

Buy দুর্বিপাকের ঘূর্ণি Online in Bangladesh
লেখক: মেহেদী হাসান তামিম
- Author: মেহেদী হাসান তামিম
- Publisher: মুক্তভাষ ফাউন্ডেশন
- Isbn: 9789843420039
- Number Of Pages: 183
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edetion, 2017
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"দুর্বিপাকের ঘূর্ণি" বইয়ের ফ্যাপের লেখা: মানুষের জীবননগরের প্রতিটি স্তর প্রতিকূলতা আর বিষ্ময়ে ঠাসা। জাবেদ আর তার ছয় সন্তানকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে উপন্যাসের কাহিনি। একটা একচোখা খেলনা দৈত্য তার সন্তানদের জীবনের স্বপ্নগুলােকে নিমিষেই দুঃস্বপ্নে পরিণত করে। একটি সামান্য খেলনা যেমন বড় ছেলে বাদশাকে ধীরে ধীরে দানবে পরিণত করে, তেমনিভাবে একটি আসল পিস্তল দ্বিতীয় সন্তানকে বানায় মহানায়ক। গল্পের পটভূমিতে এত বিচিত্র রূপে বৈপরীত্ব তুলে ধরতে লেখক প্রতিটি ঘটনায় বাস্তবিক অর্থেই খেলেছেন জুয়া। একদিকে কৃষকজীবন, অন্যদিকে জীবনবিহীন জীবন। ছােটছেলে খেলার মাঠে হাফ সেঞ্চুরি করতে না পারলেও কয়েকটি ছেলেকে পিটিয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ আহরণ করে। অন্যদিকে আরেক ছেলে নবাবের। জীবন ধাবিত হতে চলেছে অভিশপ্ত পথে। তাদের জীবনপথে দুর্বিপাকের এই ঘূর্ণি তবে কি অন্তহীন?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
দারুন একটা উপন্যাস।
''দুর্বিপাকের ঘূর্ণি'' উপন্যাসে ধর্ম নিয়ে আলোচনার আলোচিত কিছু অংশ- ইসলাম চাচা বললেন, এখন বিশ্বব্যাপী ইসলামপন্থি রাজনীতি যারা করে, তারা ইসলাম ধর্মের একটি ব্যাখ্যা হাজির করে এবং সেটাকেই রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করে। এদেশের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা। ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে, বিশ্বাসের অনেক জায়গাতে ইসলাম ধর্মের ভেতরেও রয়েছে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা। এই ভিন্নতা শুধু শিয়া-সুন্নির পার্থক্যেই নয়, বিভিন্ন ধরনের মাজহাব এবং মাসলাক, হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা, ইসলামি আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা এই পার্থক্য ও বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী। কোন বিষয়ে সংশয় অথবা সন্দেহ থাকলে ইসলামে এ ধরনের ব্যাখ্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের নজির কিন্তু আছে। কিন্তু উগ্র ইসলামপন্থিরা ধর্মের সে অংশকেই তাদের প্রচারণায় তুলে ধরে, যেগুলোকে তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং লক্ষ্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করতে পারবে। আছরের ওয়াক্তের আর বেশি সময় বাকি নেই বলেই ইমাম সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন,তবে যাবার আগে একটা কথাই বলব, মুসলিম জাতিকে প্রকৃতভাবে আগে নিজেকে জানতে হবে। যারা রাজনীতিক দীক্ষা গুরু হিসেবে আবুল আলা মওদুদী, হাসান আল বান্না, ইবনে তাইমিয়া, আবদুল ওয়াহাব, সাইয়েদ কুতুব, আবদুল্লাহ ইউসুফ আজ্জম কিংবা রুহুল্লাহ খোমেনির ব্যাখ্যাকেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে এবং এই বিষয়ের বিতর্ককে তারা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে থামিয়ে দিতে চায়। আমি এটা কখনো বলব না, ধর্মীয় গ্রন্থগুলো থেকে সহিংসতার বা উগ্রপন্থার ধারণা গ্রহণ করা অসম্ভব। কেবল যে ইসলামের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য, সেটা সঠিক নয়। খ্রিষ্টধর্ম বা ইহুদি ধর্মগ্রন্থে একধরনের সহিংসতার ধারণা নেওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু