মরণবিলাস
বই কালেকশন

Buy মরণবিলাস Online in Bangladesh

লেখক: আহমদ ছফা

4.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আহমদ ছফা
  • Publisher: হাওলাদার প্রকাশনী
  • Isbn: 9789849848966624
  • Number Of Pages: 75
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2018
৳ 172৳ 20014% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

মন্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরের দিন প্রেসিডেন্ট সাহেব আধ ঘণ্টার মত সময় রোগীর শয্যা পাশে ছিলেন। যেহেতু মন্ত্রী ফজলে ইলাহি সর্বক্ষণ সংজ্ঞাহীন ছিলেন, তাই উভয়ের মধ্যে কোন কথাবার্তা হতে পারেনি। আর অধিক সময় ব্যয় করা প্রেসিডেন্টের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁকে তো এক হাতেই জটিল রাষ্ট্রযন্ত্রটি চালাতে হয়। ফজলে ইলাহিকে প্রেসিডেন্টের আগমন সংবাদ জানান হয়েছিল। তখনো তিনি আজকের মত একই রকম বিষণ্ন হয়ে পড়েছিলেন। সবদিক বিবেচনা করে মাওলা বক্স অসুস্থ মন্ত্রিকে দু’চারটা আশার বাক্য শুনিয়ে একটু চাঙ্গা করা যায় কিনা চেষ্টা করল। —স্যার প্রেসিডেন্ট সাহেব আজ আসতে পারেননি। কাল নিশ্চয়ই তিনি আসবেন। কাল যদি তিনি কাজ—কর্মে ব্যস্ত থাকেন, পরশু দিন তো আর মিস করতে পারবেন না। আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেব মন্ত্রিদের মধ্যে আপনাকেই সবচাইতে ভালবাসেন। দেখবেন স্যার, এবার তিনি আপনার সজ্ঞান অবস্থায় খবর নিয়ে সাক্ষাৎ করতে আসবেন। তখন তাঁর সঙ্গে আপনার কথাবার্তা হবে।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
0%
4
100%
3
0%
2
0%
1
0%
Azhar Khan
Azhar Khan ভেরিফাইড
13 Jun 2026

