সিক্রেট অভ দ্য লেক
বই কালেকশন

Buy সিক্রেট অভ দ্য লেক Online in Bangladesh

লেখক: কেইগো হিগাশিনো

4.38
(5 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: কেইগো হিগাশিনো
  • Publisher: বেনজিন প্রকাশন
  • Isbn: 9789849848233
  • Number Of Pages: 200
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2024
৳ 280৳ 40030% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

একটি স্বনামধন্য প্রাইভেট হাইস্কুলে সন্তানদের ভর্তি পরীক্ষার কথা চিন্তা করে চার জোড়া দম্পতি সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদেরই মধ্যে একজনের কটেজে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটাবে। সেখানে একজন প্রাইভেট শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে তাদের সন্তানদের পাঠদান করবেন। শান্ত হিমেগামি লেকের তীরে অবস্থিত জায়গাটা বেশ মনোরম এবং সুন্দর। তবুও বাচ্চাদের পড়াশোনা আর বড়োদের পদচারণায় জায়গাটায় অদ্ভুত এক পরিবেশ বিরাজ করে— তন্মধ্যে সকলের উদ্বেগ আর ব্যর্থতার ভয় স্পষ্ট। শুধুমাত্র এ দলের সাথে সর্বশেষ যুক্ত হওয়া সুনসুকে নামিকিকে সেই পরিবেশ তেমন প্রভাবিত করতে পারেনি। সে তার দত্তক সন্তানের ইচ্ছের ওপর কোনো ধরণের চাপ প্রয়োগ করতে রাজি নয়। অন্যদিকে তার সেক্রেটারির সাথে থাকা সম্পর্কের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের কথাও ভাবছে সে। ঠিক তখনই হঠাৎ একদিন তার প্রেমিকা খুন হয় আর তার স্ত্রী এ হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। কিন্তু নামিকির মন তাতে সায় দেয় না কিছু কারণে। আসল ঘটনা জানার জন্য তদন্তে নামে সে। কেন ছয়জন ব্যক্তি তথ্য গোপন করে হত্যাকাণ্ডের মতো বিষয়ে জড়ানোর ঝুঁকি নেবে? শুধুই কি বন্ধুত্বের খাতিরে? তদন্তের এক পর্যায়ে অন্ধকার থেকে আলোতে বের হয়ে আসতে থাকে নির্মম সত্য। এমনি সব তথ্য যা নামিকিকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তবু সেই সত্যের আড়ালে যে মিথ্যা লুকোনো আছে, নামিকি কি তা বের করতে পারবে? সবকিছু এড়িয়ে খুনি আসলে কে, তা কি ধরতে পারবে? জানতে হলে পড়ুন কেইগো হিগাশিনোর 'সিক্রেট অভ দ্য লেক'।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.38
(5 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
40%
4
60%
3
0%
2
0%
1
0%
880****420
880****420 ভেরিফাইড
17 Mar 2026

