

Buy ইউসুফ হে সুন্দর Online in Bangladesh
লেখক: ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী
- Author: ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী
- Publisher: কানন
- Number Of Pages: 368
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
আহসানুল কাসাস। সর্ব অবয়বে সেরা কাহিনি। সায়্যিদুনা হযরত ইউসুফ আ. । নিষ্পাপ সুন্দরতম সৌন্দর্যের অধিকারী একজন নবি। যার ঘটনা প্রায় সব ভাষাতেই প্রকাশ পেয়েছে। কুরআন তাঁর জীবনের এই গল্পকে বলেছে সবচেয়ে সুন্দর কাহিনি। তাঁর জীবনের রোমাঞ্চকর ও কষ্টঘেরা এই গল্পগুলো আমরা সবাই কমবেশি জানি। হয়তো জানি না তার মধ্যকার আরো বিস্তর কাহিনি। অথচ তাঁর জীবন থেকে আমাদের শেখার আছে অনেক কিছু। আমাদের জীবনে আমরা আত্মীয় স্বজন থেকে প্রতারিত হই। জানার পর হয়তো মুখ ফিরিয়ে নিয়ে যোগাযোগ ছিন্ন করে দেই। কিন্তু ইউসুফ নবি তার নিজ ভাইদের দ্বারা প্রতারিত হবার পরও কীভাবে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে গেছেন, তা জানলে আমাদের মন নড়েচড়ে উঠবে। ভিন্নভাবে, ভিন্ন ছন্দে ইউসুফ নবীকে গভীরভাবে জানতে অবশ্যই সংগ্রহ করুন এ বইটি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
রাত চারটা পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে যাচ্ছিলাম একের পর এক পাতা। শেষ পাতা যখন উল্টাই, ভেসে এলো কানে আজানের সুমধুর ধ্বনি। ৩৬৬ পৃষ্ঠার এই বইয়ের নাম "ইউসুফ হে সুন্দর"। কাননের প্রকাশনায় যিনি কলমে মুগ্ধ করেছেন, আদিব হুযূরের পর যার শৈল্পিক শব্দ প্রয়োগের মুগ্ধতা—আবহ আমায় ডোবায়, আমাদের প্রিয় লেখক ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী হুযূর। আমি একটু সিয়াক-সাবাকের গল্প বলি সংক্ষেপে। [১] নদভী হুযূরের বইটা আসছে আমার জানা ছিল না। যখন ইলয়াসের আরশিনগর থেকে এটার কথা জানতে পারলাম তখন কিন্তু প্রায় পকেট শূন্য। প্রথম উপার্জনের টাকাও এই-সেই করে শেষ। হাজার দেড়েকের মতো ছিল বাকি। কালক্ষেপণ না করেই ‘ইলু’কে জানিয়ে দিলাম—এটা আমি নেবো, তুমি অটোগ্রাফসহ পাঠিয়ে দিয়ো। সাথে আদিব হুযূরের একটি বই এবং একটি ডায়রিও অর্ডার করলাম, (‘রহমতের দশদিন’ ও ‘রোযনামচা’)। ভূমিকা তো শেষ হলো এবার আসল কথায় আসি। [২] নদভী হুযূরের এই বই আমাকে আকৃষ্ট করার প্রধান কারণ ছিল তার নাম— "ইউসুফ হে সুন্দর" কী মিষ্টি চয়ন। বর্তমান তরুণ লেখকেরা সহজের মধ্যেই অনেক আজিব আজিব নামে বই প্রকাশ করে। লা-কিন, আমায় আকর্ষিত করতে পারে না। মনে হয় যেন— এই নামে নূর নেই, আত্মার আকর্ষণ নেই। এই হিসেবে আদিব হুযূর ধরেন কিবা নদভী বা যাইনুল আবিদীন হাফি. তাদের গ্রন্থের নাম দেখবেন, কতটা দক্ষতা মেশানো থাকে। কতটা আকর্ষিত করে মানুষকে। [৩] প্রচ্ছদ করেছেন, কাজী যুবাইর মাহমুদ। উনার শিল্পের সাথে আমরা বইপ্রেমী সকলেই কিছু না কিছু পরিচিত। তাঁর শিল্পের জাদু সবাইকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। গল্প এবং প্রচ্ছদকে তিনি খুব সুন্দর করে মিলিয়ে আঁকতে পারেন। তাঁর আঁকা প্রতিটি প্রচ্ছদই আমার ভালো লাগে। প্রচ্ছদের সৌন্দর্য দু'ধরনের হয়, কারো প্রচ্ছদ শুধুই সুন্দর আর কারও ভাবগম্ভীর। কাজী যুবাইর মাহমুদের প্রচ্ছদের সৌন্দর্যে ভাবগাম্ভীর্যও থাকে। এটা মানুষকে বেশ আকৃষ্ট করে। [৪] বরাবরই আমি মূল