

Buy আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু Online in Bangladesh
লেখক: শহীদুল জহির
- Author: শহীদুল জহির
- Publisher: মাওলা ব্রাদার্স
- Isbn: 9847015600877
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Printed, 2013
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মৃত্যুর পর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলাে উপন্যাস আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু। এই আবু ইব্রাহীম ছিল একজন অসুখী লােক। অথচ উদ্ভাসিত হাসি বা পত্নী-প্রণয়ের বাইরে ছিল না সে। কিন্তু তার ছিলাে ব্যর্থ প্রণয়ের বিষন্নতা এবং যৌবনে লালিত রাজনৈতিক আদর্শ অর্জনের পথ থেকে সরে আসার গ্লানিবােধ। হেলেন নামের একটি মেয়ে ছিলাে তার সহপাঠী, কয়েকদিন হেলেন ক্লাসে না আসায় তাকে দেখার জন্য। আবু ইব্রাহীমের মন বড় উতলা হয়ে যেত তারপর হেলেন প্রত্যাবর্তনের পর তাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলে আবু ইব্রাহীমের অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়; তার অন্তর বেদনায় ভরে থাকে । হেলেন তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেনি এবং সে ব্যর্থ প্রেমের কাঙালপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়। চত্বরে ছ’বছর ঘুরে বেড়িয়েছিল। আর তার বহুদিন পর বিবাহিত জীবনে স্ত্রী-পুত্র-কন্যার বেষ্টনের মধ্যে আবু। ইব্রাহীমের মনে হয় যে, হেলেনকে ছাড়া সে মরে যায়নি। আবার তার এও মনে হয়, হেলেনের সে প্রেমিক ছিল না, ছিল পূজারি এবং হেলেন দেবীদের মতােই পূজারিকে অবহেলা করতে শিখেছিল। একদিন নিজের কন্যা বিন্দুকে নিয়ে আবু ইব্রাহীম রমনা পার্ক হয়ে সােহরাওয়ার্দি উদ্যানের এক চাঁপাফুল গাছের তলায় বসে অনুভব করে মেয়েটির সঙ্গে গল্প করতে। তার ভালাে লাগে যেমন, অতীতে হেলেনের সঙ্গে কথা বলতে তার ভালাে লাগত। হেলেন তার প্রেমিকা ছিল, মুহুর্তের মধ্যে তার মনে হয় বিন্দুও তার প্রেমিকা। ভালােবাসা যে একটি ব্যাপার তা চাপাফুল গাছ তলায়। বসে নিজের কন্যার সঙ্গে কথা বলার সময় সে বুঝতে পারে। তখন বিন্দুর মাথায় কর স্থাপন করে এবং নিজে আশ্বস্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু অতীত প্রেমিকার আগমন, চলমান সংসার ও সম্মুখ স্বপ্নের মধ্যে আকস্মিক মৃত্যু আসে, আর তখনই সত্য হয়ে ওঠে এই উপন্যাসের অমর সত্যদর্শন-জীবন, আনন্দ এবং বেদনা সর্বদাই একটি খেলামাত্র।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ছাপোষা এক সরকারি অফিসের কর্মকর্তা আবু ইব্রাহীম। গল্পে আমরা আবু ইব্রাহীমকে তেমন স্বাচ্ছন্দময় জীবনের অধিকারী হিসেবে দেখি না। নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে চাওয়া ইব্রাহীমের জীবন তেমন কাটে না। গল্প পড়ে আমরা শুরুতেই জানতে পারি আবু ইব্রাহীম মৃত। তিনি দুষ্কৃতকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তার ক্ষুদ্র জীবনের উপাখ্যান আমরা জানতে পারি তার স্ত্রী, কলিগের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। সবটা জানার পর একটা সময় আমরা উপলব্ধি করতে পারবো যে, আবু ইব্রাহীমের জীবনটা নিছক সাদামাটা ছিলো না। আসলে তার এই জীবনের গল্পের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি অথবা বলা ভালো উপলব্ধি করতে পারি জীবন কি, আর মৃত্যুই বা কি। মৃত্যু তো সবার একদিন হবেই, সেটা নিয়ে চিন্তার কি আছে? তাই যদি হবে তাহলে, সিমা ছিয়েন নামক একজন প্রাচীন চীনা সাহিত্যিক কেনো বলেছিলেন- মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হাল্কা। ইচ্ছা, অনিচ্ছা, পাওয়া না পাওয়া আরো আছে আশা-আকাঙ্ক্ষা, নানা পূর্ণতা ও অপূর্ণতার হিসাব নিকাশ। এই সকল কিছু নিয়েই জীবন। জীবন এতো সহজ হয় না। আবু ইব্রাহীমের জীবনও এসবে পরিপূর্ণ ছিলো। তাই তো যখন অফিস কলিগ তার কাছে জানতে চাইলো ‘আপনি কি দেবতা?’ তখন ইব্রাহীম অনেক সময় নিয়ে উত্তর দিলেন ‘না, আমি দেবতা না’। আমরা দেখি আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুটি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। যা কিনা একদম হাঁসের পালকের মতই হালকা মনে হয়। তার এই শান্ত সরল জীবন কাউকে প্রভাবিত করতে না পারলেও তার এই অতি হালকা মৃত্যুর ঘটনা ছাপ ফেলে যায় অনেকের জীবনে। এক অর্থে সকল মানুষের মাঝে। লেখক শহিদুল জহিরের লেখা অসাধারণ দার্শনিক একটি অতিদীর্ঘ গল্প এটি। যা কিনা সকল পাঠককে এক অন্যভুবনে নিয়ে যায়। চমৎকার শব্দচয়নের মাধ্যমে রচিত এই গল্প আশা করি পাঠক পড়ে আনন্দ পাবেন।
গভীর জীবন বোধ একটি বই

