবাসে, ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পড়ে । তবুও সব মানুষই সমান, সবার জীবনের গল্পই অসাধারণ । উপন্যাসটির পিছনের অংশে থাকা প্রচ্ছদে তুলে ধরা কবিতাটির কয়েক লাইন দিয়েই উপসংহার শেষ করি বরং, চন্ডীদাস বলেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ যুগে যুগে তাই ভালোবাসাময় একটা পৃথিবী যেন পাই।।

Arfia Jahan
Arfia Jahan ভেরিফাইড
10 Apr 2022

বইঃ এ তুমি কেমন তুমি? লেখকঃ আদনীন কুয়াশা প্রচ্ছদঃ সাদিতউজ্জামান প্রকাশনীঃ পাললিক সৌরভ ঘরানারঃ রোমান্টিক পৃষ্ঠাঃ ১১২ পৃষ্ঠা প্রকাশকালঃ বইমেলা ২০২২ মলাট মূল্যঃ৩০০ টাকা ∆ ভূমিকাঃ বইটি কুরিয়ার থেকে আনার পর পড়ার টেবিলে রেখেছিলাম। চলতে ফিরতে যখনই বইয়ের দিকে চোখ পরতো, “এ তুমি কেমন তুমি” গানটা আমি গুনগুন করে গাইতাম। প্রতিনিয়ত বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় অবশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েই বই পড়তে বসে গেয়েছিলাম। কীভাবে যে সময় কেটে গেছে বুঝতেই পারিনি। একেবারে বই শেষ করে তবেই নিস্তার। ∆ প্রচ্ছদঃ প্রচ্ছদ নাকি বইয়ের ভাবমুর্তি তুলে ধরে? যদি তাই হয় তবে এটি একটি যথার্থ প্রচ্ছদ। সবুজ রঙ্গা বইটির মোড়কে একটা সুন্দর বারান্দার মতোন দেখা যাচ্ছে। এটি তিনতলার বারান্দায় ছোট সেই ছাদটি যেখানে নতুন গল্পের সূচনা হয়েছিল। পুরো গল্পে এই ছাদবাগানটি বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে। ∆ নামকরণঃ “এ তুমি কেমন তুমি?”_ কাউকে প্রশ্ন করা হয়েছে তাই না? প্রেয়সী তার মনে ভালোবাসা জাগানো পুরুষটিকে প্রশ্ন করছে। প্রশ্ন করার অবশ্য কারনও আছে। এই প্রশ্নের কারন এবং প্রেমিক পুরুষই বা এমন কেনো এর উত্তর নিয়েই লেখা হয়েছে “এ তুমি কেমন তুমি?” বইটি। ∆ লেখক পরিচিতিঃ লেখক আদনীন কুয়াশার সাথে আমার তেমন একটা পরিচয় নেই। বইয়ের প্রচ্ছদ এবং নাম দেখেই মূলত বইটি কিনেছি। বই থেকে জানলাম এটি তার প্রথম রোমান্টিক জনরার বই। কিন্তু বই পড়ে মনে হয়েছে রোমান্টিক জনরার লেখায় তিনি বেশ দক্ষ। ∆ কাহিনী সংক্ষেপঃ ‘আমাদের ঠিকানা’ বাড়িটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গল্পের প্লট। অর্থ্যাৎ এই বাড়িতে এবং বাড়ির আশেপাশে বসবাস করা মানুষগুলোকে নিয়ে। ‘আমাদের ঠিকানা’ বাড়িটির মালিক রফিক শিকদার । তিনি স্ত্রী আবিদা সুলতানা এবং তিন কন্যা কুমু, রুমু এবং বুল্টিকে নিয়ে তিনতলায় থাকেন। ছয়তলা ভবনের বাড়িটির মূল ছাদ ছয়তলায় থাকলেও তিনতলা বারান্দায় একটি ছোট ছাদ আছে, যেখানে আবিদা সুলতানা বাগান করেছেন। ছাদবাগানে আছে বিভিন্ন সবজি, ফলের গাছ এবং একটি দোলনা। বড় মেয়ে কুমুর সবজি বাগানের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও যবে থেকে ছাদবাগানে দোলনা বসানো হয়েছে, সে প্রায়ই চায়ের কাপ হাতে ছাদে এসে দোলনায় দোল খায়। একদিন ছাদবাগান থেকে সামনের লাল ইটের ভবনের বারান্দায় কুমু দেখেছিলো সাব্বিরকে। শান্ত চেহারার চশমা পরা সাব্বিরকে প্রথম দেখেই