

Buy স্মৃতিকথা Online in Bangladesh
লেখক: কাজী মোতাহার হোসেন
- Author: কাজী মোতাহার হোসেন
- Publisher: নবযুগ প্রকাশনী
- Isbn: 9848200118
- Number Of Pages: 148
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Print, 2013
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা কাজী মোতাহার হোসেনের সুগভীর পাণ্ডিত্য ও বৈদগ্ধ্যের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর লেখায়। এই শান্ত সমাহিত, সৌম্যদর্শন ব্যক্তিটি ছিলেন একদিকে সত্য ও সুন্দরের সাধক, অন্যদিকে সরল, নিরহংকার, আত্নভোলা, সজ্জন ও ঋষিকল্প। মানুষ হিসেবে এবং দ্বিৎসমাজে তিনিছিলেন একং আদর্শস্থানীয় ব্যক্তি। ‘স্মৃতিকথা’ একান্তভাবেই কাজী মোতাহার হোসেনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিবরণ। ১৮ টি স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে এই গ্রন্থে। অধিকাংশই তাঁর শেষ জীবনে লেখা। ছোটবেলা ও ছাত্রজীবন নিয়ে লেখা চারচটি প্রবন্ধে (আমার ছোটবেলা, কুষ্টিয়ার স্মৃতিকথা, আমার জীবন-দর্শনের অভ্যূদয় ও ক্রমবিকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ) লেখকের বক্তি মানস ও চরিত্র কীভাবে গড়ে উঠেছিল তার অকপট পরচিয় পাওয়া যায়। দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে মেধা ও বৃত্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে কেমন করে তিনি গড়ে উঠেছেন তারই কাহিনী। লেখাগুলোতে কাজী মোতাহার হোসেনের বহু সহপাঠী ও শিক্ষকের পরিচয় পাওয়া যায়। ব্যক্তিসত্তা ও মূল্যবোধ নির্মাণে তাঁর স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের মূল্যবান অবদানের কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। সাম্প্রদায়িকতাকে তিনি বাল্যকাল থেকেই ঘৃণা করতে শিখেছিলেন। মানবিক মূল্যাবোধে যাদের হৃদয় আলোকিত নয় তাদের তিনি শ্রদ্ধার যোগ্য বলে মনে করেন নি। কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে লেখা তিনটি প্রবন্ধ রয়েছে ‘স্মৃতিকথায়’। কাজী মোতাহার হোসেন নিজেই বলেছেন ‘নজরুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দিনগুলো আমার সাহিত্যিক জীবনে অমূল্য সঞ্চয়। দৃষ্টিতে তীক্ষ্ণতা (বৈজ্ঞানিক হিসাবে) আগে থেকেই ছিল, কিন্তু নজরুলের সংস্পর্শে এসে হয়ত মানুষকে আরও নিকট করে, আপন বলে ভাবতে শিখেছি। এই দুর্লভ মানবীয় অনুভূতি যদি সত্যিই কিছুটা এসে থাকে, তবে তার ষোল আনা না হলেও অন্তত বারা আনাই যে নজরুলের প্রভাবে হয়েছে একথা অকুণ্ঠভাবে স্বীকার করবো।” (আমার সাহিত্যিক জীবনের অভিজ্ঞতা)। ‘স্মৃতিকথায়’ আরো কয়েকজন মনীষী সম্পর্কে কয়েকটি মূল্যবান লেখা সংকলন করা হয়েছে। এই প্রবন্ধগুলো রবীন্দ্রনাথ , সত্যেন্দ্রনাথ বোসম আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ ও ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কে নিয়ে ।কৌতূহলী পাঠকেরা নজরুল-ফজিলতুন্নেসা সম্পর্কের কিছু অজানা অথচ প্রামাণ্য তথ্য জানতে পারবেন এই গ্রন্থের একটি রচনা থেকে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

