

Buy আঁধারের যুবরাজ Online in Bangladesh
লেখক: সুস্মিতা জাফর
- Author: সুস্মিতা জাফর
- Publisher: চলন্তিকা
- Isbn: 9789849840084
- Number Of Pages: 272
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে নেওয়া পৃথিবীর কোনো বাবা-মা কি তার সন্তানের খারাপ চায়? এক শব্দে এর উত্তর হবে 'না'। তাহলে কেন অনেক সন্তানই মনে করে তাদের বাবা-মা কেড়ে নিয়েছে তাদের আনন্দময় শৈশব? সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে করেছে তিক্তকর অভিজ্ঞতায় পূর্ণ! এর উত্তর হবে এক কথায়, 'ব্যাড প্যারেন্টিং।' আচ্ছা প্যারেন্টিং আবার 'ব্যাড' হয় কী করে? হ্যাঁ, প্যারেন্টিংও 'ব্যাড' হতে পারে! ওভার প্যারেন্টিং, শারীরিক আঘাত, তুলনা করা, ভয় দেখানো, অতিরিক্ত প্রত্যাশা... এসবই ব্যাড প্যারেন্টিং। আমি সব সময় আমার পরিচিত গণ্ডির মধ্যে এই ব্যাড প্যারেন্টিং নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু প্রতিবারই হতাশ হয়েছি। যাদের সাথে আলোচনা করতাম তারা মানতেই নারাজ যে প্যারেন্টিং ব্যাড হতে পারে। তারা যা করছে সেটা শাসন। আর শাসন সন্তানের জন্য ভালোই। আমি তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে পারতাম না এ সন্তানদের ভবিষ্যতে কী কী সমস্যা হতেপারে। তাদের শৈশবটা যে মলিনভাবে কেটে যাচ্ছে, তাও বোঝাতে পারতাম না। এতক্ষণে পাঠক ভাবছেন, 'আঁধারের যুবরাজ' হয়তো প্যারেন্টিংয়ের জ্ঞান কপচানো হয়েছে; এমন কোনো উপন্যাস। না, মোটেও এমন কিছু নয়। 'আঁধারের যুবরাজ' নামটি দেখেই মনে হয় থ্রিলার জাতীয় কোনো কাহিনি হবে। যেহেতু সুস্মিতা জাফরের প্রথম উপন্যাসও থ্রিলার ছিল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
গতমাসে বইটা হাতে পেয়ে সব কাজ ফেলে দিয়ে তখুনি খুলে বসলাম, কারণ কিছুদিন আগেই লেখিকার 'জাগরনে যায় বিভাবরী' বইটা পড়েছি। এককথায় অসাধারণ ছিলো। নামের কারণেই ভেবেছিলাম এই বইটাও তেমন ধরনের কিছু, কিন্তু ভুমিকা পড়ে ততক্ষণে জানা হয়ে গেছে যে 'আধারের যুবরাজ' একটা উপন্যাস। সমস্ত থ্রিলিং এ পানি ঢেলে বইটা আবার বন্ধ করে রেখে দিলাম। কারণ গত কয়েকদিন এ ফেইসবুক/রকমারী এর রিভিউ দেখে বেশ কয়েকটা উপন্যাস পড়েছি- হয় একেকটা হিন্দি সিরিয়াল নতুবা হুমায়ুন আহমেদ এর বইয়ের প্রতি লাইনের কপি। তাই আপাতত উপন্যাস পড়ার কোনো ইচ্ছাই ছিলো না! যাই হোক গিলতে তো হবে, না পড়ে তো এভাবে ফেলে রাখা যায়না, শত হলেও আমরা Bookworm! পড়া শুরু করলাম গতকাল ২৭২ পৃষ্ঠার দীর্ঘ এই উপন্যাস! প্রথম দুইতিন পৃষ্ঠা পড়লাম... এমন আহামরি কিছু না... যাই হোক... শায়ান থেকে সৌরিন... আবার সৌরিন থেকে শায়ান... এরপর কোথায় হারিয়ে গেলাম নিজেও জানি না... এতো সহজ করে লিখা, এতো সুন্দর - সাবলীল, অতীত - বর্তমানকে এভাবে পরপর সাজানো কোথাও এতটুকু খাপছাড়া লাগেনি। এককথায় দারুণ একটা মন খারাপ নিয়ে বইটা শেষ করলাম। আর কয়েকটা লাইন কি বেশি লিখা যেতো না?? একটু পর পর মোবাইল হাতে নিচ্ছি আর মেসেঞ্জার এ কি যেনো খুজছি... শায়ানের পাঠানো মেসেজ বুঝি??!! 💔



#আঁধারের_যুবরাজ "প্রগাঢ় অন্ধকারে ঢাল-তলোয়ারবিহীন সাহসী এক যুবোরাজ পথ খুঁজে খুঁজে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। শায়ানের মনে হতে থাকে, সে এক অচেনা অজানা, মায়াবী রাজ্যের নিঃসঙ্গ যুবরাজ। শায়ান...আঁধারের যুবরাজ। " ★ জনপ্রিয় লেখক সুস্মিতা জাফরের নতুন উপন্যাস "আঁধারের যুবরাজ" নাম শুনে কেউ থ্রিলার ভাববেন না কিন্তু। এটি সম্পূর্ণ সমকালীন প্রেক্ষাপটে রচিত একটি মৌলিক উপন্যাস। লেখক অসংখ্য ছোটোগল্প লিখলেও ২০২২ সালে "জাগরণে যায় বিভাবরী " প্রথম ফ্যান্টাসি থ্রিলার উপন্যাস লেখার পর এটিই তার দ্বিতীয় উপন্যাস। ★ কাহিনি সংক্ষেপে : "অর্থহীন আলাপচারিতার জন্য অপরিচিত মানুষ perfect। অর্থহীন কথাবার্তা stress relief করে। নিজের জীবনের দুশ্চিন্তা দুঃখ হতাশা আর ব্যর্থতার ব্যাপারে পরিচিত কারো সাথে সহজে কথা বলা যায় না। " ( পৃ : ১৫৩ ) কাহিনির শুরু ঠিক এই পয়েন্ট থেকেই। একজন লেখক ও কর্মজীবী মহিলা সৌরিন আলম ছোটোবেলা থেকেই বেশ আত্নবিশ্বাসী, সাহসী ও মেধাবী। বলা যায় বাবা- মার কঠোর অনুশাসন তাকে এমনটি হতে বাধ্যই করেছে। তার স্বামী ডাক্তার সোপান দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক হুট করেই বিনা নোটিশে শেষ করে দেয়। কিন্তু কেন? কারণ জানা নেই সৌরিনের। জীবনের এমন এক পর্যায়ে সৌরিনের ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয় আঁধারের যুবরাজের সাথে। শুরুতে যে নিজেকে সৌরিনের পাঠক বলেই পরিচায় দেয়। অপরদিকে শায়ান ছোটোবেলা থেকেই মায়াকাননের কঠিন শৃঙ্খলায় বেড়ে ওঠা এক যুবক। যে কিনা মুক্তির স্বাদ পেতে মরিয়া। ভাগ্যের ফেরে বা সৌভাগ্যের জোরে, যেভাবেই হোক মায়াকাননের মায়া ত্যাগ করে সুদূর আমেরিকায় পাড়ি জমায়। কৈশোরের শেষ ও যৌবনের শুরু থেকেই যার জীবনে একের পর এক সুন্দরী