

Buy চৌকাঠ Online in Bangladesh
লেখক: মোর্শেদা হোসেন রুবি
- Author: মোর্শেদা হোসেন রুবি
- Publisher: মুহাম্মদ পাবলিকেশন
- Isbn: 9789849825043
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
একটি পরিবারের দায়শীল অথচ মায়াবী, স্বাধীন কিন্তু সক্রিয়, আটপৌরে তথাপি অসাধারণ একটি স্বচ্ছন্দ কাহিনিকে ঘিরে ‘চৌকাঠ’ উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে। পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ কিন্তু তাদের পরিণতি না জেনেই জীবনযাপন করে। খায়দায়, ঘুমোয়, ঘুরে বেড়ায়, সম্পর্ক গড়ে কিন্তু সভ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় খুব কমজনই। একটি পরিবারের কর্তা বা অভিভাবক বা ভালোবাসা, বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বা গড়ে ওঠার শেষ আশ্রয়টুকু কিন্তু বাবা-মা বা পিতামাতা। পিতামাতার এতটুকু অবহেলা, অনাদর, অযত্ন, অনুপস্থিতি বা হেঁয়ালিপনা সন্তানকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আবার সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই সন্তান নিয়তির অনুকূল পরিবেশে, নিপুণ দক্ষতায় ও কর্মকুশলতায় নিজ নিজ স্বর্গোদ্যান গড়ে নিতে পারে, যদি আল্লাহ চান, যদি তাঁর তাওফিক সুমর্জি হয়। ‘চৌকাঠ’ উপন্যাসে লেখক মোর্শেদা হোসেন রুবি এমনই এক উপরিউক্ত আশ্চর্য দার্শনিকীর প্রতিস্থাপন দিয়েছেন একটি পরিবারের ছায়াময় আবরণে। যেখানে তেহজিব এক এতিম কিন্তু দুর্দান্ত ভাগ্যময়ী নারী। ইয়াশা বড় লোকের এক জেদি, দেমাগি কিন্তু সচ্চরিত্রের ছেলে কিন্তু পরিবার বা সমাজে একসময় সে বখে যাওয়া পুরুষ এবং তার পিতাও কিন্তু মহান আল্লাহর অসীম রহমতে ও তাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তারা আবার একটি সুন্দর ও অনাবিল পারিবারিক জীবন ফিরে পায়... কিন্তু কীভাবে? প্রিয় পাঠক, এর সবিস্তার জানার জন্যই আপনাকে ‘চৌকাঠ’ উপন্যাসটি আগাগোড়া পড়তে হবে একান্তে ও নিবিড় সন্নিবেশে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বই পড়ে অনুভূতি অবশ্যই ইতিবাচক।ব্যাক্তিগতভাবে আমি লেখিকার অনেক পুরোনো একজন পাঠিকা,অনলাইন এবং অফলাইনে।ওনার অধিকাংশ বই,ই-বুক,অনলাইন লিখা আমি পড়েছি সেক্ষেত্রে আমার একটি বড় অভিযেগ হচ্ছে নায়ক নায়িকা তাদের জীবনে অনেক কষ্ট করে, হারাম জীবনযাপন করে যখন হালাল সম্পর্ক হয়,বৈধ পরিণতি পায় তখনই উপন্যাস শেষ।হালাল নিয়েও তো একটু বেশি লিখা উচিত।তাতে ইতিবাচক মেসেজ আরও পাবে মানুষ।এক্ষেত্রে আমি দাবি করব তাদের হালাল জীবন নিয়েও কিছুটা লিখতে।

অসম্ভব সুন্দর বই,,,, অনেক পছন্দ হয়েছে ❤️❤️❤️❤️

#চৌকাঠ "একটি ঘরের চৌকাঠ হল সেই ঘরের সীমানা। চৌকাঠের কাজ সীমান্ত প্রহরীর মতোই। একটা ঘর যেমন মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল,তার মাথা গোঁজার জায়গা ,তার আবরু কিংবা প্রাইভেসি,তেমনই এটি একজন গৃহকর্তার নিজস্ব একটা গণ্ড। তার স্ত্রী হচ্ছেন সেই ঘরের রক্ষক যার ভূমিকা চৌকঠের। চৌকাঠ সেই সীমানা, যা একজন মানুষের জীবনের ভেতর আর বাহিরকে আলাদা করে ফেলে। " ★ জনপ্রিয় লেখক মোর্শেদা হোসেন রুবি'র নতুন উপন্যাস চৌকাঠ মূলত একটি ইসলামি ধারার বই। বহুদিন পর আপুর এধরণের লেখা আবার পড়লাম। একজন নারীর ভূমিকা সংসারে কতটুকু আর স্বামীর জীবনে ও ঘরে তার গুরুত্ব ঠিক কতখানি তা বুঝাতেই বইটি লেখা। পুরুষেরা একটি ঘরের দরজা হলে নারী হলো সেই দরজার চৌকাঠ, যা দরজাকে শক্ত আর মজবুত ভাবে দাড়িঁয়ে থাকতে সহায়তা করে। হযরত ইসমাইল আলাইহি (রাঃ) ভাষায় _ "একটি ঘরের চৌকাঠের ভূমিকা দরজার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দরজা তো চৌকাঠেরই অংশ। চৌকাঠ দরজার হেফাজত করে আর দরজা হেফাজত করে ঘরের। " ★ কাহিনি সংক্ষেপে : গল্পের শুরু তেহজিব নামের এক এতিম মেয়েকে ঘিরে। মা-বাবার মৃত্যুর পর যে কিনা তার একমাত্র মামা-মামির আশ্রয়ে চলে আসে। মামি সামিয়া বেগম খুব অমায়িক একজন মহিলা। দ্বীন মেনে চলা, আল্লাহকে ভয় করা, ইসলামিক রীতিনীতিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাওয়া একজন নারী। যে তেহজিবকেও ইসলামি আদর্শে গড়ে তুলেছেন। কিন্তু নিজের মেয়ে রাইসাকে ঠিক তেমনভাবে মানুষ করতে পারেননি। হয়ত অতি আদরের বলে। একারণে রাইসা সুন্দরী, মেধাবী, স্মার্ট হলেও মানবিক বা মেয়েলি গুনাবলীগুলো ওর মধ্যে নেই। এভাবেই একই পরিবারে রাইসা আর তেহজিব বেড়ে উঠতে থাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে। একসময় রাইসার জন্য আসা উচ্চবিত্ত পরিবারের ওয়েল এস্টাবলিশ পাত্র যখন তেহবিজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে তখন সামিয়া পড়ে যান বিপাকে। কিন্তু যতই মুখে ইসলামের বুলি ফুটুক, দিনশেষে জয়ী হয় একজন মা ই। রাইসার জীবনকে নির্বিঘ্ন রাখতে একরকম তাড়াহুড়ো করেই তেহজিবকে পাত্রস্থ করতে চান তিনি। কিন্তু এতে তেহজিবের কতটুকু মঙ্গল লুকিয়ে আছে সেটা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেন না। ধনী বাবা- মার আদরের রগচটা, উড়নচণ্ডী ছেলে ইয়াশার জীবনের সাথে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবে তেহজিবের মতো কোমল মেয়ে?দিনশেষে সে কী পারবে ইয়াশার ছন্নছাড়া ঘরের আর্দশ চৌকাঠ হতে? "ধার্মিকতা অত সহজ জিনিস না। এগুলো বলতে সোজা, শুনতে মজা। মানতে গেলে পুরো জীবনটাই একটা সাজা। " ★ পাঠ প্রতিক্রিয়া : আপুর এধরণের গল্পগুলো আমাকে চুম্বকের মতো টানে। বইটা শুরু করার পর হাত থেকে আর রাখতে ইচ্ছে হয়নি। তেহজিবকে যত পড়ছিলাম ততই মুগ্ধতা বাড়ছিলো। ওর মনের চাপা কষ্টগুলো যেন আমার মনকেও আদ্র করছিলো। ইকবাল ফারিদের আগমনে একটু আশার আলো দেখেছিলাম কিন্তু পর মুহূর্তে সামিয়ার সিন্ধান্তে মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছি। সামিয়াকে শুরুতে অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্ব মনে হলেও ধীরে ধীরে তার সেই আসন নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিলো। মাবিয়াকে অসাধারণ লেগেছে। রামিশাকে শুরুতে তেমন ভালো না লাগলেও শেষের দিকে চমৎকার লেগেছে। ইয়াশার ব্যক্তিত্ব ততটা স্ট্রোং ছিলো না শুরুতে কিন্তু ওর অতীত জানার পর মনে হয়েছে ছেলেটা চমৎকার সামলে নিয়েছে। রাইসাকে রীতিমতো বিরক্তিকর লেগেছে। গল্পের বুনন চমৎকার ছিলো কিন্তু শেষটা অতটা পোলিশড মনে হয়নি। মনে হয়েছে হুট করেই শেষ হয়ে গেলো। যেমনটা ছোটোগল্পে হয়। যেহেতু এটা একটি পূর্নাঙ্গ উপন্যাস তাই শেষে আরেকটু বিশদ বিবরণ আশা করেছিলাম। নীলিমা আর কাকলির প্রতিক্রিয়া দেখার ইচ্ছে ছিলো। মামুন সাহেবের মনোভাব টাও স্পষ্ট হয়নি। রাইসার একটা গতি হতো যদি। আর ইয়াশা, তেহজিবের রসায়ন পুরোপুরি জমাট বাঁধে নি তখনও। মোট কথা গল্পটা আরেকটু বর্ধিত করলে তৃপ্তি পেতাম। এইসব কিছু মিলিয়ে আরও ৩/৪ পাতা লিখলে ভালো লাগত। ★ তেহজিব : "চৌকাঠ হবার আগে যে নিজেই একটা সাধারন কাঠের টুকরো সে কিভাবে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। যে কাঠ চৌকাঠ না হলে জ্বালানি কাঠের মত ব্যবহৃত হয়, তার কি কোন নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। " এমনই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর এক অসাধারণ মেয়ে তেহজিব। চরিত্রটি একাধারে যেমন দৃঢ়, তেমনি অকপট, আবার নমনীয়ও। তেহজিবের এই সকল বৈশিষ্ট্যের জন্যই ওকে ভীষণ ভালো লেগেছে। ★ ইয়াশা : " সাধারণত মায়ের আঁচল ধরা ছেলেরাই বউয়ের আঁচল ধরে। এখানে আচঁলটাই আসল। সেটা মায়ের না বউয়ের ডাজন্ট ম্যাটার। " বদমেজাজী, একরোখা একজন ছেলে ইয়াশা। কিন্তু একাধারে পরোপকারী আর বন্ধুবৎসল ও। নিজের চারপাশে এক অদৃশ্য দেয়াল তুলে রেখেছে যা ভেদ করে নিজের মনের কাছাকাছি কাউকেই আসতে দেয় না সে। চরিত্রটা একটু ভিন্ন,তবে বেশ লেগেছে। ★ মাবিয়া : " মানুষের সামনে যদি কাছাকাছি মানের দুটো ভালো জিনিস দেয়া হয়, তাহলে তারা যেটা তুলনামূলক বেশি উপকারী সেটাকে নিজের জন্য পছন্দ করে।