

Buy জাহান্নম হইতে বিদায় Online in Bangladesh
লেখক: শওকত ওসমান
- Author: শওকত ওসমান
- Publisher: সময় প্রকাশন
- Isbn: 9847011406600
- Number Of Pages: 79
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Print, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"জাহান্নম হইতে বিদায়" বইটি সম্পর্কে কিছু কথা: জাহান্নম হইতে বিদায় বইটি শওকত ওসমানের একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। কিন্তু অনন্যতার দাবী রাখে এই উপন্যাস। কারন মুক্তিযুদ্ধের অন্যসব উপন্যাসের মতো করে রচিত হয়নাই। এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রারম্ভ, যুদ্ধের নৈতিক দিক, যুদ্ধের প্রস্তুতি ইত্যাদি বিষয়ের দিকে অধিক আলোকপাত করেছেন। এই উপন্যাসের চরিত্রগুলোও হাতে গোনা! তাও সকলকে ঠিক পাওয়া যায়না। তাছাড়া এই বইয়ের ভেতর দিয়ে শওকত ওসমান যুদ্ধের সময় চীনের অবস্থানের কারনে চীনকে কটাক্ষ করেছেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

সেরা বই!

#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বইঃ জাহান্নম হইতে বিদায় লেখকঃ শওকত ওসমান প্রকাশনীঃ সময় প্রকাশন পৃষ্ঠাঃ ৭৯ মূল্যঃ ১২০ টাকা। কিছু বই থাকে যা পড়ার পর মনে আলাদা একটা আত্মতৃপ্তি আসে। তখন চোখ বন্ধ করেই আমরা সেই বইগুলোর গায়ে ভালো বইয়ের ট্যাগ লাগিয়ে দেই। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে লেখা শওকত ওসমানের "জাহান্নম হইতে বিদায়" ঠিক তেমনই একটা বই। “জাহান্নম হইতে বিদায়” উপন্যাসটি মূলত পোড় খাওয়া এক স্কুল শিক্ষকের বিমর্ষ চোখে দেখা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের কিছু খন্ডচিত্র। গল্পের সেই প্রবীণ শিক্ষক যার নাম গাজী রহমান, তিনি নরসিংদীর একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাড়িটি অবশ্য তাঁরই এক পুরাতন ছাত্র ইউসুফের। যুদ্ধের বয়স তখন কেবল দেড় মাস। গাজী রহমান যে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন বিষয়টা এমন নয়। কিন্তু তাঁর স্কুল বিভিন্ন কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ফলস্বরূপ গাজী রহমানের নাম ওঠে গেছে হানাদার বাহিনীর কালো তালিকায়। এরপর থেকে সকলের মুখেই ঐ এক কথা, “তোমার প্রাণ সংশয়াপন্ন। অতএব, নিরাপদ কোথাও চলে যাও।” শুরু হয় পৌঢ় শিক্ষকের জীবন রক্ষার আদিম তাগিদে অনিশ্চিত গন্তব্যে পথচলা। সেই ভয়াল যাত্রাপথে আগুনে পোড়া গ্রামের দেখা পায় গাজী রহমান। এমন অদ্ভুতভাবে কোনকিছু যে পুড়তে পারে তা তার জানাই ছিল না। পোড়া কড়িকাঠ ঝুলে আছে, নিচেই ভিটেতে লেপ্টে আছে কালো ছাইয়ের দাগ। ছোট ছোট খেজুরের গাছগুলো ঝলসানো দেহেই বাতাসে আন্দোলিত। সবকিছু যেন বর্বরতার সাক্ষীরূপে চারপাশের সবুজকে ব্যঙ্গ করছে। দেখা হয় এক বৃদ্ধের সাথে। সে শুনায় কেমন করে তাকে দিয়ে দোকান লুট করিয়েছে পাক হানাদারেরা। নদী পথে দেখা হয় এক পৌঢ়া মহিলা ও তার কিশোর সন্তান ফালুর সাথে, যাদের জীবন বেঁচেছিল অন্য আরেকটি জীবনের বিনিময়ে। সেই অবলম্বনকে হারিয়ে তারা ফিরে যাচ্ছিল গ্রামে। শুধু ঐ দুজনই নয়, অজস্র মানুষ প্রাণভয়ে একবস্ত্রে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। তাদের গন্তব্য ছিল অনিশ্চিত, তবু তারা যাচ্ছে। কিন্তু যে জাহান্নম থেকে তারা বিদায় নিতে চাচ্ছে সেই মুক্তি কি এত সহজে মিলবে? এখানে যে চতুর্দিকে যমের আয়োজন। নদী-নালায়, ঝোপে-ঝাড়ে, গঞ্জে-বন্দরে, পথে-প্রান্তরে এমনকি মানুষের নিভৃত কক্ষেও। যমদূত তার জাল ছড়িয়েছে সর্বত্রই। সেই জালের ভেতরে আহতের গোঙানি, ধর্ষিতার আর্তনাদ, অসহায় মানুষের ফরিয়াদ সব একাকার হয়ে পাক খাচ্ছে শব্দের একটি বিশাল কুণ্ডের মধ্যে। সেখানে কেবল একটি শব্দেই আছে সমাধান। তা হলো মৃত্যু। গাজী রহমানসহ তারা কি পেরেছিলেন সেই শব্দকে ডিঙিয়ে যেতে? জাহান্নম থেকে বেরিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে? শওকত ওসমান বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথম সারির লেখক। সমাজ ও সমসাময়িক বাস্তবতাই ছিল তাঁর লেখার মূল হাতিয়ার। সমাজের বাস্তব করুণ চিত্র এবং সমকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার বিভিন্ন ঘটনাকেই তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে স্থান দিয়েছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তিনি চারটি উপন্যাস লিখেছেন। সবকটিতেই তিনি ধরা দিয়েছেন একজন স্বার্থক কথাশিল্পী হিসেবে। "জাহান্নম হইতে বিদায়" উপন্যাসটির কলেরব ছোট। কারণ কোনো ধারাবাহিকতা নেই। কাহিনীর এতটা উত্থান পতনও নেই। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পরবর্তী দেড় মাস জুড়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যে তাণ্ডব বয়ে গিয়েছিল তাই সংক্ষেপে উঠে এসেছে। তবে কলেরব ছোট হলেও কাহিনীর গাঁথুনি বেশ মজবুত। সত্যিকার অর্থেই সেই সময় দেশ জাহান্নম হয়ে উঠেছিল। অল্প পরিসরে ঐ সামাজিক দুর্যোগের সম্যক পরিচয়দান কঠিন ছিল। কিন্তু লেখক তা পেরেছেন । ব্যক্তি গাজী রহমানের আড়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন যুদ্ধপীড়িত একটা দেশের দেড় মাসের কিছু চালচিত্র। সেখানকার আতঙ্কজনক পরিস্থিতি, স্বজন হারানোর বেদনা, চেকপোস্ট পার হওয়ার ভয়াল অভিজ্ঞতা ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী মানুষের জনজীবন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকেই লেখক কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। লেখকের সেই ভয়াল যাত্রাপথের বাস্তব অভিজ্ঞতা আর কল্পনার মিশেলেই পরবর্তীতে রচিত হয়েছিল এই উপন্যাস। বাঙালি মধ্যবিত্তের মানসিক দ্বন্দ্ব, আক্রান্ত ও শত্রুকবলিত স্বদেশের মাটি থেকে প্রানভয়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের বিবরণ, হানাদার বাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের নির্মমতার চিত্র-এই বিষয়গুলো গাজী রহমানের চরিত্রের মাধ্যমে সাবলীলভাবেই উঠে এসেছে। এই চরিত্রটির মধ্যে একটা দ্বন্দ্বও কাজ করেছে সবসময়। কী করবেন? সবুজ মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, নাকি সংকটকালেও মাটি আঁকড়ে ধরে রাখবেন? লেখকের শব্দচয়ন আর ভাষা প্রয়োগ প্রশংসা দাবি রাখে। নিবিড় যত্নের ছাপ রয়েছে প্রতিটা বাক্যে। এমন সব উচ্চশ্রেণির শব্দ ব্যবহার করেছেন ফলে ঘটনার বর্ণনাভঙ্গিতে আলাদা একটা ভাবের উদয় হয়েছে। পড়তে গিয়ে পাঠক হয়তো ডুব দিবে সেই ভাব দরিয়ায়। সেখানে স্পষ্টতই দেখতে পাবে লেখক কী চমৎকার সুকৌশলে কাহিনীর চিত্রায়ন করে গেছেন। অনেকগুলো কথা তিনি বলে গেছেন কেবল মাত্র একটি বাক্যের অবতারণায়। শিল্পসাহিত্য বিচারে নামকরণ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লেখক এখানেও সফল। পাক হানাদারের অত্যাচারে সৃষ্ট এই জাহান্নম থেকে বেরিয়ে যেতে গাজী রহমানের যে প্রচেষ্টা তার জন্যই এরূপ নামকরণ। এই ভূখন্ডের সেই সময়ের ভয়াল পরিস্থিতি বুঝা যায় গাজী রহমানের একটা উক্তির মাধ্যমেই- “জোরে চালাও মাঝি। দেখছ না চারদিকে দোজখ? অগ্নিকান্ড দাউ দাউ জ্বলছে? আরো জোরে চালাও, আমি এই নরক থেকে বাইরে যেতে চাই।” সাহিত্যের মানদণ্ডে বিচার বিশ্লেষণ করলে হয়তো আরো অনেক কিছুই উঠে আসবে। কিন্তু মুক্তিকামী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোর যে চিত্রায়ণ লেখক করেছেন তাতেই "জাহান্নম থেকে বিদায়" হয়েছে উপন্যাস হিসেবে স্বার্থক। অনন্য, অসাধারণ।।
Fantastic
মুক্তিযুদ ভালো একটি উপন্যাস

মুক্তিযুদ্ধ সময় কাল নিয়ে দারুন একটি উপন্যাস।























