

Buy আর কতদিন Online in Bangladesh
লেখক: জহির রায়হান
- Author: জহির রায়হান
- Publisher: অনুপম প্রকাশনী
- Isbn: 9789844042735
- Number Of Pages: 28
- Language: বাংলা
- Edition: 6th Print, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"আর কতদিন" বইয়ের কিছু কথা: বারবার ঘুরে ফিরে এই প্রশ্নখানা এসে বুঝিয়ে দেয়, "আর কতদিন" কোন বিশেষ দেশের গল্প নয়। আবার, কোথাও স্পষ্ট বোঝা যায়, এগল্প কোন বিশেষ ধর্ম, বর্ণ, জাতের মানুষেরও নয়। তবে ২৮ পৃষ্ঠার এই গল্পে কাদের কথা আছে!? তোমার আমার দেশ আলাদা, চল তবে যুদ্ধ করি। ধর্ম আলাদা, চল দাঙ্গায় নামি। বর্ণ আলাদা, তোমার রক্ষে নেই। যুগে যুগে, দেশে দেশে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যত অন্যায়, খুনোখুনি হয়েছে তার একটা সামগ্রিক চেহারা উঠে এসেছে এই বইটিতে। একটা বাক্সে বন্দী কতগুলো মানুষকে ছেলেমেয়ের বাধা তুচ্ছ করে দিনের পর দিন বাঁচিয়ে রাখেন এক মা, খুঁজে ফেরেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছেলে তপুকে। এখানটায় মনে হবে, আপনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন গল্প পড়ছেন। কিন্তু তাড়া খেয়ে পাগলের মত ছোটা তপুর সাথে যখন একই ভাবে তাড়া খেয়ে পালানো লোকদের দেখা হয়ে যায়, আর তাদের বলতে শোনা যায়, "ওরা আমার ছেলেটাকে হত্যা করেছে হিরোশিমায়। ওরা আমার মাকে খুন করেছে জেরুজালেমের রাস্তায়। আমার বোনটাকে ধর্ষণ করে মেরেছে আফ্রিকাতে। আমার বাবাকে মেরেছে বুখেনওয়াল্ডে গুলি করে।", ভুল ভেঙ্গে যায়। খুনি, ধর্ষকের আলাদা কোন চেহারা, দেশ, ধর্ম, জাত নেই। আবার, ধর্ষিত আর খুন হয়ে যাওয়া মানুষগুলো, তাড়া খেয়ে পালানো মানুষগুলোরও আলাদা কোন জাত নেই। মনে হয়, যেন দুটো জাত আছে। একটা জাত মার খায়, আরেকটা জাত মার দেয়! তবু মানুষ ভুলে যায়, ভুল করে। আর তাই তপুর মা ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মূহুর্তে বদলে যান। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাক্সবন্দী মানুষগুলোর উপর চড়াও হতে যান দা, ছুরি, লোহার শিক নিয়ে। কারণ? যারা তপুকে খুন করেছে তাদের আর এদের আশ্রয়ে নির্ভয়ে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, ভাষা এক। অতএব, প্রতিশোধ অনিবার্য!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

মূল কাহিনী: ১৯ জন মানুষ ঘাতকের ভয়ে আত্মগোপন করে, যাদের বৃদ্ধা আশ্রয় দেন এবং তপু ইভাকে উদ্ধার করে.....………।সারসংক্ষেপ: যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে টিকে থাকা, ভয় এবং বর্ণিল আগুনের স্বপ্নের মাঝে এক অসামান্য কাহিনী।মূলভাব: বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ-বিগ্রহের সমাপ্তিরেখা খোঁজা এবং তপুর মায়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছেলেহারা মায়েদের হাহাকার………………………………।কেন পড়বেন: জহির রায়হানের গভীর জীবনবোধ ও যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের জন্য বইটি আজও প্রাসঙ্গিক।