আর সেটা যদি হয় স্বল্পমূল্যের আর সহজলভ্য, তাহলে তো কথাই নেই। তারা ওই সহজটাকেই বেছে নেয়। এটা এজন্য না যে অন্যটা মূল্যহীন। বরং সহজলভ্য জিনিসটার মালিকানা পেতে তাকে বিশেষ কষ্ট করতে হয় না। " গল্পে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র মাবিয়া। পেশায় একজন ম্যাচমেকার বা ঘটক। তেহজিবের জীবনে এই মানুষটা যেন আর্শীবাদ হয়ে এসেছিলো। রামিশার দুঃসময়ে ছায়ার মতো তার পায়ে থেকে সৎ পরামর্শ দিয়েছে। সামিয়াকেও নিজের কারণীয় শিখাতে পিছপা হননি। সবমিলিয়ে চমৎকার একটা চরিত্র। ★ সবশেষে বলব, অনেকদিন পর এধরণের একটা বই পড়ে মনে শান্তি পেলাম। অনেক কিছু শেখারও আছে গল্পটা থেকো। এরকম গল্প আরও বেশি বেশি লেখার অনুরোধ রইলো লেখকের কাছে। বইয়ের প্রোডাকশন অনেক ভালো ছিলো। মূল্যটাও কমই। প্রচ্ছদ মোটামুটি লেগেছে। আরও সুন্দর হতে পারত। সবমিলিয়ে ভালো লেগেছে। বই: চৌকাঠ লেখক : মোর্শেদা হোসেন রুবি প্রকাশনী : মুহাম্মদ পাবলিকেশন প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ মুন্না মলাট মূল্য : ২৮০ টাকা
সম্মানীত প্রিয় লেখিকার "নারী নরক নয় নন্দন" দিয়ে তার বই পড়ার যাত্রা শুরু হয় আমার, একে একে সব বই সংগ্রহ করি। তাঁর প্রতিটি বই আমার কাছে একেকটি মেসেজ, দলিল, সম্পদ; "চৌকাঠ" ও এর ব্যতিক্রম নয়। একবার যিনি লেখিকার ভাষা আত্মস্থ করবেন তিনি অপেক্ষায় থাকবেন পরবর্তী বইয়ের, অপেক্ষায় থাকবেন আত্মোপলব্ধির।

📜সমারম্ভ: আপনার ঘরের চৌকাঠটা ঠিকঠাক আছে তো? নাকি ঘুণে ধরা সমাজের ঘুণপোকা গুলো এখানেও তার শক্ত অবস্থান নিয়ে ফেলেছে আপনারই অগোচরে। চোখের ঐ রঙিন চশমাটার পুরুত্ব ঠিক কতোখানি হয়েছে কখনো কি খেয়াল করে দেখেছেন? নিত্য চাহিদার সীমানা গুলো মিথ্যে কোলাহলের ডাকে ছুটে চলছে কি অজানা কোন চোরাবালিতে ডুবতে? ত্রাসের আঙুল ধরে বট বৃক্ষের ছায়া দেয়া পরিবারের মধ্যেও কি অবহেলা, অনাদর অযত্ন, হেঁয়ালিপনা গুলো ভয়ংকরের কোলে পাঠাচ্ছে সন্তানদের? নষ্ট সময়ের কাছে নতজানু হয়ে ধ্বংস ডেকে এনে তাদের সব যন্ত্রণাগুলো যখন সয়ে যায়, হারানোর আর বাকী থাকে না কিছু, চোখেও পানির যেন খরা, অনুভূতিরা শক্ত শীলায় যেন নিজেদের পরিণত করেছে। ভাবছেন তো এখানেই সব শেষ? না চোখে মায়া আর মুখে স্নেহ নিয়ে জন্ম নেয়া সন্তানদের ফেলে এগিয়ে চলা তথাকথিত সফল যে মানুষটাকে রোজ দেখছেন ভেবেছেন কখনো তার ঘরেই কি হেরে যাওয়া ধ্রুবতারার বাস কিনা? সময়ের তাগিদে সব যখন শেষ হয় ঘরে ফিরে নক্ষত্র পতনের জোড়ালো আওয়াজে পরিবার নামক মহীরূহ এবার যেন নত হয় অভিলাষী আগুনের খিদে মিটিয়ে। এরপর?? এরপর কি প্রলয়ের ঝড়ে এবার সব শেষ এমনটাই ভাবছেন তো তাই না? কিন্তু না এই ধ্বংস স্তুপ থেকেও সন্তান নিয়তির অনুকূল পরিবেশে নিপুন দক্ষতায় ও কর্ম কুশলতায় নিজ নিজ স্বর্গ উদ্যান গড়ে নেয় যদি আল্লাহ চান, যদি তাঁর তওফিকের সুমর্জি হয়। এমনই কোন পথের দিশা, ঠিক এমনই কোন চৌকাঠের রেখা যেন এঁকে দেখিয়ে গেলেন সুদক্ষ লেখিকা মোর্শেদা হোসেন রুবি। 📖 কাহিনী সংক্ষেপঃ প্রিয় লেখিকার মোর্শেদা হোসেন রুবির কলমের আঁচড়ে এবার ফুটে উঠেছে তেহজিব নামক এক এতিম, দূর্দান্ত ভাগ্যময়ী নারী। জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার করাঘাতে বড়লোকের জেদি, একরোখা হয়ে ওঠা সচ্চরিত্র নিয়ে চলা ছেলে ইয়াশা আর তার বাবা। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আর সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটা ভেঙে যাওয়া পরিবার কিভাবে আবার একটা সুন্দর অনাবিল পারিবারিক জীবন ফিরে পায় তার সবিস্তার । কিন্তু কিভাবে? অজানা গল্পটা পড়তে চাইবেন না? তাহলে আর দেরি কেন চৌকাঠে এই অজানা কাহিনাটার সবটা পড়ে দেখতে প্রস্তুত হয়ে যান। 📮পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ▪️"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে" অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারত চন্দ্র রায় গুণাকরের এই বিখ্যাত উদ্ধৃতিটি যেন এখন অনেক পরিবারের চিরন্তনীয় ভাষ্য। শুধু এই দিকের চিন্তা করেই অনেক বাবা মা ছুটে চলে প্রতিনিয়ত। সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বর্তমান সান্নিধ্যের প্রতি অজান্তেই হয়ে যায় উদাসীন। কিন্তুু চৌকাঠ যেন আমাদের অন্য বার্তা দিয়ে গেল, "সন্তানের জন্য সম্পদ না, বরং সন্তানকেই সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তার অনুকূল পরিবেশের নিশ্চয়তায় বাবা মার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার এক শিক্ষনীয় দৃষ্টান্ত পুরো চৌকাঠের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো যেন। ▪️আপাত দৃষ্টিতে চৌকাঠ গৃহস্থ বাড়ীতে অত্যন্ত মামুলী একটি জিনিস। কিন্তু ইসলামি দৃষ্টি কোন থেকে রূপক অর্থে সেই চৌকাঠকেই যখন সংসার তথা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ স্ত্রীয়ের সাথে তুলনা করা হয় তখন এর মাহাত্ম্য আর তাৎপর্য ঠিক কতোটা আর এর প্রভাবেই ঠিক কি পরবর্তন গুলো বা অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় গুলো হতে পারে তাই যেন গোটা চৌকাঠ উপন্যাসের মূল বার্তা। 🎨🖌️প্রচ্ছদ, প্রডাকশন ও অন্যান্যঃ স্নিগ্ধ রঙ্গের চৌকাঠের প্রচ্ছদ প্রথম দর্শনেই আমার চোখে লেগে গেছে। নামের সাথে প্রচ্ছদের চিত্রকর্মে গল্পের মূল থিমটাই যেন সুনিপুণ ভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। গল্পের ধরনে বলা আছে ইসলামি জনরার কথা, সম্পূর্ণ গল্পটাও ঐ আদলেই সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি মুগ্ধ হয়ে দেখে গেলাম বইয়ের মলাটের পুরুত্ব থেকে শুরু করে প্রতি পৃষ্ঠার অলংকরণে ঠিক যেন কোন হাদিসের বইয়ের ছাপ পুরো চৌকাঠ জুড়ে ফুটে উঠেছে। এমনকি কোন সৌন্দর্য হানি না করে প্রতি পৃষ্ঠার সব জায়গায়ই কাজে লাগিয়ে, দুর্মূল্যের বাজারে পাঠক সাশ্রয়ী একটা বই প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে সবার কাছে চৌকাঠ যেন সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলো। এজন্য লেখিকা আর প্রকাশনীর জন্য রইলো বিশেষ কৃতজ্ঞতা। 