বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বির্তক
বই কালেকশন

Buy বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বির্তক Online in Bangladesh

লেখক: ফাহমিদ-উর-রহমান

5.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: ফাহমিদ-উর-রহমান
  • Publisher: এবনে গোলাম সামাদ গবেষণা কেন্দ্র
  • Number Of Pages: 80
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, December 2023
৳ 179৳ 20011% ছাড়
স্টক আউট (Stock Out)
ফরম্যাট / সংস্করণ নির্বাচন করুন:
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাঙালি-বাংলাদেশি এই দুই ধারার বাহাস চলমান। এ বাহাসের আজও কোন সমাধান হয়নি। কখনো হবে তাও নিশ্চিত করে কি বলা যায়? একটি দেশে এরকম বাহাস অবাঞ্চিত হলেও এটি এখন বাস্তব ঘটনা। সেই বাহাস নিয়েই এই বই। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের বিবর্তনকে যারা বুঝতে চান তাদের জন্য এ বই কিছুটা হলেও দিশার কাজ করবে।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

5.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
Shahadot hossan
Shahadot hossan ভেরিফাইড
08 Mar 2024

বাংলাদেশে ‘জাতীয়তাবাদ’ নিয়ে পুরনো বাহাসের সমাধান—সূত্র সরদার আবদুর রহমান কোনো তত্ত্বগত বা তাত্ত্বিক বিষয়ে কথা বলতে গেলে এমনিতেই মাথা ঘোরা শুরু হয়। ফলে প্রায়শই এমন বিষয়ের ভেতরে প্রবেশ করা থেকে কিছুটা তফাতে থাকার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু সম্ভবত এটি এমনই একটি বিষয় যার তত্ত্বগত গভীরতা সত্ত্বেও এর ভেতরে প্রবেশের অবকাশ পেলাম। কারণ এটি সহজ করে লেখা, কথার মারপ্যাঁচ নেই। একটি সরল পাঠ এর প্রতি আকৃষ্ট করলো। এটি ‘জাতীয়তাবাদ’ বিষয়ক। এর সঙ্গে আবার প্রধানত দুটি পক্ষ জড়িত-একপক্ষে ‘বাঙালি’ আর অন্যপক্ষে ‘বাংলাদেশি’-যার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক সংস্কৃতি, চিন্তা—চেতনার ধারা এবং দীর্ঘ ইতিহাসও সম্পৃক্ত। এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছেন সমাজ—স্বদেশ—সংস্কৃতিচিন্তক ফাহমিদ—উর—রহমান। তাঁর সাম্প্রতিককালে রচিত ‘বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বিতর্ক’ গ্রন্থ একারণে আলোচনার পাদপ্রদীপে স্থান নিয়েছে। নাতিদীর্ঘ গ্রন্থ হলেও এর সারংসার অতিশয় গভীর এবং চিন্তার খোরাকে পরিপূর্ণ। লেখক এর কোনো অধ্যায় বা পরিচ্ছেদের আবরণ সৃষ্টি না করে কয়েকটি অংকে এটি উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রসঙ্গটি আলোচনা করতে গিয়ে একাধারে বাঙালির ঐতিহাসিকতা, ভারত বিভাগ, ইংরেজদের কূটকৌশল, হিন্দু—মুসলিম দ্বন্দ্ব, হিন্দু বাঙালি বনাম মুসলিম বাঙালি প্রভৃতি বিষয়কে বিশ্লেষণ করে একটা সমাধানসূত্র প্রদানে প্রয়াসী হয়েছেন। যেমন তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, “গৌড় অঞ্চলে বাস করত পুণ্ড্ররা এবং রাঢ় অঞ্চলে বসবাস করত সুম্মরা। বঙ্গাল জনগোষ্ঠীটি ছিল অস্ট্রিক পরগোষ্ঠীর অন্তভুর্ক্ত। পুণ্ড্র ও সুম্মরা ছিল অনার্য। এদের শরীরে বিভিন্ন সময়ে মঙ্গোলীয় জাতিগোষ্ঠীগুলোর রক্তের মিশ্রণ ঘটেছে বলে মনে করা হয়।” এর