রমনীর আগমন ঘটতে থাকে। যারা শায়ানকে ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। কিন্তু কেন? সৌরিন, শায়ান, সোপান আর আঁধারের যুবরাজের জীবনের যোগসূত্রটা আসলে কোথায়? এরা সকলেই একই সুতোয় গাঁথা নাকি মালাটাই ভিন্ন। লেখকের ভাষায়_ "একই ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনা নিয়ে কবি লেখে কবিতা,গল্পকার বুনে গল্প, গীতিকার গড়ে গান ; সেই একই ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনাকে ঘিরে চলছে ভিন্ন ভিন্ন হরেক কলতান। " ( কবিতা - শেষ ঠিকানা। সুস্মিতা জাফর) ★ পাঠ প্রতিক্রিয়া : বইটাকে নিয়ে অনেক বেশি এক্সপেক্টেশন কাজ করেছে শুরু থেকেই। কারণ সুস্মিতা আপুর ছোটোগল্প গুলো হয় দুর্দান্ত আর তার প্রথম উপন্যাস "জাগরনে যায় বিভাবরী" বইটাও ছিলো চমৎকার। এই বইটার প্রচ্ছদ নিঃসন্দেহে খুবই রঙিন ঠিক আঁধারের যুবরাজের জীবনের রঙিন অধ্যায়গুলোর মতো। আবার ব্যাকগ্রাউন্ডটা ছিলো কালো ঠিক সৌরিন ও শায়ানের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের মতোই। থিম পার্ফেক্ট ছিলো কিন্তু সামনে থেকে প্রচ্ছদটা কেন যেন ফোটেনি। অনেক বেশি হিজিবিজি মনে হয়েছে। গল্পে একই সাথে দুটো সময়ের বর্ণনা সমান্তরালভাবে চলেছে যা নিঃসন্দেহে লেখক যথাযথ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বাচ্চাদের প্যারেন্টিং বিষয়ক বেশকিছু ভুল যা বাবা-মায়েরা অহরহ করেন এবং করছেন সেগুলো লেখক সুচারুরূপে তুলে ধরেছেন। এইদিকটা যেমন স্পর্শকাতর ছিল তেমনি চমৎকারও ছিলো। একপর্যায়ে সৌরিনের জন্য মন খারাপ হয়েছে। কিন্তু ওর ঘুরে দাঁড়ানো বেশ লেগেছে। "জীবনে strong হওয়ার মতো বড় অপরাধ আর একটাও হয় না। কারণ 'তুমি strong' '_এ কথাটাই একজন মানুষকে নিঃসঙ্গ করে দেয়... বন্ধুহীনে পরিণত করে ফেলে... বড্ড একা বানিয়ে দেয়। " ( সৌরিন পৃ : ৪৬) আঁধারের যুবরাজ ওরফে শায়ান চরিত্রটি ভালো লেগেছে। তার মোটিভেশনাল কথাবার্তা, গিফট দেবার ধরন, সহযোগী মনোভাব সবকিছু ভালো ছিলো। তবে এত বিচক্ষণ একজন পুরুষ বারবার একই জায়গায় হোঁচট খাওয়া কেন যেন মেনে নিতে পারিনি। " প্রতিটা মানুষের সফলতার পেছনে দীর্ঘ ব্যর্থতার গল্প লুকিয়ে থাকে। " ( আঁধারের যুবরাজ পৃ: ২১৭) উপন্যাসে বেশকিছু ইংরেজি শব্দের ব্যবহার রয়েছে, যেগুলো পড়তে পড়তে হঠাৎ কেমন বাধাঁর সৃষ্টি করে। আমার মতে এগুলো সরাসরি ইংরেজিতে না লিখে বাংলায় লিখলে বেশি ভালো হত। যেমন- স্ট্রং (Strong), রিলিফ ( relief), বাই ( bye) এমন বহু শব্দ আছে। এবার আসি কবিতা প্রসঙ্গে, কবিতাগুলো ভীষণ সুন্দর ছিলো এককথায়, কিন্তু ২৭১ পৃষ্ঠার মোটামুটি বড় একটা উপন্যাসের বইয়ে ২৬ টি কবিতা, মানে প্রতি অধ্যায়ের শুরুতে একটি করে কবিতা দেয়াটা আমার ভালো লাগেনি। প্রতিটা জনরার নির্দিষ্ট কিছু পাঠক থাকে। যারা উপন্যাস কিনে তারা হয়ত উপন্যাস পড়তে পছন্দ করে বলেই কিনে। আবার আমার মতো সর্বভুক পাঠকও আছে। কিন্তু উপন্যাস হিসাবে আগ্রহ করে কেনা বইয়ে এতবেশি কবিতা আমার মানানসই মনে হয়নি। কবিতার সংখ্যা এর অর্ধেক বা আরও কম হলেও কাহিনির কোনো হেরফের হতো না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পাঠক এই চড়া দামের বাজারে হয়ত কিছুটা স্বস্তি পেত। " এটাই ভালো বেশি কাছে না আসা দূরে দূরে থাকা ; রহস্য গুলো একটু হলেও বাক্সে পুরে রাখা। ( মোহভঙ্গ _ সুস্মিতা জাফর ) গল্পে সোপান শুরু থেকেই ছিলো অস্পষ্ট। ওর ছেড়ে যাবার কারণটা যেমন ধোয়াশায় ছিলো তেমনি ফিরে আসাটা আরও রহস্যজনক মনে হয়েছে। ছেড়ে যাওয়াটার মোটামুটি একটা কারণ লেখক দিলেও ফিরে আসার কোনো ব্যাখ্যা বইতে ছিলোই না। আমি শেষের দিকে কিছু লাইন হলেও এই বিষয়ে আশা করেছিলাম। হুট করে সৌরিনের ওভার পজেসিভ বাবা-মার রূপ পরিবর্তনও একটু ধাক্কা দিয়েছে আমায়। সমাপ্তি নিয়ে কিছু বলব না তাহলে স্পয়লার হয়ে যাবে তবে শায়ানের চিঠিটা অনেক ভালো লেগেছে। মন ছুঁয়ে গেছে। শায়ানের দিক থেকে সে শতভাগ সঠিক ছিল। কিন্তু এত এত অপমান, মানসিক স্ট্রেস আর টানাপোড়েন দীর্ঘ ৫টা মাস সহ্য করার পর মাত্র ১ ঘণ্টায় সৌরিনের মন পরিবর্তন অতি নাটকীয় মনে হয়েছে। এটা ছোটোগল্প হলেও মেনে নেয়া যেত কিন্তু বিশাল কলেবরের একটা উপন্যাসের তাড়াহুড়ো সমাপ্তি মেনে নিতে পারছি না। যেখানে সৌরিন যথেষ্ট আত্ননির্ভশীল একজন নারী। বাঙালি নারীরা হয়ত এত সহজে সংসারের মায়া ত্যাগ করতে পারে না, যেমনটা লেখক বুঝিয়েছেন কিন্তু সৌরিনের দিক থেকে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ সোপানের কাছ থেকে কিছু জবাবদিহিতা একান্ত সৌরিনোর প্রাপ্য ছিল। সেই সাথে পাঠক হিসেবে আমাদেরও জানার আগ্রহ ছিল। গল্পে অনেক অনেক নারী চরিত্র চলে এসেছে, যাদের মধ্যে বেশকিছু আমার অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। শায়ান যেহেতু কোনো প্লেবয় চরিত্র প্লে করেনি, সেইক্ষেত্রে এত নারীর সহচার্য অপ্রয়োজনীয় ছিলো। ★ লেখকের সাবলীল ও ঝরঝরে লেখা সবকিছুর পরও পাঠককে উপন্যাসে আকর্ষণ করতে যথেষ্ট বলে আমার মনে হয়েছে। বইয়ে তেমন কোনো ভুল আমার চোখে পড়েনি। প্রোডাকশন, বাইন্ডিং, শব্দ বিন্যাস চমৎকার ছিলো। ছোটো ছোটো লুপহোল গুলো ছাড়া উপন্যাসটি পড়তে বেশ লেগেছে। বর্তমানের নীল সাদার দুনিয়ার সাথে এই প্রজন্মের মেলবন্ধন লেখক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে লেখকের পূর্বের লেখার সাথে তুলনা করলে এই বইটি কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়।