Best

Kazi Ahmed Yasin
Kazi Ahmed Yasin ভেরিফাইড
12 Aug 2025

#টিপিএ_বেনজিন #টিপিএ_বি_এম_পারভেজ_রানা_বইরিভিউ ক্যাটাগরি: বই রিভিউ আমার ছোট ভাইয়ের সামনে যখন আমি প্রথম ‘কেইগো হিগাশিনো’ নামটা উচ্চারণ করি, তখন ও বলেছিল – “অ্যাঁ! কে গো হেগে ছিলো?” (ও ক্লাস সিক্সে পড়ে!) ______________ বাংলাদেশে বহুদিন ধরেই কেইগো হিগাশিনোর রমরমা চললেও, তার পাঠক হতে আমার বেশ খানিকটা সময় লেগে গিয়েছে। অবশ্য তার একটা কারণও ছিল। টুকটাক উইকিপিডিয়া আর কিছু বইপত্র ঘাঁটার কারণে জাপানিজ সাহিত্য এবং কালচার সম্পর্কে আমার খুব একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়নি। আবার বাংলাদেশে যে হারে মাঙ্গা এবং অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, আমার মনে হয়েছিল জাপানিজ বইও সেই তালে তালে হাইপে উঠে গেছে। রাগ করবার কিছু নেই পাঠক, আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। আর পাঁচ-দশ জনের মত আমিও যেকোনো বিষয়ে ভুল ধারণা করতেই পারি। সব বিষয়ে সঠিক ধারণা করতেই হবে—তার কোনো মানে নেই। সত্যি কথা বলতে, গ্রুপে যদি প্রতিযোগিতার পোস্টটা না দেখতাম তাহলে হয়তো কেইগো হিগাশিনোর বই কেনাই হতো না। এটাই আমার প্রথম জাপানিজ বই এবং প্রথম কেইগো হিগাশিনো। জানি না আমার কথাটা কেমন শোনাবে, কিন্তু সত্যি কথা বলতে বইটা পড়ে আমি ভয় পেয়েছি। কারণ, বইয়ের কাহিনী হুবহু না হলেও আমাদের বাংলাদেশের শহরের কালচারের সঙ্গে প্রায় মিলে যায়। আমি এখানে বইয়ের প্লটের ব্যাপারে কিছু বলছি না—আপনারা যে কেউ চাইলেই রকমারি থেকে ফ্ল্যাপ পড়ে নিতে পারবেন। আমি এখানে খুন-পরবর্তী ইনসিডেন্টের ব্যাপারে না, আমি বলছি যে কারণে খু/ নটা হয়েছে, বা বলা যেতে পারে, বইটার মূল রহস্য যে বিষয়টা—সেটা বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে যায়। এটা নিয়ে বাংলাদেশের কেউ কোনো উপন্যাস লিখতে চাইলে লিখতে পারতো। এটা সত্যি কথা যে সন্তানের জন্য বাবা-মায়েরা যে কোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত, এমনকি কোনো খুনও সম্পূর্ণ গোপন করতে প্রস্তুত। এখানে বইটা পড়তে পড়তে আমার কেন জানি না মনে হয়েছে, আমি বারোটা সাইকোপ্যাথের গল্প পড়ছি—চারটা বাচ্চা সাইকোপ্যাথ, আর আটজন বড় বাবা-মা সাইকোপ্যাথ। কেইগো হিগাশিনোর বোধ হয় এটাই সিগনেচার পয়েন্ট—যে তিনি আগে খু/ ন করান, তারপর খু/ ন-পরবর্তী কাহিনীটাকে রহস্যে রূপান্তর করেন। যদিও তার The Devotion of Suspect X আমার পড়া হয়নি, তবে রিভিউ পড়ে যা মনে হল, সেটাতেও প্রায় একই রকম কাহিনী ছিল। সবচাইতে মজার বিষয় হলো, বইটারও শুরু থেকেই একটা খটকা দিয়ে দেওয়া ছিল যাতে পাঠকরা বুঝতে পারে কিছু একটা গণ্ডগোল চলছে, যেটা নামিকি ধরতে পারছে না। আপনাদেরকে চুপি চুপি একটা কথা বলে রাখি—নামিকির মনে যখন প্রশ্ন উদয় হয়, সত্যিই মিনাকো খু/ নটা করেছে কিনা—আমার মাথায় সত্যি সত্যিই আসল খু/নির নামই এসেছিল (স্পয়লার হয়ে যাবে ভেবে নামটা বললাম না)। পরে দেখলাম, সত্যি সত্যি আমার ভাবনা মিলে গেছে। (তাহলে হয়তো আমার মধ্যেও লেখক হওয়ার সুপ্ত বীজ চারা গাছে পরিণত হচ্ছে! হেঃ হেঃ হেঃ) বইটা পড়তে আমার আসলে মজাই লেগেছে এবং যখন এরিকোকে মা|রবার সত্যিকারের মোটিভ সামনে আসে, তখন আমি তেমন একটা আশ্চর্য হইনি। বরং আসল কারণটা জানতে