

Buy শেষ বিকেলের মেয়ে Online in Bangladesh
লেখক: জহির রায়হান
- Author: জহির রায়হান
- Publisher: অনুপম প্রকাশনী
- Isbn: 9789844042698
- Number Of Pages: 80
- Language: বাংলা
- Edition: 9th Published, Feb 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘শেষ বিকেলের মেয়ে' বইয়ের কিছু কথাঃ আকাশের রঙ বুঝি বারবার বদলায়। কখনো নীল। কখনো হলুদ। কখনো আবার টকটকে লাল। মাঝে মাঝে যখন সাদাকালো মেঘগুলো ইতিউতি ছড়িয়ে থাকে আর সোনালি সূর্যের আভা ঈষৎ বাঁকা হয়ে সহস্র মেঘের গায়ে লুটিয়ে পড়ে, তখন মনে হয়, এর রঙ একটি নয়, অনেক। এখন আকাশে কোনো রঙ নেই। আছে বৃষ্টি। একটানা বর্ষণ। সেই সকাল থেকে শুরু হয়েছে তবু থামবার কোনো লক্ষণ নেই। রাস্তায় একহাঁটু পানি জমে গেছে। অতি সাবধানে হাঁটতে গিয়েও ডুবন্ত পাথরনুড়ির সঙ্গে বারকয়েক ধাক্কা খেয়েছে কাসেদ। আরেকটু হলে একটা সরু নর্দমায় পিছলে পড়তো সে। গায়ের কাপড়টা ভিজে চুপসে গেছে। মাথার চুলগুলো বেয়ে ফোঁটাফোঁটা পানি ঝরছে। শীতে কাঁপতে কাঁপতে যখন বাসায় এসে পৌছলো কাসেদ তখন জোরে বাতাস বইতে শুরু করেছে। বোধ হয় ঝড় উঠবে আজ। প্রচণ্ড ঝড়। ভেজানো দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতে কাসেদ দেখলো, ছোট্ট একখানা সিঁড়ির ওপরে বসে চুলোয় আঁচ দিচ্ছে নাহার, মা তসবিহ্ হাতে পাশে দাঁড়িয়ে কী নিয়ে যেন আলাপ করছেন ওর সঙ্গে। ভেতরে আসতে অনুযোগভরা কণ্ঠে মা বললেন, দ্যাখো, ভিজে কী অবস্থা হয়েছে দ্যাখো।কী দরকার ছিলো এই বৃষ্টিতে বেরুবার ? কাসেদ কোনো উত্তর দেবার আগেই মা আবার বললেন, ঠাণ্ডা লেগে তুমি একদিন মারা যাবে। এই বলে দিলাম দেখো, তুমি একদিন বৃষ্টিতে ভিজেই মারা যাবে। কেন মিছেমিছি চিন্তা করছো মা। ভেজাটা আমার গা-সওয়া হয়ে গেছে। দেখো কিচ্ছু হবে না। না হবে না। যেদিন অসুখ করবে সেদিন টের পাবে। সহসা কী মনে পড়তে খানিকক্ষণ চুপ থেকে মা শুধোলেন, ছাতাটা করেছো কি শুনি? তাইতো মা, ছাতাটা। কাসেদ ইতস্তত গলায় জবাব দিলো, ওটা সেদিন অফিস থেকে এক ভদ্রলোক নিয়ে গেছেন। তার কাছ থেকে আর আনা হয়নি। যা ভেবেছিলাম, নাহারের দিকে একনজর তাকিয়ে নিয়ে মা বিরক্তির সঙ্গে বললেন, তোর দিন যাবে কেমন করে আমায় বলতো? আজ এটা, কাল সেটা তুই শুধু মানুষকে বিলোতে থাকবি। রাজত্বি থাকতো নাহয় বুঝতাম। টানাটানির সংসার। নিজের ঘরে এসে ভেজা কাপড়গুলো দড়ির ওপর ঝুলিয়ে রাখলো কাসেদ। আলনা থেকে একটা গেঞ্জি টেনে নিয়ে পরলো। তারপর উনুনের পাশে এসে বসে বললো, বিলোচ্ছি কে বললো মা, ছাতাটা ভদ্রলোক কিছুক্ষণের জন্য চাইলেন তাই দিলাম। ওটা তো চিরকালের জন্যে দিইনি, কালই আবার.......
