

Buy তোত্তোচান: জানালার ধারে ছোট্ট মেয়েটি Online in Bangladesh
লেখক: তেৎসুকো কুরোয়ানাগি
- Author: তেৎসুকো কুরোয়ানাগি
- Publisher: দ্যু প্রকাশন
- Isbn: 9789849653943
- Number Of Pages: 256
- Language: বাংলা
- Edition: 10th Edition, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বইটি মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য। তবে শিশু-কিশোরদের মা-বাবা, শিক্ষক, অভিভাবকদের অবশ্যপাঠ্য। বইটির পটভূমি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব জাপান। সে-অব্দি টোকিওতে এমন একটি ইশকুল ছিল--যেখানে শিশুরা রেলগাড়ি ক্লাশঘরে পড়ালেখা করত, মাঠের শিক্ষকের কাছে জমিচাষের পাঠ নিত, হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে প্রকৃতির পাঠ নিত। সঙ্গীতের ক্লাশে তারা তালে তালে ইচ্ছেমতো পা ফেলত। ইশকুলের বাইরে বাতাসে ডালপালা নাড়ানো গাছেদের কাছে, ঢেউ খেলানো নদীর কাছে, উড়ে উড়ে গান গাওয়া পাখিদের কাছেও পড়ালেখা করতে যেত তারা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Mind blowing
বইয়ের নাম:তোত্তোচান (জানালার ধারে ছোট্ট মেয়েটি) লেখক:তেৎসুকো কুরোয়ানাগি অনুবাদ:চৈতী রহমান ডরোথি ব্রিটেন কর্তৃক ইংরেজি ভাষায় অনূদিত 'তত্তোচান:দ্য লিটল গার্ল অ্যাট দ্য উইন্ডো'বইটি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। এই বইটি আমাকে পৌঁছে দিয়েছিলো এক কল্পিত,মমতাজড়ানো স্কুলে।যেখানে স্কুল মানেই ভীতিকর স্থান নয়,ভারী ব্যাগ বা ভারী ভারী বইপত্র নয়,শিক্ষকরা বকবেন বা একটা শিশুর শিশুসুলভ কথাকে তার বোকামি অথবা মূর্খতা ভেবে ক্লাসে সকলের সামনে অপমান করতে পারেন এই ভয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা না বলতে পারা নয়,দামি টিফিন নিয়ে বন্ধুদের সামনে শো-অফ করা নয় বা নতুন স্কুল ড্রেস বা দামি কোন ড্রেস স্কুলের ফাংশনে পড়ে এসে শো-অফ করা নয়,দূর থেকে প্রধান শিক্ষককে দেখলে লুকিয়ে পড়া বা পড়া না করলে ভয়ে মিথ্যে অজুহাত দিয়ে স্কুল মিস করা নয় অথবা যা স্কুলে শিখানো উচিত তা বাড়ির কাজ দিয়ে বাচ্চাদের খেলার সময়টুকু তাদের থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের শৈশব শেষ করে দেওয়াও নয়। বরং এই স্কুলটি হলো শিশুদের জন্য একটুকরো স্বর্গ।যেখানে তারা নিজেদের শৈশবটা কোন এক আনন্দ-উৎসবের মতোন করে কাটাতে পারে,যেখানে শিশুদের ভয় না পেয়ে কথা বলার অধিকার আছে;যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।ভারী ব্যাগ বা বইয়ের চাপ নেই বরং হাতে-কলমে তাদেরকে শেখানো হয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিশুরা তা একটুও ভয় না পেয়ে বা বিরক্ত না হয়ে বরং সেগুলো আনন্দের সাথে শেখে। রেলগাড়ির কামড়ার মতো ক্লাসঘরগুলোতে বসার কোন নিদির্ষ্ট আসন ঠিক করা নেই,যে যেকোনভাবে,যখন যে বিষয় ইচ্ছে তাই পড়তে পারে।