Buy যখন বঙ্গভবনে ছিলাম Online in Bangladesh
লেখক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মোঃ শামসুদ্দীন
- Author: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মোঃ শামসুদ্দীন
- Publisher: আগামী প্রকাশনী
- Isbn: 98440101133
- Number Of Pages: 104
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Printed, 1997
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"যখন বঙ্গভবনে ছিলাম" বইটির সম্পর্কে কিছু কথাঃ পৃথিবীতে যুগে যুগে মহাপুরুষের আবির্ভাব হয়েছে মানুষকে সঠিক পথে, সত্যের পথে পরিচালিত করার জন্য, খারাপ মানুষকে ভাল করার জন্য। আজ আমাদের সমাজে ভাল মানুষের বড় অভাব। সৎচরিত্রবান, মেধাবী, ধর্মপ্রাণ, দেশপ্রেমিক মানুষ সংখ্যায় খুব কম। এই সংখ্যালঘু ভাল লােকগুলি সমাজে নিগৃহীত হয়ে আছেন অসৎ, চরিত্রহীন, দুর্নীতিপরায়ণ প্রভাবশালী লােকদের দাপটে। এই সমাজ ব্যবস্থা পালটাতে হবে। এবং তা করতে হলে, ভাল মানুষটিকেই প্রতিবাদমুখর হতে হবে। অন্যায়, অধর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সােচ্চার হতে হবে। যখন বঙ্গভবনে ছিলাম আমার দুর্বল কণ্ঠে উচ্চারিত প্রতিবাদের একটি প্রচেষ্টামাত্র। সেনাবাহিনীতে পেশাগত কারণে সেনা-অফিসারদের জন্য দেশের জনগণের সঙ্গে খােলাখুলি মেলামেশার সুযােগ সব সময়ই খুব সীমিত। কিন্তু আমি যখন বঙ্গভবনে এম. এস. পি. পদে বদলী হয়ে আসি তখন মনে হলাে যেন আমার সামনে দেশের মানুষের সাথে যােগাযােগের সমস্ত দরজা-জানালা উন্মুক্তপ্রায়। দেশের অনেক নেতৃস্থানীয় মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। দেখা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষকেও দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পরিবেশে। দেশ ও দেশের মানুষ সম্বন্ধে আমার জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিনকে খুব ভালভাবে দেখবার ও জানবার সুযােগ হয়েছে আমার। 'যখন বঙ্গভবনে ছিলাম’ লেখা হয়েছে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলােকেই। এটা বলা প্রয়ােজন যে.হয়তাে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা বিষয় এ বইয়ে স্থান পায়নি। অথবা এমন সব কথা লেখা হয়েছে যা অনেকের কাছে কোন গুরুত্বই বহন করে না। তবে এটা সত্য যে উদ্দেশ্যপ্রণােদিতভাবে কোন বিষয় বা ঘটনাকে উপস্থাপন করা হয়নি। আমার স্মৃতিতে যা কিছু ভাস্বর হয়ে আছে এবং যা লেখার যােগ্য বলে আমি মনে করেছি তা লিখতে একটুও দ্বিধা করিনি। যদি কোথাও কোন ভুল হয়ে থাকে তা যথার্থই ভুল। ইচ্ছাকৃত নয়। | আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় যারা আমাকে সাহায্য করেছেন তাদের মধ্যে সর্ব প্রথমে দৈনিক ভােরের কাগজ-এর সম্পাদক মতিউর রহমান সাহেবের কথা বলতে হয়। তিনিই আমাকে আমার বঙ্গভবনে থাকা অবস্থার অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে লিখতে বলেছিলেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় এবং সাহায্যেই আমার পক্ষে যখন বঙ্গভবনে ছিলাম’ লেখা সম্ভব হয়েছে। আমি মতিউর রহমান সাহেবকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

জনগণের টাকায় কিভাবে বঙ্গবভনে রাজকীয় আরাম আয়েশ করা হয়। রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য নিজের স্বত্তা ত্যাগ করে ব্যক্তিকে তেল মারতে কি পরিমান টাকার অপচয় আর অপব্যায় করা হয় তার বিস্তারিত জানতে পারলাম এই বইটির মাধ্যমে। সেই সময় এ যদি এমন জবাবদিহিতার অভাব থাকে বর্তমান সময়ে কেমন অবস্থা তা কল্পনা করা কঠিন !! প্রত্যেক নাগরিক সরকারি ক্ষমতা কিভাবে অপব্যবহার করে তার নজির জানার জন্য বইটি পড়া আবশ্যক। দেশপ্রেম জলান্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র দেশের জনগনের উপার্জিত টাকা কত ভাবে কত রকম উপায়ে নষ্ট করছে। যা ভাবতে কষ্ট হয়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