#আঁধারের_যুবরাজ_বুক_রিভিউ 🔴 বই-পরিচিতিঃ বইয়ের নামঃ আঁধারের যুবরাজ লেখিকাঃ সুস্মিতা জাফর প্রচ্ছদঃ মো.সাদিতউজজামান প্রকাশকঃ রাশেদ রানা প্রকাশনীঃচলন্তিকা প্রকাশন প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি,২০২৪ জনরাঃ সামাজিক রোমান্টিক উপন্যাস মুদ্রিত মূল্যঃ ৭০০ টাকা ''দূর হতে আমি তারে সাধিব গোপনে বিরহ ডোরে বাঁধিব বাঁধনবিহীনও সেই যে বাঁধন অকারণ...'' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লাইনগুলো যেন গল্পের সারাংশ। ভালবাসা মানে সবসময় হাতে হাত রেখে চলা নয়, পাশাপাশি বসে চোখে চোখ রেখে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনা নয়।সকল ভালবাসা প্রাপ্তির বার্তা বয়ে বেড়ায় না ,কিছু ভালবাসা শুধু সম্প্রদানের। সব প্রাপ্তি যেমন দুহাত ভরে সুখ এনে দেয়না তেমনি কিছু অপ্রাপ্তি এনে দেয় আত্মার শান্তি। কখনও কখনও ভালোবাসা শুধু দূর থেকে অনুভবের। কোন এক মেঘলাদিনে উদাসী মনে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেকে ধোঁয়া উঠা গরম কফির মগে নরম ঠোঁটের ছোয়া লাগাতে লাগাতে আনমনে কাউকে স্মরণ করে সুখ মিশ্রিত দুঃখ কিংবা দুঃখ মিশ্রিত সুখ অনুভব করাটাও ভালবাসা। এমনি এক ভালবাসার গল্প '' আঁধারের যুবরাজ '' 🔴 ফ্ল্যাপ: ভালোবাসার গল্পগুলো আসলে কী রকম হতে হয়? রোমান্টিক সংলাপ ,দুটি প্রাণের উথাল পাথাল পাগলামো,বন্য উন্মত্ততায় হারিয়ে যাওয়া, গল্পের ভাঁজে ভাঁজে রগরগে উত্তেজনা। এর বাইরেও কি শিহরণ জাগানিয়া ভালোবাসার গল্প হয় ? ভালোবাসি' বলা যায় সহজেই। ভালো হয়তো বাসাও খুব বেশি কঠিন নয়। ভালোবেসে কাছে চাওয়া এবং পাওয়াও হরদম চলছে। কিন্তু ভালোবেসে না চেয়েও কিংবা চেয়ে না পেয়েও কিংবা পেয়ে হারিয়েও ভালোবাসাকে অবিকৃত রেখে পাশে থাকার গল্প বেশি আছে কি? 'আঁধারের যুবরাজ'... এমন একটি গল্পের সঙ্গে সহযাত্রা হয়ে যাক।" 🔴 পাঠ প্রতিক্রিয়া - আঁধারের যুবরাজ ( Mistry Prince of Darkness ). গল্পটা পড়ে আমার শায়ান এর জন্য প্রচুর কষ্ট হয় । শায়ানকে যদি কেউ প্লে বয় বলে তাহলে সে সম্পূর্ণ ভুল বলবে কারণ সে প্লে বয় ছিল না বরং তাকে নিয়েই সবাই প্লে করে। ছোটবেলা থেকে কঠোর শাসনে বড় হওয়া শায়ান তার জীবনে বার বার ঠকে যায় ভালবেসে , যাকেই সে বিশ্বাস করে ভালবেসে আগলে রাখতে চেয়েছে তার থেকেই চরম আঘাত পেয়ে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ভালবাসাহীন জীবন প্রাণহীন তরুর মত তাই তো সেই তরুতে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সে হন্যে হয়ে ভালোবাসা খুঁজে বেড়ায়। আদৌ কি পেয়েছিল সেই ভালবাসার দেখা !! নাকি পায়নি !! নাকি পাওয়ার আগেই হারিয়ে ফেলেছিল !! গল্পের আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্র সৌরিন আলম যার জন্য একবুক আফসোস আমার। নিজেকে সৌরিনের জায়গায় বসিয়ে প্রশ্ন করি, কী হতো আমার সিদ্ধান্ত !! আমি ও কি সোপানের হাত ধরেই জীবন কাটিয়ে দিতাম !! নাকি সত্যিকারের সুখের খোঁজ করতাম। আমরা বাঙালি মেয়েরা বেশিরভাগ সময়ই সমঝোতার জীবন বেছে নেই যেখানে ঝামেলা কম থাকে ,থাকে মেকি সুখ ,সৌরিনও সেই জীবনটাই হয়তো চেয়েছে। ছোট বেলা থেকে বাবা মায়ের শাসন ,তার প্রতি তাদের উদাসীনতা , তিক্ত শৈশব কৈশোর সৌরিনকে কঠিন হৃদয়ের করে গড়ে তোলে। তাই তো তার জীবনের এতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সে সামনে এগিয়ে যায় , নিজেকে নিজে ভালোবাসে , নিজের ছোট বড় স্বপ্নগুলোকে নিজে পূরণ করে। শক্ত হৃদয়ের অধিকারিণী পিছিয়ে পড়েনি ,নিজেকে হেরে যেতে দেয়নি। আমি যেন শৌরিনের মাঝে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আর প্যারেন্টিং নিয়ে যদি বলি , বাবা মা কখনো তার সন্তানের খারাপ চায়না , কিন্তু এখানে ব্যাপারটা হচ্ছে যুগ। একেক যুগের পিতা মাতার শাসনের ধরণ একেকরকম। উদহারণ হিসেবে যদি আপনি নিজেকে মা হিসেবে দাঁড় করিয়ে আপনার মা , আপনার মায়ের মা , তার মা এভাবে বিচার করেন তো উত্তর পাবেন। গল্পে যে সময়কালের উল্লেখ ওই সময় বাবা মায়েদের শাসন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনি ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মনমানসিকতার পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান যুগের একজন বিচক্ষণ মা হিসেবে আপনি সবার আগে অবশ্যই আপনার সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করবেন। এটাই বাস্তবতা। গল্পের চিঠিটা আমাকে কাঁদিয়েছে , যে কখনো ভালবাসা হারায়নি সে হয়তো হারানোর ব্যাথাটা বুঝবেনা। চিঠি পড়ে শায়ানের ভালবাসার ধরণের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যায় ,দূর থেকেও কিভাবে পুরোটা দিয়ে ভালবাসা যায়, গোপনে আড়াল হয়েও কিভাবে বিরহডোরে বাঁধতে হয় তা শায়ান দেখিয়ে দিয়েছে। 