

Buy একজন কমলালেবু Online in Bangladesh
লেখক: শাহাদুজ্জামান
- Author: শাহাদুজ্জামান
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789849140372
- Number Of Pages: 240
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Edition, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘একজন কমলালেবু’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ বরিশালের নদী, জোনাকি ছেড়ে তাঁকে পা রাখতে হয়েছে আদিম সাপের মতো ছড়িয়ে। থাকা কলকাতার ট্রামলাইনের ওপর । পৃথিবীর দিকে তিনি তাকিয়েছেন বিপন্ন বিস্ময়ে । বলেছেন সন্ধ্যায় সব নদী ঘরে ফিরলে থাকে অন্ধকার এবং মুখোমুখি। বসবার নাটোরের এক নারী। জানিয়ে দিয়েছেন জ্যোৎস্নায় ঘাই হরিণীর ডাকে ছুটে আসা, শিকারির গুলিতে নিহত হরিণের মতো আমরা সবাই। সস্তা বোর্ডিংয়ে।উপার্জনহীনভাবে দিনের পর দিন কুঁচো চিংড়ি খেয়ে থেকেছেন। তবু পশ্চিমের মেঘে দেখেছেন সোনার সিংহ। পিপড়ার মতো গুটি গুটি অক্ষরে হাজার হাজার পৃষ্ঠা। ভরেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ডায়েরি লিখে। সেগুলোর সামান্য শুধু জনসমক্ষে এনেছেন জাদুকরের রুমালের মতো, বাকিটা গোপনে তালাবন্দী করে রেখেছেন কালো ট্রাঙ্কে। বাংলা সাহিত্যের প্রহেলিকাময় এই মানুষ জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে এক নিবিড় বোঝাপড়ায় লিপ্ত হয়েছেন এ সময়ের। শক্তিমান কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান তার। একজন কমলালেবু উপন্যাসে। লেখক পরিচিতিঃ শাহাদুজ্জামান শাহাদুজ্জামানের জন্ম ১৯৬০ সালে ঢাকায়। পড়াশােনা মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন চিকিৎসা নৃবিজ্ঞানে। পেশাগতভাবে তিনি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের গ্রামীণ স্বাস্থ্য প্রকল্পে, পরে অধ্যাপনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও অধ্যাপনায় যুক্ত আছেন । গল্প, উপন্যাস ছাড়াও প্রবন্ধ, অনুবাদ, ভ্রমণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। মাওলা ব্রাদার্স আয়োজিত কথাসাহিত্যের পাণ্ডুলিপি প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়ে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্পগ্রন্থ কয়েকটি বিহ্বল গল্প (১৯৯৬)। কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। Email : [email protected] প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

শাহাদুজ্জামানের লেখা সব সময়ই ভালো লাগে। আর বইটা পড়ে লেগেছে কষ্ট।কী নিদারুণ একটা ধূসর,বিবর্ন জীবন কাটিয়ে গেলেন জীবনানন্দ দাশ।পরতে পরতেই খারাপ লেগেছে,লেগেছে বিষাদ।
একজন জীবনানন্দ। একটি দীর্ঘশ্বাস। চমৎকার হয়েছে। গল্পে পাঠককে আনন্দ দিবে, দু:খ দিবে উদাসীন করে তুলবে