পড়ার সময় একটু খেলতে ইচ্ছে হলে সবুজ মায়াঘেরা মাঠটাতে সবাই যেয়ে খেলাধুলো করতে পারে তারজন্যও কোন বাধাধরা নিয়ম বা পড়ার সময় কেনো খেলতে গেলো সেজন্য কোন শাস্তিও নেই।যেখানে তোমায়ে গাকুয়েন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সোশাকু কোবাইয়াশির মতোন স্কুলের বাকি শিক্ষকেরাও ছিলেন এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্ধু।লঘু পাপে গুরুদন্ড দিয়ে যখন তখন টিসির ভয়ও দেখাতেন না কোন শিক্ষক।এই স্কুলে শিশুরা প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আবিষ্কার করতো নতুন এক মানুষকে যা তাদের পরবর্তী জীবনে সৎ এবং সফল হতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলো। অন্যদিকে যুদ্ধের মতো ভয়ানক থাবা কিভাবে একটা স্কুলের সাথে সাথে অনেকগুলো ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে বা ধ্বংসের করে দেয় এবং ছোট শিশুদের মনে এর কিরকম বিরূপ প্রভাব পড়ে তার সাথেও আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিবে। এই বইটি যেমন একজন আদর্শ প্রধান শিক্ষক,তার পজিটিভ মানসিকতা,শিশুদের জন্য মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা,সুন্দর পরিবেশ এবং কিছু ছোট ছোট মায়াময় শিশুসুলভ ফুলের গল্প;তেমনি একটি যুদ্ধ কিভাবে অনেকগুলো স্বপ্ন এবং স্মৃতি আজীবনের জন্য তার কালোহাত দিয়ে বিনাশ করে দিতে পারে,এটি তারও গল্প।

বইটির স্বাদ এখনো মুখে নিয়েই রিভিউ লিখতে বসলাম।এটি এমন বইগুলোর একটি যার স্বাদ গ্রহণ করবেন আর মন চাবে আরো চাই।মনকে নির্মল করে দিবে।যেন আপনার বয়স কমে যাবে কয়েক বছর।

বুক রিভিউ:- বইয়ের নামঃ তোত্তো-চান। মূল লেখিকাঃ তেৎসুকো কুরোয়ানাগি। অনুবাদঃ চৈতী রহমান। প্রকাশনীঃ দ্যু প্রকাশনী। মুদ্রিত মুল্যঃ ২৫০ টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৫৬ (পেপার ব্যাক,পকেট সাইজ) প্রথম প্রকাশ:- ১৯৮১ সাল। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং শিশু সাহিত্যিকরা সবসময়ই বলে শিক্ষা হবে আনন্দময়।কিন্তু এশিয়ার দেশগুলোতে শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা এখনো অধরাই থেকে গেছে।শিশুদের জন্য আনন্দময় শিক্ষার প্রসঙ্গ নিয়েই চমৎকার একটি শিশুপাঠ্য বই "তোত্তোচান"। তোত্তো-চান। ছোট্ট এক মেয়ে।ছোট্ট মেয়ে তেৎসুকো। এত বড় নাম উচ্চারণ করতে না পারায় নিজেই নিজের নাম ছোট্ট করে ফেলে সে, হয়ে যায় তেত্তো। সাথে জাপানে প্রচলিত নামের শেষাংশ চান যোগ করে তার নাম দাঁড়ায় তোত্তো-চান। এই তোত্তো-চান আর দশটা সাধারণ ছেলেমেয়ে থেকে একটু ভিন্ন। ক্লাসে ও শিক্ষককে প্রশ্ন করে জর্জরিত করে, ক্লাসে গিয়ে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে পছন্দ করতো। রাস্তা দিয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপনের বাজনাদারদের