আত্মজীবনী হিসেবে নিম্নমানের লিখনি। বিখ্যাত ব্যক্তি হিসাবে বেশ কিছু বিষয় জানা যাবে।

খুবই ভাল লেগেছে। কাজী মোতাহার হোসেন এর মতো মহৎ প্রাণ একজন মানুষ কে জানার জন্য অবশ্য পাঠ্য একটা বই।
Darun

একজন বাঙালি মুসলমানের অনুরোধে 'মহেশ' গল্পটি লিখেছিলেন শরৎচন্দ্র। তিনি হলেন জাতীয় অধ্যাপক ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন। প্রবন্ধাকারে লেখা কাজী মোতাহারের স্মৃতিচারণধর্মী বই 'স্মৃতিকথা'। দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে নিজের বেড়ে ওঠা, কলকাতা ও ঢাকার ছাত্রজীবন, ঢাবির স্মৃতি এবং কাজী নজরুল আর ফজিলাতুন্নেছা সম্পর্কীত অধ্যায় বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে। মুক্তবুদ্ধির আন্দোলনের আবুল হুসেন এবং ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে নিয়ে রচিত লেখা পাঠকের জন্য বাড়তি পাওনা। মোট চৌদ্দটি লেখা নিয়ে এই বই। কুষ্টিয়াতে ১৮৯৭ সালে জন্মেছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। নিজের জন্মকথা লিখতে অনেকেই অহেতুক আত্মগরিমায় ভোগেন৷কাজী মোতাহের হোসেন তাঁর লেখনীতে বিন্দুমাত্র ভণিতার আশ্রয় নেননি৷ এই সারল্য এবং সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। সম্ভ্রান্ত অথচ আর্থিক দিক দিয়ে অসচ্ছল কাজী বাড়ির ছেলে মোতাহার। কুষ্টিয়ার গ্রামীণ পরিবেশে হিন্দু,মুসলিম সৌহার্দ্যের কথা পড়তে গিয়ে খুব আনন্দ পেয়েছি। টাকা-পয়সা টান ছিল বরাবরই। তাই কখনো আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে আবার কখনো লজিং থেকে চালাতে হয়েছে পড়াশোনা। মাথা পরিষ্কার ছিল। পরীক্ষায় সবসময়ই ভালো করতেন। ফলাফলের জন্য প্রাপ্ত বৃত্তির টাকায় চলতো কাজীর পড়াশোনা।স্কুলে পড়বার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বারবার কৃতজ্ঞতা এবং শ্রদ্ধাবোধ ঝরে পড়েছে কাজীর কন্ঠে। অংকের শিক্ষক জ্যাতীন্দ্রমোহন বাবুর প্রতি কাতরতা ছিল সবচেয়ে বেশি। গণিতে এত ভালো ফলাফল করতে পেরেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালে সত্যেন বোসের মতো কিংবদন্তি শিক্ষক ও বিজ্ঞানীর সান্নিধ্য পেয়েছেন গণিতের কাজীর মাথার জন্যই৷ কাজীকে এই পথটা দেখেয়েছিলেন তাঁর শিক্ষক জ্যোতীন্দ্রমোহন।এনট্রান্স(এসএসসি) পরীক্ষায় বাংলাপ্রদেশে সম্মিলিতভাবে ১ম স্থান হয়েছিলেন৷ পনেরো টাকা বৃত্তির জোরে কাজীর মোতাহার এলেন কলকাতায়। প্রেসিডেন্সি কলেজে। বেকার হোস্টেলে থাকেন। সায়েন্স নিয়ে পড়ছেন। তৎকালীন কলকাতার বর্ণনা একেবারেই এড়িয়ে গেছেন৷ কলেজের পরিবেশ, পড়াশোনা নিয়ে কিছু কথা আছে। এই সময়ের একটি ঘটনা বেশ উল্লেখযোগ্য। কলেজের এক ইংরেজ অধ্যাপক হিন্দুদের নিয়ে কটূক্তি করে। হিন্দু