

Buy রূহের খোরাক Online in Bangladesh
লেখক: ইমাম ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
- Author: ইমাম ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
- Publisher: মাকতাবাতুল আসলাফ
- Number Of Pages: 352
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
শরীরের যেমন খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি রূহেরও খোরাক প্রয়োজন। আমরা কতজনই বা এ বিষয়ে সচেতন? আল-জাওয়াবুল কাফী তাযকিয়াতুন নফস বা আত্মশুদ্ধি বিষয়ে রচিত অতুলনীয় এক গ্রন্থ। অন্তরের ব্যাধিতে দিশেহারা এক ব্যক্তির একটি মাত্র প্রশ্নের জবাবে হিজরি ৭০০ শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ আলিম ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ আত্মশুদ্ধির খনি রেখেছেন এ গ্রন্থে। রূহের খোরাক তারই অনূদিত রূপ। ভারত উপমহাদেশসহ বাংলা ভূখণ্ডের বরেণ্য সব বুযুর্গ ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক মনীষীর বিভিন্ন নসীহতে, আলোচনায়, বয়ানে—এমনকি আত্মশুদ্ধিমূলক নানা বইয়ে আছে এ গ্রন্থের উদ্ধৃতি। অন্তরের রোগে পেরেশান অসংখ্য মানুষ এ গ্রন্থ থেকে আত্মশুদ্ধির খোরাক নিয়ে হিদায়াতের পথে হেঁটেছেন, পেয়েছেন মুক্তির দিশা। এতে বিবৃত আত্মার রোগের ব্যবস্থাপত্র শত শত বছর ধরে যাঁরাই পাঠ করেছেন, নিজের পাপ-পুণ্যের হিসাব মেলাতে গিয়ে অঝোর নয়নে ভিজিয়েছেন রাতের জায়নামায। আত্মশুদ্ধি বিষয়ক গ্রন্থগুলোর প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—যে কোনো আলোচনা হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা, যা মানুষকে গুনাহ ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সওয়াব অর্জনেও করবে উদগ্রীব। বৈশিষ্ট্যটি এ গ্রন্থে পরিপূর্ণরূপে উপস্থিত। প্রায় হাজার বছর অতিক্রান্ত হলেও এর আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা এতটুকুও ম্লান হয়নি। আজও কোনো মুমিনের অন্তর গুনাহের খরতাপে রুক্ষ-তৃষিত হলে এ গ্রন্থ এক পশলা বৃষ্টির মতো তার হৃদয়কে শীতল করে দেয়।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ভালো বই।

good
highly recommended 👌. Maktabatul Aslaf er book manei best
আফসানা আক্তার মীম বইয়ের নামঃ রূহের খোরাক পোস্ট – ২২ ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖ #Rokomari_Book_Club_Review_Competition ❝আপনি মাটির উপর যতটা ভালো কাজ করবেন, মাটির নিচে ঠিক ততোটাই ভালো থাকবেন– তারই প্রেক্ষিতে “রূহের খোরাক” বইটি❞ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ➖➖➖➖➖➖➖ অধিকাংশ মানুষই শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে চিন্তিত থাকে। যার কারণে বাজারে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি জাতীয় প্রোডাক্টগুলোর আকাশ-চুম্বী চাহিদা দেখা যায়। কিন্তু প্রকৃত সৌন্দর্য তো শারীরিক সৌন্দর্য নয়; রূহের সৌন্দর্য। তাই কারো বাহ্যিক আমল সুন্দর হওয়া নির্ভর করে তার রূহের অবস্থার ওপর। যার রুহের অবস্থা যত সুন্দর হবে, তার আমলও তত সুন্দর হবে।