কুমুর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো। ধীরে ধীরে সাব্বিরের সাথে পরিচয় তারপর এক অঘোষিত প্রণয় সম্পর্ক। মনে মনে একে অপরকে চাইলেও নেই কোনো স্বীকারক্তি। কুমুর হৃদয়ে প্রলয়ংকারী ভালোবাসা থাকলেও সাব্বির কিছুটা অন্য রকম। কখনো নিজে থেকে খুব কাছে চলে আসে, আবার কখনো হাজার ক্রোশ দূরে চলে যায়। কুমু সাব্বিরের এমন আচরণের খুঁজে পায় না কোনো যৌক্তিক কারন আবার প্রশ্ন করেও পায় না কোনো উত্তর। ‘আমাদের ঠিকানা’ বাড়ির চারতলায় একদিন ভাড়াটে হিসেবে আসে সদ্য বিবাহিত রাকিবুজ্জামান-তরুনিমা দম্পতি। মাত্র কুড়ি বছরের জীবনে প্রেমের আগমনের আগেই বিয়ের পিড়িতে বসে পরেছিলো তরুনিমা, কারন একটাই পড়াশুনা থেকে মুক্তি মিলবে। বেশ চঞ্চল এবং ছেলেমানুষিতে ভরা তরুনিমা স্বভাবতই যথেষ্ট কেয়ারিং হাসবেন্ড রাকিবের প্রেমে পরে যায়। কিন্তু রাকিব স্বামী হিসেবে সকল দায়িত্ব পালন করলেও তরুনিমার সাথে তার বিস্তর দূরত্ব। তরুনিমা খুঁজে পায়না কেনো এই দূরত্ব? কিসের এই লুকোচুরি? ∆ বই বিশ্লেষণঃ জীবনে প্রেম আসে হঠাৎ করে। তরুনিমা, কুমু, সাব্বির, রাকিব গল্পের মূল চারটি চরিত্র, তাদের জীবনেও প্রেম এসেছিলো হঠাৎ করেই। এদের জীবনে আসা প্রেম এবং তার পরিনীতি নিয়েই লেখা হয়েছে এ তুমি কেমন তুমি। প্রেম নিয়ে প্রত্যেকের আছে নিজস্ব ভাবনা, নিজস্ব কামনা। কুমু মেয়েটি সাব্বিরের থেকে স্বাভাবিক একটি প্রণয় সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা করে কিন্তু সাব্বির কখনোই খোলাসা করে কিছুই বলে না। নিজের জীবনের অন্ধকার থেকে কুমুকে দূরে রাখতে চায়, আবার কুমুর থেকে দূরে থাকতেও পারে না। সাব্বির নিজে অন্যায়ের স্বীকার একজন মানুষ। কুমুর স্বাভাবিক জীবনের কথা ভেবেই নিজেকে সরিয়ে রাখতো। কিন্তু কুমুর ভালোবাসা ছিলো নিঁখুত। কোনো অপূর্ণতা তার ভালোবাসায় বাঁধা হতে দিতে চায় না। তরুনিমা রাকিবের বৈবাহিক জীবনও স্বাভাবিক নয়। স্বামী হিসেবে রাকিব দায়িত্ববান হলেও তরুনিমার সাথে সে অনেক বড় অন্যায় করে ফেলে। নিজের মানসিক শান্তির জন্য তরুনিমাকে অনেক ভূগিয়েছে। সম্পর্কের শুরুতে রাকিবের উচিত ছিলো তরুনিমাকে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া। ∆ চরিত্র বিশ্লেষণঃ কুমুঃ পরিবারে বড় মেয়ে কুমু। বেশ বিচক্ষণ এবং শান্ত স্বভাবের। জীবনে হঠাৎ আসা প্রেমের ঝড়ে চেনা কুমু অচেনা হয়ে যায়। প্রণয় সম্পর্কে সবসময় ছেলেকেই এগিয়ে আসতে হবে এমন চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে কুমু নিজেই হাত বাড়ায় তার ভালোবাসার মানুষের দিকে। সমাজের প্রচলিত সব নিয়ম ভেঙ্গে ভালোবাসার জন্য লড়াইয়ে কুমু অনেক বড় সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয় না। রুমুঃ তিনবোনের মধ্যে রুমু বেশি বুদ্ধিমান। চেহারা দেখেই মনের খবর বুঝে যায়। বুল্টিঃ বাড়ির আদুরে ছোট মেয়ে। একটু বেশি বোকা। সাব্বিরঃ ইট বিল্ডিং এর বারান্দায় বইয়ে মুখ গুজে থাকা ভীষন ইন্ট্রোভার্ট একজন মানুষ। বড়ভাইয়ের ছেলে