

Buy অন্তরগঙ্গা Online in Bangladesh
লেখক: গোলাম রাব্বানী (বর্ণ)
- Author: গোলাম রাব্বানী (বর্ণ)
- Publisher: নালন্দা
- Isbn: 9789849382447
- Number Of Pages: 142
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“অন্তরগঙ্গা" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ নসিমন খুব সাবধানে মূল ফটকের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। তার উদ্দেশ্য পতিতালয় থেকে পালানাে। তার কোলে সদ্য জন্মানাে পুত্র সন্তান এবং পেছনে আট বছর বয়সী কন্যা কোহিনূর। কল্যাণপুর রেস্ট হাউজ’ নামক পতিতালয়ের স্থায়ী পতিতা নসিমন। দুইদিন আগে সে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছে। পতিতালয়ের সর্দার নসিমনের কাছ থেকে ছেলেকে কেড়ে নিতে চাচ্ছে। এটাই পতিতালয়ের নিয়ম। পতিতালয়ে কন্যা সন্তান। জন্মগ্রহণ করলে উৎসব হয়। আর পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। পুত্র সন্তানকে বাঁচাতে নসিমন পতিতালয় থেকে পালানাের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। থরথর করে কাঁপছে তার বুক। মূল ফটক দিয়ে সে বের হতে যাবে এমন সময় একজন তাকে দেখে ‘ধর ধর বলে চিল্কার করে ওঠে। পুত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে নসিমন দ্রুত মূল ফটক অতিক্রম করে সামনের দিকে এগােতে থাকে। কিন্তু আটকা পড়ে যায় কোহিনূর। নসিমন পড়ল মহাবিপদে। পুত্র সন্তানকে বাঁচাতে হলে কোহিনুরকে রেখে যেতে হবে পাপের আঁতুড়ঘরে। যেখানে কদিন বাদে তাকে বাধ্যতামূলক পতিতাবৃত্তি গ্রহণ করানাে হবে। আর কোহিনুরকে বাচাতে হলে আদরের পুত্র সন্তানের মায়া ত্যাগ করে তাকে আবার এখানে ফিরে আসতে হবে। এখন কি করবে নসিমন?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Average
বই পাঠ পর্যালোচনা - তানভীর সিদ্দিকী তোয়াহা উপন্যাসের নামঃ অন্তরগঙ্গা লেখকঃ গোলাম রাব্বানী প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ প্রকাশনাঃ নালন্দা বই হচ্ছে আমাদের মনের খোঁড়াক । আমরা অনেক আছি যারা নিয়মিত বই পড়তে ভালবাসি। আবার অনেক আছে যাদের যখন খুব মন খারাপ থাকে বা খুব আনন্দে থাকে তখন বই পড়ে ।কেউ কেউ আবার লিখেও। একজন তরুন লেখক গোলাম রাব্বানী ।যার আগের বই গুলোও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে পাঠকদের মধ্যে। এবারের নতুন বই হচ্ছে ‘অন্তরগঙ্গা’ । নাম শুনলেই যেন কি এক রহস্য লুকিয়ে আছে বুঝা যায়। আমরা কত গঙ্গার নাম শুনেছি কিন্তু । এটা কেমন গঙ্গা। কি আছে তার মধ্যে । এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতেই । বইটি সংগ্রহ করি। বাসায় এসে যখন বইয়ের পাতা উল্টাতে লাগলাম। প্রথমে চোখে পড়লো “আমার থাকুক অন্তরগঙ্গার আছড়ে পড়া ঢেউ, আমার থাকুক উদাস জলের ন্যায়, ভীষণ অভিমানী কেউ” । এই লাইন গুলো প্রথমেই আমার মনকে স্পর্শ করে। মনের গভীরকে ছুঁয়ে দেয়। তারপর এক এক করে পাতা উল্টাতে লাগলাম। লেখক গল্পগুলো এমন সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন। যখন পড়ছিলাম সব গল্প যেন সিনেমার মতো আমার চোখের সামনে ভাসছিলো। ভেবেছিলাম অল্প অল্প করে পড়বো কিন্তু গল্পগুলো আমায় এমন টেনে নিয়ে যাচ্ছিল , আমাকে দ্রুত পড়তে হলো । বই পড়ে কখন ও ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে আবার কখন ও চোখের কোণে জল। এভাবেই চলতে থাকে। হাসি কান্নার মধ্য দিয়েই এগুচ্ছে উপন্যাস। কখনো বা সামাজিক উপন্যাস আবার কখনো বা মনে হয় রোমান্টিক। প্রত্যেকটা চরিত্র এতো ভালো ভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। খুবই নিখুঁত ভাবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে উপন্যাসে অনেক গুলো গল্প এক সাথে এগিয়ে যায় । মায়মুনা-হাসান-মোজাম্মেল, ইসহাক সাহেব,আব্বাস শিকদার, নাসিমন-কোহিনূর , ফাহিম-নিশি। তবে আমার কাছে মনে হয় ফাহিম-নিশি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ফাহিম-নিশির কিছু কথোপকথন ছিল যেগুলো যে কারো মন কে স্পর্শ করতে পারে। পরবর্তীতে তাদের ঘিরে গল্পটি এগিয়ে যায়। একটা নির্মম দুর্ঘটনা, আব্বাস শিকদার নামে সন্ত্রাসীর বর্বরতা তার সাথে একটা পতিতালয়। সেই পতিতালয়ে থাকা মানুষেরা কেমন আছে ,কিভাবে কাটছে তাদের দিন সেই সব গল্পও তোলে ধরেন লেখক। প্রতিটা উপন্যাস পড়ার পরে আলাদা একটা রেশ বেচে থাকে,আরো জানার আগ্রহ থাকে । একইভাবে অন্তরঙ্গা পড়ার পরে বেচে আছে জানার আগ্রহ। কেমন আছে এখন শ্যামনগর, কেমন আছে কল্যাণপুরের রেস্ট হাউজ। নাসিমন কি ফিরে গিয়েছিলো সেখানে তার মেয়ের কাছ নাকি সে তার ছেলে কে নিয়ে ভালো আছে। ইসহাক সাহেব এখন কি ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। অবশেষে কি হলো ফাহিম নিশির। এই সব প্রশ্ন বারবার আমার মনকে আন্দোলিত করছে। । আমার মতোনআপনিও যদি অন্তরগঙ্গা সম্পর্কে জানতে চান । তাহলেই আপনাকেও পড়তে হবে অন্তরঙ্গা উপন্যাসটি। ফাহিম - নিশির খবর জানতে আমি ২য় পর্বের অপেক্ষা করছি। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা। আশা করি আপনাদের ও উপন্যাস টি মন ছুঁয়ে যাবে।






















