

Buy চোখের বালি Online in Bangladesh
লেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- Author: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- Publisher: দি স্কাই পাবলিশার্স
- Isbn: 9848260226
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ভূমিকা আমার সাহিত্যের পথযাত্রা পূর্বাপর অনুসরণ করে দেখলে ধরা পড়বে যে ‘চোখের বালি’ উপন্যাসটা আকস্মিক, কেবল আমার মধ্যে নয়, সেদিনকার বাংলা সাহিত্যক্ষেত্রে। বাইরে থেকে কোন ইশারা এসেছিল আমার মনে, সে প্রশ্নটা দুরূহ। সব চেয়ে সহজ জবাব হচ্ছে ধারাবাহিক লম্বা গল্পের উপর মাসিক পত্রের চিরকেলে দাবি নিয়ে। বঙ্গদর্শনের নবদর্শনের নবপর্যায় বের করলেন শ্রীশচন্দ্র। আমার নাম যোজনা করা হল, তাতে আমার প্রসন্ন মনের সমর্থন ছিল না। কোনো পূর্বতন খ্যাতির উত্তরাধিকার গ্রহণ করা সংকটের অবস্থা, আমার মনে এ সম্বন্ধে যথেষ্ট সংকোচ ছিল। কিন্তু আমার মনে উপরোধ-অনুরোধের দ্বন্দ্ব যেখানেই ঘটেছে সেখানে প্রায়ই আমি জয়লাভ করতে পারি নি, এবারেও তাই হল। আমরা একদা বঙ্গদর্শনে বিষবৃক্ষ উপন্যাসের রস সম্ভোগ করেছি। তখনকার দিনে সে রস ছিল নতুন। পরে সেই বঙ্গদর্শনকে নবপর্যায়ে টেনে আনা যেতে পারে কিন্তু সেই প্রথম পালার পুনরাবৃত্তি হতে পারে না। সেদিনের আসর ভেঙে গেছে, নতুন সম্পাদককে রাস্তার মোড় ফেরাতেই হবে। সহ-সম্পাদক শৈলেশের বিশ্বাসছিল, আমি এই মাসিকের বর্ষব্যাপী ভোজে গল্পের পুরো পরিমাণ জোগান দিতে পারি। অতএব কোমর বাঁধতে হবে আমাকে। এ যেন মাসিকের দেওয়ানি আইন-অনুসারে সম্পাদকের কাছ থেকে উপযুক্ত খোরপোশের দাবি করা। বস্তুত ফরমাশ এসেছিল বাইরে থেকে। এর পূর্বে মাহাকায় গল্প সৃষ্টিতে হাত দিই ন।ি ছোটো গল্পের উল্কাবৃদ্ধি করেছি। ঠিক করতে হল, এবারকার গল্প বানাতে হবে এ যুগের কারখানা-ঘরে। শয়তানের হাতে বিষবৃক্ষের চাষ তখনো হত এখনো হয়, তবে কিনা তার ক্ষেত্র আলাদা, অন্তত গল্পের এলাকার মধ্যে। এখনকার ছবি খুব স্পষ্ট, সাজসজ্জায় অলংকারে তাকে আচ্ছন্ন করলে তাকে ঝাপসা করে দেওয়া হয়, তার আধুনিক স্বভাব হয় নষ্ট। তাই গল্পের অবদান যখন এড়াতে পারলুম না তখন নামতে হল মনের সংসারের সেই কারখানা-ঘরে যেখানে আগুনের জ্বলুনি হাতুড়ির পিটুনি থেকে দৃঢ় ধাতুর মূর্তি জেগে উঠতে থাকে। মানববিধাতার এই নির্মম সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার বিবরণ তার পূর্বে গল্প অবলম্বন করে বাংলা ভাষার আর প্রকাশ পায় নি। তার পরে এই পর্দার বাইরেকার সদর রাস্তাতেই ক্রমে ক্রমে দেখা দিয়েছে গোরা, ঘরে বাইরে, চতুরঙ্গ। শুধু তাই নয়, ছোটো গল্পের পরিকল্পনায় আমার লেখনী সংসারের রূঢ় স্পর্শ এড়িয়ে যায় নি। নষ্টনীড় বা শাস্তি, এরা নির্মম সাহিত্যের পর্যায়েই পড়বে। তার পরে পলাতকার কবিতাগুলির মধ্যেও সংসারের সঙ্গে সেই মোকাবিলার আলাপ চলেছে। বঙ্গদর্শনের নবপর্যায় এক দিকে তখন আমার মনকে রাষ্ট্রনৈতিক সমাজনৈতিক চিন্তার অবর্তে টেনে এনেছিল, আর-এক দিকে এনেছিল গল্পে, এমন কি কাব্যেও, মানবচরিত্রের কঠিন সংস্পর্শে। অল্পে অল্পে এর শুরু হয়েছিল সাধানার যুগেই, তার পরে সবুজপত্র পসরা জমিয়েছিল। চোখের বালির গল্পকে ভিতর থেকে ধাক্কা দিয়ে দারুণ করে তুলেছে মায়ের ঈর্ষা। এই ঈর্ষা মহেন্দ্রের সেই রিপুকে কুৎসিত অবকাশ দিয়েছে যা সহজ অবস্থায় এমন করে দাঁত নখ বের করত না। যেন পশুশালার দরজা খুলে দেওয়া হল, বেরিয়ে পড়ল সিংস্র ঘটনাগুলো অসংযত হয়ে। সাহিত্যের নবপর্যায়ের পদ্দতি হচ্ছে ঘটনাপরস্পরার বিবরণ দেওয়া নয়, বিশ্লেষণ করে তাদের আঁতের কথা বের করে দেখানো। সেই পদ্ধতিই দেখা দিল চোখে বালিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈশাখ ১৩৪৭
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