পেরে মনে একটা স্বস্তি লাগছিল, শুরু থেকেই বইটার সঙ্গে আমার ইনভেস্টিগেশনও মিলে যাওয়ার কারণে একটা আলাদা মজা পাচ্ছিলাম—মানে, উপরে যে জায়গাটার কথা বললাম সেই জায়গা থেকে। পাঠক হয়তো অবাক হচ্ছেন যে আমি কেইগো হিগাশিনোর লেখনীর ব্যাপারে কিছু বলছি না কেন। এবারে বলছি। সত্যিকার অর্থে, জাপানি ভাষায় হিগাশিনো কেমন লেখেন সেটা জানবার কোনো উপায় আমার কাছে নেই। তাই আমাকে শরণাপন্ন হতে হবে অনুবাদেরই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমার প্রথম পর্বটা কেটে গিয়েছে এটা বুঝতে যে কে ছেলে, কে মেয়ে, আর কখন কার কথা বলা হচ্ছে। আমি অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই, যার মাথায় প্রথম আইডিয়া এসেছিল নামগুলোকে আলাদা করে বইয়ের শুরুতে লিখে রাখার—তা না হলে আমি বইটা নির্ঘাত জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে মারতাম। যদি আমি হিগাশিনোর কাহিনী-পরম্পরার ব্যাপারে বলি, তাহলে বলব—একটা অন্যরকম থ্রিলার পড়লাম। গতানুগতিক স্টাইলে একটা খুন হলো আর একজন গোয়েন্দা বা সাধারণ মানুষ ইনভেস্টিগেশন করে খুনিকে বের করল—এই বইটা সেই কাতারে পড়ে না। আমি আগেই বলেছি, আমার মনে হয়েছে আমি বারোটা সাইকোপ্যাথের গল্প পড়ছি—এই চার দম্পতির ৮ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এটা আমার কাছে বইটার মান অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের কাছে হয়তো এই ধরনের বই ভালো লাগে না, কিন্তু আমার কাছে এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প যথেষ্ট সুন্দর লাগে। হয়তো আমি নিজেও এরকম পাগলাটে ধরনের, সেই জন্য। এখানে আমি নামিকির একটা কথা কোট করতে চাই— "কিরকম মানুষ তুমি! পাগল হয়ে গেছ তুমি, আর এমন ভাবে হয়েছে যে ওটা ব্যাখ্যা করতে পারছি না আমি!" এই একটা লাইনই যথেষ্ট এই বইটার ব্যাপারে বলতে—সন্তানের জন্য পিতা-মাতারা কতটা নিচে নামতে পারেন, এবং নিচে নামার সেই পথে যখন ভালো এবং মন্দের বোধ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে একাকার হয়ে যায়, তখন হয়তো সেটাকে পাগলামি বলে (তাই বলে আমি কিন্তু এটাকে সাপোর্ট করছি না)। প্রতিযোগিতাটা যেহেতু বেনজিন প্রকাশনী এবং বি. এম. পারভেজ রানা ভাইকে নিয়ে, সুতরাং অনুবাদের কথা না বললে কমতি থেকে যাবে। মজার ব্যাপার হলো, যখন আমি প্রথম পর্ব শেষ করে দ্বিতীয় পর্বতে চরিত্রের নামগুলো নিয়ে হালকা একটু স্টেবল পজিশনে এসেছি, তখন আমার কাছে অনুবাদটাও যথেষ্ট সহজবোধ্য লাগতে শুরু করেছে। কিন্তু বইটা শুরুর দিকের অনুবাদ আমার কাছে অতটাও ভালো লাগেনি। এখন এর দুটো কারণ হতে পারে— হয়তো শুরুর দিকে আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। হয়তো দ্বিতীয় পর্বের পরে পারভেজ ভাইয়ের অনুবাদে সাবলীলতা এসেছিল। তবে কারণ যেটাই হোক, অনুবাদটা বেশ স্যাটিসফাইং—মানে সব জায়গায় না, তবে দশের মধ্যে সাত খুব সহজেই দেওয়া যায়। বেনজিন প্রকাশনীকে বলবার মতো আমার কিছুই নেই—বইটার প্রোডাকশন আসলেই সাংঘাতিক। ওয়েল, কেইগো হিগাশিনোর এই বইটা পড়বার পর আমার এখন মাথায় ঢুকে গেছে তার বাকি বইগুলো আমার লাগবে। সকাল থেকে এই পর্যন্ত এখনো চিন্তাই করে যাচ্ছি—কি করে বাকি বইগুলো বগলদাবা করা যায়! এখন আপনারাই বলুন তো পাঠক—এই চিন্তা মাথা থেকে ছাড়াই কি করে?