ফলে দেখা যায়, বাঙালি কোনো অবিমিশ্র জাতি হিসেবে আদৌ গড়ে উঠতে পারেনি। ফাহমিদ “ভারত বিভাগ কেনো হলো, হিন্দু—মুসলমান মিলে আধুনিক সময়েও ভারত কেনো একটি নেশন স্টেট (জাতিরাষ্ট্র) হিসেবে দাঁড়াতে পারলো না- এসব প্রশ্নের উত্তর ভারতের বর্তমান সামাজিক চরিত্র—বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কিছুটা হলেও মিলতে পারে” বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, “ইংরেজ আমলে যে দ্বন্দ্ব ছিল হিন্দু—মুসলিম দ্বন্দ্ব, পাকিস্তান আমলে সেই দ্বন্দ্ব রূপ নিল বাঙালি মুসলিম দ্বন্দ্বে। সবশেষে বাংলাদেশ কালে সেটি পরিণত হলো বাঙালি—বাংলাদেশি দ্বন্দ্বে। এ দ্বন্দ্বের মধ্যে বিভিন্ন সময় শ্রেণি ও অর্থনৈতিক বাচ—বিচারের একটি জায়গা থাকলেও এটা প্রধানত সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বটাই ইতিহাসের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে হাজির হয়েছে এবং এখনও আছে।” ফাহমিদ-উর-রহমান বলেন, “ভারতবর্ষে মুসলমানরাই প্রথম ভারতবাসীদের একটা জাতি হিসেবে চিহ্নিত করে। হিন্দু নামটি তাদেরই দেয়া। জাতিবাচক অর্থে মুসলমানরা সকল ভারতবাসীর ওপর এটি প্রয়োগ করেছিল। আগেই বলেছি ইসলাম আসার আগে ভারতে জাতি বা হিন্দুধর্ম বা হিন্দু জাতি বলে কিছু ছিল না। ভারতে জাতি চেতনার সৃষ্টি মুসলমানদেরই অবদান। ইতিহাসের এই বিচিত্র দানকে যেন আমরা ভুলে না যাই।” হায় আফসোস, সেই হিন্দু এখন মুসলমানদের প্রধান দুশমন। তিনি মনে করেন, “এদেশে মুসলিম শাসন হচ্ছে ইতিহাসের সেই অবচেতন শক্তি যা বিচ্ছিন্ন বিভক্ত আদি বাঙালিদের এক অভিন্ন রাজনৈতিক ঐক্যের সূত্রে বেঁধে ফেলেছিল ও অভিন্ন বাঙালি জাতিসত্তার ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এদেশে বাঙালি ও বাঙালিত্বের ধারণা মুসলমানদের দান।” ‘বাংলার জাগরণ’ নামক ইউটোপিয়াকে তিনি এভাবে বর্ণনা করেন, “ইংরেজের সহযোগিতাকারী বাঙালি হিন্দু কমপ্রোডর (Comprador) শ্রেণি কলকাতাকে ঘিরে তৈরি করলো এক বিশেষ ধরনের কালচার। তারা একে নাম দিল ‘বাংলার জাগরণ’। আদতে এটি ছিল ‘হিন্দুর জাগরণ’। আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রধানত এদের হাতেই গড়ে ওঠে। এদের হাতে যে সাহিত্য গড়ে উঠল তা জাতীয় ঐক্যের কারণ না হয়ে জাতীয় বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।” তিনি মনে করেন, ...“শুধুমাত্র ইংরেজ বিরোধিতা দিয়ে পশ্চিমের আধিপত্য ঠেকানো সম্ভব ছিল না। কারণ পশ্চিমের মূল শক্তি হলো আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা তখনও মুসলমানদের করায়ত্ত হয়নি।” যদিও পাশ্চাত্যের জ্ঞান—বিজ্ঞানের মূল উৎসই ছিল মুসলমানদের নিকট থেকে ধার করা-যেটি সর্বদা স্মরণযোগ্য। তাঁর মতে, সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে ভারতে মুসলমানদের মধ্যে যে নবজাগরণের শুরু হয় তার ধারাবাহিকতায় বাংলায় মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ শুরু হয় এবং দানা বাঁধতে থাকে তাদের জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা। তবে ফাহমিদকে একথাও স্বীকার করতে হবে যে, একই রেশ ধরে তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ধর্মনিরপেক্ষ, মুক্তবুদ্ধি ও বাম বুদ্ধিজীবীতার বিকাশও ঘটতে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকে একটা সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাম্প্রদায়িক পটভূমিটি তারা বিবেচনা করতে রাজি হন না। অগ্রসর হিন্দু সমাজের সাম্প্রদায়িকতা যে অনগ্রসর মুসলমান সমাজের সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দিয়েছিল- ইতিহাসকে এভাবেও বিবেচনা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি। বাংলায় ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গিয়ে ফাহমিদ—উর—রহমান অসীম রায়ের ধারণার সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “অসীম রায়ের এই প্রস্তাবনাকে কতটুকু যৌক্তিক বা ঐতিহাসিক বলা যায়? ইতিহাস থেকে আমরা দেখছি বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গ বিজয়ের পর থেকে এদেশে মসজিদ, মাদরাসা, খানকাহ গড়ে উঠেছে। অনেক মুসলিম সুলতানের দান—ধ্যানে এগুলো পুষ্টও হয়েছে। এখানে যেমন ইসলামের ক্ল্যাসিক্যাল বিদ্যাচর্চা হয়েছে তেমনি এগুলো এদেশে মুসলমানদের সূচনাকালে ইসলামের প্রচার—প্রসারেও বড় ভূমিকা রেখেছে। এসব ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রে বহু আলেম বিদ্যা দান করেছেন। সোনারগাঁওয়ের শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামাার নাম তো ভূবন বিখ্যাত। শাহজালাল, শাহমখদুমের মতো ইসলামী জ্ঞানে প্রবুদ্ধ দরবেশরাও ছিলেন। এদের চেষ্টায় বাংলাদেশে যে মুসলিম সমাজ গড়ে উঠেছিল তারা তো কুরআন—হাদীসের পাবন্দ ছিল। এদের দ্বারা কোনো সমন্বয়ী ইসলাম প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা নয়।” অসীম রায়ের মতো করে বাংলাদেশেরও কেউ কেউ তাদের ভাবনা প্রকাশ করেছেন। আমার পর্যবেক্ষণে বাংলায় ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা প্রধান তিনটি মাধ্যমে ঘটেছে বলে মনে হয়: এক. মুসলিম শাসকদের মাধ্যমে। এদের সকলেই যে স্রেফ ইসলাম প্রতিষ্ঠার নিয়তে এসব অভিযান—অভিযাত্রা করেছেন তা নয়। তবে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আবহে মুসলিম শিক্ষা, সমাজ, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবার সুযোগ হয়েছে। যেভাবে পালদের শাসনামলে বৌদ্ধ ধর্ম এবং সেনদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রতিষ্ঠা পায়। দুই. ভারত তথা বাংলায় ব্যবসা—বাণিজ্য করতে আসা মুসলিমদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচারিত হয়। বিশেষত আরব, তুর্কি ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য—ব্যবসার সঙ্গে এই অঞ্চলের একটা নিবিড় সংযোগ ছিল। এসব ব্যবসায়ীরা নিছক ‘ব্যবসায়িক’ মনোবৃত্তি নিয়ে আসেননি। তাঁরা নিজেদের আচার—আচরণে এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে নৈতিকতা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মানুষের চিত্ত আকর্ষণ করতেন। এর ফলে অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন। তিন. পীর—দরবেশদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার। বিশেষত আরব, পারস্য ও মধ্য এশিয়া