ডেকে বলতো " বাজাও"। ক্লাসের পড়া রেখে যে ছোট্ট মেয়েটি জানালায় দাঁড়িয়ে দোয়েল পাখির নাচ দেখতো। তার এহেন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বুদ্ধিমতী মা তাকে এ বিষয়ে কিছু না বলে নতুন এক স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে যায়। ট্রেন থেকে নেমে নতুন স্কুলে পৌঁছে তোত্তো-চান তো অবাক! স্কুলের গেট হচ্ছে জ্যান্ত গাছের তৈরি। আর স্কুল হচ্ছে আস্ত রেলগাড়ীর কামরায়!!!! তোত্তো-চান খুশিতে নাচতে নাচতে স্কুলে ভর্তি হবার জন্য প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের কামরায় যায়, সেখানে নিজের পেটের ঝুড়ি উপুড় করে দিয়ে একনাগাড়ে ৪ঘন্টা বকবক করে কোবাইয়াশি মহাশয়ের সাথে। টিফিন পিরিয়ডে কোবাইয়াশি মহাশয় বললেন বাচ্চাদেরকে পাহাড় থেকে কিছু আর সমুদ্দুর থেকে কিছু খেতে। প্রথমদিনেই তোমোয়ে স্কুলের প্রতি ভালোবাসা বুকে নিয়ে ফেরে তোত্তো-চান। যে ছোট্ট মেয়েটি পড়তে পছন্দ করতোনা, তোমোয়ে স্কুলে ভর্তি হবার পরে আনন্দে খেলতে খেলতে সবকিছু শিখে ফেলতে লাগলো। বুদ্ধিমান প্রধান শিক্ষক মহাশয় নানান কৌশলে বাচ্চাদের জীবনের পাঠ শিখাতেন, কিন্তু বাচ্চারা কেউ বুঝতে পারতোনা যে তাদেরকে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। তোত্তো-চান তার স্কুলজীবনের বিভিন্ন ঘটনা বর্ননা করে বইতে, যার শিক্ষা তার জীবনের পরবর্তী সময়ে কাজে লেগেছে। মানুষ চোখ নিয়ে জন্মালো কিন্তু পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখলোনা, হৃদয় নিয়ে জন্মালো কিন্তু তাতে ভালোবাসার স্ফুলিঙ্গ থাকলোনা। তাহলে এরকম সমাজ কতোটা ভয়ঙ্কর হবে? এই অদেখা সমাজের ভয় পেয়েই বিশাবের এক মহান শিক্ষক সোশাকু কোবাইয়াশি তৈরী করলে স্বপ্নের এক ইশকুল। যেখানে পড়ার স্বপ্ন বইটি পড়তে পড়তে আমরা সবাই ই কম বেশি চাইবো। বইটি পড়ে আমার প্রচন্ড মন খারাপ হয় এই ভেবে যে আমাদের দেশের শিশুরা এমন স্কুল, এমন শিক্ষক থাকতে যে পারে তা চিন্তা ও করতে পারবেনা।
বইটা অসম্ভব সুন্দর। বইটা পড়তে বসলে পড়তেই থাকবেন। দুষ্টামি, মায়া, মমতা, কান্না, নিয়ম সব কিছুই বইয়ে আছে। ছোট বেলায় ফিরে যেতে মন চাইবে। ইচ্ছা করে ওই স্কুল এ যদি আমিও ভর্তি হতে পারতাম। আর অনুবাদ খুবই সুন্দর ছিলো। বইটা সবার জন্যই উপযোগী সবার জন্যই প্রয়োজন।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
বইটা available হবে কবে ?
প্রিয় গ্রাহক, দুঃখিত, এটি নির্ভর করে প্রকাশনী কর্তৃক রিপ্রিন্ট করার মাধ্যমে; তাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কবে পাওয়া যাবে। ধন্যবাদ।
বইটা available হবে কবে ?
প্রিয় গ্রাহক, দুঃখিত, এটি নির্ভর করে প্রকাশনী কর্তৃক রিপ্রিন্ট করার মাধ্যমে; তাই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কবে পাওয়া যাবে। ধন্যবাদ।