মরণ বিলাস আহমদ ছফা'র ‘মরণ বিলাস’ পড়ে শেষ করলাম। ছোট্ট বই। মাত্র সাতাত্তর পৃষ্ঠা। যদিও এতে সাহিত্যরস কিঞ্চিৎ কম বটে। তদুপরি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে বেশ দারুণ। ফজলে এলাহি, যিনি দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনযাত্রার শেষে হাসপাতালে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। সেখানে তার একমাত্র সঙ্গী মাওলা বক্স। দুই স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি কেউ তার পাশে নেই। যদিও মাওলা বক্স স্বার্থের খাতিরেই তার সাথে আছে। তথাপি শেষবেলায় তাকেই ফজলে এলাহির আপনজন মনে হয়। মনে হয় আত্মার চেয়ে নিকটের কেউ। সম্পর্কের এই অনুভবও স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়, বরং স্বার্থোদ্বারে-উন্মোত্ত এক ভয়াল জীবনের অধিকারীর আত্মপ্রসাদ লাভের উপকরণ বটে। ফজলে এলাহি তাকে ভাই মনে করে আপন অস্তিত্ব খুলে দিতে থাকেন। ইতিহাসের নানা গলি-ঘুপচিতে ঘোরাঘুরি করে বর্ণনা করেন কিছু বর্ণিল ছন্দ, রূঢ়তার বৃত্তান্ত। মাওলা বক্স তার গল্পে সায় দিয়ে যায় স্বভাবতই—একজন মৃত্যুপথযাত্রীর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে। কিন্তু মানুষেরও ধৈর্যের সীমা আছে। আছে পাশবিকতারও মানদণ্ড। মাওলা বক্স হাঁপিয়ে ওঠে ফজলে এলাহির জীবনের কদর্যপূর্ণ পশুসম বীরত্বের কাহিনী শুনে। তাই তো আনমনেই ভাবে সে, “মানুষের নিষ্ঠুরতার কাহিনী শোনার চাইতে যন্ত্রণাদায়ক আর কিছু নেই।” আবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিচারের দায়ভার না নিতে। কিন্তু সেও তো মানুষ। তার ভেতরে জেগে ওঠে বিচারক সত্তা। সে ভাবে, “আমরা সকলেই জ্ঞাতসারে কি অজ্ঞাতসারে নিষ্ঠুর কাজকর্মের অনুষ্ঠান করে যাই। কিন্তু সেগুলো অন্য মানুষকে শুনতে বাধ্য করা নিষ্ঠুরতার চূড়ান্ত। কারো কথা ধৈর্য ধরে শুনলে নিজেকে বিচারকের আসনে দাঁড় করাতে হয়। মানুষের মনের মধ্যে এমন কিছু উপাদান আছে সততই বিচার করতে প্রবৃত্ত হয়।” এই অংশে দেখা যায় সমাজের বাস্তবতা—বিশেষত ক্ষমতাহীন শ্রেণীর বিচারের যে অভিপ্রায় আজকের সমাজবাস্তবতায় আমরা দেখি, তা স্বভাবসিদ্ধ ও প্রকৃতি নির্ভর—তা মাওলা বক্সের ভাবনা থেকে প্রকাশ পায়। অন্যদিকে সেক্যুলার সমাজের বাস্তবতাও ধরা দেয় ফজলে এলাহির কন্ঠে। বিবেক ও মাওলা বক্সের আদালতে দণ্ডায়মান প্রতাপশালী ফজলে এলাহি বিচারিক দাবিকে নাকচ করে বলেন, “কিন্তু জেনে রাখ, মানুষ মানুষের বিচারক হতে পারে না। যত অপরাধই মানুষ করুক, তার উদ্ধারের একটা পথ অবশ্যই আছে। তুমি তো ধর্মে-কর্মে আস্থা রাখ। নিজামুদ্দীন আউলিয়ার গল্পটা শুনেছ। নিরানব্বইটা খুন করেও সিদ্ধ পুরুষ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। আমি ধরে নিয়েছি ওটা একটা গল্প। তবু অন্তর্নিহিত সত্য আমার ভেতরের মানবসত্তাকে জাগিয়ে দিয়ে যায়। শেষ ঘণ্টা বাজার অধিক বিলম্ব নেই। তবু আমার এখনো মনে হচ্ছে, সবকিছু ফুরিয়ে যায়নি। আছে এখনো আশা আছে। আমার উদ্ধারের একটা উপায় অবশ্যই আছে।” এখানে সেক্যুলার-ধর্মীয় বাইনারি হিসেবে না দেখে ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীনের বাইনারিতে রিড করা সহজ ও যথোপযুক্ত সম্ভবত। ক্ষমতাবান সর্বদা তার দুষ্কর্মের দায় ইতিহাস ও সমাজকে দিতে চায়। ফজলে এলাহিও তার বাইরে নয়। সে একদিকে তার অতীতের কদর্যতা—সৎভাইকে বিষ খাইয়ে হত্যা, বিবাহিত নারীর পেটে বাচ্চা পয়দার পর বউটির আত্মহত্যা, কিংবা হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘরে আগুন দেওয়া— এই ঘটনাগুলোকে সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে দায়মুক্তি চায়। এতে করে ইতিহাসের নানা ঘটনাও বর্ণনা করে। ফজলে এলাহি দায়মুক্তি নিতে বলে, “বুঝলে মাওলা বক্স, আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ে অংশ নিয়েছি। অনেক শিশু, অনেক বৃদ্ধ, নিরাপরাধ মানুষ মারা পড়েছে। অনেক নারীর সতীত্ব হরণ হয়েছে। এগুলো নিষ্ঠুর হৃদয়হীন কর্ম মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা এগুলোকে তত খারাপ মনে করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান আদায় করা। 