🔴 প্রিয় চরিত্র - গল্পে আমার প্রিয় চরিত্র সেঁজুতি। জীবনে মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য কিছু মূল্যবান মানুষের আগমন ঘটে ,তাদের স্থায়ীকাল স্বল্প হলেও জীবনে তাদের প্রভাব থাকে ব্যাপক। জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়টা পার করার জন্য সাপোর্ট হিসেবে পাওয়া বন্ধু দুর্লভ। তবে যদি আপনি এমন কাউকে পান তবে নিঃসন্দেহে সে রত্ন। এদের কখনো হারিয়ে যেতে দিতে নেই। কিন্তু হায় !! চাইলেও সবাইকে ধরে রাখা যায়না আর যদি সে নিজেই হারিয়ে যেতে চায় তাহলে তো কথাই নেই। তেমনি হারিয়ে যাওয়া এক নিঃস্বার্থ দুর্লভ বন্ধু সেঁজুতি। বন্ধু হিসেবে রিফাত এর নাম ও নিতেই হয়। শায়ানের জীবনে সকল অপ্রাপ্তির মাঝে ভীষণ এক প্রাপ্তির নাম রিফাত । 🔴 প্রিয় উক্তি - যাকে ভালোবাসার মানুষ আছে তাকে কখনো ভালোবাসতে নেই। সব অপরাধের মাফ হয় কিন্তু কারো মনের দুর্বল জায়গায় আঘাতের কখনো মাফ হয় না! যে যত দ্রুত আপন হয়, তাকে হারানোর ভয় তত বেশি থাকে। সময় সাজিয়ে দেয় কে হবে কার কত প্রিয়। ' তুমি Strong ' এই কথাটাই একজন মানুষকে নিঃসঙ্গ করে দেয়, বন্ধুহীনে পরিণত করে ফেলে, বড্ড একা বানিয়ে দেয় ! 🔴 অন্যান্য - চলন্তিকার বই আমার আগেও অনেক পড়া হয়েছে। তাদের প্রোডাকশন কোয়ালিটি চমৎকার। "আঁধারের যুবরাজের" বাইন্ডিং, প্রিন্টিং চমৎকার হয়েছে। সম্পাদনাও বেশ ভালো ছিল। এছাড়া বইটির ফ্রন্ট সাইজ, কালার, লাইন স্পেস, পেইজের গুণগত মান, যতিচিহ্নের ব্যবহার ইত্যাদি সন্তোষজনক। বইয়ে বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি। বইয়ের কোয়ালিটি বলা যায় উন্নত মানের।সেক্ষেত্রে প্রকাশনীকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। 🔴 ব্যক্তিগত মতামত - গল্পে আমার দৃষ্টিতে সমালোচনা করার মত কোনো দিক পাইনি। না লেখায় ,না কাহিনী তে , না চরিত্র গঠনে। মৌলিক বইয়ের বদৌলতে প্রাপ্তবয়স্ক কন্টেন্ট নিয়ে ও কোনো অভিযোগ নেই। 🔴 লেখিকা প্রসঙ্গে - ''আঁধারের যুবরাজ'' লেখিকা সুস্মিতা জাফরের দ্বিতীয় উপন্যাস এবং আমার পড়া প্রথম উপন্যাস ও প্রথম বই । মুগ্ধ হয়ে পড়েছি বইটা। চমৎকার ও দক্ষ লিখন শৈলীর মাধ্যমে সবকিছু সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন লেখিকা। অনেক অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা লেখিকার জন্য। আগামীতে যেন আরো সুন্দর সুন্দর গল্প আমাদের উপহার দিতে পারেন সেই প্রত্যাশায় শুভ কামনা রইলো । যবনিকায় বলতে হয় , গল্পটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক উপন্যাস। গল্পটিতে সুখ ,দুঃখ , বিরহ , বিচ্ছেদ , পারিবারিক টানাপোড়েন , পিতামাতার অবহেলা ইত্যাদি আমাদের আশেপাশের সমাজের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই উপন্যাসের সবচেয়ে সুন্দর উপস্থাপন মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। শিশু ,কিশোর ও প্রাপ্তবয়ষ্ক লোকজন তাদের স্থান ,কাল , বয়সভেদে তাদের মনের কি ধরণের পরিবর্তন ঘটে কিংবা আচরণের কি ধরণের পরিবর্তন ঘটে তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনার কবিতাগুলোর প্রশংসা যেভাবেই করিনা কেন তা কম হয়ে যাবে ,চমৎকারের উপরে কিছু থাকলে সেটা সেই লেভেলর দাবিদার । আর সবশেষ ভালবাসা শায়ানের হৃদয়ছোঁয়া চিঠির জন্য। বিঃ দ্রঃ - গল্পটি প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রাপ্তমনস্কদের জন্য প্রযোজ্য । ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আমাদের জীবন বড় বিচিত্র, তার চেয়েও বিচিত্র মানুষ ।সেই বৈচিত্র্যময় কাহিনীর সমাবেশ ই ঘটেছে "সুস্মিতা জাফর" এর লেখা "আধারে যুবরাজ" বই তে।এক জীবনে এত কিছু ঘটতে পারে তা হয়তো আপুর উপন্যাস টা না পড়লে জানতাম না। বই পরিচিতি: বই: আঁধারের যুবরাজ লেখক: সুস্মিতা জাফর জনরা: সামাজিক-রোমান্টিক প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রচ্ছদশিল্পী: মো: সাদিতউজজামান প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ মুদ্রিত মূল্য: ৭০০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৭২ ফ্ল্যাপ: ভালোবাসার গল্পগুলো আসলে কী রকম হতে হয়? রোমান্টিক সংলাপ, দুটি প্রাণের উথালপাথাল পাগলামো, বন্য উন্মত্ততায় হারিয়ে যাওয়া, গল্পের ভাঁজে ভাঁজে রগরগে উত্তেজনা। এর বাইরেও কি শিহরণ জাগানিয়া ভালোবাসার গল্প হয়? 