

Buy ওয়ার অ্যান্ড পিস Online in Bangladesh
লেখক: লিও তলস্তয়
- Author: লিও তলস্তয়
- Publisher: বিশ্বসাহিত্য ভবন
- Number Of Pages: 624
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"ওয়ার অ্যান্ড পিস" বইয়ের ভূমিকার অংশ থেকে নেয়া:সর্বকালের মানুষের আশা-আকাঙ্খা, সাফল্য-নৈরাশ্য এবং জীবনের মূর্ত-অমূর্ত সকল ক্লেদ ও সৌন্দর্য নান্দনিক ও সাহিত্যিক প্রকাশে যারা বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় তাঁদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলেন ইংরেজি সাহিত্যের শেকসপীয়র, জার্মান সাহিত্যের গ্যেটে, বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং রুশ সাহিত্যের লিও তলস্তয়। তলস্তয়সহ এঁরা সকলে কালকে অতিক্রম করে কালাতীত হয়েছেন। যুগকে অতিক্রম করে হয়েছেন যুগােত্তীর্ণ। এঁরা অক্ষয়-অমর। এঁদের কীর্তি সর্বকালের সকল মানুষের অমূল্য সম্পদ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

"জীবনের মতই বিশাল উপন্যাস ওয়ার এন্ড পীস" - কথাটার স্বার্থকতা ধীরে ধীরে টের পাচ্ছি। এই বইটাতে প্রবেশ করা সহজ নয় মোটেও - একদম শুরুতেই আনা পাভলোভনা শেরের-এর বাড়ির অভিজাত পার্টির থিকথিকে কাদায় পা আটকে কত লক্ষ পাঠক "ধুর বোরিং" বলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন, হিসাবে কুলাবে না। সেই বাধা অতিক্রম করতে পারলেও এমন না যে তলস্তয় কখনোই ড্যান ব্রাউনের সাথে পাল্লা দিবে - পাঠক যদি ওই ধরনের চটুল এক্সাইটমেন্ট খুঁজে থাকেন, তাহলে থান ইটের মত এই বইয়ে বৃথাই মাথা ঠুকে মরবেন। কিন্তু যদি অন্য কিছু চান, তাহলে হয়তো পেলেও পেতে পারেন। ১৬ আনার প্রথম ৪ আনা - অর্থাৎ ৩৫০ পাতা পড়ে এই পাঠ প্রতিক্রিয়া। অনেক সময় নিয়েই পড়ছি - প্রায় তিন সপ্তাহ লেগে গেল এই পর্যন্ত আসতে। তবে কোন তাড়া নেই - ইচ্ছে করেই আস্তে ধীরে এগোচ্ছি - পিয়ের বেজুকোভ, বা প্রিন্স আন্দ্রেই বল্কোনস্কি, বা নিকোলাই রস্তোভকে সময় নিয়ে চিনতে জানতে পারছি। সময় ১৮০৫-০৬ সাল, ইংল্যান্ড আক্রমন না করে দিগ্বিজয়ী ন্যাপোলিয়্ন ঠিক করলেন ইউরোপের পূবদিকে তার মুখ ঘোরাবেন। বোনাপার্টের প্রবল পরাক্রমশালী সেনাবাহিনী টপাটপ ইউরোপের সব দেশ হজম করতে করতে অস্ট্রিয়ায় এসে পৌঁছলো। রাজধানী ভিয়েনাও শিগগির পেটে চালান হয়ে গেল। মরিয়া হয়ে অস্ট্রিয়ার সম্রাট সাহায্য চেয়ে পাঠালেন মিত্রশক্তি রাশিয়ার কাছে। অস্টারলিটসের ময়দানে মোলাকাত হবে দুই পক্ষের, ফয়সালা হবে গোটা মহাদেশের ভাগ্য। উপরে উল্লেখিত ত্রিরত্ন, পিয়ের, প্রিন্স আন্দ্রেই এবং নিকোলাইয়ের জীবন-নাটক সংঘটিত হচ্ছে এই রাজনৈতিক পটভূমিতে। আরো অজস্র চরিত্র আছে - লিটারেলি কয়েক হাজার, পথের ফকির থেকে খোদ আমির পর্যন্ত - কিন্তু মোটের উপর কাহিনী এই তিন যুবককে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এখন পর্যন্ত। তলস্তয়ের মহিমা আসলে কোথায়, বুঝতে একটু সময় লেগে যায়। বহুমুখী তার জিনিয়াস। লাখো সৈনিক অধ্যুষিত বিশাল ক্যানভাস থেকে হঠাৎ জুম ইন করে একদম নগন্য সেপাইয়ের অন্তরের অন্তস্থলের খোঁজ নিয়ে আবার নিমেষে উচ্চতায় উঠে গিয়ে ব্যাটেলফিল্ডের বার্ডস-আই ভিউ এত অনায়াসে, এত বোধগম্য করে আর কেউ কি লিখতে পেরেছেন? ঢের সন্দেহ হয়। সবই তার নখদর্পনে। সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থায় উপরতলার এলিটদের প্রখর ব্যবচ্ছেদ করেছেন - তলস্তয় নিজেও এই শ্রেনীর লোক ছিলেন, তাই তার চেয়ে ভালো এদের কেউ চিনতো না। নর-নারীর সম্পর্ক আছে, তন্বী তরুনীর জীবনে প্রথম প্রেমের মায়াময় আনন্দ আছে, অসুখী স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক হতাশা