অনয়কে ঘিরেই যার জীবন। তবে বিপদে ডাক দিলে ছুটে আসে সবার আগে। ইন্ট্রোভার্ট সাব্বিরের বন্ধু ছিলো না কোনোকালেই, সেখানে কুমু যখন বন্ধুতের হাত বাড়ায় জীবনের নতুন রঙ খুঁজে পায়। প্রতিনিয়ত মনের সাথে দ্বন্দ করে কুমুকে তার অন্ধকার থেকে বাঁচাতে। তবুও ভালোবাসার টানে বারবার ফিরে আসে। তরুনিমাঃ সদ্য বিবাহিত একটি মেয়ে, যার মন মস্তিষ্ক জুড়ে স্বামী রাকিবকে নিয়ে অগাধ ভাবনা। রাকিবের আচরণ তাকে প্রেমে পরতে বাধ্য করে। বুনতে থাকে রাকিবের সাথে সুন্দর একটি জীবনের স্বপ্ন। সুখের সংসারের আশায় দীর্ঘ অপেক্ষা করে রাকিবের পাণে চেয়ে রয়। রাকিবঃ মানসিক অশান্তিতে ভুগতে থাকা একজন মানুষ রাকিব। অতীতের ঘটনা তার জীবনে এতোটাই প্রভাব ফেলেছিলো যে বর্তমানে হাজার চেষ্টাতেও স্বাভাবিক হতে পারেনি। তরুনিমার কাছাকাছি আসতে গেলেই অতীত এসে হানা দেয়। আবিদা সুলতানাঃ কুমু, রুমু এবং বুল্টির মা। খুবই বোকা ধরনের মানুষ। মেয়েদের প্রচন্ড ভালোবাসেন এবং বন্ধুর মতো মিশে যান তাদের সাথে। রফিক শিকদারঃ গম্ভীর স্বভাবের আড়ালে সাধারন একজন বাবা। মেয়েদের সাথে মিশতে চান, তাদের আড্ডায় অংশ নিতে চান কিন্তু কিছু একটা তাকে আটকিয়ে দেয়। মেয়েদের সামনে গেলেই অস্বস্তিতে ভুগেন। ∆ প্রিয় চরিত্রঃ অল্প কয়েকজন চরিত্র নিয়ে লেখা “এ তুমি কেমন তুমি?” বইটি। সবাই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে প্রশংসাযোগ্য। প্রিয় চরিত্র খুঁজে নেওয়া একটু মুশকিল। তরুনিমা এবং কুমু দুজনেই পছন্দের। খুব বেশি পছন্দ কুমু নামের মেয়েটি। ∆ ব্যক্তিগত মতামতঃ এই টপিকটি আমি সাধারনত লেখি না, এখানে লিখছি কারন আমার নিজস্ব কিছু পছন্দের বিষয় আছে বইটিতে। বইয়ের প্রতিটি পর্বের শুরুতে দু লাইনের ছন্দ এবং ভাবার্থমূলক চিত্র দেওয়া আছে। যা আমার কাছে বেশ ইউনিক এবং পছন্দের। ∆ ব্যক্তিগত রেটিংঃ বইয়ের রেটিং দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। তবুও দিতে হবে যেহেতু ৫ এর মধ্যে ৪.৭ দিবো। ∆ উপসংহারঃ কিছু চরিত্র, সাধারন একটা প্লট নিয়ে গল্প লেখা খুব স্বাভাবিক। তবে আমার মতে, বই আকারে কোনো গল্প পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে চাইলে, লেখক হিসেবে একটা দায়িত্ব অবশ্যই নেওয়া উচিত। বইটি পড়ে পাঠক যেনো উপকৃত হয়, কিছু বার্তা যেনো পায়। বই তো জ্ঞানের আলো ছড়ানোর জন্যই। আজকাল এই বিষয়টি আমার চোখে একদমই পড়ে না। অনেকদিন পর আদনীন কুয়াশার এ তুমি কেমন তুমি বইটি পড়ে একটি সম্পূর্ণ উপন্যাসিকার তৃপ্তি পেয়েছি। যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি বার্তাও বিদ্যমান। "হঠাৎ কখনও হৃদয়ে আঘাত কিংবা প্রেম! হেথা নয়, সেই যেখানে নক্ষত্রেরা মিটিমিটি হাসে, ঈশ্বরের সৃষ্টিতে সর্বত্র ভালোবাসা ভাসে। চন্ডীদাস বলেছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ যুগে যুগে তাই ভালোবাসাময় একটা পৃথিবী যেন পাই।" © আদনীন কুয়াশা রিভিউ লেখনীতে- আরফিয়া

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)