'ভালোবাসি বলা যায় সহজেই। ভালো হয়তো বাসাও খুব বেশি কঠিন নয়। ভালোবেসে কাছে চাওয়া ও পাওয়াও হরদম চলছে। কিন্তু ভালোবেসে না চেয়েও কিংবা চেয়ে না পেয়েও কিংবা পেয়ে হারিয়েও ভালোবাসাকে অবিকৃত রেখে পাশে থাকার গল্প বেশি আছে কি? আঁধারের যুবরাজ... এমন একটি গল্পের সঙ্গে সহযাত্রা হয়ে যাক। প্রচ্ছদ : বইয়ের একটি গুরুত্তপূর্ণ দিক হলো প্রচ্ছদ নির্মাণ । এক্ষেত্রে এই প্রচ্ছদ টি স্বার্থক ।আবছায়া অন্ধকার যা কিনা রহস্যের জানান দিচ্ছে। নিস্তব্ধ আধারে বসে আছে উপন্যাসের দুই চরিত্র ।কিন্তু বাস্তবে কি তাদের এভাবে পাশে বসে গল্প করা হয়ে উঠেছিল? কাহিনী সংক্ষেপ: উপন্যাসের মূল চরিত্র সৌরিন বিয়ের ৬ বছরের মাথায় একদিন সকালে যে কিনা হুট করে জানতে পারে তার স্বামী সোপান তাকে রেখে চলে গেছে ,কোনো কিছু না বলেই ।এদিকে এমন ঘটনায় পরিবার পাড়া প্রতিবেশী কলিগ সবার থেকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতে সে হয়রান ।যেই বান্ধবীকে আপন ভেবে নিজের কথা শেয়ার করেছিল বিপদে তাকেও সে পায়নি পাশে,নিজের একটা আপন মানুষ পাওয়া বুঝি এত কঠিন!শৈশব থেকেই সৌরিন আর দশটা শিশুর মতো আদর যত্ন পায় নি ।বরং বেড়ে উঠেছে কঠিন শাসন আর বৈষম্যমূলক পরিবেশের মধ্যে । যায় চাওয়া পাওয়ার ছিল না কোনো দাম ।সেই ছোট্ট সৌরিন কখনো নিজেই ভেঙেছে আবার নিজেই গড়েছে নিজেকে ।অথচ সেই স্ট্রং সৌরিন এত বড় একটা ঘটনার পর আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারেনি ।দিন দিন সবার চাপে তার সমস্যাগুলো গুলো যেনো আরো মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিলো ,এর যেনো কোনো শেষ নেই কোনো পরিত্রাণ নেই। সেই মুহূর্তে ফেসবুকে পরিচয় হয় "আধারে যুবরাজ" নামের এক আইডি র মালিকের সাথে ।যে কিনা তার সকল সমস্যা শুনতে উদগ্রীব ।দিনশেষে সৌরিন যেখানে হতাশা আর তীব্র গ্লানিতে হারিয়ে যায় সেখানে আজকাল সেই অচেনা ব্যক্তি তাকে একটু বাঁচার, মনের কথাগুলো বলার মত একটা আশ্রয় দেয় ।কিন্তু এর পরে কি হয় তার সাথে?কে ছিল সেই অচেনা ব্যক্তি? কি চায় সে?কেনো অচেনা কারো জন্য তার এত চিন্তা? তাদের এই পারস্পরিক আলাপ ,তাদের সম্পর্ক কতদূর এগিয়ে যায়?এর পরিণতি বা কি? কে ছিল এই আধাঁরে "যুবরাজ"? একই সাথে দেখা মেলে উপন্যাসের আরেক চরিত্রের সাথে "শায়ান"। জীবন যাকে কষ্ট ব্যতিত আর কিছু দেয় নি ।ছোটবেলা থেকে বাবা মা র তীব্র শাসন ,বন্ধু বান্ধব ছেড়ে নতুন ক্যান্টনমেন্ট এ ভর্তি ,প্রথম ভালোবাসাকে নিজের করে না পাওয়া,পরিবারের অগোচরে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া, আবার বিদেশে পাড়ি জমানো।সেখানের সংগ্রামী নিঃসঙ্গ জীবন ,একা কি কেউ কখনো বেঁচে থাকতে পারে?সেই একাকিত্ব ঘুচাতেই আগমন ঘটে প্রীতিতির,পরিচয় হয় অনলাইন জগতে নাম পরিচয় গোপন করা সেঁজুতির সাথে ।মিশুক আর বাচাল প্রকৃতির এই সেঁজুতির কাছেই যেনো ছিল সকল সমস্যার সমাধান ।সময় ভালই কাটছিল কিন্তু সেই সেঁজুতি ও একসময় নিখোঁজ হয়ে যায় সেঁজুতি কি আর ফিরে আসে ?নাকি একবারেই হারিয়ে যায়? দেশে ফিরেও বাবা মা র কাছে নেই তার কোনো দাম। মাসে মাসে টাকা পাঠানো ই যেনো তার একমাত্র দায়িত্ব। তবে শায়নের জীবনে কি আর কেউ এসেছিল?তার নিঃসঙ্গ জীবনে নিঃস্বার্থ ভাবে কেউ কি ভালোবেসেছিলো?কেউ কি দিয়েছিল এতটুকু আশ্রয়? পাঠ প্রতিক্রিয়া: আমি সাধারণত কোনো উপন্যাস পড়া শুরু করলে এক বসাতে শেষ করি ।কিন্তু "আধারে যুবরাজ" বইটা শুরু করার পর বইটা আমি রেখে দিয়েছিলাম ,আগ্রহ পায়নি। কিন্তু যখনই আধাঁরে যুবরাজ এর অংশটুকু আসে তখনই সেই রহস্য ভেদ করার জন্য এক বসাতে বাকি অংশ শেষ করেছি।উপন্যাসের মাঝে মাঝে এভাবে কবিতা দেওয়ার আইডিয়া টা একেবারেই ইউনিক লেগেছে আমার কাছে। আচ্ছা কে ছিল এই আধারে যুবরাজ? কেনো ছদ্মনামে নিজেকে পরিচয় দেন?সেইই কাহিনী জানার জন্যই মূলত পুরোটা শেষ করেছি। সুস্মিতা জাফর আপু মূলত ছোটো গল্পের কারিগর উনার ছোটগল্প আমি পড়েছি ।তাই প্রথম উপন্যাস হিসেবে আধাঁরে যুবরাজ প্রশংসার দাবিদার। শুরুটা ধীরে হলেও আস্তে আস্তে সবার জীবনের কাহিনীগুলো জানার পর সৌরিন,সেঁজুতি,শায়ান এদের প্রত্যেক কে অনেক আপন মনে হচ্ছিল । এখানে মূলত লেখিকা ৯০ দশক আর বর্তমান সময়ের এক সুন্দর মেলবন্ধন করেছেন ।শৈশব থেকে শুরু করে শায়ান আর সৌরিনের বাকি জীবনের জার্নি -পুরোটা সময় জুড়ে লেখিকা বেশ কিছু মেসেজ আমাদের দিয়েছেন ।দেখিয়েছেন কিছু বাস্তবতাকে ।সমাজের নানা রকম মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন নানা চরিত্রের আদলে। কথায় বলে "লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়ে যায় "।কথাটা যেনো সৌরিন এর শৈশবের সাথে একেবারে মিলে যায়। একটা মানুষের প্রথম আশ্রয় তার পরিবার ।সেই পরিবারের কাছেই সে আশ্রয় খুঁজে, ভালোবাসা চায়।কিন্তু ভালোবাসার নামে নিজেকে স্ট্রং করার কারণ দেখিয়ে তার বাবা মা তাকে কেবল দূরে সরিয়ে রেখেছে।অবহেলা আর এত এত বিধি নিষেধ শুনতে শুনতে সৌরিন আবদার করাই ভুলে গিয়েছে ।