Falguni Ahmed
Falguni Ahmed ভেরিফাইড
09 Aug 2025

ফাল্গুনী আহমেদের রিভিউ #টিপিএ_বেনজিন #টিপিএ_বি_এম_পারভেজ_রানা_বইরিভিউ "Mysteries are part of the human psyche. When people see a mystery, they rush to solve it." এমন কিছু উপন্যাস থাকে যেগুলো পৃষ্ঠার সংখ্যা বিবেচনায় ছোটো হলেও মনে আঁচড় থেকে যায় দীর্ঘদিন। সিক্রেট অব দ্য লেক ঠিক তেমনই একটা বই। মাত্র দুই'শ পৃষ্ঠার স্ট্যান্ড অ্যালোন থ্রিলার বই, যার কাহিনিটা মনে গেঁথে গিয়েছে। কেইগো হিগাশিনো এখানে তার পরিচিত টুইস্ট-শৈলী পুরোটা খুলে দেখাননি; বরং সাধারণ মানুষের ভেতরের অনিশ্চয়তা, অভিপ্রায় আর স্বার্থের সংঘাতকে এগিয়ে এনেছেন, একটা লেক আর চার পরিবারকে কেন্দ্র করে। পাঠক হিসেবে তার বইতে আমার প্রত্যাশা থাকে একটু বেশিই। টানটান রহস্য এবং নিয়মতান্ত্রিক তদন্তের পাশাপাশি অস্বাভাবিক টুইস্ট না থাকলে সেটাকে হিগাশিনোর লেখা হিসেবে মানায় না। তবে হিগাশিনো আমাকে মনে করিয়েছেন যে থ্রিলার মানে শুধু শেষের বড় টুইস্টই নয়; চরিত্রদের মনস্তাত্ত্বিক ভাঙনও একইভাবে পাঠকে বিব্রত করতে পারে, সাসপেন্স রেখে যেতে পারে। গল্পের গতি ধীর হলেও শীতল পরিবেশ, লেক আর রহস্যের মাঝে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেখেছি। 🪢উপন্যাসের কাহিনী সংক্ষেপ গল্প শুরু হয় জাপানের এক শান্ত, প্রকৃতির কোলে থাকা ছোট্ট লেকসাইড শহরে। লেকটির চারপাশে রয়েছে কয়েকটি ছিমছাম বাসা, আর তার মধ্যেই পাশাপাশি থাকে চারটি পরিবার। বাইরে থেকে দেখলে সবাই শান্তিপ্রিয়, মধ্যবিত্ত, সাধারণ জীবনযাপন করছে। কিন্তু গল্প যত এগোয়, বোঝা যায় এই শান্তির ভেতরে জমে আছে অসংখ্য অদৃশ্য উত্তেজনা, হিংসা আর ভয়। প্রধান চরিত্র নাওমি, শহরের নতুন বাসিন্দা। সে স্বামী ইউসাকুকে নিয়ে এখানে এসেছে নতুন শুরুর আশায়। ইউসাকু একজন শিক্ষাবিদ, যিনি স্থানীয় বাচ্চাদের পড়ান। তাদের ছেলে রেই, চৌকস ও মেধাবী, কিন্তু পড়াশোনায় অতিরিক্ত চাপ আর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। রেই-কে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে অন্য পরিবারগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। চারটি পরিবার একে অপরের সঙ্গে মেলামেশা করলেও ভেতরে ভেতরে চলছে নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কার ছেলে-মেয়ে পড়াশোনায় এগিয়ে যাবে, কার জীবন বেশি সফল হবে। এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে মিশে আছে ব্যক্তিগত গোপনতা। এক পরিবারের বাবা ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে ভেতরে ভেতরে চাপে আছেন; অন্য পরিবারের মা গোপনে প্রেম করছেন পুরনো এক বন্ধুর সঙ্গে; আরেক দম্পতির বিয়ে ভাঙনের মুখে, কিন্তু তারা বাইরে থেকে হাসিমুখে থাকেন। সবচেয়ে বড় মোড় আসে এক রাতে, যখন লেকের ধারে একজনের অদ্ভুত মৃত্যু ঘটে। প্রথমে মনে হয় এটা দুর্ঘটনা, কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু অসঙ্গতি বেরিয়ে আসে,কে কখন কোথায় ছিল, কে কাকে শেষবার দেখেছে, আর কে ইচ্ছে করেই কিছু লুকোচ্ছে। শান্ত, নিরিবিলি তবুও অদ্ভুত এক চাপা অস্বস্তি ঘিরে রেখেছে হিমেগামি লেকের তীর। এমন এক জায়গা, যেখানে চাইলে সহজেই একটি খুন গোপন করা সম্ভব। কিন্তু প্রশ্ন হলো, খুনি কে? কেন সে এমন করেছে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাকে কি পুলিশ তাড়া করবে, নাকি সে নিজেই প্রকাশ্যে এসে সব স্বীকার করবে? পরিচিত খুনের গল্পে যেমন একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটে, পুলিশের ঢাকঢোল পেটানো অনুসন্ধান শুরু হয়। পরিবেশ জটিল আবহাওয়াতে মোড় নেয়। এখানে খুনি নিজেই বলে দেয়,সে খুন করেছে। কিন্তু কেন? ভয়ে? অপরাধবোধে? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর এক অন্ধকার কারণ? হিমেগামি লেকের মনোরম পরিবেশের আড়ালে বাসা বেঁধে আছে তীব্র উদ্বেগ আর ব্যর্থতার ভয়। চার দম্পতি ও তাদের সন্তানদের গ্রীষ্মকালীন পড়াশোনার আড়ালে জমে উঠছে চাপা উত্তেজনা। কেবল নতুন আগন্তুক সুনসুকে নামিকি এই পরিবেশে বিচলিত নয় সে দত্তক সন্তানের ইচ্ছের ওপর কোনো চাপ দিতে রাজি নয়। তবে ব্যক্তিগত জীবনে সে ঝড়ের মধ্যে সেক্রেটারির সঙ্গে সম্পর্ক, বিবাহ বিচ্ছেদের চিন্তা সব মিলিয়ে জীবন অস্থির। ঠিক তখনই এমন ভয়ানক ঘটনায় বিচলিত সবাই। প্রশ্ন জাগে কেন ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সত্য গোপন করে এমন বিপজ্জনক খেলায় নামবে? শুধু বন্ধুত্বের জন্য? নাকি এর পেছনে আছে আরও শিহরণ জাগানো কোনো রহস্য? তদন্তে যত এগোয়, নামিকির সামনে উন্মোচিত হতে থাকে একের পর এক নির্মম সত্য। কিন্তু সেই সত্যের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে আরেকটি মিথ্যা, যা সবকিছুকে উল্টে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত কি নামিকি পারবে আসল খুনিকে ধরতে? নাকি হিমেগামি লেক চিরতরে গোপন রাখবে তার ভয়ানক রহস্য? উত্তর লুকিয়ে আছে কেইগো হিগাশিনোর শিহরণ জাগানো উপন্যাস সিক্রেট অব দ্য লেকে। 🪢আমার নিজস্ব পাঠ প্রতিক্রিয়া ভালো লাগা দিকগুলো 🪢কেইগো হিগাশিনো এখানে খুব সূক্ষ্মভাবে দেখিয়েছেন, মানুষ কীভাবে বাহ্যিক শান্তির আড়ালে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা, লোভ আর নিরাপত্তাহীনতা লুকিয়ে রাখে। চারটি পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক বন্ধুত্ব, হিংসা, অবিশ্বাস, অপরাধবোধ, সব একসঙ্গে মিশে গেছে। প্রতিটি চরিত্রের কথোপকথন, ছোট ছোট আচরণ যেমন হঠাৎ চোখ ফেরানো বা দ্বিধাগ্রস্ত উত্তর পাঠকের মনে সন্দেহ জাগায়। একটা সাসপেন্সের জগৎ ফিল করতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া। 🪢লেককে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক ধীর, কিন্তু অস্বস্তিকর পরিবেশ। দিনের আলোয় লেক শান্ত, সুন্দর; কিন্তু রাতে সেটি হয়ে ওঠে এক ধরনের চাপা ভয় আর গোপনতার মাপকাঠি । এই পরিবেশ-চিত্রণ শুধু দৃশ্যপট নয় এটি গল্পের প্রতিটি ঘটনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। 🪢বইটি প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার অন্ধকার দিক তুলে ধরেছে, যেখানে বাবা-মায়েরা সন্তানের মঙ্গল নয়, বরং নিজের সামাজিক সম্মানকে অগ্রাধিকার দেয়। এখানে অভিভাবকরা একে অপরকে বন্ধু বলে দাবি করলেও, সন্তানের রেজাল্ট বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরবে লড়াই চালিয়ে যান। এই দিকটি আমাদের বাংলাদেশের ব্রেনহীন সমাজের সঙ্গেও সহজেই মেলে যায়। এছাড়া, গল্পে কে নায়ক, আর কে খলনায়ক দ্বিধায় ফেলেছে।