

Buy দত্তা Online in Bangladesh
লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Author: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Publisher: দি স্কাই পাবলিশার্স
- Isbn: 9848260803
- Number Of Pages: 111
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দত্তা প্রথম পরিচ্ছেদ সেকালে হুগলি ব্রাঞ্চ স্কুলে হেডমাস্টারবাবু বিদ্যালয়ের রত্ন বলিয়া যে তিনটি ছেলেকে নির্দেশ করিতেন, তাহারা তিনখানি বিভিন্ন গ্রাম হইতে প্রত্যহ এক ক্রোশ পথ হাঁটিয়া পড়িতে আসিত। তিনজনের কি ভালবাসাই ছিল! এমন দিন ছিল না যেদিন এই তিনটি বন্ধুতে স্কুলের পথে ন্যাড়া বটতলায় একত্র না হইয়া বিদ্যালয়ে প্রবেশ করিত! তিনজনেরই বাড়ি ছিল হুগলির পশ্চিমে। জগদীশ আসিত সরস্বতীর পুল পার হইয়া দিঘড়া গ্রাম হইতে, এবং বনমালী ও রাসবিহারী আসিত দুইখানি পাশাপাশি গ্রাম কৃষ্ণপুর ও রাধাপুর হইতে । জগদীশ যেমন ছিল সবচেয়ে মেধাবী, তাহার অবস্থাও ছিল সবেচেয়ে মন্দ। পিতা একজন ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত । যজমানি করিয়া বিয়া-পৈতা দিয়াই সংসার চালাইতেন। বনমালীরা সঙ্গতিপন্ন জমিদার। তাহার পিতাকে লোকে বিত্তশালী ব্যক্তি বলিয়াই জানিত, অথচ পল্লীগ্রামের সরল জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতেন। রাসবিহারীদের অবস্থাও বেশ সচ্ছল। জমিজমা চাষবাস পুকুর-বাগান— পাড়াগাঁয়ে যাহা থাকিলে সংসার চলিয়া যায়, সবই ছিল। এ-সকল থাকা সত্ত্বেও যে ছেলেরা কোন শহরে বাসাভাড়া না করিয়া—ঝড় নাই, জল নাই, শীত-গ্রীষ্ম মাথায় পাতিয়া এতটা পথ হাঁটিয়া প্রত্যহ বাটী হইতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করিত, তাহার কারণ, তখনকার দিনে কোন পিতামাতাই ছেলেদের এই ক্লেশ- স্বীকার করাটাকে ক্লেশ বলিয়াই ভাবিতে পারিতেন না; বরঞ্চ মনে করিতেন, এতটুকু দুঃখ না করিলে সরস্বতী ধরা দিবেন না। তা কারণ যাই হোক; এমনি করিয়াই ছেলে-তিনটি এন্ট্রান্স পাশ করিয়াছিল। বটতলায় বসিয়া ন্যাড়া বটকে সাক্ষী করিয়া তিন বন্ধুতে প্রতিদিন এই প্রতিজ্ঞা করিত—জীবনে কখনও তাহারা পৃথক হইবে না, কখনও বিরাহ করিবে না, এবং উকিল হইয়া তিনজনেই একটা বাড়িতে থাকিবে; টাকা রোজগার করিয়া সমস্ত টাকা একটা সিন্দুকে জমা করিবে, এবং তাই দিয়া দেশের কাজ করিবে । এই ত গেল ছেলেবেলার কল্পনা। কিন্তু যেটা কল্পনা নয়, সত্য, সেটা অবশেষে কিরূপ দাঁড়াইল, তাহাই বলিতেছি। বন্ধুত্বের প্রথম পাকটা এলাইয়া গেল বি. এ. ক্লাসে। কলিকাতায় কেশব সেনের তখন প্রচণ্ড প্রতাপ ৷ বক্তৃতার বড় জোর। সে জোর পাড়াগাঁয়ের ছেলে-তিনটি হঠাৎ-সামলাইতে পারিল না—ভাসিয়া গেল । গেল বটে, কিন্তু বনমালী এবং রাসবিহারী যেরূপ প্রকাশ্যে দীক্ষা গ্রহণ করিয়া ব্রাহ্মসমাজভুক্ত হইল, জগদীশ সেরূপ পারিল না—ইতস্ততঃ করিতে লাগিল। সে সর্বাপেক্ষা মেধাবী বটে, কিন্তু অত্যন্ত দুর্বলচিত্ত। তাহাতে তাঁহার ব্রাহ্মণ-পণ্ডিত পিতা তখনও জীবিত ছিলেন। কিন্তু ও-দুটির সে বালাই ছিল না। কিছুকাল পূর্বে পিতার পরলোকপ্রাপ্তিতে বনমালী তখন কৃষ্ণপুরের জমিদার, এবং রাসবিহারী তাহাদের রাধাপুরের সমস্ত বিষয়-আশয়ের একচ্ছত্র সম্রাট। অতএব অনতিকাল পরেই এই দুই বন্ধু ব্রাহ্ম-পরিবারে বিবাহ করিয়া বিদুষী ভার্যা লইয়া গৃহে ফিরিয়া আসিলেন। কিন্তু দরিদ্র জগদীশের সে সুবিধা হইল না।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বাল্যকালের ত্রিরত্ন তিন বন্ধুর তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে এ উপন্যাসের অবতারণা। বনমালীর মেয়ে বিজয়া, রাসবিহারীর ছেলে বিলাসবিহারী এবং জগদীশের ছেলে নরেন্দ্র। এর মধ্যে বিলাস আর বিজয়া মোটামুটি ছোটবেলা থেকেই পরিচিত। আর নরেনকে ওদের দুজনের কেউ চেনেনা। কারণ, কলেজে পড়াকালীন বনমালী আর রাসবিহারী ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করে, আবার জগদীশের থেকে ওদের আর্থিক অবস্থা বরাবরই বেশ ভাল। জগদীশ শেষ বয়সে মাতাল হয়ে বনমালীর কাছে অনেক ঋণ রেখে মারা যায়। আর বনমালী মারা যাওয়ার সময় মেয়েকে বিশাল জমিদারীর মালিক করে যায়, আর সবকিছু দেখাশোনার ভার থাকে রাসবিহারী আর বিলাসবিহারীর ওপর। রাসবিহারী চায় বিলাসের সাথে বিজয়ার বিয়ে দিয়ে রাজ্যসহ রাজকন্যা পেতে। মৃত্যুর পূর্বে বিজয়ার চোখে-মুখেও সম্মতির চিহ্ন দেখতে পায় বনমালী। তাই আর নিজের মনের বাসনা মেয়ের ওপর চাপিয়ে দিয়ে যায়না। মিয়া-বিবি রাজি, তো কেয়া কারেগা কাজি? নরেনের এখানে কি ভূমিকা বাপু? হে হে, সেটা জানতে হলে তো বইটা পড়তে হবে জনাব। নিশ্চয়তা দিলাম, লেখক আপনাকে নিরাশ করবেননা, শেষ পাতা পর্যন্ত আটকে রাখবেন। এক কথায় দারুণ লেগেছে। আগে শরৎবাবুর উপন্যাসের পুরুষ চরিত্রগুলোর ওপর রাগ উঠত। আগে পড়া উপন্যাসগুলোর মধ্যে শুধু বিপ্রদাসকে আর চন্দ্রনাথ কে ভাল লেগেছিল। কিন্তু ব্যতিক্রম এই দত্তা। বিলাস বা নরেন কেউই অন্তত মেরুদন্ডহীন নয়, যেটা অন্যদের মনে হত। আর লেখকের উপন্যাসগুলোকে বেশি ভাল লাগে তার বলিষ্ঠ নারী চরিত্রগুলোর জন্য। একেকজন একেক মহিমার অধিকারিণী। আর একেকজনের দৃঢ় মানসিক শক্তি যেন নিজেকেও অনুপ্রাণিত করে। বিজয়াও ব্যতিক্রম নয়। নানান মানবীয় গুণাবলীর সমাহার দেখা যায় তার মধ্যে। সে যেমন নম্রতা জানে, গুরুজনদের সম্মান করে, তেমনি আবার সময়ে সঠিক কথা মুখের ওপর বলতেও জানে। নিজের অবস্থান, দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন এক নারী। দারুণ পছন্দনীয় একটা চরিত্র। আর মানুষ হিসেবে মনের টানাপোড়ন লেখক খুবই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন, এখানেও তার অন্যথা হয়নি।