পৃথিবীতে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যত অন্যায়, খুনো*খুনি হয়েছে তার একটি সামগ্রিক চেহারা, জহির রায়হানের লেখা ‘আর কত দিন’ বইটি। এটাকে একটি বড় গল্প কিংবা উপন্যাসিকাও বলা যায়। প্রথম পৃষ্ঠা থেকে শক্তিশালী, সাহসী, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরে বইটি লেখা। এবং এতো চমৎকারভাবে লেখা যে একেবারে শেষ পৃষ্ঠায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত বইটি রাখা যাবে না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা। পরিচিত সেই র*ক্তাক্ত স্মৃতি, নিষ্ঠুরতা, আতঙ্ক এখানে বারবার ধরা পড়েছে। কিন্তু একটু পরেই পাঠক বুঝতে পারবে এই গল্প শুধু একটি সময়ের নয়, এটি অনাদিকাল থেকে চলতে থাকা শোষণের, বৈষম্যের, নিপীড়নের ইতিহাস। মনে হবে এই বই বুঝি গতকাল রাতেই লেখা হয়েছে, এই মুহূর্তেই লেখা হচ্ছে এবং যতদিন পৃথিবীতে নিপীড়ন থাকবে, ততদিন এটি প্রাসঙ্গিক থাকবে। গল্পে দেখা যায়, ১৯জন যুবক, বুড়ো, যুবতী, তরুণ, তরুণীদের, যারা ভয়ে আশ্রয় খুঁজছে। সম্ভবত অন্য ধর্মের লোকেরা তাদের খুঁজছে হ*ত্যা করার জন্য। এক বুড়ি মা তাদেরকে আশ্রয় দেন নিজের বক্স-ঘরে। খাবার-দাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন তাদেরকে। হাঁস-মুরগির মতো সেখানে ঘাপটি মেরে বসে থাকে তারা। আবার সেই মা খুঁজছেন তার হারিয়ে যাওয়া ছেলে তপুকে। এখানটায় মনে হবে আপনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোনো গল্প পড়ছেন। এই বইয়ের দুটি জায়গায় পাঠককে থামতে হবে। মূলত পাঠকের বিবেক থমকে যাবে এবং নিজেকে প্রশ্ন করবে ‘মানুষ এতো নিষ্ঠুর হয় কীভাবে?’ বক্স-ঘরে ঘাপটি মেরে থাকা ১৯ জোড়া ভয়ার্থ চোখ আর নিচে উগ্রবাদীদের হিংস্র র*ক্তচক্ষু। সেই বদ্ধ অন্ধকারে, মৃ*ত্যুর ভয় আর নিঃশ্বাস আটকে রাখার করুণ চাপে এক নারী সন্তান প্রসব করেন এবং বাকিরা শিশুটির মুখ চেপে ধরে, যাতে কোনো শব্দ না হয়। কারণ, এখন শব্দ মানেই মৃ*ত্যু। আবার গল্পের শেষের দিকে দেখা যায় বৃদ্ধা আশ্রিতার দা-বটি স্নান করেছে অসহায়দের র*ক্তে! কিন্তু কেন? আর কতদিন জহির রায়হানের এক অনবদ্য সৃষ্টি৷ পৃথিবীতে যতদিন খু*ন, রাহাজানি, অন্যায়, নিপীড়ন থাকবে ততদিন এই বইটিও থাকবে চির অক্ষয় হয়ে। এবং বার বার মনে হবে এটাতো আগের লেখা নয়, গতকালই বোধহয় লেখা হয়েছে। আরেকটি প্যারা মাথায় ঘুরঘুর করবে তা হলো— “ওরা আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে হিরোশিমায়। আমার মাকে খু*ন করেছে জেরুজালেমের রাস্তায়। আমার বোনটা এক সাদা কুত্তার বাড়িতে বাঁদী ছিলো। তার প্রভু তাকে ধর্ষণ করে মেরেছে আফ্রিকাতে। আমার বাবাকে হ*ত্যা করেছে ভিয়েতনামে। আর আমার ভাই, তাকে ফাঁসে ঝুলিয়ে মেরেছে ওরা। কারণ সে মানুষকে ভীষণ ভালবাসতো।” এই অনুচ্ছেদের সারমর্ম বেশ গভীর। এখানে জহির রায়হানের কণ্ঠে যেন কথা বলছিল আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব-পশ্চিম সব ভূখণ্ডের নিপীড়িত, ক্ষুব্ধ মানুষ। পৃথিবীর যত শোষণ, বৈষম্য আর র*ক্তপাত তার পিছনে যে অমানবিক মুখগুলো লুকিয়ে আছে সেগুলোকে জহির রায়হান চোখের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছেন। বইটি পড়ার পর মনে হবে, খু*নি, ধর্ষকের আলাদা কোনো চেহারা, দেশ, ধর্ম, জাত নেই। মনে হবে জাত আছে মাত্র দুটো; একদল মার খায়, আরেক দল মার দেয়। বইয়ের সারমর্ম, কাহিনি বলার ধরণ আরও গভীর। কেন আশ্রিতা হয়ে উঠলো নরপিশাচ তা জানবেন বইটি পড়লে। একবার পড়লে এই বইটার রেশ থেকে যাবে বহুদিন। আর কত দিন জহির রায়হান অনুপম প্রকাশনী || © মোজাহিদুল ইসলাম মিহাদ।


জহির রায়হানের বরাবর ভালই কিন্তু কেনো জানি মনে হচ্ছে এই বইটা একটু বেশিই ভালো।
সংগ্রহ করে রাখছি ইনশাআল্লাহ

গল্পের শুরুতে দেখা যায়, ১৯ জন নর-নারী ঘাতকদের ভয়ে একটি নোংরা, অন্ধকার প্রকোষ্ঠে লুকিয়ে আছে। তাদের আশ্রয় দেন এক বৃদ্ধা, যার পুত্র তপু নিখোঁজ। তপু খুঁজে চলেছে তার প্রেমিকা ইভাকে। ঘাতকদের আক্রমণ থেকে ইভাকে উদ্ধার করে তপু, এবং তারা একটি ছোট ছেলেকে নিয়ে পালাতে থাকে। অন্যদিকে, তপুর মা বিশ্বজুড়ে ছেলেহারা মায়েদের মিছিলে যোগ দেন, যা মানবতার বিপন্নতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
কত পেইজ ওই বই?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮। ধন্যবাদ।
বইটি কি হার্ড কাভারের???
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।
কত পেইজ ওই বই?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৮। ধন্যবাদ।
বইটি কি হার্ড কাভারের???
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।