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বইটা পড়ে শেষ করলাম। এই বইটা পড়তে পড়তে আমি যেন ঠিক কাহিনীর গভীরে হারিয়ে যাই। বলতে গেলে জহির রায়হান খুবই ভালোই লিখেছেন। তিনি যেরকমভাবে সাধারণ দৃশ্যপট, কাহিনী চরণ কে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সাথে গল্পের নামের সাথে অনেক মিল ও পেয়েছি। তবে পুরো বই শেষ না করে আমি অনেক দ্বিধাদ্বন্দে ছিলাম। বইটা পুরোটা শেষ করার পর অবশ্য বুঝলাম। তবে মাঝেমধ্যে কাসেদের ওপর মাঝখান দিয়ে বিরক্ত হয়েছিলাম। বই টা পড়ব কিনা তা ও ভাবছিলাম। যাই হোক অবশেষে পড়লাম আর সন্তুষ্টও হয়েছি অনেক দিন পর ইকটু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হলো। প্রথমে ভেবেছিলাম নাহার হয়তবা নায়িকা থাকবে তার সাথে প্রণয়ের বন্ধন চিরায়ত থাকবে কাসেদের :D কিন্তু পরে জাহানারা এলো অবশ্য কিছু পৃষ্ঠা পড়ার পর আর তাকে মনে ধরছিলোনা। নাহার নাহার করছিলো মন টা। কিন্তু সেই কাসেদ তো পাত্তাই দিলোনা আড়ালে লুকিয়ে থাকা শেষ বিকেলের মেয়েকে। এরপর সালমার কথা আাসার ভেবেই নিয়েছিলাম সালমা চরিত্র বেশীক্ষণ রাজত্ব করতে পারবেনা। অগত্য সে ও বিদার তবে মাঝখানে সহসা তার আগমন ভাবানার রুপ দিলেও পরক্ষণে বুঝে উঠতে পারি। তবে শিউলি মেয়েটাকে ইকটু ভালো লেগেছিলো শুধু কাসেদের জন্য। ভেবেছিলাম কাসেদ বুঝবে কিন্তু কি আর করার। তারও বিদায় তবে আমার খারাপ লাগেনি। তবে রাগ লাগছিলো কাসেদ যে আবার সেই মকবুল সাহেবের মেয়েটিকে মনে জায়গা করে নেয়। কেন তার মনে না জাহানারা আছে? বার বার প্রশ্ন ঘুরপাক খায়। আম্মাজানের বিদায়বেলা আমার বাবার কথা মনে পড়ে যায় এভাবেই তিনিও পরলোক গমন করেছিলেন। তবে ভালো লেগেছিলো নাহারকে আমার স্বপ্নের নায়িকা হিসাবে শেষে তাকে শেষ বিকেলের মেয়ে পরিচিতির জন্য। নাহারই কাসেদের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু মনে হচ্ছিলো তাদের সংসার গল্প আরেকটু লিখতো জহির রায়হান সাহেব :D

হঠাৎ জীবন হোঁচট খায়, বাস্তবতা শিখে নেয়।পশ্চাতে অতিবাহিত জীবনের কিয়দাংশ ছিল মিথ্যে মোহ,কিয়দাংশ সত্য অথবা পুরো অংশই সত্য বা মিথ্যে-তে মোহিত ছিল,সেটাও বুঝতে পারে!তখন জীবন খোলসে ঢাকা শামুকের মতো তার চপলতা আচ্ছন্ন করে দেয় মৌনতার চাদরে। আকস্মিকভাবে জীবনে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটে! নেই উচ্ছ্বাস! নেই আওয়াজ! কিন্তু জীবন থাকে প্রবাহিত নদীর ন্যায় ধাবমান।নানান চরিত্র এখানে জোয়ার ভাঁটার মতো আসে আবার যায়।