পক্ষান্তরে যার রূহ অসুস্থ রোগাক্রান্ত,তার আমলের মধ্যে পরিলক্ষিত হবে ত্রুটি-বিচ্যুতি। শুধু আমলই নয়,তার বিশ্বাসও হয়ে পড়বে নড়বড়ে। সুতরাং রূহের অবস্থার ব্যাপারে বেখবর থাকা কিছুতেই উচিত নয়; বরং প্রত্যেক মুমিনের ওপর আবশ্যক, যে স্বীয় রূহের রোগগুলো থেকে বেঁচে থাকা। বিশ্বাস করতে হবে - একজন মুমিনকে তার নিজের চাইতেও বেশি ভালোবাসে তাঁর রব্ব। ❝রূহের খোরাক❞ বইটি এমনই একটি বই যা পড়ার পর মনে হবে নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবনার জগৎ যেন উদয় হয়েছে আর তা যেন দরজায় এসে কড়া নাড়ছে। তাই এই বইটি অবশ্যই একজন পাঠকের রিডিং লিস্টের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করছি। বিষয়বস্তুঃ ➖➖➖➖➖ ❝আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে এমন কোনো রোগ দেননি, যা থেকে পরিত্রাণের উপায় রাখেননি।❞ সূচিপত্র প্রথমে দেখেই 'রূহের খোরাক' বইটি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা চলে আসে। বইটি পার্থিব মোহকে দূরে ঠেলে ওপরের সুখের জীবন অর্জন করতে বেশ কার্যকরী। ৩৫২ পেজ ও মোট ১৮০টি অধ্যায়ে সজ্জিত বইটি। । কয়েকটি অধ্যায় বাদে বাকি অধ্যায়গুলো ছোট ছোট আকারে সাজানো। বইটিতে যা আছেঃ ➖➖➖➖➖➖➖ অনাকাঙ্ক্ষিত এক বা একাধিক জীবন যাপনের হাতছানি চারপাশে। ভুলের হিশেব জমে জমে বছরের পর বছর পাল্টে যাচ্ছে জীবনের ডায়েরি। এ ক্ষণভঙ্গুর জীবনখানীর অন্তর না পারছে রঙ বেরঙ দুনিয়ার চাকচিক্য নিয়ে থাকতে আর না পারছে দুনিয়াবিমুখ হতে। তাই এই অসিস্থরতার সময় ❝রূহের খোরাক❞ এমনই একটি বই যার প্রতিটি টপিকে আছে অফুরন্ত শিক্ষা ও অনুকরণ এবং অনুসরণ। বইটির লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু হলো অন্তরের দ্বারা প্রবাহিত দৈনন্দিন অহরহ নানান গুনাহগুলোর আলামত,কারণ এবং এ থেকে পরিত্রাণ। একনজরে সূচিপত্র: গুনাহঘটিত সমস্যা- গুনাহ বান্দাকে আত্মবিস্মৃত করে, প্রেমাশক্তি বিষয়ক সমস্যা,বিকৃত যৌনাচার,অজ্ঞতার ব্যাধী, দুনিয়ার ধোঁকা এছাড়া রূহের খোরাক কী ও তার প্রয়োজনীয়তা, দুআ সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম,দুআ কবুল না হওয়ার কারণ,সাহাবীদের অন্তরে আল্লাহভীতি এবং বিশ্বজগত সৃষ্টির পেছনে আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্য ইত্যাদিসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যথোপযোগী আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। তাছাড়া আত্মশুদ্ধি বা আত্ম উন্নয়ন অর্জনের জন্য লেখক বইটিতে উপস্থাপন করেছেন চমৎকার কিছু নাসীহাহ। সেই সাথে বইটিতে উল্লেখ করে দিয়েছেন সমস্যার সমাধানের পথ উত্তোলন, নফস নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ টিপস প্রয়োগ করেছেন। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা) ও সাহাবাদের আর্দশগুলো পাঠকমহলে প্রেরণা ও উৎসাহমূলক দিক হিশেবে কার্যকরি তাই তিনি উল্লেখ করে দিয়েছেন। এমনকি লেখকের বর্ণনার সহজ সাবলীল ও সুবিন্যস্ত আলোচনা আর অনুবাদ যেন নিজ মাতৃভাষায় সহজ প্রাঞ্জলিক যা পাঠকদের মনোযোগ ধরে রাখার কৌশল বিনিময়ে বেশ সুবিধা হবে ❝রূহের খোরাক❞ বইটির মাধ্যমে। বইটির বিশেষত্বঃ ➖➖➖➖➖➖➖ মানুষ মাত্রই যেন বাহ্যিক দেহের রূপচর্চায় ব্যস্ত। দেহের খোরাক নিয়েই তার যত ভাবনা চিন্তা বায়না। যে কিনা বাহ্যিক রূপের এতো যত্ম আত্মীতে মত্ত, সে কিনা রুহের খোরাক নিয়ে সিকিভাগও অবগত নয়। যদি দেহের খোরাক থাকে তাহলে আত্মার খোরাক থাকবে বৈ নয় কি? রুহের খোরাকের সংজ্ঞা আসলে কী? কীভাবে এর পরিচর্যা নেওয়া যাবে? কীভাবে এক আত্মা দিয়ে দুনিয়াবিমুখ ও আখেরাতমুখী হওয়া যাবে? কীভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে পাঠকমনের এইসব কৌতূহলের বিষয়াদি নিয়েই রচিত বই ❝ রূহের খোরাক❞। যাদের জন্য বইটিঃ ➖➖➖➖➖➖➖ ❝যখন অন্তর থেকে ইসলাম বিদায় নেবে, তখন ঈমানও বিদায় নেবে। যখন ঈমান চলে যাবে তখন বিশ্বাস চলে যাবে, তখন মারেফতও চলে যাবে.. হে নফস! হুশ আছে কী তোমার! তাই অন্তরের মরিচা দূর করতে তরুণ প্রজন্ম থেকে ধরে সকল শ্রেনীর জোয়ান বয়স্ক বৃদ্ধা বইটা সবার জন্য অধিক গ্রহণযোগ্য। যে কারণে মনে হয়েছে বইটি পাঠকমহলের জন্য বেশ উপকারীঃ ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖ উস্তাজ ছিলেন ইবনু তাইমিয়্যা। তাঁর বই আসলো “রূহের চিকিৎসা” নামে। ওনারই ছাত্র হলেন ইবনু কায়্যিম (রাহি:)। তাঁর বই আসলো “রূহের খোরাক” নামে। যিনি এমন একজন লেখক যাকে ❝অন্তর-গুরু❞ বলে অভিহিত করা হয়। যাকে পাঠকমহলের সবাই চিনে তাকে হাতধরিয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য অন্তত আমার নেই। জ্বি, ওনিই আত্মশুদ্ধির জন্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল জাওয়াবুল কাফির সমৃদ্ধ অনুবাদ থেকে রচিত করেছেন ❝রূহের খোরাক❞ বইটি। আর তাই রূহের চিকিৎসার পাঠকপ্রিয়তার পর এবার পাঠকমহলে অবশ্যপাঠ্যনীয় ও পাঠকের মনের গভীর রেখাফাত ফেলবে এবং বেশ উপকারী ❝রূহের খোরাক❞ বইটিও। বিশেষ ভালোলাগাঃ ➖➖➖➖➖➖ ১/ 'রূহের খোরাক' বইটির প্রথম পৃষ্ঠায় এমন একটি প্রশ্ন জুড়ে দেওয়া হয়েছে "একজন মানুষ অন্তরের কোনো ব্যাধিতে এমনভাবে আক্রান্ত হয়েছে যে, সে টের পাচ্ছে এ অবস্থা আর কিছুদিন চলতে থাকলে তার দুনিয়া আখিরাত ধ্বংস হয়ে যাবে। সে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে ঐ অবস্থা কাটিয়ে উঠতে, কিন্তু দুরাশা বৈ কোনো সম্ভাবনার দিকে যেতে পারছে না। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী? লেখক এই প্রশ্নের জবাবেই বক্ষ্যমান কিতাবটি রচনা করেছেন। যা কিনা মানুষ দেড়শ বছর আগে থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে। প্রশ্নটি দেখার পর আমার মনে হলো এই প্রশ্ন তো আমারো তার মানে পাঠকমহলে সবারই এমন প্রশ্ন জীবনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বলা চলে- প্রত্যেকের জীবনেই এই প্রশ্নটি বিরাজমান। সুতরাং বইটির প্রথম অংশটাই দারুণ। ২/ বইটির প্রচ্ছদ ও ভেতরের ডিজাইন মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর। ৩/ পাঠকদের সঠিক পথের দিশারী এই গ্রন্থটি ; বই মানুষের মনকে বিশুদ্ধ করে তোলে। বই নিয়ে কথা হোক, বই নিয়ে চলা হোক....... সর্বদায় যা স্বরণে রাখতে হবেঃ ➖➖➖➖➖➖➖➖➖ ❝এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন যেমন সত্য, তেমনি আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবন সত্য।❞ বইয়ের প্রিয় কিছু কথনঃ ➖➖➖➖➖➖➖➖ গুনাহের একটি অন্যতম ক্ষতি হলো, একটি গুনাহ আরেকটি গুনাহের পথ দেখায়। এভাবে বান্দার জন্যে একের পর এক গুনাহের দ্বার খুলে যায়। পার্থিব মোহ আর মৃত্যুর প্রতি অনীহা অন্তরকে দুর্বল করে দেয়। এক নজরেঃ ➖➖➖➖ বইঃ রূহের খোরাক লেখকঃ ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ অনুবাদঃ জুবায়ের মহিউদ্দীন প্রকাশনঃ মাকতাবাতুল আসলাফ -Maktabatul Aslaf রেটিংঃ ৪.৯/৫ ক্যাটাগরিঃ ইসলামি বই- আত্ম উন্নয়ন মূদ্রিত মূল্যঃ ৪৩০৳ প্রকাশকালঃ মার্চ ২০২১
#Rokomari_Book_Club_Review_Competition মানুষমাত্রই দেহের পরিচর্যায় সংবেদনশীল হয়। নিত্যনতুন ডায়েট রেসিপি, হরেকরকম ব্যায়াম, মাসে দু'বার বডি চেকাপ! নিজ অবস্থান থেকে প্রায় প্রত্যেকেই দেহের পরিচর্যায় একনিষ্ঠ। হাতের কাছে প্রিয় খাবার পেয়েও, ডায়েটে আছি বলে মুখ ফিরিয়ে নিই! নিয়মের হেরফের হলে, খাওয়দাওয়া শেষে মাইলের পর মাইল হেটে ক্যালরি বার্ণ করি। রুটিনের কত ছকবাঁধা নিয়ম, কত কিছুই করতে হয় নিজেকে ফিট রাখার নিমিত্তে। কিন্তু দেহের সুস্থতার জন্য আমরা যতটা ভাবি, তার সিকিভাগও আত্মার পরিচর্যার জন্য ভাবার ফুরসত হয়না। আত্মার পরিচর্যা সম্পর্কে জ্ঞানের পরিসর ও সীমিত। দেহের খোরাক আছে, আত্মার কি নেই? আত্মার কি আদৌ পরিচর্যার প্রয়োজন? কিভাবে করতে হয় আত্মার যত্মআত্তি? আত্মাকে ফিট রাখার কথা উঠতেই, নিশ্চয়ই কৌতূহলে এমনতরো প্রশ্নেরা উঁকিঝুকি দিচ্ছে পাঠকমনে! এমনই উদিত প্রশ্নগুলোর সবিস্তার উত্তরসমেত আত্মিক পরিচর্যার পুরোদস্তুর আলোচনা নিয়েই ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ রচনা করেছিলেন বিখ্যাত এক গ্রন্থ। সেই প্রাচীন গ্রন্থটির বাঙলায়ন হচ্ছে আমাদের আলোচ্য 'রূহের খোরাক' বইটি। . ▪️প্রেক্ষাপটঃ হিজরী ৭০০ শতাব্দী! অন্তরের রোগে আক্রান্ত কোনো এক ব্যাক্তি শরণাপন্ন হয়েছিলেন ইমাম ইবনু কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ'র (রহি.) নিকট। রোগাক্রান্ত ব্যক্তিটির মাত্র একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি অবতারণা করলেন পুরো