থেকে আগত পীর—দরবেশগণ বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করেন। এঁরা কেবল খানকা বা মসজিদে বসে জিকির করতেন না, বেশিরভাগই দারিদ্র্যপীড়িত মানুষদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তাদের সংসার পরিচালনায় সহযোগী হতেন। যার কারণে এসব পীরদের হাতে বিশেষত দীনহীন মানুষেরা ইসলাম গ্রহণে আকৃষ্ট হন। জাতীয়তাবাদের মূল সূত্রগুলোকে বিকৃত করার জন্য ফাহমিদ অনেকাংশে মার্কসবাদীদের দায়ি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এ দেশের মার্কসবাদীরা চরিত্রগতভাবে দোদুল্যমান। এরা তত্ত্ব ও আদর্শের কথা বলেন বেশি। কিন্তু বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট চিন্তায় দীর্ঘদিন আঁকড়ে থাকা তাদের অভ্যাস নয়। এরা তত্ত্ব দিয়ে বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করতে চান। বাস্তব ঘটনা দিয়ে বাস্তবতার বিশ্লেষণ করার চরিত্র এদের মধ্যে নেই। এরা কমিউনিস্ট দেশ চান এটা আমরা জানি। কিন্তু ভারত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা সে বাস্তবতাকে সমর্থন করে না বলে তাদের অস্বস্তি লুকিয়ে রাখতে পারেন না। এই অস্বস্তিকে তারা নানা তত্ত্বের ধুম্রজাল সৃষ্টি করে প্রকাশ করেন মাত্র।” ফাহমিদ তাঁর রচনায় মোটাদাগে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: ক. হিন্দু আমলে কাব্যের বিষয়বস্তু ছিল দেবদেবিকেন্দ্রিক। মুসলমান আমলে সাহিত্য হয়ে ওঠে মানবকেন্দ্রিক। খ. একমাত্র মুসলমান আমলের বাংলা সাহিত্য ঘিরে জাতীয় ভাব তৈরি হয়। যেমন মুসলমান আমলে তৈরি হয় রাজনৈতিক ঐক্য। তাই মুসলমান আমলকেই বলতে হবে আজকের বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের আদি বুনিয়াদ। গ. সাবেক পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ তৈরি করেছে মূলত পূর্ববঙ্গের ভৌগলিক এলাকায় বসবাসকারী মানুষ। সে হিসেবে বাংলাভাষী সবাই এটার অন্তভুর্ক্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী মানুষ ভারতীয় জাতীয়তার বাইরে কখনো আসতে চায়নি বা এরকম সম্ভাবনাও নেই। সুতরাং তাদের বাঙালিত্ব ও আমাদের বাঙালিত্ব ঠিক এক জিনিস নয়। ঘ. ১৯৭১ সালে সেই ভৌগলিক কাঠামোই বাংলাদেশে পরিণত হয়। তাই বলা যায় বাংলাদেশ হলো বঙ্গভঙ্গ—উত্তর স্বাতন্ত্রিক রাজনীতির বিলম্বিত স্বপ্ন পূরণ। আমাদের দেশের রাজনৈতিক সীমানার উৎস হচ্ছে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা। ওই নীতির ভিত্তি ছিল এ অঞ্চলের হিন্দু বা মুসলমান জনগোষ্ঠী। ঙ. ঐতিহাসিক কারণে বাঙালি মুসলমানের জাতীয়তাবাদ তাই ধমীর্য় পরিচয়ের ভেতর দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে, যেমন এর পূর্বে কলকাতার হিন্দু মধ্যবিত্তের কাছে হিন্দু পরিচয় বড় হয়ে উঠেছিল। চ. পাকিস্তান আন্দোলনকে যারা ধমীর্য় সাম্প্রদায়িকতা বলে বাতিল করতে চান তারা ভারতবর্ষের ইতিহাসকে ভারতের পটভূমিতে রেখে বিচার করেন না। বিচার করেন নিজেদের মতাদর্শগত পটভূমিতে রেখে। ছ. পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা মিলে এক রাষ্ট্র হয়নি। এটার কারণও ধর্ম। পূর্ব বাংলার মানুষ মুসলমান, পশ্চিম বাংলার মানুষ হিন্দু। এই বিতর্কের অবসানকল্পে তিনি সমাধান—সূত্র প্রদান করে বলেন, “প্রকৃত দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তি হয়ে উঠতে হলে মুসলিম কর্তাসত্তাকে যথাযথ স্থান দিতে হবে। এটা ছাড়া যেমন বাংলাদেশের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা হবে না তেমনি আধিপত্যবাদী শক্তির সামনে দাঁড়ানো যাবে না। এদেশে ইসলাম প্রশ্নের মোকাবিলা ছাড়া জাতি প্রশ্নেরও সুরাহা হবে না।” গ্রন্থটি পাঠের পর কিছু জিজ্ঞাসা আমার মনেও উদয় হয়Ñযেগুলো উল্লেখ না করে পারছি না। যেমন— ১. সহমরণ বা সতীদাহপ্রথা কী করে হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য হতে পারে? ২. বাংলায় পালদের উপর সেনদের নির্যাতন ও উচ্ছেদ কি বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ? ৩. ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন খুঁজে পান কেউ কেউ। তাই বুঝি ভারতীয় সিনেমা বা সিরিয়ালে ‘হিন্দুধর্মীয়’ বিষয়বস্তু বা কাহিনী অথবা হিরোইক চরিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকলে তাতে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে শোনা যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে ‘মুসলিম’ ঐতিহ্যকেন্দ্রিক কিছু করলে সেগুলো ‘সা¤প্রদায়িক’ বা ‘পাকিস্তানি’ কালচার হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা কেনো? ৪. জাতীয়তাবাদ, বাঙালিত্ব ইত্যাদি বিষয়গুলো কি স্বাধীনতাপূর্ব সময়ের নির্বাচনী ইশতেহার কিংবা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত ছিল? ৫. শুরুর দিকে ধর্মনিরপেক্ষতা এতটা ধর্মবিদ্বেষমূলক ছিল না। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রবল ধর্মবিদ্বিষ্ট বামপন্থীদের পাল্লায় পড়ে তার চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় বলে মনে করা কি অতিকথন হবে? গ্রন্থের কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণকরা যায়। যেমন— বাংলাদেশি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের মধ্যে পার্থক্যগুলো বুঝাতে একটি সারণি প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দিকের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রন্থে বখতিয়ার খলজির ইন্তেকালের পর আলী মেচ গৌড়ের শাসক হন বলে যেটি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি সঠিক নয়। এখানে নামের বিভ্রাট ঘটেছে বলে মনে হয়। বখতিয়ার খলজির পর গৌড়ের শাসক হন আলী মর্দান খলজি। ইনি বখতিয়ারের ঘনিষ্ট সহযোগীদের একজন ছিলেন। যেহেতু এই গ্রন্থটি সহজ—সরল পাঠকের জন্য বিশেষভাবে উপকারী, সেহেতু এর ইংরেজি উদ্ধৃতিগুলোর বঙ্গানুবাদ প্রদান করলে সেটি তাদের জন্য উপাদেয় হতো। কিছু বানানগত ত্রুটিও লক্ষণীয়। তবে এই গ্রন্থকে এককথায় সহজপাঠ্য, সহজপাচ্য হিসেবে বর্ণনা করে বলা যায়, এ যেনো ছোট্ট একটি সিন্দুক হিরক কুচিতে ভরা। # বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বিতর্ক ফাহমিদ—উর—রহমান প্রকাশক: এবনে গোলাম সামাদ গবেষণা কেন্দ্র প্রকাশ: ডিসেম্বর ২০২৩ মূল্য: ২০০/—

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)