জীবনের শেষ লগ্ন অবধি সবাই থাকে না। কিন্তু যে থাকার সে থেকে যায়।ঠিক তেমনই কাসেদের জীবনে আসা কয়েকজন নারীর ভিতরে দিনের ক্রান্তিলগ্নে শেষ বিকেলে আসা শেষ মেয়েটির কথা বলা হয়েছে 'শেষ বিকেলের মেয়ে ' উপন্যাসে।তবে এখানে শেষ বিকেলের নাটকীয়তাই মূখ্য। শেষ বিকেলের মেয়েটি কে তা জানতে হলে আপনাকে শেষ অবধি পড়ে যেতে হবে। ভালো লাগার মতো কিছু কথাঃ লড়াই শুধু রাজার সঙ্গে রাজার,একজাতের সঙ্গে অন্য জাতের আর একদেশের সঙ্গে অন্য দেশেরই হয় না।একটি মনের সঙ্গে অন্য একটি মনেরও লড়াই হয়। লেখা: তৌফিকুর রহমান অমি
জহির রায়হান এর প্রথম উপন্যাস। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন অবিবাহিত পুরুষ যে চায় ভালোবেসে কারো সাথে ঘর বাঁধতে। কিন্তু কে সে? মেয়েদের মন বোঝা কি অতোই সহজ? সে ভালোবাসলেও তাকে কি কেউ ভালোবাসবে? জাহানারা নাকি শিউলি? দুজনের একজন কি তাকে ভালোবাসে? দুজনই কি বাসে নাকি কেউই বাসে না। শেষ বিকেলে হঠাৎ কে এলো তার সাথে ঘর বাঁধার জন্য? সেতো জাহানারা কিংবা শিউলি নয়- অন্য এক মেয়ে। শেষ বিকেলের মেয়ে।
গল্পের শুরুটা উপভোগ করতে করতে মাঝে এসে আর তেমন আকর্ষন পাচ্ছিলাম না শুরুর মত। আর গল্পের শেষে যা ঘটল তা আমি প্রথম থেকেই ভাবছিলাম, তবে সেটাকে আমার অদ্ভুত চিন্তা ভেবে পাত্তা দেইনি। কিন্তু গল্পের শেষে ঠিক ঠিক তাই-ই ঘটল দেখে অবাক হতে হয়েছে। গল্পের উপস্থাপনা ও প্রবাহ এতই চমৎকার ভাবে আমাকে ঐ ভাবনা থেকে দূরে রেখেছিল যে ভাবনাটা আর মাথায় আসেনি। তবু মাত্র ২ টা স্টার কেন দিলাম? আসলে, রেটিং এর বিষয়টা বেশ কঠিন। আর ঐ ২ টা স্টার দিয়েছিই লেখার সাবলীলতা আর আকর্ষণ ক্ষমতার জন্য। বাকি তিনটা ঘর খালি রেখেছি কারন- আমার আসলে ঠিক এমন ধরনের উদাস উদাস গল্প ভালো লাগে না। যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা বা নায়ক নায়িকা সহজে মুখ ফুটে কিছু বলে না এবং এতে নানা রকম নাটকীয় জটিলতা সৃষ্টি হয়; দুজনেই খুব উদাস; এরকম গল্প আমার সময় নষ্ট মনে হয়। তবে লেখকের লেখার ভঙ্গী আমার পছন্দ

রায়হানের ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’ যত না প্রেমের উপন্যাস, আসলে এটি তার চেয়ে বেশী করে প্রেমহীনতার উপন্যাস! কাহিনীর মুখ্য চরিত্র কাসেদ আহমেদ একজন ক্লার্ক, অবশ্য তার সাথে সে কবিও! তবে তার প্রথম পরিচয় যতট না উচ্চকিত, দ্বিতীয় পরিচয় ততটাই অবদমিত! কবি সে আপন মনে, নিজের ভাবনার ঘোরে। কাসেদ স্বপ্ন দেখে জাহানারা কে বিয়ে করার, ঘর পাতার! কিন্তু জাহানারার নাগাল সে