সাল হিসাবে তখন চলছে ১৯৮২। বইটির লেখক বিগ্রেডিয়ার শামসুদ্দীন আহমেদ প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিচালক পদে কর্মরত। হঠাৎ বদলির আদেশ এলো। রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিনের সামরিক সচিব হিসেবে বঙ্গভবনে কাজ করতে হবে। সামরিক সচিবের কাজ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ও তাঁকে ঘিরে যেসময়টি তিনি কাটিয়েছেন তারই স্মৃতিচারণ নিয়ে ১০৩ পাতার এই বই। আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এরশাদ সংক্রান্ত মূল্যায়ন নিয়ে কী লিখেছেন লেখক তা জানা যাক - " বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরী তখন দেশের রাষ্ট্রপতি। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর সুচতুর জেনারেল এরশাদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা না করে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। উদ্দেশ্য চিরাচরিত ভন্ডামী - তিনি রাষ্ট্রপতি হতে চান না। " কে এই আহসানউদ্দিন চৌধুরী, কেমন ই বা স্বভাব তাঁর? " প্রথম দর্শনে মনে হলো, রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন কথা বলতে ভালোবাসেন। কিছু দিনের মধ্যে এটাও জানতে পারলাম যে তিনি আরো অনেক কিছু ভালবাসেন। তিনি প্রচুর খেতে ভালবাসেন। পাবলিসিটি ভালবাসেন জাঁকজমক আড়ম্বরতা এসব ভালবাসেন। " ওপরের লাইনগুলো পড়তে গিয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হলাম লেখকের সাথে আর যাই হোক রাষ্ট্রপতির সম্পর্ক ভালো ছিল না। পড়তে গিয়ে প্রমাণও পেলাম। তবে সম্পর্কের পারদের এমন নিম্নগামীতার কারণ জানতেও বইটি পড়বার আগ্রহ তৈরি হচ্ছিল। যাইহোক, আহসানউদ্দিনের বঙ্গভবন দখল মোটামুটি রূপকথার মতোই। তাঁর উত্থান বলে, " বিচারপতি আহসানউদ্দিন সরকারী চাকরী জীবন শুরু করেন মুনসেফ পদে ১৯৪২ সালে।তারপর ধীরে ধীরে অনেক সিঁড়ি পেরিয়ে ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আ্যাপালেট ডিভিশনের বিচারপতি হন। এবং অবশেষে সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে ৩০ নভেম্বর ১৯৭৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। " আহসানউদ্দিনের কর্মজীবন সাফল্যে ভরপুর বলেই মনে হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় তাঁর রাষ্ট্রপতি হবার কোনো সুযোগ হতো না।এরশাদের মতো তিনিও পীরভক্ত লোক ছিলেন,কিন্তু মিডিয়া তাঁকে খুবএকটা গুরুত্ব দিত না। তিনি ব্যক্তিজীবনে রাজনীতির সাথে কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। লেখক সেনাকর্মকর্তা শামসুদ্দীন আহমেদ বঙ্গভবনের ইতিহাসটি খুব সুন্দর করে লিখেছেন। আর্মেনিয় ব্যবসায়ী মিঃ মানুকের বাড়িই যে কালক্রমে নবাবদের বাগানবাড়ি, পূর্ববঙ্গ ও আসাম লাটসাহেবের বাসভবন, গভর্ণর হাউজ কিংবা সবশেষে রাষ্ট্রপতির বাসভবন হয়েছে তা ভালোই গল্পময়। বঙ্গভবনে যাওয়ার সৌভাগ্য কখনও হবে কীনা জানিনা। তবে লেখকের বর্ণনায় বঙ্গভবন পুরোটা নিয়ে স্বচ্ছ একটি ধারণা পেয়েছি। তা যথেষ্ট বোধগম্য।