ক্যারেক্টারগুলোতে গ্রে শেড আছে। কারও ভুল আছে, কারও স্বার্থ আছে, আবার কেউ পরিস্থিতির শিকার। এই ধূসরতা গল্পকে জীবন্ত করেছে, কারণ বাস্তব জীবনে মানুষও আসলে এমনই। 🪢খারাপ লাগা দিকগুলো 🪢প্রথমে অনেক পৃষ্ঠাতে গল্প মূলত চরিত্র পরিচয় ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘিরেই থাকে। তীব্র রহস্য-ঘটনা কম হওয়ায় দ্রুত উত্তেজনা চাওয়া পাঠকের ধৈর্যচ্যুতি হতে পারে। স্লো বার্ন যাদের পছন্দ না তাদের কেমন লাগবে আমি জানি না। 🪢সবচেয়ে বড় বিষয়টা হলো, হিগাশিনোর অনেক বইয়ে যেমন তীক্ষ্ণ যুক্তি, গোয়েন্দা বা পুলিশি তদন্ত দেখা যায় এখানে তেমনটা নেই। খুন বা মৃত্যুর ঘটনা থাকলেও সেটি প্রায় পুরোটা সময় “পড়শি-পড়শির প্রশ্নোত্তর” এবং সন্দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে যেন। উপন্যাসের শেষের সমাধানটা যৌক্তিক হলেও সেটা আমাকে ততোটা বিচলিত করতে পারেনি। হিগাশিনোর বই আগেও পড়েছি তাই তার অন্য লেখার সাথে এই বই ম্যাচ করতে পারেনি। নতুনদের কাছে ভালো লাগতেও পারে। 🪢বইটি কেনো পাঠক পড়বে? সিক্রেট অব দ্য লেক পড়ার প্রধান কারণ যেটা হতে পারে তা হলো এর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা। গল্পটি দেখায়, বাহ্যিক শান্তির আড়ালে মানুষ কত জটিল মানসিক দ্বন্দ্ব বয়ে বেড়ায়। চারটি পরিবারের সম্পর্ক, প্রতিযোগিতা ও সন্দেহ সব মিলে এটি হয়ে উঠেছে বাস্তবসম্মত ও প্রাসঙ্গিক একটি গল্প। লেকের পরিবেশ গল্পকে দিয়েছে নীরব অথচ তীব্র আবহ, যা পাঠককে ধীরে ধীরে টেনে নেয় ভেতরে। এখানে চরিত্রদের মাঝে গ্রে শেডটা দ্বিধাতে ফেলে দেয়। With characters in shades of grey, it becomes difficult to tell who is good and who is bad. This was increasing the complexity in my mind. শিক্ষা প্রতিযোগিতা, সামাজিক মর্যাদার লড়াই, আর নৈতিক দ্বিধা এগুলো একে করেছে চিন্তার খোরাক জোগানো বই। যারা ধীর-গতি কিন্তু আবেগ ও রহস্য কাহিনি পছন্দ করেন, তাদের জন্য বইটি উপভোগ্য হতে পারে। 🪢প্রোডাকশন,অনুবাদ ও অন্যান্য সিক্রেট অব দ্য লেক বইটির ছাপার কোয়ালিটি ভালো লেগেছে। বইয়ের ছাপার হরফ ভালো হওয়াতে পড়তে কষ্ট হয়নি। বানান তেমন ভুল পাইনি আমি। সম্পাদনাও ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটিও খারাপ না তবে আরও ভালো হতে পারত। বইটির বাঁধাই অনেক ভালো ছিল। বইটি আয়েশ করে খুলে পড়া গেছে, তেমন কোন জটিলতায় পড়িনি। অনুবাদ নিয়ে বলতে গেলে, বলবো অনুবাদ অতিরিক্ত ভালোও না, আবার খুব খারাপও হয়নি। তবে যা হয়েছে আরাম করে পড়া গিয়েছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবমিলিয়ে বইটার প্রোডাকশন ভালো হয়েছে। 🪢শেষ বক্তব্য সিক্রেট অব দ্য লেক এমন একটি গল্প, যা পাঠককে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যায় মানুষের অন্তরের অন্ধকার কোণে। এখানে রহস্য আছে, তবে সেটি তেমন বড় কোন চমক দেওয়ার মতো নয়। সম্পর্ক, লোভ, ভয় আর নৈতিক দ্বিধার জাল উন্মোচন দেখার আশায় বইটি পড়তে হবে আপনাকে। কেইগো হিগাশিনো হয়তো চেয়েছেন থ্রিলার মানেই শুধু দ্রুত গতি আর টুইস্ট নয়; গভীর চরিত্রায়ণ ও পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। "If hope, like the light of all the sun, wanders through the maze and returns to the first place, what did Sri Gyan want?"

