

Buy আকাশ জোড়া মেঘ Online in Bangladesh
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- Author: হুমায়ূন আহমেদ
- Publisher: প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা
- Number Of Pages: 103
- Language: বাংলা
- Edition: 8th Printed, 2012
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“আকাশ জোড়া মেঘ” বইটির প্রথম দিকের কিছু কথাঃ ছাপ্পান্ন মিনিট পার হল। ফিরােজ বসে আছে। কারাে কোনাে খোঁজ নেই। ঘুমন্ত রাজপুরীর মতাে অবস্থা। কোনাে শব্দটও পাওয়া যাচ্ছে না, যা থেকে ধারণা করা যায় এ-বাড়িতে জীবিত লােকজন আছে। সে যে এসেছে, এ-খবরটি ছাপ্পান্ন মিনিট আগে পাঠানাে হয়েছে। বেঁটেখাটো এক জন মহিলা বলে গেল—আফা আসতাছে। ব্যস, এই পর্যন্তই। ফিরােজ অবশ্যই আশা করে না যে, সে আসামাত্র চারদিকে ছােটাছুটি পড়ে যাবে। বাড়ির কর্তা স্বয়ং নেমে আসবেন এবং এনাকে চা দিতে এত দেরি হচ্ছে কেন? বলে চেঁচামেচি শুরু করবেন। তবে এক ঘন্টা শুধুশুধু বসে থাকতে হবে, এটাও আশা করে না। সময় এখনাে এত সস্তা হয় নি। আপনি কি আমাকে ডাকছিলেন? পর্দা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ফিরােজ মনে-মনে একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল। চমৎকার মেয়েগুলি সব এমন-এমন জায়গায় থাকে যে, ইচ্ছা করলেই হুট করে এদের কাছে যাওয়া যায় না। দূর থেকে এদের দেখে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতে হয় এবং মনে-মনে বলতে হয়—আহা, এরা কী সুখেই না আছে। ফিরােজ উঠে দাঁড়াল। সালামের মতাে একটা ভঙ্গি করল। এটা করতে তার বেশ কষ্ট হল। উনিশ-কুড়ি বছরের একটি মেয়েকে এ-রকম সম্মানের সঙ্গে সালাম করার কোনাে মানে হয়। ফিরােজ বলল, আমি আপনার বাবার কাছে এসেছি। ‘বাবা তাে দেশে নেই, আপনাকে কি এই কথা বলা হয় নি? হয়েছে।' তাহলে? মেয়েটির চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তি। যেন কৈফিয়ত তলব করছে, কেন তাকে
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

হুমায়ুন আহমেদের গল্পে কোন ভিলেন থাকে না, যারা থাকে তারা মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কিছু দিক ভালো, কিছু খারাপ। তারাও এরকমই। এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রকে খুজে বের করতে বেশ বেগ পেতে হয়। সেটা অপালা হতে পারে আবার তার বাবা ফখরুদ্দিন সাহেবও হতে পারেন। তবে আমার মনে হয় গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ফখরুদ্দিন সাহেবই, যিনি জীবনে সবকিছুর মূল্যায়ন করতে চেয়েছেন টাকা দিয়ে; সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি সবকিছু তিনি কিনতে চেয়েছেন টাকা দিয়ে। তার এই সবকিছু কিনতে চাওয়ার সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ ই অপালা। হুমায়ুন আহমেদ এর বইয়ের সমাপ্তি নিয়ে কমবেশি সবারই অভিযোগ থাকে। এ বই পড়ার পরও সে অভিযোগ থাকবে, তবে এই সমাপ্তির মাধ্যমে ফখরুদ্দিন সাহেবের মতো প্রভাবশালী মানুষকে জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন। তিনি টাকা দিয়ে ভালোবাসা কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনিই হয়তো কাওকে ভালোবাসতে পারেননি। তিনি ভালোবেসেছেন তার অর্থ-বিত্ত কে। নিজের স্ত্রীর সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি উদাসীন, অপালার সবচেয়ে ভালনারেবল অবস্থায় তিনি প্রভাভহীন। আরেকটা কথা, ফিরোজ চরিত্রটার সাথে হিমুর অনেক মিল আছে। অনেকে হয়ত তাকে গল্পের নায়ক হিসেবে দেখেন, তবে আমি তাকে এগল্পের একজন প্রভাবশালী সাইড-ক্যারেক্টার হিসেবেই বিবেচনা করব। সে গল্পের নাটকীয়তা বাড়িয়েছে, আরেকটা দিক যোগ করেছে, তবে গল্পের মূল থিমে তার উপস্থিতি একেবারেই নগন্য। সে অপালার ওপর প্রভাব রেখেছে, নিজেও প্রভাবিত হয়েছে, আবার একসময় গল্পের মূল দিকটা থেকে নিজেকে আলাদাও করে ফেলেছে। বই: আকাশজোড়া মেঘ লেখক: হুমায়ুন আহমেদ
অনেক বেশি সুন্দর একটা বই