গ্রন্থের পাঠ শুরু করার আগে ভূমিকা পড়তে ভালোবাসি। ভূমিকায় পুরো গ্রন্থের বিষয়বস্তু— লেখক এবং সংশ্লিষ্টের শ্রম-পরিশ্রমের কথা জানতে পারি। একটা বই পড়ছি কিন্তু লেখকের কথা না শুনে এড়িয়ে যাওয়াকে আমি অন্যায় ভাবি। সুন্দর এবং মুগ্ধ করা ভূমিকা লিখতে পারেন—এই পর্যন্ত আমি সীমিত সংখ্যক লেখকই পেয়েছি। আদিব হুযূরের পর যাইনুল আবিদীন এবং নদভী হুযূরের 'শুরু কথা' আমার ভালো লাগে। "জীবনের খেলাঘরে" বইয়ের লেখক খান রাহ. এর ভূমিকাগুলো-ও আমার ভালো লাগতো৷ এবং আরও অনেকেই আছেন এই তালিকায়। নদভী হুযূর বেশ লম্বা ভূমিকা টেনেছেন। ভূমিকায় তিনি পুরো গ্রন্থের একটা ট্রেইলার দেখিয়ে দিয়েছেন। কী কী হতে পারে, কোথা থেকে কোথায় ঘুরবে এর মোড়। মানে তার দক্ষতার প্রমাণ আপনি প্রতিটি পাতায় পাবেন। "সূচনা কথা'র" মাধ্যমে যা শুরু হবে। অর্পণটাও করেছেন খুব সুন্দর করে। বইয়ের শুরুতে আপনি আরেকটি রত্ন পাবেন—যাইনুল আবিদীন হাফি. এর অনুভূতি। এটা পড়েও বইটি সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পেয়ে যাবেন। [৫] ভূমিকার পর আসে বইয়ের বিন্যাস— এখানে নদভী হুযূর অনন্য। বইটি সামনে নিয়ে হুযূরের পরিবেশনা একটু দেখেন, প্রথমে স্বতন্ত্র শিরোনামে 'আয়াত এবং অনুবাদ'। তারপর 'তাফসির সুসংক্ষেপ'। সবশেষে 'পাঠ অনুভূতির ছোট ছোট ঢেউ'। এই বিন্যাসে পাঠ যেমন সুন্দর হয়, সহজ হয় তেমনই আকর্ষণও থাকে। লেখার উদ্দেশ্য-ও স্ব-উল্লাসে ভাসে। হুযূরের একটা বৈশিষ্ট্য আমি সবসময় বলি, পাঠকের সাথে পাতায় পাতায় অমন করে নদভী হুযূরের মতো কথা বলতে পারেন—আমি অন্যজনকে পাই নি। মানে তিনি উপস্থিত নেই, কিন্তু তার লেখা পড়তে পড়তে আপনার মনে হবে, তিনি আপনার পাশে বসেই আপনাকে গল্পটা বলছেন। এই যে সাক্ষাৎ-অনূভুতি এটা আপনি অন্য কোথাও পাবেন বলে মনে হয় না। বইটি পড়তে গিয়ে কখনো আপনার মনে হবে— তাফসির পড়ছেন! কখনো মনে হবে গল্পের সাগরে ডুবে আছেন! আবার কখনো কখনো-ও উপন্যাসের স্বাদ পাবেন! এই যে মিশ্র অনুভূতি— আসলেই অসাধারণ! এশার নামাজ পর খেয়েদেয়ে বইটি হাতে নিলে টান টান উত্তেজনায় আপনি কখন বইয়ের শেষ পাতায় চলে যাবেন বুঝতেই পারবেন না—অবিশ্বাস্য মনে হবে। শুরু থেকে শেষতক বিরক্তি রুচিসম্মত পাঠকদের পাশ ঘেঁষবে না। [৬] না, আহসানুল কাসাসের কোন সমালোচনা আমি করতে পারব না। এর যোগ্য আমি নই। প্রচ্ছদ থেকে নিয়ে অলংকরণ, লেখা এবং বারবার দেখা, বাঁধাই, বিন্যাস সবকিছু অনন্য ছিল। ইবনে আব্বাসের কওল লিখতে আরবী এবারতে ছোট্ট একটা বানান বিভ্রাট ছাড়া চোখে অন্য কোন বেশকম পড়ে নি। বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা মোহ আমাকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। মুগ্ধতা তার মাঝে জড়িয়ে নিয়েছে, এমতাবস্থায় তার ফারাক খোঁজার মতো দুঃসাহস আমি করতে পারি না। তদুপরি গ্রন্থটি যখন রচিত হয়েছে কোরআনের বর্ণনায় তখন এর সমালোচনার সাহস আমার নেই। আমি অক্ষম, আমি অযোগ্য, আমি অপারগ। [৭] সবশেষে বলব, আপনি পড়তে যাচ্ছেন অসাধারণ একটি বই। যা আপনাকে জড়িয়ে রাখবে কোরআনী গল্পের মাধুর্যে। ইউসুফী চেতনা জাগ্রত হবে ফেতনাময় এই যুগে। শিক্ষা এবং উপদেশের এক অনন্য গ্রন্থের পাঠক হতে যাচ্ছেন আপনি। তাফসির, গল্প এবং উপন্যাস একইসাথে অনেকগুলো মিশ্র অনুভূতির স্বাদ পাবেন। আপনার সামনে খুলে যাবে ইউসুফ-জুলেখা সম্পৃক্ত হাজার-ও ভুল গল্পের অসত্যতা। পড়তে যাচ্ছেন স্রষ্টার বর্ণনায় সৃষ্টির ব্যখ্যায় অনন্য একখানা গ্রন্থ। কোরআনের ভাষায় যে গল্পের নাম, আহসানুল কাসাস। * * * ইফতেখার তামিম বিয়ানীবাজার, সিলেট। সন্ধ্যারাত্রি। ৩/৫/২৩।
