

Buy আমার ছেলেবেলা আমার যৌবন Online in Bangladesh
লেখক: বুদ্ধদেব বসু
- Author: বুদ্ধদেব বসু
- Publisher: মাটিগন্ধা
- Isbn: 9847034306040
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
কোন বুদ্ধদেব? ঢাকার বুদ্ধদেব বসু। কোথায় যেন পড়েছিলাম কবির ব্যাপারে এ কথা। কবির ছেলেবেলা আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম, কিন্তু ছেলেবেলা এবং যৌবন একসাথে পাওয়ায় পাথক হিসেবে স্বার্থক। তার জীবনীর উপর আমার মূল আকর্ষণের কারন জীবনানন্দ দাশ। কারন জীবনানন্দ দাশের জীবনের নানান জরুরী অধ্যায় গুলোতে মাইলফলক হয়ে আছেন বুদ্ধদেব। এছাড়াও সৈয়দ শামসুল হক, বেলাল চৌধুরীর লেখায় ও তার কথা প্রকাশ পেয়েছে। একাধারে কবি হিসেবে, সম্পাদক হিসেবে, সমালোচক হিসেবে স্বার্থক বুদ্ধদেব বসু চড়াইউৎরাই শুরু করেছিলেন জন্ম থেকেই মা হারিয়ে। তারপর একের পর এক সিড়ি ভেংগে গেছেন। যদিও লেখক খুব অল্প বয়সেই সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। বাকিটা বইয়ের পাতায় পড়ুন। ধন্যবাদ।

কল্লোল যুগের পঞ্চপান্ডবের এক অন্যতম প্রধান পান্ডব বুদ্ধদেব বসুর শৈশব আর কৈশোরে বাংলাদেশে কাটানো সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণ এই বই। বুদ্ধদেব বসুর রেজাল্ট নিয়ে এখনো লোকে কথা কয়। সেদিন সৈয়দ শামসুল হকের আত্মকথায়ও দেখলাম বুদ্ধদেব বসুর প্রতি অকৃত্রিম উচ্ছ্বাস। এই ব্যক্তির জীবনী নিয়ে স্বভাবতই আগ্রহ ছিল। তাই তাঁর আত্মস্মৃতি "আমার ছেলেবেলা" মোটামুটি একবসায় পড়ে ফেললাম। বুদ্ধদেব বসু তাঁর বইয়ের পয়লাতেই পাঠককে মনে করিয়ে দিয়েছেন নিজের শৈশব আর কৈশোরের সময়কে তিনি ইতোমধ্যে বন্দি করেছেন নিজের কিছু রচনায়। জন্মেছিলেন বিংশশতাব্দীর প্রথম দশকে কুমিল্লাতে। জন্মের সময়ই মা মারা যায়, বাবা আবার বিয়ে করে।বিমাতার সংসারে যেতে হয়নি। পুলিশে চাকুরে নানা আর নানি তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন নিজের সন্তানের মত। প্রায় শতবর্ষ পূর্বের অবিভক্ত বঙ্গের কুমিল্লার বর্ণনা আছে। দারোগা দাদুর চাকরির জন্য চলে আসতে হয় নোয়াখালিতে। সেই নোয়াখালি আজকের নয়। ব্রিটিশ শাসনকালের নোয়াখালির উচ্চবিত্ত বাঙালি হিন্দু পরিবারের সংস্কৃতির নির্যাস পাই বুদ্ধদেবের স্মৃতিতে। নানা ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিশেষ অনুরক্ত। তাই ইংরেজির প্রতি আলাদা আকর্ষণের জন্যই হোক কিংবা নাতির দুনিয়াবি কল্যাণের কথা ভেবেই হোক - মুখে বোল ফোটার পর থেকেই দাদু তাঁকে ইংরেজি বুলি শিখিয়েছেন। আস্তে আস্তে আগ্রহী করে তুলেছেন ইংরেজি ভাষার প্রতি। আট-নয় বছরে যখন বাঙালি শিশু ইংরেজির ভয়ে তটস্থ থাকে। সেই বয়সে ইংরেজি ছড়া রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু! এহেন ছেলে পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে রেকর্ড পরিমাণ নম্বর পাবে না তো কে পাবে? মা মরা সন্তান বলে নানা-নানিসহ সবার আলাদা স্নেহ পেতেন। বাড়িতে মাসিক সাহিত্য পত্রিকা, সংবাদপত্র রাখবার সংস্কৃতি ছিল। সাহিত্যের বইপত্র পড়ারও ঝোঁক ছিল। সেই সুযোগের শতভাগ সদ্ব্যবহার করেছেন কিশোর বুদ্ধদেব।চড়কা কেটেতেন জেলে যাওয়ার প্রয়াসে। স্বরাজের প্রতীক্ষায় প্রহর গোণা মানুষদের হতাশ হতে দেখেছেন। রবীন্দ্রনাথের লেখার সাথে পরিচয় হওয়ার আগেই পড়ে ফেলেছেন বিস্তর কবিতা, গল্প আর উপন্যাস। রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার নিয়ে অনেকের যতটা আলাদা ভাবালুতা থাকে সযত্নে সেসব এড়িয়ে গেছেন। ক্লাস এইটে ঢাকায় পাকাপাকিভাবে চলে আসেন। ভর্তি হন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে। সেই সময়কার কলেজিয়েট স্কুলের কথা বলতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে স্মরণ করেছেন জগন্নাথ কলেজের কথা। স্বীকার করেছেন স্কুলে পড়া বুদ্ধদেব অবাক বিস্ময়ে দেখতেন কলেজে পড়ুয়া প্রেমেন মিত্তিরকে। স্কুলের স্মৃতিতে সেই সময়ে পাঠ্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পেলাম। ব্রিটিশ সূর্যের গুণকীর্তন অনেকটা পাঠ্যবইয়ের সহায়তায় প্রোপাগান্ডার মত মগজ ধোলাইয়ের কথাও বলেছেন বুদ্ধদেব বসু। ঢাকায় রবীন্দ্রনাথের সংবর্ধনা কিংবা ঢাকার সাহিত্যাঙ্গনের অনেক তারকারাজির নাম পেলাম। যারা এখন কালের ধুলোয় মিশে গেছেন। সাহিত্যিক, সমালোচক বুদ্ধদেব বসু আকাশ থেকে পড়ে একদিনে এতটা স্বমহিমায় সমুজ্জ্বল হয়ে যাননি। এর প্রস্তুতি বুঝি শুরু হয়েছিল তার সেই ইংরেজিভক্ত দাদুর হাত ধরে। এরপর আর থামায় কে? বুদ্ধদেব বসুর স্মৃতিতে বিশশতকের প্রথমের পূর্ববঙ্গের গ্রাম আছে, ঢাকা আছে,সাহিত্য আছে আর আছে বাঙালি মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারগুলোর পারিবারিক আবহের নিখুঁত ছবি। সবই পাবেন বুদ্ধদেব বসুর ঝরঝরে গদ্যে, চমৎকার শব্দের গাঁথুনিতে নির্মিত গতিশীল বাক্যের চলন্ত ট্রেনে। যে ট্রেনের গন্তব্য বিশশতক!