Tara
Tara ভেরিফাইড
21 Jul 2025

এক. প্রতিটি থ্রিলার যেন একই সুতোয় গাঁথা। প্রতিটির গল্প যেন সেই ঘুরেফিরে একই জায়গায়। একটি খু'ন, একজন ডিটেকটিভ কিংবা অনুসন্ধানী, আর শেষ পর্যন্ত হাজতে পুড়ে দেয়ার মাধ্যমে ইতি। কিন্তু সব গল্পই কি ❝পার্ফেক্ট এন্ডিং❞ কথাটার যথার্থ প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়? কিছু গল্প থাকে যা ❝ওপেন এন্ডিং❞ দিয়ে শেষ হয়। রেখে যায় একগাদা প্রশ্নের ঝুড়ি। তবে এই কথা খাটে একজন সমকালীন লেখকের বেলায়। তার নাম সকলের জানা। অসমাপ্ত এন্ডিং দিতে যার জুড়ি নেই। কিন্তু এখন কথা হচ্ছে তাকে টেনে এনে কেইগোর সাথে মিলাতে চাচ্ছি কেন? কেইগো সুপরিচিত তার বিখ্যাত কাগা সিরিজের জন্য। এটা ছাড়াও তার ছোটখাটো অনেক অখ্যাত স্ট্যান্ড এলোন বই আছে। যার সাথে হয়ত পাঠক বহু আগে থেকেই পরিচিত। গল্পের মোড় কিভাবে ১৮০° তে ঘুরাতে হয় তা কেইগো থেকে ভালো বোধহয় কেউ জানেননা। অতি সাধারণ প্লটকে অসাধারণ তকমা দিতে যার জুড়ি নেই তার ওভাররেটেড কাজকে ব্যতিরেকে আন্ডাররেটেড কাজ পড়ার ইচ্ছে ছিল বহুকাল। সেই সুবাদে হাতে নিয়েছিলাম বেনজিন থেকে রানা ভাইয়ের অনুবাদে আসা ❝সিক্রেট অভ দ্য লেক❞। দুই. বাবা-মা যা করেন তা সন্তানের মঙ্গলের জন্যই করেন। এই সত্য-বচন শুনতে শুনতে জীবনে কখনো কখনো ভুলকে ভুল বলার মানসিকতাই বদলে যায়। সকলের পার্ফেপশন হয়ত এক নয়। ❝সিক্রেট অভ দ্য লেক❞ সেই ধারণারই প্রতিফলন। চার দম্পতির এক ছাউনির নিচে অবস্থান শুধুই নিজের সন্তানদের বেষ্ট জায়গায় ভর্তি করানোর লক্ষ্যে। খুব সাদামাটা ঘটনা। প্রথমে মনে হতে পারে সমকালীন কোনো জনরা। কিন্তু থ্রিল উপস্থিত ছিল। উপস্থিত ছিল খু'নের বেশে। এক মধ্যবয়সী নারী খু'ন হয়ে যায় হিমেগামি লেকের পাশেই। শান্ত- নিরিবিলি এক জায়গায় একটি খু'ন যা চাইলেই লুকিয়ে ফেলা সম্ভব। কিন্তু কথা হচ্ছে খু'নি কে? তার উদ্দেশ্য কী? তারচেয়ে বড় কথা খু'নিকে কি হন্য করে খোঁজা হবে নাকি সে নিজেই ধরা দিবে? এতোসব প্রশ্নের মধ্যে লেখক মারপ্যাঁচ করেননি। সচরাচর চার-পাঁচটা খু'নের পর ঢাকঢোল পিটিয়ে পুলিশ ঢেকে খু'নিকে খোঁজার কষ্ট করা হয় তা এখানে করতে হয়নি। খু'নি নিজেই বলে দেয়, সেই খু'ন করেছে। খু'নটা কেন করেছে? এখানে খু'নির মনস্তাত্ত্বিক দিকটা খুব পরিষ্কার না। আমার মনে হয়েছে হয়ত ভয় থেকে কিংবা অপরাধবোধ থেকে। অনেকটা ❝সাইলেন্ট পেশেন্ট❞এর সেই এরিকার মতো। যেখানে প্রমাণ সামনে, সবকিছু জানা তারপরেও খচখচে ভাব। খচখচানি ভাবখানা ছিল সুনসুকির মধ্যে। সুনসুকির চোখেই যেন ফুটে উঠে পুরো গল্পটা। পাঠক প্রবেশ করে সুনসুনির দেহে। একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে ভর করে ডিটেকটিভ। আমরা আশা করি হয়ত যথাযথ কারণ আমাদের মন কাঁদাবে কিংবা একটা ❝পার্ফেক্ট এন্ডিং❞ দিবে। তিন. তবে দিনশেষে আমাদের আশায় পানি ঢালতে লেখক লিনিয়ার স্টোরি টেলিং এর দিকে মনোনিবেশ করেন। সেই সাথে মনে হতে থাকে থ্রিলার কথাটার আগে সাইকোলজিক্যাল কথা বসলে হয়ত জনরাটা পরিপূর্ণতা পায়। কারণ গল্পে এখন আর খু'নির মোটিভ গুরুতর নেই। বরং আমার মাথায় খেলতে শুরু করে খু'নকে লুকাতে বাকি তিন দম্পতির এতো দরদ কেন? শুধুই কি বন্ধুত্বের খাতিরে? নাকি আছে ভিন্ন কোনো স্বার্থ? স্বার্থ তো আছেই। স্বার্থ ছাড়া মানুষ এক কদম ও আগাবে কেন? তারপর যেখানে এতো সেনসিটিভ বিষয় সেটাকে সকলে মিলে চাপা দিতে ব্যস্ত। কেন? শুধুই কি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে? সেটা আমি বলব না। তবে জাপানিজ শিক্ষা ব্যবস্থার যে নীতি লেখক ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তা যেন আলো থেকে অন্ধকার দিককেই বেশি ইঙ্গিত করে। মানে গল্প শুধু মোটিভে আটকে আছে, গল্পের মোড় চলে গেছে সামাজিক সমস্যার দিকেও। বাচ্চাদের ক্যারিয়ার নির্ধারণ যেন বাবা-মায়ের জন্য সবকিছু। তা পেতে ভালো-মন্দ সব এক হয়ে যাক। অনেকটা