

Buy আয়েশামঙ্গল Online in Bangladesh
লেখক: আনিসুল হক
- Author: আনিসুল হক
- Publisher: পার্ল পাবলিকেশন্স
- Isbn: 9847016200984
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 6th Printed, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঘটে গেলো এক রহস্যময় সামরিক অভ্যুত্থান। ওই রাতে বিমানবাহিনীর সদস্য জয়নাল ঘুমিয়ে ছিল স্ত্রী আয়েশার পাশে। পরদিন সকালে কাজে গেলো জয়নাল, কিন্তু ফিরে এলো না রোজকার মতো। শুরু হলো এক বাঙালি নারীর উজান জলে ভাসা। স্বামীর অন্বেষণ। দু’দুটো দুগ্ধপোষ্য সন্তান নেয় আয়েশা কোথায় যাব? ২০ টি বছল কি কেটেছে তার? আজ কুড়ি বছর পর খবরের কাগজে ছাপা হচ্ছে সেই সব দিনের কাহিনী, শত শত বিমান সেনাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিবরণ। তবে কি আজ কোনো খবর পাওয়া যা নিখোঁজ স্বামীর! আয়েশা আবার ফিরে আসেছে ঢাকায়। আয়েশা কি খুঁজে পেলো তার হারিয়ে যাওয়া স্বামীকে
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
অসাধারণ একটা বই। ইতিহাসের নির্মম সত্য জানতে হলে পড়তে হবে। মিথ্যা ক্যূ্'র নাটক সাজিয়ে জিয়াউর রহমান ৪২৫ জন নির্দোষ সৈন্যকে ফাঁসি দিয়েছিলেন। কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আরো কয়েকশ সৈন্যকে। ইতিহাস ফিরে আসে। জিয়াউর রহমানও একদিন খুন হন। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। জিয়াউর রহমানকেও ছাড়েনি

আনিসুল হকের 'মা' উপন্যাসের পর এই বইটাই তাঁর লিখা অসাধারণ বই। স্বামীকে খোঁজার জন্য আয়েশার যে যুদ্ধ তা এই বইয়ে সুন্দরভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। বইটা পড়ে একবার হলেও আপনার চোখে চল আসবে।

😊
উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্রটি একজন নারীর। যার নাম আয়েশা। গ্রামের একজন প্রাইমারী স্কুলেরহেড মাষ্টারের মেয়ে আয়েশা। ক্লাশ নাইনে পড়ুয়া আয়েশার বিয়ে মাত্র ১৬বছর বয়সে। আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র করপোরাল জয়নাল আবেদিনের সাথে। জয়নাল আয়েশা সংসার জীবন শুরু করেন ঢাকায়। তাদের কোলজুড়ে আসে পুত্র সন্তান। নাম রাখেন বাবার নামের সাথে মিলিয়ে ফখরুল আবেদিন। সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত দেশ বাংলাদেশ। হাজারো সমস্যা সংকুল। জয়নালের বয়স যখন মাত্র ১৪ দিন সেই সময় ঘটে যায় জাতীর সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনাটি। হত্যা করা হয় জাতির পিতা পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে। এরপরে ৩নভেম্বর অভ্যুত্থান, জিয়া গৃহ বন্ধী, কর্নেল তাহেরের ফাঁসি একের পর এক ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরেন লেখক। ১৯৭৭ সালের ২অক্টোবর ঘটে যায় রহস্যময় এক সামরিক অভ্যুত্থান। সেই রাতে জয়নাল ঘুমিয়ে ছিল স্ত্রীর পাশে। ততদিনে আয়েশা আবার অন্তঃসত্ত্বা। সকালে জয়নাল ডিউটির উদ্দেশ্যে বাসা ছাড়েন। আর ফেরা হয়নি তার। কোথায় গেলেন জয়নাল? কি হয়েছে জয়নালের? আর কি ফিরেছিল জয়নাল? শুরু হয় স্বামী হারা এক অসহায় নারীর জীবন যুন্ধ। যে যুদ্ধে হার মানেনি আয়েশা। আয়েশার জীবন যুদ্ধের পাশাপাশি লেখক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের তুলে ধরেন। জিয়ার ক্ষমতা গ্রহন, হ্যাঁ-না ভোট, জিয়া হত্যাকান্ড