

Buy সাহেব বিবি গোলাম Online in Bangladesh
লেখক: বিমল মিত্র
- Author: বিমল মিত্র
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Isbn: 8172932553
- Number Of Pages: 431
- Language: বাংলা
- Edition: 13th Print, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মল্লিকদের বাড়ির তারাপদর কথায় সেই ছোটবেলা থেকেই কলকাতার নাম শুনে যেন রোমাঞ্চ হত ভূতনাথের। একদিন মিত্তিরদের টিপ্-চালতে গাছটার মগডালে গিয়ে উঠেছিল ভূতনাথ। এর হাজার-ডবল উঁচু। সে যে কতখানি—তা অনুমান করা শক্ত। তবু অনেক—অনেক দূরে চেয়ে চেয়ে দেখেছে সে। সোজা পশ্চিমদিকে চাইলে শুধু দেখা যায় কেবল গাছ আর গাছ। গাছের ফাঁকে ফাঁকে মাঠ। তারপর আকাশ। শুধু আকাশ আর আকাশ। আকাশময় চারিদিক। সন্ধেবেলা বাদুড়গুলো ওদিক থেকে ফল-পাকড় খেতে একটার পর একটা উড়ে আসে। ওই শহরের দিক থেকে। মাজদে' স্টেশনের চেয়েও অনেক দূরে—কত শহর—ফতেপুরের মত কত গ্রাম পেরিয়ে তবে কলকাতা। সেখানে ঘোড়ার ট্রামগাড়ি চলে খুব জোরে—সামনে আসতে দেখলে বুক দুর দুর করে। (কেন করে তা বলা যায় না) মিত্তিরদের টিপ্-চালতে গাছের হাজার ডবল উঁচু সব বাড়ি। তার মাথায় লোকগুলো দেখায় এতটুকু কড়ে আঙুলের মত। এমনি ভাবতে ভাবতে গাছ থেকে একসময় নেমে পড়ে ভূতনাথ। এর পর আর একদিনের ঘটনা। তখন অনেক বড় হয়েছে ভূতনাথ। ইস্কুলে এসে ভর্তি হল গঞ্জের হাসপাতালের বড় ডাক্তারের ছেলে ননী। ভারি ফুটফুটে ছেলেটা। যেমন ফরসা, তেমনি কালো কালো চোখ, বড় বড় চুল। পরে অনেকবার ভূতনাথ ভেবেছে ননী যেন ছেলে নয়। অনেক ভাব হবার পরেও ননীর হাতে আচমকা হাত ঠেকে গেলে কেমন যেন শিউরে উঠত ভূতনাথ। ইস্কুল থেকে মাইলের পর মাইল হেঁটে হেঁটে বাড়ি আসার পথে ননীর কথাই সারা রাস্তাটা ভাবত। এক-এক সময় মনে হত, ননী তার বোন হলে যেন বেশ হত। তাহলে দু'জনে এক বাড়িতে থাকত, শুতো এক বিছানায়। অনেক ছুটির দিন ভূতনাথ হেঁটে হেঁটে একা চলে গিয়েছে ইস্কুলের কাছে। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে হাসপাতালের আশেপাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। ননীকে যদি একবার এক ফাঁকে দেখতে পাওয়া যায় ! আবার লজ্জাও হত। যদি ননী তাকে সত্যি সত্যিই দেখে ফেলে! যদি ননী জিজ্ঞেস করে –কি রে ভূতনাথ, তুই এখানে কেন—তখন কি জবাব দেবে সে?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
excilent

কলকাতা শহরের উত্থান, জমিদারও বাবু শ্রেণীর উদ্ভব, তাদের অদূরদর্শী অনাচার, প্রজা অত্যাচার আর খামখেয়ালীপনার এক বিস্তৃত বর্ণনা এই "সাহেব বিবি গোলাম " বই টি। ইতিহাসের সাথে জীবনের সংযোগ অত্যন্ত যত্ন সহকারে করেছেন লেখক বিমল মিত্র।

বিমল মিত্রের ক্লাসিক " সাহেব বিবি গোলাম " পড়লাম। কলকাতার উত্থান, বাংলার ইতিহাসের রসে রচিত এই উপন্যাসকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলব না । বরং একে একটি আর পাঁচদশটি উপন্যাসের মতো সাদাটে সামাজিক উপন্যাসই বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব। ৪৩৮ পাতার বইটি কিন্তু দারুণ ঝরঝরে। ক্লাসিক উপন্যাসের কথা উঠলে একদা রেলের চাকুরে নির্ঝঞ্ঝাট বিমল মিত্রের স্বাস্থ্যবান বইগুলোর কথা চলে আসে। প্রথমেই "সাহেব বিবি গোলাম" নামটি উচ্চারিত হয়। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অনেক ভারি ভারি পাঠক। বাংলার জমিদারদের উত্থান এবং তাদের ক্ষয়িষ্ণুতা পেয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবার ইতিহাসকে গল্পের ঢঙে লিখেছেন বিমল বাবু। এই জমিদারশ্রেণিটির বাবু কালচারকে ধারণ করেছেন চৌধুরী বাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেখানে ওভারসিয়ার ভূতনাথ পেল্লায় এক বাড়ি ভাঙতে এসে স্মৃতিচারণ করছে বড়বাড়ির, বাংলার ইতিহাসের। গ্রাম থেকে উঠে আসা ভূতনাথ হয়ে ওঠে মূল বর্ণনাকারী। বোনের স্বামী ব্রজরাখাল কাজ করে জমিদার বাড়িতে, যাকে সারা বইতে বড়বাড়ি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নিয়ে আসে ভূতনাথকে। ব্রজরাখালের শালা ভূতনাথ হয়ে যায় সবার শালা। অর্থাৎ তার নাম হয় শালাবাবু। সেই শালাবাবু কলকাতার বড়বাড়িতে এসে জড়িয়ে পড়ে ব্রাহ্ম পরিবার জবাদের সাথে। জবাময়ী! কী আশ্চর্যকথা যুক্তি আর সংস্কার এই দু'য়ের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে জবাময়ী। আর ভূতনাথের সাথে জবাময়ীরই বা কি সম্পর্ক? বড়বাড়ির ছোট বৌঠান। নিজের স্বামীকে আপনার করে নিতে তার অন্যরকম পথে চলে যাওয়া। ভূতনাথের সাথে পটেশ্বরীর অনির্বচনীয় যে টান গড়ে ওঠে তার কথা অনেকদিন ভুলব না। যেমনটি ভুলব না ঘড়িবাবু বদরিকাবাবুকে। যিনি বলতেন, " এ সংসারে যে খেলতে জানে সে কানাকড়ি নিয়েও খেলে। " সময়কে ধারণ করতে চেয়েছেন বিমল মিত্র। সফল হয়েছেন বলব না। ব্যর্থ হয়েছেন তাও নয়। বিমল মিত্র পাঠককে সময় উপভোগ করতে শিখিয়েছেন।
ভাল বই

#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা এই ধরনের সুবিশাল প্লটের রিভিউ লিখতে গেলে দুটো পথ অবলম্বন করা যায়। এক. সকল চরিত্র আর গল্পের দিকগুলো পাঠককে জানিয়ে দেয়া। দুই. সবকিছু ছেড়েছুড়ে পালিয়ে বাঁচা। আমি অলস আর অপরিপক্ব পাঠক হিসেবে দ্বিতীয় পথটাই অবলম্বন করলাম। আসলে এই অসাধারণ সৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ কালিতে আঁকা আমার পক্ষে সত্যিই অসম্ভব। তবে পালিয়ে যেতে যেতে একটু বলে যাই- এটা এক ঐশ্বর্যময় বাড়ির গল্প, যে বাড়ির সঙ্গে ভুতনাথের মতো ক্ষয়ে যাওয়া এক জাতের লোক ওতোপ্রোত ভাবে জড়িত। নামকরনে যে হল গোলাম। কিংবা এই গল্পটা ছোটবউয়ের জীবনের, নামকরণে যাকে বলা হয়েছে বিবি। ভীষণ রূপবতী এই নারীর রূপ, তার আলতা ঘেরা পায়ের আঙ্গুলের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইন্দিরা দেবী টেনেছেন ভারতচন্দ্রের কবিতা- "কে বলে শারদশশী সে মুখে তুলা। পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।" যে চেয়েছিল সত্যিকারের স্ত্রী হতে। চেয়েছিল সুখ, সম্ভোগ, রোমান্সময় এক দাম্পত্য জীবন। আর সাহেব???!... কিংবা এটা উনিশ শতকের শেষ আর বিশ শতকের শুরুর গল্প। এই গল্প বাংলার ইতিহাসের, কলকাতার জমিদার সমাজের, একটা বিশেষ সময়ের। সমাজের উঁচু মহল থেকে শুরু করে নিচু মহলের নারীদের পোশাক থেকে ভাষার যে রূপ লেখক নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন তা অকল্পনীয়! পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ♦এই যে এতো এতো চরিত্র, এতো এতো লোক সমাগম, অথচ কোথাও একটুও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় নি! সত্যিই যেনো নানা রঙ্গের পশমে বোনা একখানি সুন্দর কাশ্মীরী শাল যার প্রতি সূতা সমগ্রের নক্সাটি ফুটিয়ে তুলেছে। এমনি সুনিপুণ চরিত্রচিত্রণ করেছেন লেখক! ♦ জবার ঘরে বসে সেই শেষ রাত্রে ভূতনাথের মনে হলো, "জবাকে ভালবাসে বলেই জবাকে এতো সহজে হারানো যায়। খন্ডকে সে অখন্ডের মধ্যে নতুন করে পাবে। নতুন করে মহাজীবন লাভ করবে।".... আমি স্তব্ধ হয়ে ছিলাম! এই আনিদ্যসুন্দর সৃষ্টি নিয়ে মূল্যায়নের যোগ্যতা যদিও আমার নেই, তবুও দুটো কথা- ♣ এই এতোগুলো চরিত্রের মাঝে প্রধান যিনি নায়ক-- অর্থাৎ ভূতনাথ চক্রবর্তী, তার চরিত্রের বাইরের পরিস্ফুটন আরেকটু শক্ত হলে ভালো লাগতো। ইন্দিরা দেবীর মতো আমারো ভূতনাথের মুখে " কেমন ভয় করতে লাগল" বিষয়টা দৃষ্টিকটু লেগেছে। নারীদের প্রতি ভূতনাথের আকর্ষনটা কি আরেকটু কম দেখালে হতো না???! দেশ,কাল,পাত্র এই তিন নিয়েই যদি ইতিহাস, ভূগোল হয়, তবে একটা সময় আর তার ইতিহাস জানতে "সাহেন বিবি গোলাম" নিঃসন্দেহে অতুলনীয়....























