

Buy ওঙ্কার Online in Bangladesh
লেখক: আহমদ ছফা
- Author: আহমদ ছফা
- Publisher: হাওলাদার প্রকাশনী
- Isbn: 9789848966334
- Number Of Pages: 80
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"ওঙ্কার" বইয়ের ভেতর থেকে:আহমদ ছফা সাহিত্যচর্চা শুরু করেন উপন্যাস দিয়ে। বেশ কয়েকটা ছােটো গল্প লিখে হাত মসকের করার প্রচলিত নিয়মটি তিনি মানেননি; তাঁর প্রকাশিত প্রথম বইটিও একটি উপন্যাস। ছফার উপন্যাস আকারে ছােটো হলেও কোনােটাই কিন্তু ছােটো গল্পের সম্প্রসারণ নয়, এগুলাে একেবারেই উপন্যাস। চেনাজানা জীবনের ভেতরের ব্যাপারটা নানা দিক থেকে দেখার দায়িত্ব নিয়ে সমাজ ও রাজনীতির ভাঙাচোরায় কাজ করছে কোন রহস্য, তারই অনুসন্ধানে ছফা নিয়ােজিত। সুখ ও স্বস্তি জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি কাজ করেন এমন সব পরিবেশ নিয়ে যা বেশির ভাগ সময়ে তার স্বভাবের অনুকূল নয়। পাঠককে তিনি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন যাদের সঙ্গে বেশির ভাগ সময়েই তিনি নিজে বা তাঁর পাঠকরা তাদের পছন্দ করেন না; অন্তত তাদের অনেক কাণ্ডকীর্তিতে সায় দেওয়া মুশকিল। সেই খুচরােখাচরা ও টুটাফাটা মানুষের একেকটা আস্ত চেহারা তৈরি করতে ছফাকে রীতিমতাে যুদ্ধ করতে হয় এবং পাঠককে তিনি উস্কে দেন এ যুদ্ধে নেমে পড়তে।‘ওঙ্কার’-এ আহমদ ছফা গপ্পো ফাঁদতে বসেননি, কাহিনীর সত্র ধরে পাঠককে তিনি টেনে নেন এমন একটি জায়গায় যেখানে পৌছে গল্পটা ভুলে গেলেও কিছু এসে যায় না, কাহিনী গৌণ হয়ে সেখানে প্রবল হয়ে ওঠে অনেক দিনের মানুষ গ্লানি, জড়তা ও শােষণ এবং গ্লানি থেকে মুক্তির রক্তাক্ত সংকল্প।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

‘যদ্যপি আমার গুরু’ পড়েছিলাম আরো ছয় থেকে সাত বছর আগে। আজ অনেক বছর পর ‘ওঙ্কার’ পড়লাম। এই চিন্তাবিদের লেখা আমার পড়া দ্বিতীয় বই। কী নিদারুণ লিখা তাঁর! ছোট কলেবরের বই হলেও পাঠকের অন্তরের অনেক বড় একটা জায়গা দখল করার জন্য সক্ষম সে।
অসাধারন একটি বই!!!