একজন পুরুষ নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে কীভাবে সমাজ ও পরিবার থেকে দূরে সরে যায় একজন নারীর মোহে পড়ে তাই লিখে গেছেন রবীন্দ্রনাথ

বই: চোখের বালি ধরন: সামাজিক উপন্যাস লেখক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রেটিং : ১০/১০ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "চোখের বালি "(১৯০৩) উপন্যাসটি বাংলা উপন্যাসের পালাবদলে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে। বিনোদিনী এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নায়িকা চরিত্র। এ চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য চরিত্র ও উপন্যাসের মূলকাহিনী গড়ে ওঠেছে। বিনোদিনী আশালতাকে এ উপন্যাসে চোখের বালি বলে ডাকতো। "চোখের বালি" তৎকালীন সমাজ সংস্করনের জন্য লেখা হয়েছিল। চোখের বালি নবপর্যায় বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯০১-১৯০২ সালে এবং বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে। চোখের বালি মূলত একজন যুবতী বিধবার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, কামনা নিয়ে লেখা হয়েছে। আর রয়েছে মানব সংসারের বিভিন্ন সমস্যাগুলো। চোখের বালির কেন্দ্রীয় চরিত্র চারটি- বিনোদিনী, বিহারী, মহেন্দ্র ও আশালতা।গল্পের নায়ক আসলে কে সেটা আমি নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি। মহেন্দ্রর সাথে বিনোদিনীর বিয়ে দিতে চান মহেন্দ্রর মা রাজলক্ষ্মী। বিনোদিনী একজন শিক্ষিত এবং সকল বিষয়ে পারদর্শী সুন্দরী এক যুবতীর। বিনোদিনী বড় হয়েছে বারাসাতের কাছে একটি গ্রামে। যেই গ্রামে মহেন্দ্রর মা রাজলক্ষ্মীর বাপের বাড়ি। বাবা হতদরিদ্র হলেও বিনোদিনী মেম সাহেবের থেকে পড়ালেখা শিখেছে। বিনোদিনীর মা'ও চায় তার মেয়েকে মহেন্দ্রর সাথে বিয়ে দিতে। রাজলক্ষ্মী তার শৈশবের বান্ধবীর মেয়ের সাথে নিজের ছেলের বিয়ে দিতে কোনো আপত্তি করলেন না। কিন্তু মহেন্দ্র বিনোদিনীকে না দেখেই তাকে বিয়ে করবেনা বলে দেয়। মহেন্দ্রর এই সিদ্ধান্তে বিনোদিনীর কপালে স্বামী হিসেবে জুটল বয়স্ক এক ব্যক্তি। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে বিনোদিনীর স্বামী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। স্বামী মারা যাওয়ায় শুরু হয় বিনোদিনীর এক মর্মান্তিক বিধবা জীবন। মহেন্দ্র বিয়ে করে তার কাকীমার বোনের মেয়ে আশালতাকে। আশালতা একজন অনাথ, নিরক্ষর ও সংসার সম্পর্কে কিছুই না জানা এক কিশোরী। কাকীমার অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল যে তার বোনঝিঁকে মহেন্দ্রর সাথে বিয়ে দিবে। কিন্তু মহেন্দ্র