পায় না। জাহানারার প্রেম তার জীবনের মরুভুমি তে আলেয়ার মত, তাকে ছুটিয়ে মারে, ধোঁকা খাওয়ায় অথচ কাসেদ তৃষ্ণার্তের মত সেই মরুদ্যানের আশা ছাড়তে পারে না। কাসেদের সহায় হতে পারত শিউলি যে কাসেদকে হয়তো চেয়েছিল। কিন্তু জাহানারার প্রতি কাসেদের অন্ধটান শিউলিকেও তার মৃদু সৌরভটুকু ছড়াতে দেয় না। শিউলি এগিয়ে এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়, নিজেকে সম্মানের সাথে সরিয়ে নিতে সে তার চোখের জলের সাথে হাসির হররা টুকু মিশিয়ে নেয়! শিউলির প্রেম চিনতে না পারার দায়টুকুও একান্তভাবে কাসেদের। এমন বিভ্রান্ত কাসেদের সহায় হয়ে দাড়ায় শেষ পর্যন্ত নাহার, যে কিনা শেষ বিকেলের পড়ন্ত আলোয় কাসেদ কে পথ দেখাতে ছুটে আসে! সুপাঠ্য এই উপন্যাসে পুরুষের ছেলেমানুষীর সাথে নারীর রহস্যময়তা মিশে গিয়েছে। পুরুষ শুধু তার আকাঙ্খিত নারীর প্রেমটুকুই চায় না, সে নারীর সোচ্চার উজ্জ্বল উপস্থিতির সাথে নারীর আলো-আবছায়া মাখা শ্যামলিমা টুকুও চায়। সে নারীর ভেতর ঘর দেখতে চায়, সে নারীর ভেতর বাহিরটুকুও দেখতে চায়। সে নারীর মধ্যে ঘরনী কে খোঁজে, সে প্রেমের অবসরে ঘরনীর মধ্যে জননীকেও খোঁজে! আসলে পুরুষের খোঁজ কোথাও শেষ হয় না, ছেলেমানুষের মতই সে বিভ্রান্ত। শেষ বিকেলের আলো-আধাঁরে তাকে পথ দেখানোর দায়িত্বটুকুও শেষ পর্যন্ত তাই কোনো নারীকেই নিতে হয়! জহির রায়হানের 'শেষ বিকেলের মেয়ে’ উপন্যাসের সাথে ‘বরফ গলা নদী’র কিছু সাদৃশ্য আছে। উভয় ক্ষেত্রেই নায়ক কাসেদ বা আহমদ কিছুটা বিপর্যস্ত, সে হৃদয়ের দিক থেকে হোক বা জীবনের আর পাচঁটি চাহিদার দিক থেকে হোক! তাছাড়া, লেখক লিলির মতই নাহার চরিত্রটি সম্মন্ধে বেশী কিছু বলেন না। একটি হঠাৎ অঘটনের পর তাদের কে চমকের মত হাজির করেন মসীহা রূপে। উভয় ক্ষেত্রের এই সাদৃশ্যগুলি বোধহয় লেখক জহির রায়হানের কুশলী কলমের পাশাপাশি পরিচালক জহির রায়হানের মেলোড্রামাটিক অবদান!
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
শেষ বিকেলের মেয়ে বই টার পেইজ কয়টি ?
৮০ পেইজ
বইটি এখন পাওয়া যাবে?
অর্ডার করতে পারেন প্রকাশনী থেকে সংগ্রহ করে দেয়া হবে।
Boi ta ki available??
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি এভেইলেবল। অর্ডার করলে সংগ্রহ করে দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।
ai boi ta order kora jacchy nh kno
প্রিয় গ্রাহক, দুঃখিত, বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন। ধন্যবাদ।























