

Buy চরিত্রহীন Online in Bangladesh
লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Author: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Publisher: নুসরাত প্রকাশনী
- Isbn: 9846390017
- Number Of Pages: 240
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2013
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পশ্চিমের একটা বড় শহরে এই সময়টায় শীত পড়ি-পড়ি করিতেছিল। পরমহংস রামকৃষ্ণের একে চেলা কি একটা সকর্মের সাহায্যকল্পে ভিক্ষা সংগ্রহ করিতে এই শহরে আসিয়া পড়িয়াছেন। তাঁহারই বক্তৃতা-সভায় উপেন্দ্রকে সভাপতি হইতে হইবে এবং তৎপদমর্যাদানুসারে যাহা কর্তব্য তাহারও অনুষ্ঠান করিতে হইবে। এই প্রস্তাব লইয়া একদিন সকালবেলায় কলেজের ছাত্রের দল উপেন্দ্রকে ধরিয়া পড়িল। উপেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিলেন, সৎকর্মটা কি শুনি? তাহারা কহিল, সেটা এখনাে ঠিক জানা নাই। স্বামীজী বলিয়াছেন, ইহাই তিনি আহুত সভায় বিশদরূপে বুঝাইয়া বলিবেন এবং সভার আয়ােজন ও প্রয়ােজন অনেকটা এইজন্যই। উপেন্দ্র আর কোন প্রশ্ন না করিয়াই রাজী হইলেন। এটা তাহার অভ্যাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলি এতই ভাল করিয়া পাশ করিয়াছিলেন যে, ছাত্রমহলে তাহার শ্রদ্ধা ও সম্মানের অবধি ছিল না। ইহা তিনি জানিতেন। তাই, কাজে-কর্মে, আপদে-বিপদে তাহারা যখনই আসিয়া পড়িয়াছে, তাহাদের আবেদন ও উপরােধকে মমতায় কোনদিন উপেক্ষা করিয়া ফিরাইতে পারেন নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতীকে ডিজাইয়া আদালতের লক্ষ্মীর সেবায় নিযুক্ত হইবার পরও ছেলেদের জিন্যাস্টিকের আখড়া হইতে ফুটবল, ক্রিকেট ও ডিবেটিং ক্লাবের সেই উঁচু স্থানটিতে গিয়া পূর্বের মত তাহাকে বসিতে হইত।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
★গল্পের নায়ক কে? সতীশ না কি উপীন? কার ভালোবাসা প্রকট? সাবিত্রী, কিরণময়ী, সুরবালা না কি সরোজিনীর? কে ভালোবাসায় অন্ধ হয়েছে আর কেই বা সবটুুকু উজাড় করে ভালোবেসেছে এ যেনো বোঝা মুশকিল.. আঘাত দেওয়াটাই যেন প্রমাণ করে কার ভালোবাসার গভীরতা কতটুকু। ★সতীশ যখন কলকাতায় ডাক্তারি শিখতে গেলো তখন তার দাসী নিযুক্ত হয়েছিল সাবিত্রী। সে যেনো দাসীর চেয়েও বড়ো কিছু। যার কাছে নত হয় সতীশ, যাকে ভয় পায়, যাকে ভরসা করে। শুধু কি এইটুকু? তারচেয়ে বেশি ছিলো ভালোবাসা। এই ভালোবাসা প্রকাশ করতে যতো বাঁধা। কিন্তু যেদিন প্রকাশ করতে পারলো সেদিনই ভুল ভাঙলো তার। এতোদিন পর তার মনে হলো, ভালো শুধু সেই বেসেছে, অপর পক্ষের মানুষ বাসেনি। কিন্তু সেই সাবিত্রীর মনের কথা সে ধরতে পারেনি। তাকে দেওয়া ব্যথা যেন উল্টো সাবিত্রীকেই দংশন করছে।যেদিন সতীশ জানতে পারে সাবিত্রীর ঘরে বিপিনের উপস্থিতির কথা সেদিনই যেনো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায় সতীশের মন ভালোবাসায় জায়গাই স্থান করে নেয় ঘৃণা। তবু মন যেন মানতে চায় না। ★উপীন যাকে সতীশ দাদা বলে সম্বোধন করে, যে তার কাছে বন্ধুর মতো, শ্রদ্ধার পাত্র, পৃথিবীতে তার চেয়ে আপন আর কেউ নই সতীশের কাছে। উপীনের মৃত্যু পথযাত্রী বন্ধু হারানকে দেখতে গিয়ে তাদের সাক্ষাৎ হলো হারানের স্ত্রী কিরণময়ীর সাথে। অপরূপা এই নারী যেনো তার রূপ দিয়েই সবাইকে ঘায়েল করে। কিন্তু এতো রূপ সত্ত্বেও সে কখনো স্বামীর ভালোবাসা পায়নি, আদর যত্ন পায়নি। সময়ের পরিক্রমায় এই নারী তার মনে স্থান দিয়ে দিলো উপীনকে। কিন্তু উপীন কখনো অন্যায়ের দিকে পা বাড়ায়নি। স্ত্রী সুরবালার ভালোবাসায় পূর্ণ তার জীবন। সেই উপীনকে জব্দ করতে কিংবা ভালোবাসা পেতে কিরণময়ী যেনো বেঁচে নিলো অন্য পথ। উপীনকে দগ্ধ করতে সে তারই আদরের দিবাকরকে ভুল পথে নিয়ে গেলো। আরো অনেক অনেক চরিত্র আর ঘটনা দিয়ে পরিপূর্ণ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "চরিত্রহীন" বইটি। কিন্তু যে চরিত্রের কথা না বললেই নয় সে "বিহারী", সতীশের চাকর। এমন ভালেবাসা মনীবের প্রতি, এতো