একখানা গ্রন্থ। সেই কালজয়ী সৃষ্টি ‘আল-জাওয়াবুল কাফি তাযকিয়াতুন নফস’। শত বছর পূর্বের লিখিত হলেও, বইটি অদ্যাবধি মানুষের উপকারের জন্য বলবৎ। ভারত উপমহাদেশ সহ বাংলা ভূখণ্ডের বরেণ্য সব ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক মনীষীদের নাসীহাহ্, আলোচনা বয়ান কিংবা বয়ানেও তুলে আনা হয় এই বইয়ের মণিমুক্তো সদৃশ উদ্বৃতিগুলো। বিখ্যাত সেই গ্রন্থটি তাই আজও অনূদিত হয়ে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে দুনিয়ার অসংখ্য জায়গায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাঙালী পাঠকদের জন্য 'রূহের খোরাক' নামে পাঠকের টেবিলে পোঁছে দিতে যাচ্ছে মাকতাবাতুল আসলাফ প্রকাশনী। ইবনুল জাওযিয়্যাহ (রহিঃ)'কে পাঠকমহলে হাত ধরে পরিচয় করানোর মতো কিছুই নেই। বহু গুণে গুণান্বিত বিজ্ঞ এক আলেম। অন্তরের রোগব্যাধি নিয়ে আলোচনায় তিনি একচ্ছত্রভাবে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন আজতক। 'রূহের খোরাক' বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশিই! . ▪️বই কথন : রচনার পটভূমির মতোই বইটি যুগপৎ আকর্ষণীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। মোটাদাগে আত্মোন্নয়নমূলক বই। প্রকৃতপক্ষে অন্তর আক্রান্ত হয় হরেকরকম ব্যাধিতে। এগুলোর গতিপ্রকৃতি বোঝাও দায়! এই ধরনের ব্যাধি, ব্যাধির কারণ, তত্ত্ব ও পথ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কুরআন-সুন্নাহর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সূচীনুসারে লেখক এইসব কিছুর সমন্বয়েই সাজিয়েছেন পুরো বই। এক হাতে রোগগুলো চিহ্নিত করেছেন, অপরহাতে লিখেছেন প্রেশক্রিপশান। বইটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে অন্তরঘটিত বিচিত্র গুনাহগুলোর কারণ ও তার প্রতিকার। মোট ১৮০টি অধ্যায়ে সজ্জিত বইটি। সূচী অনুযায়ী গুনাহের কারণ, ধরণ ও পথ্য, শয়তানের কূটকৌশল,, প্রেমঘটিত সমস্যা, বিকৃত যৌনাচার, রূহের খোরাক কি ও তার প্রয়োজনীয়তা, অজ্ঞতার ব্যাধি, দু'আর মাহাত্ম্য, দু'আ কবুল হওয়া না হওয়ার কারণ, সোনালী অতীতের মহান ব্যক্তি বর্গের তাক্বওয়াপূর্ণ কাহিনী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য লেখক দিয়েছেন অসাধারণ কিছু নসীহা। আলোচনা করেছেন, অন্তরে খায়েশের তীব্রতার প্রভাব সম্পর্কে। সেই সাথে দিয়েছেন সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণের বাস্তবিক সমাধান আর, নফস নিয়ন্ত্রণের চমৎকার কিছু কৌশল। জীবনঘনিষ্ঠ মৌলিক বিষয়গুলোকে সাহাবীদের হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ছাঁচে ফেলে পাঠ্যকে করেছেন অধিক গ্রহণযোগ্য । লেখকের বর্ননার সুবিন্যস্ত ধারা, আলোচনার সাবলীলতা আর অনুবাদকের পোক্তহাত বারংবারই মৌলিকত্বের ফিল দিয়েছে পাঠ্যে। যেটাকে ফোকাস করা হয়েছে, শুধু তাকে কেন্দ্র করেই আলোচনা এগিয়েছে। নেই অতিরঞ্জন কিংবা