ভালো লাগে নাই

লেখকের অনবদ্য সৃষ্টি। প্রিয় একটা উপন্যাস।

মৃত্যু অনেক অপ্রত্যাশিত এক সত্যের নাম। মানুষ টুপ করেই একদিন মরে যাওয়ার আগে প্রতিদিন বিন্দু বিন্দু করে মৃত্যু হতে থাকে তার৷ কিছু মৃত্যু খুব গুরুত্ব রাখলেও কিছু মৃত্যু হয় গুরুত্বহীন, কর্পূরের উবে যাওয়ার মতো। একজন আবু ইব্রাহীম! তার সাথে আমরা জীবন চিনবো। জীবনের দর্শন, জীবনবোধ দেখবো। জীবনের প্রতি মোড়ে মোড়ে যে কত অপ্রত্যাশিত ঘটনা দাড়িয়ে থাকে তা জানবো৷ জীবনের তুচ্ছ তুচ্ছ ঘটনাগুলো যে কখনও কখনও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় তা জানবো অপ্রত্যাশিত এই জীবনে হুটহাট নতুন অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই আমরা। কখনও কখনও পরম সত্যও হুট করে মিথ্যেয় প্রমাণিত হয়। আবার মিথ্যে হয়ে যায় উপেক্ষা না করতে পারার মতো সত্য। কিছু কিছু মৃত্যু হয় পাহাড়ের মতো ভারী, আবার কিছু মৃত্যু হয় হাসের পালকের মতো হালকা। আমাদের আবু ইব্রাহীমের মৃত্যুটা ছিলো হাসের পালকের মতোই হালকা৷ কিন্তু সেই মৃত্যুর গল্পটা কিংবা তার পেছনের ছোট্ট ইতিহাসটা আপনার মাঝে পাহাড়ের মতো একটা ভারী ছাপ ফেলে রেখে যাবে। নশ্বর এই ব্যস্ত জীবনে আপনাকে মৃত্যু নিয়ে ভাবাবে। অপ্রত্যাশিত জীবনের বাঁকে বাঁকে যে কত পরিবর্তন আর বৈচিত্রতা থাকে তা শেখাবে। তাই দেরী না করে পড়ে ফেলুন এই বইটি৷ শহীদুল জহির এক মুগ্ধতার নাম। সহজ সাবলীল লেখায় অল্প কথার মাঝেও অনেকটুকু ছাপ রেখে যেতে পারেন বোধহয়। মুগ্ধ হয়ে পড়েছি তার লেখা৷ আর রীতিমতো আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। তাকে নিয়ে এখন আরো অনেক পড়তে হবে, জানতে হবে। বইঃ- আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু লেখকঃ- শহীদুল জহির পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ- ৬৩ প্রকাশনীঃ- মাওলা ব্রাদার্স প্রথম প্রকাশঃ- ১৯৯১ পার্সোনাল রেটিংঃ- ৪.৮/৫