আর গরীবদেশের এই রাষ্ট্রপতিভবন যে চোখধাঁধানো চাকচিক্যে রাজাবাদশাদের শানশওকতের সাথে নির্দিধায় পাল্লা দিতে পারে তা কতটা গৌরবের আর কতখানি লজ্জার তা প্রশ্নকারীদের জন্য রইল। " ব্যয় নিয়ামক ভাতা " - এরমানে রাষ্ট্রপতি ও তাঁরর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের খানাপিনা ও আপ্যায়ন খরচ কখনো অডিট করা হয় না। অর্থাৎ এর কোনো হিসাব নিতে নেই। জনাব আহসানউদ্দিন এই ব্যয় নিয়ামত ভাতা সংশ্লিষ্ট খাতটির যথাযথ ব্যবহার করতে নূন্যতম কার্পণ্য বোধ কখনোই করেন নি। নিজে খেয়েছেন এবং অপরকে খাইয়ে খুশী রেখেছেন ( থেকেছেনও) । এরকম দু'দশটি ঘটনার বিশদ বিবরণ পাই তাঁর সামরিক সচিবের কল্যাণে। কারণ এই পদাধিকার বলে এই লোকের স্বাক্ষর ছাড়া টাকা ছাড় হবে না। এরশাদই সর্বেসর্বা। সে ই দেশ চালাচ্ছিল সেনাভবনে বসে। "রাষ্ট্রপতি " স্রেফ একটি আলঙ্কারিক পদ তখনও ছিল এখনও তাই। রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন যদিওবা ক্ষমতার বিচারে ঠুঁটোজগন্নাথ।কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান বটে। প্রটোকলসহ সুযোগসুবিধা আপাতদৃষ্টিতে তাই বলে। লেখকের বর্ণনা মতে, আহসানউদ্দিন সবসময় এরশাদকে খুশী রাখতে চাইতেন। তাই এরশাদ সস্ত্রীক হজে যাচ্ছে শুনে তিনি ভোজ আয়োজন করেন। ভাবা যায়, সামরিক আইন প্রশাসক হজে যাচ্ছেন। ভোজ না দিলে যদি অসম্মান হয়! এই অসম্মান যাতে এরশাদ না হন তাতে সদাব্যস্ত রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিনের কার্যকলাপে মনে হচ্ছিল তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদটিকেই কলুষিত করেছেন।কমপক্ষে ছয়মাস রাষ্ট্রপতি থাকলে আজীবন কিছু সুযোগসুবিধা মেলে। লেখকের ধারণা এই কারণেই আহসানউদ্দিন নিজের গদি ছয়মাসের আগে হারাতে চান নি। এখানে মনে রাখবার মতো বিষয় হচ্ছে, ছয়মাসের আগেই যে রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে অবৈধভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন এরশাদ, সেই এরশাদের কাছেই সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুযোগসুবিধা প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছিলেন বিচারপতি সাত্তার। অথচ তিনি আইনত তার দাবীদার নন। নিজে আইনজ্ঞ অথচ নিজেরই আইনবহির্ভুত সুবিধাপ্রাপ্তির খায়েশ! অবশ্য দয়ার শরীরের অধিকারী এরশাদ সাত্তারকে নিরাশ করেন নি। এরশাদের কার্যকলাপের কথাও প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে বহুবার। এক জায়গায় লেখক বলেন, " কিছুদিন আগে জেনারেল এরশাদ কোনোএক সভায় বলেছিলেন যে তাঁকে আলহা
ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দীন আহমেদের ১০২ পৃষ্ঠার বইটি এক বসায় পড়ে শেষ করলাম। বইটি পড়ার পর কী বলবো, লা জবাব(!) হতে হল। স্বাধীনতার পরে দেশের শাসন ক্ষমতায় যারা কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিভিন্নজনের লেখা বেশ কয়েকদিন ধরে পড়ার চেষ্টা করছি। যারা দেশকে ভালবেসেছিলেন এবং দেশের জন্য তোর আদর্শকে শক্ত ভিত দিয়েছিলেন তাদের লেখা পড়ে জানা যায়, স্বাধীনতার পরে দেশকে অনেকের ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ মনে করতেন। দেখা গেছে, যারা দেশকে ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তি’ মনে করতেন তাদের কারণে নানাভাবে ইতিহাসের নানা ভয়ানক বাঁক দেশকে অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে হয়তো ব্রিগেডিয়ার শামসুদ্দীন বা তাঁর মতো দেশপ্রেমিক ও সৎ কর্তব্যপরায়ণ ব্যক্তি শাসন ক্ষমতার নানা দায়িত্বে আছেন বলে সেই ভয়ানক বাঁক অতিক্রম করতে দেশকে বা জনগণকে বেগ পেতে হয়নি বা এখনো আমরা আশা নিয়ে বাঁচি। আসলে আমরা যা-ই করি না কেন লেখক তাঁর বইয়ের শেষ অধ্যায়ের শেষ বাক্যটিতে যা বলেছেন, তা-ই হল আসল সত্য। তিনি বলেছেন- আত্মমর্যাদাবোধ ছাড়া অন্য জাতি লেজুড় হয়ে কোন জাতি বড় হতে পারে না। বইটি আমাদের সবাইকে নিজের দেশটি নিয়ে আত্মমূল্যায়ন করতে উদ্বুদ্ধ করবে এই আশাপ্রকাশ করছি। বইটি কিনে পড়ার জন্য অনুরোধ থাকল। মিঠুন চাকমা