বই: ইউসুফ হে সুন্দর লেখক: ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৮ ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনাকে আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন ‘আহসানুল কাসাস’ বলে। সর্বদিক দিয়ে, সর্ব অবয়বে সেরা। কিন্তু কেন? কী আছে এতে যা অন্য ঘটনায় নেই? এতে আছে ধৈর্য, নৈতিকতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ়ভাবে আস্থা রাখার অনন্য সব উদাহরণ। ছোট ইউসুফের প্রতি সৎ ভাইদের-কর্তৃক হিংসাত্মক আচরণ, তাকে কূপে নিক্ষেপ, সেখান থেকে বণিক দলের কাছে দাস হিসেবে বিক্রি, মিসরে দাস-বাজার থেকে সামান্য নামমাত্র মূল্যের বিনিময়ে আজিজে মিশরের রাজপ্রাসাদে রাজকীয় জীবন-যাপন, জুলাইখা-কর্তৃক ইউসুফের ব্যক্তিত্বকে ফুসলানো, বিনা অপরাধে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ থাকা, বাদশাহের স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদান ও করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা, বাদশাহের তলব ও ইউসুফের প্রত্যাখ্যান, ইউসুফ-কর্তৃক মামলা তদন্তের দাবী, নির্দোষ সাব্যস্ত হয়ে কারামুক্তি, অতঃপর মিশরের বাদশাহ হওয়া— সবই লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন প্রতিটি পৃষ্ঠার লাইনে-লাইনে। গল্পের বুনন এতটাই চমৎকার, মনে হয় প্রতিটি শব্দ তার নিজস্ব সৌন্দর্যে জ্বলজ্বল করছে। ঘটনাপ্রবাহ এত চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন, মনে হয়েছে আমি খোদ উপস্থিত ছিলাম কেনানে— যেখানে জন্ম ইউসুফ আলাইহিস সালামের, যেখানে তিনার বেড়ে উঠা। মনে হয়েছে আমার চোখের সামনেই ভাইয়েরা নির্দয়ভাবে মারছে শিশু ইউসুফকে, নিক্ষেপ করেছে অন্ধকার কূপে। মনে হয়েছে আমি উপস্থিত ছিলাম সে যুগের মিশরে— যেখানে রচনা হয়েছে একটি ইতিহাস; সামান্য দাস থেকে মিশরের বাদশাহে পরিনত হওয়ার। হৃদয়ের গভীর ভাবনা ও অনুভূতি যখন প্রকাশ পায় কলমের অশ্রুতে, তখন তা শব্দ ও বাক্যের সীমায় আবদ্ধ থাকে না, পৌঁছে যায় অনন্য গভীরতায়, যা পাঠকের অন্তরের গহীনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, পাঠককে গল্পের সাথে একাত্ম করে। বইটিতে শব্দের গাঁথুনি এতটাই চমৎকার যেন প্রতিটি শব্দ কথা বলে তার নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে। বাক্যগঠন এতটাই সাবলীল ও মসৃণ যেন একটিকে আরেকটির সাথে সম্পূর্ণ একাত্ম করে তোলে। পৃষ্ঠাগুলো উল্টানোর সময় মনে হয়, যেন প্রিয়তমার গভীরতম অনুভূতির পর্দা একেএকে উন্মোচিত হচ্ছে। সর্বোপরি বইটি পড়ার সময় মনে হয়েছে, আমি যেন মৌচাক থেকে মধু আহরণ করছি। পাঠক, সাহিত্যের স্বাদ পেতে হলে বইটি পড়ুন। ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনা থেকে জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার উপকরণ আহরণ করতে হলে বইটি পড়ুন। বইটি হাতে নিন, পৃষ্ঠাগুলোতে ডুব দিন এবং নিজের জন্য এক নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করুন।