ওঙ্কার – আহমদ ছফা spoiler allert আহমদ ছফা উপন্যাসে নায়ক-নায়িকার নাম দেন নি, নায়ককে গল্প কথক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বইটি মূলত ১৯৬৯ এর মার্শাল আইয়ুব বিরোধী সময়কালের পটভূমিতে রচিত। স্বাধীন হওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠা অকুতোভয় বাঙালির অনুভুতির দলিল এই বই। তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে আভাস পাওয়া যায় তা হলো স্বাধীনতা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও শেখ মুজিবের গ্রেফতার। গল্পকথকের বাবা ছিলেন তালুকদার বংশের মানুষ। তালুকদারি না থাকলেও তার ভিতরে তেজ ছিল কড়া। প্রতিবেশীদের নামে মিথ্যা মামলা করে সেই ঝাঁজ মেটাতেন এবং তাকে এ কাজে সহায়তা করতেন আবু নসর মোক্তার। কিছু টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষী ম্যানেজ করে দিতেন আবু নসর মোক্তার। কিন্তু এবার তালুকদার সাহেবের-ই বিরুদ্ধে একটি মিথ্যে মামলা হয় এবং তিনে বাজে ভাবে হেরে যান মামলায়। এই মামলার সুযোগে তালুকদার সাহেবের অবশিষ্ট সকল বাড়ি, পুকুর জমি যা ছিল সব নিজের নামে নিলাম করে নেন আবু নসর মোক্তার। তালুকদার সাহেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। গল্পকথক ভারী বিপদে পড়েন, মোক্তার সাহেব যদি এখন বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন মা-বাবা ছোট বোনটিকে নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবেন তিনি। তাদের পরিবারে এই চারজনই ছিল তখন, বাকী বোনদের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবু নসর মোক্তার অবাক করে দিয়ে জানান যে জমি বাড়ি যা ছিল সব আগের মতই থাকবে, বিনিময়ে তার বোবা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে নায়ককে। গল্পকথক রাজি হয়ে যান বিয়ে করেন মোক্তার সাহেবের বোবা মেয়েকে। গল্পকথকের বাবা মানে তালুকদার সাহেবের শারীরিক অবনতি হয় এবং মারা যান তালুকদার সাহেব, বাবার পিছন পিছন মা ও তার পথ ধরেন। আবু নসর মোক্তার তৎকালীন সরকার মার্শাল আইয়ুবের চেলা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি জামাইয়ের জন্য শহরে অফিসে চাকরীর ব্যবস্থা করেন। হিন্দু ব্রাহ্মণকে কৌশলে বাড়ি ছাড়া করে কলকাতায় পাঠিয়ে জামাই-কন্যার থাকার ব্যবস্থাও করেন। বউ ও ছোটবোনকে নিয়ে শহরে বসবাস করতে শুরু করেন গল্পকথক। কিন্তু বোবা বউকে নিয়ে সুখী ছিলেন না গল্পকথক, বউয়ের সাথে কথা বলার আকাঙ্খা তাকে আরও অসুখী করতেছিল। বোনের সাথে খুব একটা কথা হতো না তার, বোনের সাথে স্বাভাবিক হতে বোনকে গান শেখানোর ব্যবস্থা করেন। একদিন গল্পকথক দেখতে পান যে বোনের গানের রেওয়াজের সময় বোবা বউ আড়ালে গো গো করে গাওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু পারছেন না। বোনের গানের রেওয়াজের সরঞ্জাম গুলি ছুয়ে দেখছেন বোবা বউ। এরপরে বউয়ের প্রতি ভালবাসার পরিবর্তন ঘটে গল্পকথকের। বউকে নতুন রুপে ভালবাসার অনুভুতি অনুভব করেন এবং ভালবাসতে শুরু করেন। বাইরে আইয়ুর বিরোধী আন্দোলন মিছিল হরহামেশাই চলছে। গুলি খেয়ে শহীদ আসাদ নামের ছাত্রের মৃত্যু ঘটলে আন্দোলনের পালে হাওয়া লাগে। গল্পকথক ছিলেন নির্বিবাদী নিরীহ প্রকৃতির, তিনি মিছিল পছন্দ করতেন না। মিছিল বাসার কাছাকাছি আসলে তিনি জানালা গুলি বন্ধ করে দিতেন। কিন্তু তার বোবা বউ মিছিল আসলেই যে অন্যরকম হয়ে উঠতেন তিনি যেন মিছিলের অংশ হতে চাইতেন। জানালা খুলে দিয়ে বোবা গলা দিয়ে গো গো আওয়াজ করে মিছিলে শব্দগুলি বের করার চেষ্টা করতেন। একদিন তার এই চেষ্টায় গল্পকথক শুনতে পেলেন তার বউ বাঙলা শব্দটা পরিষ্কারভাবে উচ্চারণ করে ফেলেছেন, তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে মেঝেতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, সংজ্ঞা হারিয়ে পড়ে আছে। অচেতন স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে গল্পকথকের মন ফুঁড়ে প্রশ্ন জাগে। কোন রক্ত বেশি লাল, শহীদ আসাদের নাকি আমার বোবা বউয়ের? ©Al Amin Sarker

Best book.

..মন ফুঁড়েই একটা প্রশ্ন জাগে- কোন রক্ত বেশি লাল। শহীদ আসাদের- না আমার বোবা বউয়ের? এখনও কাউকে কাউকে বলতে শুনি, অমুকের হাজার পৃষ্ঠার বইও একটি উপন্যাস, আহমদ ছফার আটত্রিশ পৃষ্ঠার বইও উপন্যাস। এই আটত্রিশ পৃষ্ঠার উপন্যাসের গভীরতা এতবেশি কোথাও তল খুঁজে পাওয়া যায় না।