আমাদের সমাজের একটা কমন চিত্র ।আমার মাঝে মাঝে মনে হয় পেরেন্টিং নিয়ে সবার আসলে একটা কোর্স করা উচিত ।একটা ছোট মানুষের সাথে কিভাবে আচরণ করা উচিত সেটা সম্পর্কে সবার প্রকৃত ধারণা থাকা উচিত।।প্রয়োজনের বাইরে করা কড়া শাসন ,একটা বৈষম্যমূলক আচরণ সেই ছোটো শিশুর উপরে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে সেটা অনেকে জানেই না । বন্ধুহীন জীবন কি আসলে কল্পনা করা যায়? কিন্তু প্রকৃত বন্ধুর দেখা আমরা কয়জন পাই?সে হিসাবে শায়ান অনেক ভাগ্যবান যে কিনা এত ভালো ভালো বন্ধু পেয়েছিল।তাদের বন্ডিং গুলো আমার অনেক ভালো লেগেছে ।মাধ্যমিক পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের চলে যাওয়ার অংশটুকু আমাকে বেশি টাচ করেছিল হয়তো এইজন্যে যে আমি নিজেও এক সময় এই পর্যায় পার করেছি। বন্ধু বান্ধব ছেড়ে দূরে পড়াশুনা করার এই জার্নিটা যতটা না কষ্ট দেয় তার থেকেও বেশি পোড়ায় প্রিয়জন থেকে দূরে থাকার জন্য । বৈবাহিক সম্পর্কে একে ওপরের প্রতি ভালোবাসার সাথে সাথে বিশ্বাস, সম্মান ,সবকিছুই দরকার ।আমরা নিজেদের বাইরের দিক দিয়ে যদি শক্ত দেখাই না কেনো দিনশেষে নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে আমরা বড় অসহায় ।একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল ।আমাদের ভালো লাগা মন্দ লাগা সেই মানুষটা কে কেন্দ্র করেই ঘুরে। কিন্তু সেই মানুষটাই যখন বিশ্বাস এর মর্যাদা ভঙ্গ করে , অসম্মানিত করে তখন কেমন লাগে আসলে? বিশ্বাস ভঙ্গের এই কষ্ট টুকুবোধয় পৃথিবীর অন্য সব কষ্টকে হার মানায় ।ভেতর থেকে নিজেকে ভেঙ্গে দেয়।সোপান চলে যাওয়ার পরের সময় টুকু ,সোপান না থেকেও সব জায়গায় সৌরিন এর হেলুসিনেশন ।বার বার অতীত এর কথা মনে পড়ে যাওয়া। আশেপাশে মানুষ দের মানসিক অত্যাচার ।এক কথায় সৌররিনের কষ্টটুকু লেখিকা চোখের সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন । আবার প্রবাস জীবন নিয়ে অনেকের মনেই অনেক ফ্যান্টাসি কাজ করে ।সেখানে যাওয়া মানেই জীবনকে সেট মনে করেন ।অথচ সেই ব্যক্তি জানে আপনজন ছেড়ে প্রিয় মানুষদের ফেলে অচেনা অজানা একটা শহরে বেঁচে থাকা কি নিদারুণ কষ্টের ।এখানে আছে একাকীত্বের ছোবল ,আছে সঙ্গীহীনতার কালো অধ্যায় ।এই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো লেখিকা খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন । তবে শেষ অংশে এসে এই চমক এর জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না ।এই চুম্বক অংশ জানার জন্য হলেও সবাই এই বইটি প্লিজ পড়ে শেষ করবেন । চরিত্র বিশ্লেষণ: সৈরিন: উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র ।সেই সাথে আমার ভীষন পছন্দের একজন ।ছোটো বেলা থেকে যে কিনা বড় হয়েছে অন্য দশটা শিশুর থেকে আলাদাভাবে ।সেই ছোট্ট সৌরীন তার শৈশব থেকেই নিজেকে গড়ে তুলেছে স্ট্রং আর আত্মনির্ভরশীল হিসেবে।জীবনে বহু পথ নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়েছে একাই।এই চরিত্র থেকে অনেক শিক্ষাও গ্রহণ করার আছে ।তবে ভাগ্যের কি নির্মাণ পরিহাস। সেই শক্ত সৌরিন যেভাবে প্রিয় মানুষের থেকে আঘাত পেয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে যেয়েও আবার নিজেকে সামলে নেয় এই অংশটুকু আসলেই অনেক অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল ।তবে তার কষ্টটুকু যেনো খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছি । শায়ান :আলোচ্য উপন্যাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ।আমরা নায়ক হিসেবে সবসময় পারফেক্ট কাউকে চাই ।যে কিনা কথায় চলনে ব্যবহারে হবে সবার থেকে আলাদা মার্জিত সবথেকে ফিট।কিন্তু বাস্তব জীবনে তেমন টা আসলে হয়না,লেখিকা হয়তো সেটাই দেখিয়েছেন ।আমাদের প্রত্যেকের জীবনে উত্থান পতন আছে ।ভালো মন্দ মিলেই আমরা ।তাই সেইদিকে বিচারে শায়ান শুদ্ধ কোনো পুরুষ নয় বরং হাসি আনন্দ দুঃখ, ভুল এই সবকিছু মিলেই শায়ান চরিত্রকে লেখক সাজিয়েছেন । সায়ানের শৈশব অন্য বাচ্চাদের মত মসৃণ ছিল না ।পরিবার ই তাকে সেই কমফোর্টজোনটা দেয়নি ,আগলে রাখে নি ভালোবাসায় তার শৈশব কিংবা কৈশোরের সময়টুকু ছিল রীতিনীতি , বিধি নিষেধের বেড়াজালে বন্দী ।পরিবারে এই বন্দী জীবন থেকে সে তাই মুক্তি চেয়ে এসেছে প্রথম থেকেই ।অথচ তার ই বোনের সাথে পরিবারের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত ।ছোটবেলা থেকে মা বাবার সেই পক্ষ পাতিত্ত দেখে মনে মনে কষ্ট সয়ে গেছে ।রুপা কিংবা তানজিলা কাঙ্ক্ষিত কাউকেই সে পায়নি ।কৈশোরের প্রথম ভালোবাসাও তাকে ধরা দেয় নি ,বরং দিয়েছে তীব্র যন্ত্রণা ।প্রবাসে পারি জমালে সেখানে তার নিঃসঙ্গ জীবনের একমাত্র সঙ্গী ছিল প্রিতীতি। যায় কাছে নিজের মনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল বিনিময়ে ভালোবাসা পেয়েছিল কি? সেঁজুতি:উপন্যাসে আরো অনেকের মাঝে আমার প্রিয় আরেকটি চরিত্র ।