একজন কমলালেবু মিলু, শৈশবের জীবনানন্দ দাশ। বরিশালে কাব্য, প্রজ্ঞা, রূপকথা, ঘাস, ফুল, পাখি মিলিয়ে এক মায়াবী শৈশব ও কৈশোর কেটেছে জীবনানন্দের। জীবনানন্দ ছিলেন নির্জন, নিভৃত, নিম্নকন্ঠ ও মুখচোরা। সবাইকে সন্তুষ্ট করাতে ব্যস্ত। লেখা ছিল তার কাছে মানুষ হবার সমান্তরাল, লোকে না দেখুক , না বুঝুক তবুও লেখার কাজটা করে গেছেন অবিরাম। জগত সংসার বাকি যে কাজই করবার চেষ্টা করেছেন তাদের নাকাল হয়েছেন বারবার। যেকোনো জাগতিক কাজে সাফল্য পেতে হলে যে নূন্যতম সজাগ সতর্ক এক ধরনের প্রবণতা দরকার জীবনানন্দের মগ্ন ব্যক্তিত্বে সেই প্রবণতা ছিল না। প্রবাদ আছে মানুষ স্বপ্ন দেখে আর কোথাও কে একজন হাসে। তাঁর জীবনটাও ছিল ঠিক এমনই। স্ত্রী লাবন্যও সব সময়েই তাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। ব্যক্তি জীবনানন্দ এবং কবি জীবনানন্দ কোনোটাই তাঁর স্ত্রীকে খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেন নি। আর্থিক দুরবস্থা ছিল চরমে।জীবনানন্দ-লাবণ্য দাম্পত্য ছিল অসুখী , অসফল। জীবনানন্দের প্রথম প্রেমিকা খুড়তুতো বোন বেবি বা শোভনাকে সে ভুলতে পারেনি কোনোদিন। তাঁর লেখা গল্পে ব্যাপারটা ফিরে এসেছে বার বার।১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট দেশভাগ স্থির হওয়ায় কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে সপরিবার কলকাতায় ভাই অশোকানন্দের ল্যান্সডাউন রোডের বাড়িতে চলে যান। একান্ত প্রিয় বরিশালে আর ফিরে যাওয়া হয়নি।এটা নিয়েও তাঁর ছিল মনকষ্ট।লিখেছেন প্রচুর। পাঠক প্রিয়তা প্রায় শূন্য।কেউ বুঝেনি তাকে৷ তবুও জীবনানন্দ সাহস হারাননি। আজ না হক মৃত্যুর পর তার সাহিত্য কর্ম আলোড়িত করবে বিশ্বকে এটা তাঁর বিশ্বাস ছিল বরাবরই। কিন্তু মানুষের কাজ এবং সৃষ্টি মানুষকে বড় করে এজন্যই হয়তো বনলতা জীবনানন্দের চেয়েও জনপ্রিয় । জীবনানন্দ জীবনের অন্তিম সময়ে কমলালেবু খেতে চেয়েছিলেন।জড়ানো গলায় বললেন "একটা কমলা লেবু খেতে পারব"।জীবনানন্দ অবশ্য একবার কমলালেবু নামে একটি কবিতাও লিখেছিলেন। লেখক শাহাদ্দুজ্জামানকে জানাতে হয় ধন্যবাদ। এটি আসলে কি একটি উপন্যাস? মনে হয় না , নাকি একটি জীবনকাহিনী, নাকি একজন সাহিত্যিক জীবনানন্দ আর মানুষ জীবনানন্দের বিপন্ন বিস্ময় আখ্যান সেটি পরিষ্কার না হলেও, নিঃসন্দেহে বলা যায়, ‘একজন কমলালেবু’ একটি গবেষণামূলক উপস্থাপনা যা বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। P.S. I am deeply moved and touched. Mr. Das was a mind blowing fated looser.

Not Bad

প্রেম ধীরে মুছে যায় নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয় হয় নাকি? নাম জীবনানন্দ হলেও দুঃখ ছিল তার সারাজীবনের সঙ্গী। প্রেমে পড়েছিল মামাতো বোনের। সে প্রেম আর পূর্ণতা পায়নি। প্রেম সফল হোক আর অসফল জীবন থেমে থাকে না। বিয়ে করলেন সংসার হলো। সংসারে চলতে থাকল টানাটানি। জীবনে অশান্তি সংসারে অশান্তি তবু থেমে থাকেনি সাহিত্য চর্চা। বৃষ্টি এসে শুকনো কাপড় ভিজিয়ে দিয়ে চলে গেলো তবু থামেনি লিখা। লিখা প্রকাশ হলো দৈনিক পত্রিকায় কিন্তু সাহিত্য সমাজে সাড়া ফেলতে পারলেন না উল্টো সাহিত্য সমাজ হাসি তামাশ শুরু করলেন। কবি গুরু পর্যন্ত যার প্রতিভা বুঝতে পারল না। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে এক দুপুর বেলা হাঁটতে হাঁটতে চাপা পরলেন ট্রামের নিচে। দুর্ঘটনা নাকি সুইসাইড? নিজের সফলতা দেখে না যেতে পারলেও জীবনানন্দ দাশ হয়ে ওঠেন বাংলার নির্জনতম কবি। বাংলা সাহিত্যের এক রত্ন যাকে বলা হল রূপসী বাংলার কবি। যাকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য কল্পনা করা যায় না। জীবনানন্দ লিখেছেন হাজার পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে সামান্য অংশ, বাকিটা রেখেছে তালাবন্ধ ট্রাঙ্কে। জীবনানন্দ দাশের কবি হয়ে ওঠার জীবনী গল্প। শাহাদুজ্জামান এক অন্যরকম শক্তিশালী লেখক। কবির জীবন আলোচনা করতে তুলে এনেছেন সেই সময়ের সাহিত্য সমাজকে। কখনো ব্যাখা করেছেন জীবনাননন্দের কবিতা কখনো জীবনানন্দের জীবনী। "একবার যখন দেহ থেকে বার হয়ে যাব আবার কি ফিরে আসব না আমি পৃথিবীতে? আবার যেন ফিরে আসি কোনো এক শীতের রাতে একটা হিম কমলালেবুর করুণ মাংস নিয়ে কোনো এক পরিচিত মুমূর্ষুর বিছানার কিনারে"। শাহাদুজ্জামান কবির এই ইচ্ছাকেই পূর্ণ করতেই বোধহয় বইয়ের নাম রেখেছেন একজন কমলালেবু।