শ্রদ্ধাশীল, এতো কর্তব্যপরায়ণ যে চরিত্রটিকে ভালো না বেসে পারা যায় না। মূলত ভালো না বাসাটাই অন্যায়। শুধু ভালোবাসা কিংবা কর্তব্যপরায়ণতার জন্য নয়, এই চরিত্রটিই যেন গল্পের মোড় বারবার ঘুরিয়ে দিয়েছে, এই চরিত্র দিয়েই যেনো গল্প পূর্ণতা পেয়েছে। ★★রিভিউ লেখার সময় বুঝতে পারছিলাম না কোন ঘটনা বাদ দিব আর কোন ঘটনার বর্ণনা দিব। ভালোবাসার কতো রূপ তাই যেন লেখক বারংবার তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে। ভালোবাসাটাই কি আসলেই চরিত্রহীন করেছে কাউকে? ভুলে পরিপূর্ণ মানুষ। সবচেয়ে ভুল করে বোধহয় ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে। এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে যাতে নিজেও দগ্ধ হয়,অপরকেও দগ্ধ করে। ভুল বুঝাবুঝি মানুষকে অশান্তিতে পূর্ণ করে তুলে। কিন্তু এই ভুল বুঝাবুঝির অবসান হতে হতে জীবনপ্রদীপও নিভু নিভু করে। তবু মানুষ ভুল করে, ভুল করে ভুল মানুষকে ভালোবেসে। বইটা পড়ার সময় কাকে যে ভালো লাগলো, কাকে যে ঘৃণা করলাম নিজেই টের পেলাম না। ঘৃণাটা যেনো পরবর্তীতে গিয়ে দুঃখে পূর্ণ হলো, ঘৃণা করতে চেয়েও ঘৃণা করতে পারলাম না কয়েকটা চরিত্রকে। তবু কষ্ট হলো সাবিত্রীর জন্য। রাগ লাগলো উপীনের উপর। বই: চরিত্রহীন লেখক: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

কেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস জগতের এক অপ্রতিদ্ধন্দী নাম, পাঠকগন এ উপন্যাস পড়লে সহজেই অনুমান করতে পারবেন। প্রেম নামের মনস্তাত্ত্বিক সত্ত্বার কাছে জৈবিক সত্ত্বা কি ভাবে পরাজিত হয়, পাচটি প্রধান চরিত্রের কখনো সাদৃশ্য আবার কখনো ভিন্ন ভাবে মেরুকরণে মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। উপীন, সতীশ, সাবিত্রী, করণময়ী এবং দিবাকর এইকজনের জীবনে প্রেমের ছোয়া কখনো স্বপ্ন আবার কখনো বিভীষীকা হয়ে বার বার ফি রে আসে, কিন্তু অপবিত্র হয় নাহ কখনোই। সতীশ জমিদারের পুত্র হয়েও স্বভিমানের যাতাকল হতে মুক্ত এবং অন্যের প্রতি স্নেহের দায় বদ্ধতায় আবদ্ধ। সাবীত্রী যে কি না সতীশের মন মন্দিরের দেবী, অভিমানে বার বার সতীশ তাকে দূর করে দিয়েছে কিন্তু মন থেকে এক মুহুর্তের জন্য আড়াল করতে পারেনি। আর সাবিত্রী বিধবা হয়ে নিজের সমস্ত টুকু অঞ্জলি দিয়েছে সতীশের প্রেমের মন্দিরে কিন্তু সমাজকে কখনো উপেক্ষা করার সাহস দেখায়নি। সতীশের সাথে আরেক নাম বাধা পরে আছে উপীনের বন্ধুর বোন সরোজিনী। যে কিনা সতীশকে ভালবেসেছে নিভৃতে, কল্পনার আলোতে। উপীনের সাথে আরেকজনের নাম নাহ বলতে নয়, স্ত্রী সুরবালা। এই নারীটি তার সম্পূর্ণ প্রেম, বিশ্বাস, ভক্তি তার স্বামীকে নিবেদন করেছেন। আর উপীনও তার ভালবাসা সন্মান করে নিজেকে সুরপবালার সাথে বেধে রেখেছেন আমৃত্যু। এই প্রবাহের সব থেকে জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো কিরণময়ী, যে সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বিবাহিত হয়েও আরেকজনকে ভালবেসে, উপীনকে ভালোবেসে। জন্ম থেকে শত লাঞ্ছনার স্বীকার হয়ে স্বামীর কাছেও কখনো স্নেহের পরশ নাহ পেয়ে ভিতর থেকে পাষাণ হয়ে যাওয়া কিরনময়ী কখনো যে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে সেই খবর সে নিজেই জানতে পারেনি। তারপর বিদ্রোহের আগুনে যখন উপীনকে দগ্ধ করতে চায়, উপীন তখন সুরবালার বিশ্বাসের শক্ত আবরণে কিরণময়ীকে প্রতিঘাত করে। এরপরেও কিরণময়ীর স্বামী হারানের মৃত্যুর পরে কর্তব্যে বাধা পরে ছোট ভাই দিবাকরকে কিরণময়ীর কাছে রেখে যায়। তারপর দিবাকারের সাথে কিরণময়ীর এক নতুন উপখ্যানের সূচনা হয় । শেষ পর্যন্ত কি কিরণময়ী উপীনের মর্যাদা রাখতে পারবে? সতীশ কি সামজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাবিত্রীকে নিজের করে পাবে? উপীন আর সুরবালা কি তাদের অবিশ্বর ভালবাসা দিয়ে এই নশ্বর পৃথিবী নামক স্থানে একে অন্যকে বেধে রাখতে পারবে? কি হবে সরোজিনীর? এসবকিছু জানতে হলে অবশ্যই এই অসাধারণ উপন্যাসটি পড়তে হবে।