এই শহরে আমার সবাই নিজের একটা মানুষ চাই ।যাকে নিজের সবটুকু বলা যায় ।আমাদের আশেপাশে এত মানুষ এর ভীড়ে এমন মানুষ খুব কম আছে যারা আমাদের মন ভালো করে দিতে পারে।আমাদের সমস্যা গুলো যারা নিমিষেই সমাধান করে ফেলতে পারে ।সত্যি কথা বলতে উপন্যাসের মাঝের অংশে এসে আমি শুধু এই অপেক্ষাতেই ছিলাম যে কখন আবার সেঁজুতির দেখা পাবো ।সেঁজুতি কে ভীষন মিস করেছি । আমার কাছে লাগা কিছু অসঙ্গতি: 🌑প্রথমত উপন্যাসের বেশ কিছু অংশে ইংরেজি ওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে যেটা আমার মনে হয় বাংলা করে লিখলে আরো ভালো লাগতো । 🌑আর কবিতার অংশটুকু একদম ব্যতিক্রমী চিন্তা ধারার পরিচয় দিলেও উপন্যাসের কাহিনী অনুপাতে কবিতা গুলো সাজালে আরো ভালো লাগতো বলে আমার মনে হয় । 🌑বয়স ৫২ তে এসে শায়ানের ২১ বছরের কারো সাথে লিভ টুগেদার এই অংশটুকু আমার ভীষন উইয়ার্ড লেগেছে । 🌑রূপার অংশটুকু ক্লিয়ার না আমার কাছে কিছু জায়গায় । যায় কিনা ভালোবাসার মানুষ আছে ,কাল বাদে যার সাথে যে পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করে ফেলেছে সে কেনো পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার দিন শায়ান এর সাথে নিজের জীবনের ঘনিষ্ঠ একটি মুহূর্ত তৈরি করলো? 🌑উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে শায়ানের কাছে আমার প্রত্যাশা ছিল বেশি ।কিন্তু আমাকে বার বার মনঃক্ষুণ্ণ করেছে তার অধিকাংশ কার্যকলাপ ।একজন মানুষ জীবনে কতবার প্রেমে পড়তে পারে? ধোঁকা খাওয়ার পরেও কিভাবে একই পথে পা বাড়ায়?এতগুলো নারীর সান্নিধ্য যাওয়ার ব্যাপার টি আমার ভালো লাগেনি।যদিও তার নিঃসঙ্গ জীবন এর জন্যে অনেক টা দায়ী তবুও । 🌑আর সোপান এর চরিত্র টা একেবারেই পাঠকদের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছে ।সে কোথায় গিয়েছিল কেনো গিয়েছিল ,যাকে ফেলে চলে গেছিলো ডিভোর্স কাগজ পর্যন্ত পাঠিয়ে দেবার পর কেনো সেই মানুষ টার কাছেই ফিরে আসার তাগিদ অনুভব করলো এটা একটা বড় ধোঁয়াশা হিসেবেই রয়ে গেছে ।এতদিনের ভালোবাসার সম্পর্কে কিসের অভাব তাকে সঙ্গিনীর সাথে এমন প্রতারণা করতে উদ্বুদ্ধ করলো !তবে কি আসলেই ভালোবাসার মানুষকে পেতে নেই? 🌑আর সৈরিনীর শেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি কিছু বলবনা ।এত কিছু সহ্য করেও সেই আত্মমর্যাদা সম্পন্ন নারী। যে ছোটবেলা থেকে নিজেকে স্ট্রং হিসেবে গড়ে তুলেছে , সেই সৌরীন জীবনে এত বড় একটা ধাক্কা খাওয়ার পরেও সেই জঘন্য বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েও তার এমন সিদ্ধান্তে আসা আসলে কতটুকু কাম্য?তবে সেটা কোথাও না কোথাও আমার কাছে তার আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলার মতো মনে হয়েছে ।যদিও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে একজন মেয়ে ঠিক এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হতো বলে মনে করি । পুরো উপন্যাস জুড়ে শায়ান এর প্রতি অনেক জায়গায় বিরক্ত লেগেছিলো। কিন্তু শেষ অংশে এসে সায়ানের জন্যে মন টা ভীষণ পুড়েছে,একটা মানুষ এক জীবনে কেবল কষ্ট ই পেয়ে গেলো ,সুখ বুঝি এতই দুষ্প্রাপ্য কারো কারো জীবনে !জীবনের কিছু কিছু ঘটনা আমরা হয়তো চাইলেও পরিবর্তন করতে পারবোনা ,মেনে নেওয়া কিংবা ভালোবেসে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ই হয়তো একমাত্র সমাধান । লিখনশৈলী : লেখকের সবচেয়ে বড় গুন হলো তার লেখার মাধ্যমে পাঠকের মন ছুঁয়ে যাওয়া। সে হিসেবে লেখিকা স্বার্থক ।ভালো লাগার সব উপাদান ই তার লেখায় উপস্থিত ।সহজ, সাবলীল ,লেখা মাত্রই তা পাঠক মনে ভালো জায়গা করে নেয় ।আমার ভালো লেগেছে । প্রোডাকশন কোয়ালিটি ও অন্যান্য : বই এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি অনেক ভালো ছিল।কোথাও পড়তে গিয়ে সমস্যা হয় নি। বই এর কাগজ, বাঁধাই, সব একদম ঠিকঠাক ছিল। দুই তিনটা জায়গা ছাড়া তেমন কোনো বানান ভুল চোখে পড়ে নি ।এক্ষেত্রে পড়ে আরাম পেয়েছি। প্রিয় কিছু উক্তি: 🌑"সব অপরাধের মাফ হয় কিন্তু কারো মনের দুর্বল জায়গায় আঘাতের কখনো মাফ হয় না।" 🌑"যে যত দ্রুত আপন হয়, তাকে হারানোর ভয় তত বেশি থাকে।" 🌑"সকল সুযোগ হাত পেতে গ্রহন না করাই মনেহয় বুদ্ধিমানের কাজ।" পরিশিষ্ট: মোটকথা এই উপন্যাসে আছে কাছে আসার গল্প, আছে বিশ্বাস ঘাতকতা ,আছে কাছের মানুষদের থেকে পাওয়া কষ্ট , আছে অপ্রাপ্তি, অবহেলার আড়ালে প্রকৃত ভালোবাসার কথা ।এক কথায় পুরোটা উপন্যাস যেনো আমাদের সমাজের ই একটা ক্ষুদ্র অংশ ।তবে এই উপন্যাস টা অবশ্যই প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ।কাহিনীর প্রয়োজনে এমন বেশ কিছু অংশ লেখিকা বর্ণনা করেছেন যেটা প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্তমনষ্ক ছাড়া অন্যদের পড়তে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে বলবো।