তার পাশাপাশি সবধর্মের মধ্যেও আবার সহনশীলতা, সহানুভূতি, সমবেদনার কথা বলা আছে। ফলে ধর্মের একক কোন ব্যাখ্যাকেই যারা চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করে, তারা ভুল করে, মস্তবড় ভুল। নবাবের মতো কোমলমতি ছেলেরা কি এভাবেই প্রতিনিয়ত ঝরে পড়বে? মেহেদী হাসান তামিমের 'দুর্বিপাকের ঘূর্ণি'র আরো কিছু নির্বাচিত অংশ যা নিয়ে সমাজের ভাবার প্রয়োজন রয়েছে - ..................................................................... আপেক্ষিক বঞ্চনা হচ্ছে যখন একজন নিজের জীবনে বা তাঁর চারপাশের সমাজে, এমনকি বৈশ্বিকভাবে যে সমাজের অংশ বলে নিজেকে মনে করে, তার প্রতি অসম আচরণ দেখতে পায়। সে যখন অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে আর দেখতে পায় যে অন্যরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছে, তখন তার ভেতরে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সমাজে বিরাজমান কতিপয় অবস্থা ও প্রবণতাকে প্রধান বলে মনে করে- তাঁদের মতে এইভালো থাকাটা হতে পারে বৈষয়িক, হতে পারে সাংস্কৃতিক, হতে পারে সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে। সম্রাট প্রশ্ন করল, তাহলে নবাবের মতো কোমলমতি ছেলেরা কি এভাবেই প্রতিনিয়ত ঝরে পড়বে?রাকিব সাহেব বললেন, যে কোনো যুক্তি সম্পন্ন মানুষই জানেন যে পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই পার্থক্যকে যখন অন্যায় ও অন্যায্য বলে মনে হয়, তখনই এই পার্থক্যের বিষয়টি মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই আপেক্ষিক বঞ্চনার বোধ তৈরি হয় যখন একজন ব্যক্তি দেখেন যে অতীতে যেসব অধিকার তিনি ভোগ করে এসেছেন তা সীমিত হচ্ছে বা অন্যরা এখন তার চেয়ে অনেক বেশি অধিকার ভোগ করছেন।কিন্তু মনে রাখা দরকার, যেকোনো সমাজে যখন একজন ব্যক্তি, যদি নিজেও এই সুবিধাভোগী হন, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারেন যেসমাজের একাংশের ওপরে অন্যায্য প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই তার এই সুবিধা বহাল থাকছে, তখন তার মধ্যেও আপেক্ষিক বঞ্চনার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্রাট বলল, স্যার, ইদানিং তো প্রায় পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, এ সহিংসতার সাথে জড়িত তরুণদের একটা বড় অংশ শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে । তারা তো নবাবের মতো কখনও বঞ্চিত হয়নি অথবা অভাবের মুখোমুখি তাদের কে হতে হয়নি। তারা কোন দুঃখে এই পথ বেছে নিচ্ছে? ইমাম সাহেব ধমক দিয়ে উঠলেন, বলদের মতো কথা বলিস ন সম্রাট। কেবল যারা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ‘বঞ্চনা’কে, তাদের অবস্থান থেকে দেখলে এটা বোঝা যাবে না। কেউ তার চারপাশে যা ঘটছে, সেটাকে অন্যায্য মনে করছে কিনা, সেটা প্রথমে ভাবতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকার মুসলমানদের কি মনে হয় তোর? ওরা কি দরিদ্র? নাকি তোর আমার মতো হাভাইত্ত্যা? একবেলা ভাত পাবে এই আশায় কি তারা সহিংসতা করছে? ভুলেও এটা ভাবিস না। বরং এই সহিংসতাকে চলমান রাখতে তারা মিলিয়ন বিলিয়ন টাকা ঢালছে। মধ্যপ্রাচ্যে বা অন্য যেখানেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন হয়, তা তাদের নিজের উপর হচ্ছে বলে ধরে নেয়। বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের মধ্যেই এ ধারণা ব্যাপক প্রবল। ঠিক তেমনিভাবে কালোরা, সমকামীরা, ইহুদিরা, কাশ্মীরিরা অথবা আদিবাসীরা যে যেখানে থাকুক না কেন তাদের সমগোত্রীয় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলেই, মনে করছে সেটা তাদের নিজের উপরেই ঘটছে।






