ছাত্ররা তাকে ধরে ধোলাই দেয়। কর্তৃপক্ষ কলেজের সকল শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে পনেরো টাকা জরিমানা করে। তবে কলেজের কোনো শিক্ষকের সুপারিশসহ আবেদনপত্র থাকলে জরিমানা মওকুফ করা হবে বলেও জানানো হয়। কাজী মোতাহারের সম্বলই পনেরো টাকা। জরিমানা দিলে মাসিক খরচের টাকা কোথায় পাবেন? তাই আবেদনপত্র নিয়ে গেলেন তাঁর রসায়ন শিক্ষক প্রখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কাছে। তাঁকে দেখে পি.সি রায় বললেন, ' দেখ, তুমি মুসলমান, তুমি মৌলবী সাহেবের কাছ থেকে সুপারিশ নেও, অনেক হিন্দু ছেলেকে সার্টিফিকেট দিয়েছি ; আমি আর দেব না। ' এই কথা শুনে মর্মাহত হলেন কাজী মোতাহার। সিদ্ধান্ত নিলেন প্রেসিডেন্সিতে আর পড়বেন না। বদলি হয়ে চলে এলেন রাজশাহী কলেজে। কাজী মোতাহার সাম্প্রদায়িক এইকথা বলা ভুল হবে। কারণ যেসব শিক্ষকদের তিনি পুরো বই জুড়েই অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন, যেসব বাল্যসখা, কৈশোরের সাথীর কথা লিখেছেন তাঁদের বেশিরভাগ হিন্দু। এই মানুষটি হঠাৎ পি. সি. রায়ের ক্ষেত্রেই সাম্প্রদায়িক ভূমিকা নিবেন এমনটি ভাবা যায়না। ঢাবিতে পড়তে এসে প্রথমদিকের অনেক রথী,মহারথী শিক্ষকদের দেখা পেয়েছেন কাজী মোতাহার। অধ্যাপক জেনকিন্স, সত্যেন বসু, হরিদাস ভট্টাচার্য, রমেশচন্দ্র মজুমদারদের কথা এসেছে তাঁর স্মৃতিতে। পরিসংখ্যানের বড় পন্ডিত হওয়ার পেছনে সত্যেন বসুর প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে প্রথমদিকের ঢাবি কেমন ছিল এর একটি সার্বিক ছবির আশা করেছিলাম। কিন্তু কাজীর কলমে এসব আসেনি। কাজীর সাথে কাজী নজরুলের সাক্ষাৎ এবং বন্ধুত্বের পর্বটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ব্যক্তি নজরুল, সংগীতশিল্পী নজরুল, কবি নজরুল কিংবা প্রেমিক নজরুলকে খুব কাছ থেকে পেয়েছেন কাজী মোতাহার হোসেন। তাই 'আমার বন্ধু নজরুল' , 'নজরুলকে যেমন দেখেছি', 'স্মৃতিপটে নজরুল' এবং ফজিলাতুন্নেছাকে নিয়ে ঘিরে লেখা স্মৃতিকথা শুধু কাজী মোতাহারেরই স্মৃতি অম্লান নয়; বাঙালি সাহিত্যসচেতন পাঠকের জন্যও এক অমূল্য সম্পদ এই লেখাগুলো। ১৯২৮ সালের দিকে নজরুল ২য় বার ঢাকায় আসেন। এইবার কাজী মোতাহারের সাথে অন্তরঙ্গতা তৈরি হয় নজরুলের। কাজী তখন ঢাবির ছাত্র। ফজিলাতুন্নেছা মোতাহারের সাথেই পড়েন। তিনি মোতাহারের বন্ধুও। নজরুল হাত দেখতে পারতেন। একথা শুনে ফজিলাতুন্নেছা নজরুলকে অনুরোধ করেন তাঁর ভাগ্য গণনার জন্য। এদিকে যুবক নজরুল তো ফিদা। মোতাহারের ভাষ্যমতে, নজরুল রাতের আঁধারে ফজিলাতুন্নেছাকে প্রেম নিবেদন করতে যান। তাঁর বাসায়। কিন্তু চরমভাবে ব্যর্থ হন। এই ব্যর্থতা নজরুলকে যথেষ্ট পুড়িয়েছে, জ্বালিয়েছে। কেন কবিকে নির্দয়ভাবে প্রত্যাখান করেছিলেন ফজিলাতুন্নেছা? এর ব্যাখা কাজী মোতাহার অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণভাবে দিয়েছেন।






