good book
❝পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।❞ ফখরুদ্দিন সাহেবের মেয়ে অপালা। বিশ-একুশ বছর বয়েসী তরুণী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বাবার অতি আদরের মেয়ে। রুম ডেকোর করতে গিয়ে পরিচয় হয় উপন্যাসের নায়ক ফিরোজের সাথে। ফিরোজ অপালার প্রতি এক বিশেষ টান অনুভব করে। কিন্তু ফিরোজ জানে এ সম্পর্ক অসম। ধনীর দুলালী অপালা। আর অপালাকে সে বুঝতে পারে না। তার প্রতি এক উদাসীনতা দেখায় অপালা। ফিরোজ ভবঘুরে ধরনের এক মানুষ। সুন্দর করে মিথ্যা কথা বলা শিল্প হলে ফিরোজ তার শিল্পী। কী দারুণ ভাবেই না সে কথার পিঠে মিথ্যে গল্প ফেঁদে বসে। সেই গল্প ফেঁদেই বাড়িওয়ালা হাফিজের মেয়ের বিয়ের মিথ্যে সম্বন্ধ করার কথা বলে। কিন্তু হাফিজের মেয়ে লতিফার ছবি দেখে তার-ই দিলে লাড্ডু ফুটতে থাকে। একটা মেয়ে এত সুন্দর হয়! অপালাকে দেখার তীব্র বাসনায় নানান ছুতোয় তার বাড়ি যাওয়া আবার লতিফার প্রতি টান অনুভব এক দোলাচলে ঘুরতে থাকে ফিরোজ। ফখরুদ্দিন সাহেব বিশাল বড়লোক। টাকা দিয়ে সব কিছু কিনে নেয়া যায় এই মোটোতে বিশ্বাসী। তিনি কি খলনায়ক, না মেয়ের প্রতি অপার ভালোবাসা নিয়ে থাকা একজন বাবা? ফখরুদ্দিন সাহেবের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এক বৃদ্ধ লোক মেয়ের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে আসেন। অপালা সেই দাওয়াত গ্রহণ করে। এরপরই একদিন তাদের বাসায় বিয়ের আগাম উপহার দিতে গিয়ে অপালার জীবনটাই বদলে যায়। অপালা ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে পাওয়া সেই ডায়েরিতে কলমের খোঁচায় গল্প লিখে যায়। গল্পগুলো অদ্ভুত, গল্পগুলোর কোনো গভীর অর্থ আছে কি? ফিরোজের সাথে অপালা না লতিফা, কার পরিণয় হবে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: হুমায়ূন আহমেদের লেখার সব থেকে উপভোগের ব্যাপার হলো গতি। গল্প বলার ধরন এমন যে বই একবার শুরু করলে কীভাবে শেষ হয় যায় বোঝাই যায় না। আর শেষ হবার পর ফাঁকা লাগে। ❝আকাশ জোড়া মেঘ❞ ১০৩ পাতার এক ছোট্ট উপন্যাস। বইতে আশির দশকের মানুষের সামাজিক জীবনের খন্ডচিত্র তুলে ধরেছেন লেখক। চিঠি, ল্যান্ডফোনের দিনগুলোর মানুষের জীবনযাত্রা ছিল অন্যরকম। অপালা, ফিরোজ আর লতিফার গল্পটাকে ত্রিভুজ প্রেম ধরা যায় কি না সেটা পাঠক চিন্তা করবে। অপালার চরিত্রটা আমার খুব ভালো লেগেছে। কিছু জিনিস জেনেও স্বাভাবিক থাকা, ভালো লাগার প্রতি নির্লিপ্ত থাকা অপালা চরিত্রকে এক ধরনের সৌন্দর্য দিয়েছে। বাবার প্রতি অপালার ভালোবাসা আর বাবাকে নিয়ে গল্প লেখা ব্যাপারগুলো খুবই দারুণ ছিল। ফখরুদ্দিন সাহেবকে ঠিক কোন ধরনের মানুষ বলা যায় সেটা নিয়ে তর্ক বিতর্ক থাকতে পারে। বিশাল ব্যবসা সামনালোর যে দক্ষতা, মালিক হিসেবে কর্মচারীদের এবং ব্যবসার সমস্যা সমাধানের কৌশল তাকে কিছুটা ভিলেন ভাব এনে দিলেও পরক্ষণেই মেয়ের প্রতি তার ভালোবাসা, মেয়ের কিছু হলে এই কঠিন মানুষের চোখের জল তাকে ভালোবাসতেই বাধ্য করে। একজন মানুষের কতো রূপ! ফিরোজকে লেখক ভবঘুরে হিসেবে দেখিয়েছেন। তার মিথ্যা কথা বলার ধরন কখনও খুব মজা লাগছিল। আবার কিছু জায়গায় বেশ বিরক্ত লাগছিল। নায়ক হিসেবে খুব বেশি পছন্দ হয়নি। চড়ুই পাখির চা খাওয়ার ব্যাপারটা আমার অসাধারণ লেগেছে। সবমিলিয়ে সুখপাঠ্য একটি বই ❝আকাশ জোড়া মেঘ❞।
khub vlo boi






