সহ প্রায় সকল ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ফখরুল বড় হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মা খবর পাঠিয়েছে তার বাবা জয়নালের খোঁজে ঢাকা যেতে হবে। বাবা নিখোঁজ হবার ২০বছর পর ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে একটি জাতীয় পত্রিকায় সে দিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তাই তার বাবার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পত্রিকা অফিসে হাজির হয় মা ছেলে। ফখরুল আবেদিন কি তার বাবার খোঁজ পেয়েছিল? আয়েশা কি করে ২টি সন্তান নিয়ে জীবন যাপন করল ২০টি বছর ধরে? সে সব প্রশ্নের উত্তর জানতে আয়েশামঙ্গল পড়ার অনুরোধ রইল। পাঠ অনুভূতিঃ ১২৮ পৃষ্ঠার বইটি এক রাতেই পড়ে শেষ করতে বাধ্য হয়েছি। আমি সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে পড়ি না। তাছাড়া বউয়ের কড়া নিষেধ রাত ১১টার পরে রাত জেগে কোন গল্প উপন্যাস পড়া যাবে না। তবে আয়েশামঙ্গল পড়তে বসে আমি রাত জাগতে বাধ্য হয়েছি। লেখক এমন ভাবে লিখেছেন যেন বইটা বন্ধ করে উঠতে মন চায়নি একবারও। আয়েশার জীবন যুদ্ধের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক বার বার বেহুলা লক্ষীনন্দরের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। যা উপন্যাসটিকে অনন্যা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেছেন অনেকাংশে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আবস্থা তুলে ধরা হয়েছে আয়েশামঙ্গলে। বইটি কিছুদিন আগে ইংরেজি সংস্করণ বের করা হয়েছে।
📚বইয়ের নাম : আয়েশামঙ্গল। 👓লেখক: আনিসুল হক। 📖ক্যাটাগরি : উপন্যাস। 📜প্রকাশনা: পার্ল পাবলিকেশন্স 📑পৃষ্ঠা সংখ্যা:১২৮ 💷মূল্য: ১৫০ টাকা ১৯৭৭ সালের ২রা অক্টোবর। রাতে ঘটে যায় এক রহস্যময় সামরিক অভ্যুত্থান। ঐ রাতে বিমানবাহিনীর সদস্য,এক পুত্রসন্তানের জনক কর্পোরাল জয়নাল আবেদীন ঘুমিয়ে ছিলেন স্ত্রী আয়েশার পাশে। পরদিন সকালে কাজে গেলেন জয়নাল, কিন্তু ফিরলেন না রোজকার মতোন। পরদিন বিমানবাহিনীর অপর এক কর্পোরাল এসে জানালেন অ্যারেস্ট করা হয়েছে জয়নালকে । দু'দিন পর দ্বিতীয় সন্তানের মুখ দেখলেন জননী আয়েশা। কিছুদিনের মধ্যেই ছেড়ে দিতে হলো কোয়ার্টার।এভাবেই শুরু হয় এক বাঙালী নারীর উজান জলে ভাসা, আর তার স্বামীর অন্বেষণ। দু'দুটো দুগ্ধপোষ্য সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন আয়েশা? তিনি কি ফিরে পাবেন তার ভালোবাসার স্বামীকে? --- এসব কাহিনী নিয়েই সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত কাল্পনিক উপন্যাস-"আয়েশামঙ্গল"। ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের পর বাঙালি বুঝতে শুরু করে স্বাধীনতার মর্ম কী ! স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক দোলাচল,দেশী-বিদেশী প্রতিক্রিয়াশীলদের ষড়যন্ত্রে '৭৫ এর ১৫ই আগস্ট খুন হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।"পুরুষ বাঘ নাকি তার বাচ্চা খায়, কিন্তু বাচ্চা তার বাপেরে খায়,এইটা পশুসমাজেও নাই"--সেসব নরাকারে পশ্বধমদের হাতে তমসাচ্ছন্ন হয়ে পরে দেশ,আবদ্ধ হয়ে পড়ে সামরিক শাসনের বেড়াজালে। আগস্টের পর থেকে গোলযোগ শুরু হয় সশস্ত্রবাহিনীতে। নভেম্বরের ৩ থেকে ৭ তারিখ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ঘটে যায় লঙ্কাকাণ্ড, "বাল্মিকী যদি জানতেন, লিখে ফেলতেন সাতকাণ্ড রামায়ণ--কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব জানলে লিখতেন মহাভারত" ।