'কান মে বিড়ি মুখে পান লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।' এসব কর্মের অনুষ্ঠান না করলে পাকিস্তান দাবি সফল হত না। আমরা পাকিস্তান সম্ভব করেছিলাম বলে আজকে তোমাদের বাংলাদেশ হয়েছে। খুন, ধর্ষণ, জ্বালানো, পোড়ানো, মানুষকে কষ্ট দেওয়া এসব প্রাণ থেকে সমর্থন করিনে বটে, কিন্তু এসবের প্রয়োজনও অস্বীকার করতে পারিনে।” কিন্তু মাওলা বক্স বারবার তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। ফজলে এলাহিও মুক্তি চান। তাই তো অতীতের পাপরাশির মাঝে খুঁজতে থাকে একবিন্দু পূণ্য। সেই একটি ঘটনাকে বিবৃত করে দায়মুক্তি নিতে চায়। সে ভাবে না পরকালের কথা, স্বর্গ কিংবা নরক কোনোটাই পাওয়ার ইচ্ছা কিংমা শঙ্কা তার মধ্যে নেই। কিন্তু সে ভয় করে, তার অবর্তমানে তার চেয়েও নিকৃষ্টতর লোক তার নিন্দে করে সমাজে সাধুকথা বলবে। সে নিজেকে পশু মনে করে ঠিক। কিন্তু সেটা বাঘ হিসেবে। সে চায় না কোনো কোনো বেজি তাকে শিয়ালের সাথে তুলনা করুক। তাই সে সবকিছু খুলে বলতে চায় মাওলা বক্সকে। এই গেল একদিক। আবার উপন্যাসে ফুটে ওঠেছে তৎকালীন সমাজের নির্মম সত্য। ফজলে এলাহির মুখে ছফা সে সমাজকে চিত্রিত করেন এভাবে, “গ্রামে ডাক্তার কবিরাজরা ছিল হিন্দু, রোগীরা মুসলমান। উকিল-মোক্তার হিন্দু, মক্কেল মুসলমান। মহাজন হিন্দু, খাতক মুসলমান। জমিদার হিন্দু, প্রজা মুসলমান।” সমাজের এই করুণ বাস্তবতার সময় ফজলে এলাহি পড়তে যান ফাজিলপুর ইস্কুলে। যেই গ্রামে সংখ্যায় মুসলমানদের আধিক্য থাকলেও আর্থ-সামাজিক বিবেচনায় ছিল পিছিয়ে। তাই তো ইস্কুলের কুলদা বাবু মুসলমান ছেলে দেখলে ভ্রুকুটি দেন। ফজলে এলাহির জবানে,“আমাদের স্কুলে কুলদা শঙ্কর বিসিংগিরি নামে একজন সেকেন্ড মাস্টার ছিলেন। কুলদাবাবু সুযোগ পেলেই মুসলমান জাতটাকে কষে নিন্দে করতেন। কোন মুসলমান ছেলে লেখাপড়ায় খারাপ করলে মুখ ভ্যাংচে বলতেন, ব্যাটা মুসলমান লাঙল ঠেলা বাদ দিয়ে পড়াশোনার শখ কেন। আবার কোন মুসলমান ছাত্র লেখাপড়ায় আশাতীত ভাল করলে তারও চুল টেনে আদর করে বলতেন, ব্যাটা যবন নন্দন তোর বেশ লেখাপড়া হচ্ছে, নিশ্চয়ই পূর্ব জন্মে তুই হিন্দু ছিলি।” সমাজের নির্মম বাস্তবতার এই টানপোড়েনে মাঝেই সেসময় মুসলমান ছেলেপেলে পড়তে থাকে। কিন্তু জাতঘৃণা তাদের ভেতর গজিয়ে ওঠে ক্রমশ। প্রতিবাদস্বরূপ কুলদাবাবুকে ঘৃণা করতে থাকে। ফজলে এলাহির জবানে, “তারা (মুসলমান ছাত্ররা) স্কুলের পায়খানাটিতে শালা কুলদা, খানকিরপুত কুলদা, তোকে আচ্ছা করে গরুর মাংস খাওয়াব- এই জাতীয় ভাল ভাল কথা লিখে রেখেছিল। ওই ল্যাট্রিন সাহিত্যের সংবাদ কুলদাবাবুর কান পর্যন্ত পৌঁছেছিল কিনা আমি বলতে পারব না।” (মানে তখনও বাথরুমসাহিত্য ছিল। হাহাহা!) এই ক্ষোভ তাদের মাঝে আত্মসচেতনতা জাগিয়ে তুলে। ইস্কুলে স্বরসতী পূজা হলে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানও হতে হবে। এই আত্মসচেতনতায় তারা হেডমাস্টার বরাবর অনুলিপি দেয়। কিন্তু সেখানেও কুলদা বাগড়া দিয়ে মুসলমানদের নিন্দা করতে থাকেন। ফলত তাদের ভেতর ক্রমশ ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে থাকে। পরবর্তীতে দেখি মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠান হলেও ক্ষোভ শেষ হয়নি। তাই তো একদিন ফজলে এলাহি ও আবদুল বাকি কুলদা বাবুর মাথায় প্রস্রাব করে দেয়। কিন্তু এতে হিন্দু সমাজ ফুঁসে ওঠলেও মুসলিম চাষাভুষারা এই ঘটনাকে সেলিব্রেট করতে থাকে। আবার এই দ্বন্দ্বের শেষে পাকিস্তান আমলের ক্ষতও ওঠে এসেছে ছফা'র কলমে। ফজলে এলাহির জবানে,“গীতা বলে হিন্দুদের একটা ধর্মগ্রন্থ আছে। অমন আঁতকে উঠলে কেন? হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থে কি ভাল কথা থাকতে নেই। তেইশ বছর পাকিস্তানে বাস করে তোমাদের মনের আকাশ সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে।” মোটকথা, ‘মরণ বিলাস’ আহমদ ছফা'র এক দুর্দান্ত উপন্যাস। এতে সমাজের নানা টানপোড়েনের ইতিহাস ওঠে এসেছে এক মৃত্যুপথযাত্রীর জবানে। বইটি উৎসর্গ করেছেন আরেক সুসাহিত্যিক রশীদ করীমকে। প্রকাশ করেছে হাওলাদার প্রকাশনী। পড়তে পারেন।

Review Upload 1
Review Upload 2

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)