পুনরাবৃত্তিমূলক বক্তব্যের নিস্পৃহতা। বরং লিখার প্রাঞ্জলতাগুণ বইটিকে সর্বশ্রেণীর পাঠকের জন্য সুখপাঠ্য করে তুলতে সক্ষম ইনশাআল্লাহ্। . ▪️কেন সংগ্রহ করবেন? ফিতনাময় যুগে আমরা মুসলিম মাত্রই অন্তরের রোগে ভুগি। সুতরাং বইটি কেন পড়বেন, এ নিয়ে আলোচনাটা নিষ্প্রয়োজন। বরং বলতে পারেন, 'বাজারে এতো আত্মউন্নয়ন মূলক থাকহতে এই বইটি পড়তে যাবো কেন?' উত্তরে বলবো, সংশয়ের এই যুগে ঈমানের পরিচর্যা বড্ড প্রয়োজন। পরিবর্ধনশীল এই সময়ে অন্তরের প্রতি তীক্ষ্ণ নজরদারি না থাকলে, পদস্খলন নিশ্চিত। এমতাবস্থায় এমন বইগুলো আমাদের জন্য আদ্যোপান্ত রিমাইন্ডার। বইটির সূচীতে আমাদের জীবনের মৌলিক বিষয়াদি গুলোই স্থান পেয়েছে। বইটির বিশেষত্ব হলো, অন্তর্ভেদী নাসীহাহ ফর্মূলা। প্রাণবন্ত আলোচনা। মুসলিম উম্মাহর আত্মিক ব্যাধি ও প্রতিকারের জন্য এই বইটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্তরের রোগে জর্জরিত অসংখ্য মানুষ এ গ্রন্থ থেকে আত্মশুদ্ধির খোরাক নিয়ে হিদায়াহ'র পথে হেঁটেছেন, পেয়েছেন মুক্তির আলোকছটা। এতে বিবৃত আত্মার রোগের ব্যবস্থাপত্র শত শত বছর ধরে যাঁরাই পাঠ করেছেন, নিজের পাপ-পুণ্যের হিসাব মেলাতে গিয়ে অঝোর নয়নে ভিজিয়েছেন রাতের জায়নামায। প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ বলে এই বইটির আলাদা বৈশিষ্ট্য তো আছেই, সেই সাথে 'অন্তরের চিকিৎসক' খ্যাত ইবনুল জাওযিয়্যাহ (রহি.) বই মানে বিশুদ্ধতা নিয়েও এক্সট্রা হেডেক নেই। অনুবাদক ও এমন ভাবে উপস্থাপন করেছেন যে আমি আশা করছি পাঠকের জন্য বেস্টটাই আসছে, ইনশাআল্লাহ্। . ▪️পাঠ্যানুভূতি : ব্যক্তিভেদে অন্তরের রোগে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে মানুষ হিসেবে বইয়ে আলোচ্য অধিকাংশ ব্যাধিই আমরা অন্তরে বহন করি। পড়তে পড়তে আমার বারবার মনে হয়েছে, এ'তো আমারই প্রশ্ন, আমার জন্যই লিখা একেকটা শব্দমালা। কিছু বই পড়লে নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবার তাড়না জাগে। এই বইটির অতি অবশ্যই সেই লিস্টেরই অন্তর্ভুক্ত। গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট, মানানসই প্রচ্ছদ সবমিলিয়ে প্রকাশনীর উপর স্বভাবতই ভরসার জায়গাটা অমূলক নয় মোটেই। স্বতঃসিদ্ধ কোনো সূত্র নয়, বরং রবের দেখিয়ে দেওয়া পথ আর লেখকের অভিজ্ঞতালব্ধ আলোচনায় নিজেকে শোধন করার পদ্ধতির একটা মাধ্যম হতে পারে বইটি। একজন তরুণের জন্য, একজন বৃদ্ধের জন্য—বলা যায়, সকল মুসলিমের জন্যই এই বইটি পড়া জরুরী। ইনশাআল্লাহ্। .
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটির সূচিপত্রতে কী পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ নেই?
পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ রয়েছে
বইটির সূচিপত্রতে কী পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ নেই?
পৃষ্ঠা নাম্বার উল্লেখ রয়েছে