আছে, বুড়ো বয়সে একে অপরকে নিয়ে সুখে শান্তিতে শেষ দিনগুলো পার করে দেয়ার সহজ সংকল্প আছে। টাকা-পয়সা নিয়ে কাড়াকাড়ি মারামারি, মানুষের নগ্ন লালসা আর অভিলাষের কষ্টকর বিবরণ আছে। হিউমারও আছে ঘাপটি মেরে - বিরাট জমিদার বাপের একমাত্র সন্তান পিয়ের, কিন্তু সে জারজ। বাপ মরে গেলে পরে নানান বদমাশদের চক্রান্ত ভেস্তে দিয়ে জমিদারীর ন্যায্য মালিকানা যখন সে বুঝে পেল, হঠাৎ করেই হয়ে গেল মস্কো শহরের সবচাইতে এলিজিবেল ব্যাচেলর! কি করে সুন্দরী হেলেনের সাথে তার বিয়ের হিল্লে করে ফেললো হেলেনের চতুর হিসেবী বাপ, তার রসালো বিবরণ পড়ে নিজের অজান্তেই হেসেছি। চরম সিদ্ধান্ত নেয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পিয়েরের মনের অবস্থা বাংলার কবিই সবচেয়ে ভালো বলেছেন - করিতে পারি না কাজ, সদা ভয় সদা লাজ, সংশয়ে সংকল্প সদা টলে। মানবমনের জটিল সাইকোলজি, প্যাঁচালো দুর্বোধ্য সব মোটিভেশন চিত্রণে তলস্তয় সিদ্ধহস্ত। ১৯শ শতকের ইউরোপীয় উপন্যাসে ন্যাচারালিজ্মের ফরাসী বা ইংরেজ ওস্তাদদের যে কারো সমকক্ষ তিনি। আর মানুষ এবং ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে, পার্সোনাল এবং পলিটিকালের মিলনস্থলে তলস্তয় একমেবাদ্বিতীয়ম। যুদ্ধের সেটপিসগুলো পড়ে বিস্ময়ে মাথা ঝাঁকাতে হয় - কি করে সম্ভব করেছিলেন? আঘাত পেয়ে প্রিন্স আন্দ্রেইয়ের যুদ্ধের ময়দানে স্লো-মোশন লুটিয়ে পড়া? আরেকটু হলে দুই আর্মির মাঝে স্যান্ডউইচ হওয়া তরুণ নিকোলাই, ঘোড়ার পিঠে চড়ে তার তুমুল দৌড়? বর্ণনাতীত রকম অসাধারণ! সিনেমা আবিষ্কারের ৫০ বছর আগে তলস্তয় এক দুর্দান্ত রকমের সিনেম্যাটিক উপন্যাস লিখে গেছেন - তাই অবাকের কিছু নেই যে ওয়ার এন্ড পীস অনেক অনেকবার ফিল্ম এবং টিভির জন্যে বানানো হয়েছে - এমনকি সামনের বছর বিবিসি আবারও একটি বিগ-বাজেট টিভি সিরিজ করতে যাচ্ছে এই বইকে ঘিরে। তবে সবার সেরা এখন পর্যন্ত বোধ হয় সের্গেই বন্দারচুকের কিংবদন্তীসম রুশী চলচ্চিত্রগুলো। পঞ্চাশের দশকে অড্রে হেপবার্ন আর মেল ফেরের-কে নিয়ে কিং ভিদোর বানালেন হলিউডি এপিক - বিটিভিতে দেখিয়েছিল বহু বছর আগে। সেটা দেখে সোভিয়েতদের দেশপ্রেম চাগা দিয়ে উঠলো, এত বড় কথা, আমাদেরই বই নিয়ে শালা আমেরিকানরা বানিয়েছে এই রদ্দি মাল? দাঁড়াও, দুনিয়াকে দেখাচ্ছি ওয়ার এন্ড পীসের সিনেমা আসলে কেমনে বানাতে হয়। যেমন কথা তেমন কাজ - এগিয়ে এলেন সের্গেই বন্দারচুক, সরকারী পৃষ্টপোষকতায় তৈরী করলেন একটি নয় দুটি নয়, চার-চারটি সিনেমা। তেমনই বই যে চারটে ধারাবাহিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়েও বেঁধে রাখা যায় না! বেস্ট ফরেন ফিল্ম অস্কারও জিতে নিল। ইউটিউবে খুঁজলাম - সিনেমা আছে, কিন্তু সাবটাইটেল নেই। সাবটাইটেল সহ খুঁজে পেলাম ডেইলিমোশনে, দেখে মনে হচ্ছে সবগুলোই আছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, রুশীরা এত বিশ্বস্ততার সাথে উপন্যাসের প্লট অনুসরণ করেছেন, যে ইউটিউবে টান দিয়ে দেখতে দেখতে কোন সাবটাইটেল ছাড়াও ঠিক ঠিক বলে দিতে পারছিলাম এই দৃশ্যটি উপন্যাসের কোন অংশে ছিল। বন্দারচুক যেন খোদ লেখকের চোখ দিয়েই ক্যামেরার লেন্সে চোখ রেখেছিলেন। অল্প কিছুদিন বিরতি দেব ভাবছি। তারপর রিফ্রেশ হয়ে আবার ডুবে যাবো তলস্তয়ের পৃথিবীতে - কি হয়েছিল অস্টারলিটসের নির্মম পরাজয়ের পরে?

ওয়ার এন্ড পিস বইয়ের কভার এবং বাইন্ডিং অনেক ভালো। কিন্তু কাগজের মান অতটা ভালো নয়, আরেকটু ভালো আশা করেছিলাম, কাগজের মান মধ্যম মানের বিধায় লেখা পড়তে একটু কষ্ট হচ্ছে, তাছাড়া অক্ষর গুলো একটু ছোট, বাকি সব ঠিক আছে। ধন্যবাদ
বই গুলো অসাধারণ।

এক কথায় অসাধারণ

Good