তেসরা'তে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ-সাফায়াত জামিলের অভ্যুত্থান, সাত-এ পাল্টা অভ্যুত্থান কর্ণেল তাহেরের।স্পটলাইটে আসেন খাকি উর্দিধারি জেনারেল জিয়াউর রহমান।"সার্ভাইভাল অফ দা ফিটেস্ট"- প্রকৃতির সেই অমোঘ নিয়মে একে একে তাহের, বিচারপতি সায়েম'দেরকে হটিয়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে আবির্ভূত হন জেনারেল জিয়া ।জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ২১ বার বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিলো। ২২তম বারে তিনি মারা যান। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জাপানের রেড আর্মির পাঁচজন সদস্য জাপান এয়ারলাইনসের একটি বিমান হাইজ্যাক করে ১৫৬ জন যাত্রীসহ ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করায়। ঠিক ওই সময় বা ওই রাতে বিমানবাহিনীতে এক সেনা অভ্যূত্থানের চেষ্টা চলে। বিদ্রোহ এক সময় সেনাবাহিনীতেও গড়ায়।কিন্তু দ্রুত কঠোরভাবে দমন করা হয় ভয়াবহ সেই বিদ্রোহ। জাসদ, সিপিবি,ডেমোক্র্যাটিক লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়।সামরিক আদালতে বিচারের নামে চলে প্রহসন। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে চলে বিচার। আর ফাঁসিতে ঝুলানো হয় অসংখ্য বিমান সেনা , অফিসার , সেনাবাহিনীর জওয়ানকে। ফাঁসি দেয়া হয় ১১ জন অফিসারসহ ১ হাজার ৪৫৩ জন বিমানসেনাকে। বরখাস্ত ও চাকুরীচ্যুত হন আরো চার হাজার মানুষ। নিখোঁজ হন আরো অসংখ্য।টানা তিন মাস চলে এই "পাইকারি হত্যাযজ্ঞ"।এই ফাঁসির শিকারের মধ্যে ছিলেন অনেক নিরপরাধ মানুষ,যাদের পরিবার কোনোদিন জানতে পারেনি তাদের অপরাধ কী ... তাদের "ফাঁসি" দেয়ার তথ্যও পরিবারকে জানানো হয়নি। কোনো লাশ কোনো আত্মীয়স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এমনকি তাদের মৃতদেহ পর্যন্ত দেখতে দেয়া হয়নি একটিবারের জন্যও।তেমনি এক দুর্ভাগা প্রাণ--জয়নাল আবেদীন,বহু আশার সদ্যোজাত মেয়ে সন্তানের স্নিগ্ধ মুখটিও দেখা হয় নি যার ! '৭৩-'৭৪ এর দুর্ভিক্ষ,বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড,সামরিক রাজনীতি,গণভোট,জিয়াউর রহমানের মৃত্যু--এসব ঐতিহাসিক ঘটনা এসেছে উপন্যাসের কাহিনীর প্রবাহে। এর সঙ্গে অসহায় এক নারীর সংগ্রামের গল্প,তার আনন্দ-বেদনা,সুখ-দুঃখ,স্বপ্ন-সাধ অত্যন্ত হৃদয়গাহী করে ফুটে উঠেছে আনিসুল হকের মায়াবী লেখনীতে।মধ্যযুগের বাঙালি কবিরা লিখেছিলেন মনসামঙ্গল-স্বামীকে পুনরুজ্জীবিত করতে বেহুলার সংগ্রামের কাব্য, আর বন্দনা করেছিলেন দেবদেবীদের, আর এক বাঙালি লেখক বন্দনা করেছেন এক সাধারণ নারীর, রচনা করেছেন আয়েশামঙ্গল। পুনশ্চ, "আয়েশামঙ্গল" উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ "দা ব্যালাড অব আয়েশা" প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা হারপার কলিন্স থেকে,অনুবাদ করেছেন ইনাম আহমেদ। স্বনামধন্য পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালনা করেন "আয়েশা" নাটকটি।ইউটিউবে ঢুঁ মারলেই পেয়ে যাবেন সেটি। দেখার অনুরোধ রইলো। #হ্যাপি_রিডিং 🙂






