আশালতাকে ও বিয়ে করতে চায়না এবং তার বদলে আশালতার সাথে তার শৈশবের বন্ধু বিহারীর বিয়ে দিতে চায়। আশালতাকে যখন তারা দুই বন্ধু দেখতে যায় তখন মহেন্দ্ৰ আশালতাকে দেখেই তার প্রেমে পড়ে যায় এবং নিজেই আশালতাকে বিয়ের করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষে আশালতাকে মহেন্দ্ৰই বিয়ে করে। আশালতাকে বিয়ে করার পর বিহারীর সাধে মহেন্দ্রর সম্পর্ক অনেকটা খারাপ হয়ে যায়। মহেন্দ্রের মা বেড়াতে গিয়ে বিনোদিনী কে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। বিনোদিনীর আগমনে আশালতার সংসারে ভাঙন ধরে কিন্তুু বেচারি আশালতা সেটা বুঝতেও পারেনা। বিনোদিনী আশার দাম্পত্যজীবনের সুখ দেখে মনে মনে ঈর্ষা করে আর প্রকাশ্যে আশালতাকে চোখের বালি বলে ডাকে। এই হলো বিনোদিনী আশালতা চরিত্রের বিশেষ দিক। অন্যদিকে বিনোদিনী মহেন্দ্রকে ঈর্ষা করে। কেননা মহেন্দ্রর জেদের কারণে বিনোদিনীর কপালে আজ এতো দুঃখ। বিনোদিনী একদিকে মহেন্দ্রকে শিক্ষা দিতে চায়, অন্য দিকে বিহারী ভালোবাসে। এই হলো ত্রিভূজ / চর্তুভুজ প্রেমের জটিল বিন্যাস। আবার বিহারী বিনোদিনীকে ভালো না বেসে মহেন্দ্রের বিবাহিত স্ত্রীকে ভালোবাসে। এই ভাবে একে অপরের সাথে এমন একটি জটিল সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই তো হলো নায়ক ও নায়িকা চরিত্রের নানামুখী টানাপোড়েন। আর এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসের সব চরিত্রের গতিপ্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ করে এ উপন্যাসের নামকরণ করেছেন 'চোখের বালি । শেষে এটাই বলতে চাই- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন বড় মাপের শিল্পী। তিনি চরিত্রগুলোর গতিপ্রকৃতি বিচার-বিশ্লেষণ করে উপন্যাসের নামকরণ করেছেন। 'চোখের বালি' একটি চরিত্র প্রধান উপন্যাস। বিহারী-মহেন্দ্র পরস্পর বন্ধু থেকে এক পর্যায়ে এরা একে অপরের শত্রুতে পরিণত হয়। বিনোদিনী-আশালতা প্রথম দিকে সখি বলে মনে হলেও অবশেষে আশা বুঝতে পেরেছে যে বিনোদিনী তার কতটুকু সর্বনাশ করেছে। লেখক কেনো যে শেষভাগে বিহারীর সাথে বিনোদিনীর বিয়ে দিলেন না এ নিয়ে আমার অনেক কৌতূহল রয়ে গেছে। রিভিউ: তানজিলা তিতলী


Nice
Awesome 👌🙌

প্রথমে মুভিটা দেখেছিলাম আমি। পরে বই পড়েছি। অন্যরকম একটা ভালো লাগা আছে বইটার মধ্যে।❤️
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
how many pages are there ?
Dear customer, the book has 144 pages. Thanks for your question.
how many pages are there ?
Dear customer, the book has 144 pages. Thanks for your question.