#আঁধারের_যুবরাজ_বুক_রিভিউ বই: আঁধারের যুবরাজ লেখক: সুস্মিতা জাফর প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রচ্ছদ: মো. সাদিতউজজামান মুদ্রিত মূল্য: ৭০০৳ গল্পটা এমন এক যুবরাজের যার সবকিছু থেকেও নেই পরিপূর্ণ স্বাধীনতা। এতো এতো সুযোগ-সুবিধা আর বিলাসিতার মাঝে কড়া শাসন নামের পরাধীনতার শেকলে বাঁধা তার শৈশব, কৈশোর। কড়াকড়ির আঁধারে মোড়া জীবন। বলা হয়ে থাকে, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। এই কথা যেমন ভালোবাসার বেলায় সত্য, তেমনি শাসনের বেলাতেও। এই স্নেহ আর শাসনের মাঝে সঠিক ব্যালেন্স করাটা প্যারেন্টিং এর অংশ। খুব বেশি স্নেহ, আহ্লাদ আর আবদার পূরণের জন্য যেমন সন্তান 'আদরে বাঁদর' হয়ে ওঠে, তেমনি অতি শাসনের বেলাতেও হিতের বিপরীত হতে পারে। স্নেহ আর শাসনের ব্যালেন্সটা বয়স, মনঃস্তত্ব ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাথে সাথে পরিবর্তনশীল। শৈশব কৈশোরে সন্তানের সবচাইতে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল হলো বাবা মা, খুব বেশি শাসন ঐ বয়সটায় সন্তানের সুস্থ স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। এই কথাগুলো পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তান উভয়ের বেলায় একই। কিন্তু 'ব্যাড প্যারেন্টিং' এর আরো এক নজির দেখা যায় গল্পের অন্য আরেক প্রধান চরিত্র সৌরিনের ক্ষেত্রে। তাকে ছোট থেকেই 'মেন্টালি স্ট্রং' হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে যখন আদর, স্নেহ ও মমতার সবচাইতে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন সেইসব কিছু বঞ্চিত করা হয়েছে। সন্তানদের মাঝে বাবামায়ের সৃষ্ট এই বিভেদ, সৌরিনকে দিয়েছে একটা অসুস্থ অস্বাভাবিক শৈশব। ফলাফলস্বরূপ আস্থা তৈরির জায়গাটা পরিণত হয়েছে ফাঁপা গহ্বরে। নিজের জগতের বাহিরে সে তৈরি করে নিয়েছে 'স্ট্রং মেন্টালিটি' নামের এক শক্ত খোলস। কিন্তু ভেতরটা ঠিক আগের মতো কোমল রয়ে গেছে। স্বামী সোপানের সাথে সৃষ্ট দূরত্বে ভেতরে ভেতরে প্রতিনিয়ত গুমড়ে মরেছে। সম্পর্কের ভাঙনে সন্দেহের আঙুল একটা ভরসাস্থল খুঁজে ফিরেছে, যার সাথে হৃদয় মেলে মনের কথা বলা যায়, মনের ভার হালকা করা যায়। যে তাকে পুরোপুরি বুঝবে। সে সবার সামনে যেভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে, তেমন ভাবে নয়। বরং সত্যিকার অর্থেই তাকে বুঝবে। একদিন সৌরিনের কাছে একটি ম্যাসেজ এলো, আঁধারের যুবরাজ নামক এক ফেসবুক আইডি থেকে। কে সেই আঁধারের যুবরাজ? শুরু হয় কথোপকথন, রাত পেরিয়ে হয় ভোর। হাঁটি হাঁটি পা পা করে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক, অনুচ্চারিত হৃদয়ের বন্ধন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী দেখা মেলে আড়ালে থাকা মানুষটার? এটাই ভালো বেশি কাছে না আসা, দূরে দূরে থাকা; রহস্যগুলো একটু হলেও বাক্সে পুরে রাখা। ~ মোহভঙ্গ (সুস্মিতা জাফর) গল্পের আরেক অধ্যায়ে আছে শায়ান। পাশ্চাত্য সভ্যতা ও জীবনযাপনের 'লিভ টুগেদার রিলেশন' এ অভ্যস্ত প্রজন্মের সাথে পরিচিত পাঠকের কাছে তার চরিত্রটি ধরা দেবে 'প্লে বয়' হিসেবে। ব্যাপারটা হয়তো এমন মনে হবে, সে যাকেই দেখছে তাকেই ভালোবেসে ফেলছে। ক্রমাগত নিত্যনতুন অনিয়ন্ত্রিত সম্পর্কে জড়িয়ে যায় শায়ান। সেইসব মেয়েরাও তার ব্যক্তিত্ব আর বাহ্যিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে মোহমুগ্ধ। যার ফলে শায়ানের জীবনে দেখা মেলে অসংখ্য নারী চরিত্রের। এই যে ভালো লাগা, শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। এর মাঝে গভীরতা কতটুকু? কতটুকুই বা নির্ভেজাল? দিনশেষে সত্যিকারের ভালোবাসা খুঁজে ফেরে ভালোবাসার কাঙাল। সত্যিকার ভালোবাসা তো এমন নয়। সত্যিকারের ভালোবাসায় সবকিছুর আগে প্রয়োজন মনের মিল, খুব সুন্দর একটা বোঝাপড়া আর বন্ধুত্বের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত কি শায়ান খুঁজে পায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা? নাকি পেয়েও হারিয়ে ফেলে বাস্তবতার জটিলতায়? কিছু মানুষ পায় না আবার কিছু মানুষ পেয়েও হারায়। পেয়ে, না পাওয়ার দূরত্বে; তারা হৃদয় ভর্তি হাহাকার তাড়ায়! ~ নিশ্চুপ আঁধার (সুস্মিতা জাফর) 'আঁধারের যুবরাজ' কেবল মানবমানবীর গল্প বলে না, এখানে আছে প্রবাসে ক্যারিয়ার গড়ার লড়াই, ভিন দেশে মানিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা। আছে বন্ধুত্ব, পারিবারিক টানাপোড়েন, সম্পর্কের বোঝাপড়া। চরিত্রদের মনঃস্তত্ব লেখকের সাবলীল গল্প বলার ধরণে যেন ভীষণ স্পষ্ট হয়ে ধরা দিচ্ছিল। আর প্রতিটি অধ্যায়ে যুক্ত হওয়া ছোটবড় বিভিন্ন কবিতার অর্থপূর্ণ পঙক্তিগুলো যেন উপন্যাসটিতে যুক্ত করেছে ভিন্ন মাত্রা। তবে গল্পের স্বার্থে যুক্ত হওয়া কিছু আপত্তিকর বর্ণনার জন্য বইটিতে 'অপ্রাপ্তমনষ্কদের জন্য নয়' ধরণের সতর্কবার্তা থাকলে ভালো হতো।






