📋 মনে দাগকাটা বইয়ে উল্লেখিত কিছু নান্দনিক উক্তি, ✒️'আসলে পুরোটাই ভাবনার দৈন্য। অন্যের ঘরকে, অফিসকে, ব্যক্তিগত জীবনকে সাজাতে আমাদের জুড়ি নেই। কিছু চমৎকার ডেজিগনেশন আর মাস শেষে বেতন। আসলে স্বাবলম্বিতা নামের ভূত আর স্বেচ্ছাচারিতা নামের বদভ্যাস আমাদের অন্ধ করে রেখেছে। ' ✒️এ পৃথিবীতে একমাত্র পাগলরাই স্বাধীন। কারো শাসন-বারণ মানতে হয় না। কোনো কাজ করার জন্য তাদের কাউকে জমাখরচ দিতে হয় না। ✒️'শান্তি। বড় দূর্লভ জিনিস। ' ✒️'যে সম্পর্ক আল্লাহ তাআলা আসমান থেকে জোট বেঁধে এক করে বানিয়ে পাঠিয়েছেন, সেই সম্পর্কগুলো একতরফাভাবেই রক্ষা করতে হয়। অপর পক্ষের ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে সরে আসা যায় না।' 📖 লেখক বন্দনাঃ লেখক বন্দনায় বলতে চাই, আধো আলো বিশ্বাসে আকাঙ্ক্ষা আর হতাশায় বুকের গভীরে যখন কারও ডাকের আশায় হৃদয় তৃষ্ণায় পরে তখন সুদক্ষ লেখিকার লিখাটা যেন অটুট ভরসার বার্তা দিয়ে দু চোখে বেঁচে থাকার স্বপ্ন গড়ে দিয়ে গেল । তবে আহ্লাদী পাঠক সত্তা এবার অভিযোগ তুলতে বলছে তাঁর সমীপে এই বলে, আপনার বড় লেখার লোভে পড়া এই লোভী মনটা ছোট্ট এই উপন্যাসিকায় যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারে না এটারই আক্ষেপ আছে শুধু। 🗞️যবনিকাঃ সবশেষে বলবো, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রয়োজনীয় আর ধৈর্য্যের কাজ হলো সন্তান প্রতিপালন। এটা এক ধরনের ঋন, যা আপনার বাবা মা আপনার জন্য করেছেন।আপনার পরে এই পৃথিবীতে কে থাকবে সেই গুরু দায়িত্ব যা আল্লাহ আপনাদের অর্পন করেছেন। লেখিকা মোর্শেদা রুবির তন্নিষ্ঠ কলম যেন পুরো চৌকাঠ জুড়েই প্রসারিত হতে চেয়েছে বিস্তারিত জীবনের আলো - আঁধারিতে, আর সাথে সঙ্গী করে নিতে চেয়েছেন অনুভবী পাঠকেও। ............................................................................ ▪️এক নজরে বইটি-- বইয়ের নাম: চৌকাঠ লেখিকা: মোর্শেদা হোসেন রুবি জনরা: সমকালীন ইসলামিক উপন্যাস প্রকাশনী: মুহাম্মদ পাবলিকেশন প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ মুন্না পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১ মুদ্রিত মূল্য: দুইশত আশি টাকা প্রকাশকাল - একুশে বইমেলা ২০২৪। ______________________________________ Review and Photo by Israt Sharmin Trina
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
পৃষ্ঠা সংখ্যা?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪। ধন্যবাদ।
পৃষ্ঠা সংখ্যা?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪। ধন্যবাদ।






