আমাদের দেশের প্যারেন্টিং এর মতো। কিংবা তার থেকে বেশি! বলা যায় কিছুটা লাইভ গেমের মতো। যেখানে চারটি পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক দিক একসাথে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। লেখক সেক্ষেত্রে সফলও বটে। চার. ❝সিক্রেট অভ দ্য লেক❞ নিয়ে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে বলব, কেইগোর লেখার মোড় ঘুরানোর সেই সচরাচর ধরণটা আমি মিস করেছি। থ্রিলের অভাব কিংবা গল্পের গতিবেগ যেটাই বলি পুরোটাই কেন যেন প্রেডিক্ট করা যাচ্ছিল। সুতোগুলো খুলেই রাখা ছিল। জট পাকানো কিছুই নেই। শুধু সামনে আসা সত্য-মিথ্যা যাচাই বাছাই পাঠকের নিজের উপর। আর গল্পের গতি কিছুটা ধীর। তবে এটাও ঠিক গল্প বলার ধরণ খুব একটা বোরিং ছিল না। ২০০ পেজের বইটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক বসায় শেষ করার মতো। কিন্তু তারপরেও মনে থেকে যাবে একগাদা প্রশ্ন। সুনসুকে চাইলেই সবটা প্রকাশ করতে পারত। কিন্তু সে নিজেই তাদের একজন হয়ে উঠে। কেন? লেখক ওপেন এন্ডিং এ 'কেন'র উত্তর রাখেননি। যেমন রাখেননি খু'নের আসল মোটিভ বা খু'নি কি ভিন্ন কেউ ছিল! সবটা ঘোলা জলের মতোই রহস্য হিসেবে ইতি টানা হয়েছে। তবে খুব বেশি টানটান উত্তেজনা বা টুইস্ট আশা করলে কিছুটা আশাহত হবেন। পাঁচ. জাপানিজ সাহিত্যগুলো পড়তে খুব বেশি আরামদায়ক না। অনুবাদ সরস বা খুব চমকপ্রদ হলেও না। অন্তত আমার বেলায় না যে কি-না নামজনিত সমস্যায় ভুগি। নামগুলো খুবই বিচ্ছিন্ন। কোনটা কে এটাই মনে রাখা বিপদ। এরপর যদি শুরুতে নামের কারণে জেন্ডার ক্রাইসিসে ভুগতে শুরু করেন তবে মাঝে এসে তাল-গোলমিল লাগা স্বাভাবিক। এর জন্য যথাসম্ভব আমি জাপানিজ বইগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। যৎসামান্যই পড়া হয়েছে এযাবতকালে। তন্মধ্যে যতগুলো অনুবাদকের লেখা পড়েছি তা সন্তোষজনক মনে হয়েছে। রানা ভাইয়ের প্রথম কাজ সম্ভবত ছিল 'জার্নি আন্ডার দ্য মিডনাইট সান'। সেটা পড়া না হলেও দ্বিতীয় কাজটা পড়ার অভিজ্ঞতা দারুন। নামে একজন নবীন অনুবাদক; তবে কাজে ঝরঝরে এবং সাবলীল অনুবাদ দিয়ে মনে দাগ কেটে গেছেন। শুরুর দিকেই চরিত্র এবং নামগুলো নিয়ে টুকটাক ধারণা দেয়ায় অতোটা বেগ পেতে হয়নি। তবে মাঝে এসে হঠাৎ হঠাৎ থেই হারিয়ে ফেলতে হয়েছে। ওই যে বললামই, নাম নিয়ে আমার মধ্যে গোলমিল বাঁধে প্রচুর। ছয়. এই অংশ চাইলে যে কেউ স্কিপ করতে পারেন। প্রকাশনীর তারিফের বর্ষায় প্রকাশনীকে ডুবতে দেয়া ভালো। বেনজিনের কাজ আমার শুরু থেকেই ভালো লাগে। তাদের কাছ থেকে নেয়া প্রথম বই ছিল কুইন্স থিফ। সেটার প্রোডাকশন যতটা মনে ধরেছিল সেটাই এখন পর্যন্ত বহমান। যথাসম্ভব সতর্কতা থাকার চেষ্টা করেন বরাবরই। তাদের বাছাই করা অনুবাদকদের কাজ খুব একটা হতাশ করেনি এখন পর্যন্ত। তবে কন্টেন্ট নির্বাচনের দিক দিয়ে ❝সিক্রেট অভ দ্য লেক❞ অতোটা আহামরি লাগেনি। ছোট ঘরানার বই হিসেবে সময় কাটানোর জন্য ঠিক আছে তবে তা মনে দাগ কাটেনি। বই: সিক্রেট অভ দ্য লেক লেখক: কেইগো হিগাশিনো অনুবাদক: বি.এম.পারভেজ রানা প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০

Mehjaabeen
Mehjaabeen ভেরিফাইড
24 Jan 2025

awesome story

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

প্রশ্ন

এটা হার্ডকাভার নাকি পেপার কভার

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।

প্রশ্ন

বইটিতে কত পৃষ্ঠা আছে?

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০০। ধন্যবাদ।

প্রশ্ন

Eta ki pocket book ba etar size koto

উত্তর

প্রিয় গ্রাহক, এটি পকেটবুক নয়। বইটি স্ট্যান্ডার্ড সাইজের।

প্রশ্ন

English version of this book available or not

উত্তর

Dear customer, sorry, English version of this book isn't available.

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)