

Buy তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র Online in Bangladesh
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Author: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় , তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Isbn: 9789350203552
- Number Of Pages: 475
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: তারানাথ তান্ত্রিকের স্রষ্টা হলেন প্রথমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বিভূতিভূষণ পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় তারানাথ তান্ত্রিকের অনেকগুলি কাহিনি লেখেন। পরে লেখেন তারানাথ তান্ত্রিক নিয়ে একটি গােটা উপন্যাস ‘অলাতচক্র’। সেই সমস্ত কাহিনি একত্র করেই এই গ্রন্থ তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র।বইটিতে। ক্রোধ এবং বেদনা উদ্রেককারী দেশবিভাগের ঘটনাবলীর যে বিশ্লেষণ এতে করা হয়েছে তা নতুন করে মানুষকে চিন্তা করার অবকাশ এনে দেবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

amazing book 📕

এক কথায় বলতে হয় বইটি অসাধারণ।
"রামরাম চৌধুরীর মৃতদেহ নিয়ে যখন গ্রাম থেকে বেরুলাম তখব দিনের আলো নিভে এসেছে। শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহ। সেবার বৃষ্টি হয়েছিলো খুব, মাঠে ঘাটে জলে থৈ থৈ করছে। পথ পেছল, সারাদিন জল হয়ে সবে একটু ক্ষান্তি দিয়েছে। কিন্তু বিশেষ ভরসা পাওয়া গেল না, আকাশে মেঘের কোলে কোলে চমকাচ্ছে বিদ্যুৎ- ঠান্ডা শিরশিরে বাতাস দিচ্ছে পুব দিক থেকে..." কি? পড়ার সময় মনে হলোনা যে এখন আপনি নিজেই শ্রাবণের ভরা বাদলে কোনো এক গ্রামের রাস্তায় কাদাজল ভেঙে হেঁটে চলেছেন লাশ কাঁধে? পরিবেশ টা ঠিক ফুটে উঠলোনা চোখের সামনে? কিংবা "...আমি বেরিয়ে চলে গেছি সাঁতরাদিঘীর পারে। চুপ করে বসে আছি। ঝিরঝিরে বাতাসে দীঘির জলে ডুরে ডুরে ঢেউ উঠছে৷ লিচু আর জামরুল গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে মাটিতে রোদ আর ছায়ার আলপনা তৈরী করছে - আমগাছের গুঁড়ি বেয়ে উঠছে এক সারি কাঁঠপিপড়ে। এইসব নির্জন মুহুর্তে, আমি তোমাদের সত্যি বলছি, স্পষ্ট শুনতে পেতাম গাছপালা, মাঠ, দীঘির জল আমার সাথে কথা বলছে..." লেখা পড়তে পড়তে মনে হয় নিজেই যেনো চলে গেছি গ্রামের ধারে শান্ত কোনো দীঘির পারে। নির্জন দুপুরে চুপচাপ একাকী বসে ভাবছি এটাসেটা। তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব এখানেই। এত সুন্দর করে প্রকৃতি/পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন যে তা সোনার অক্ষরে বাঁধাই করে রাখার মতো। কিন্তু শুধু স্বাভাবিক পরিবেশ নয়। ভয়মাখা পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতেও তাঁর জুড়ি নেই। যেমন - "...কিন্তু আমার মনের মধ্যে একটা আশ্চর্য অনুভূতি হলো। মনের একেবারে গভীরে হঠাৎ যেন কে একটা কল বিগড়ে দিল। আমার হাত পা অবশ হয়ে আসছে, সজ্ঞান চৈতন্য নিভে আসতে চাইছে তেলহীন প্রদীপের মতো। আর আমি যেন এক পাও হাঁটতে পারবোনা। সমস্ত দেহ মনে কি অস্বস্তি। সে ভাষায় বোঝানো যাবেনা..." আমরা তারানাথ তান্ত্রিক এর স্রষ্টা হিসেবে বিভূতিভূষণকেই চিনি। তাঁর লেখা মাতঙ্গিনী ওরফে মাতু পাগলীর পাগলামি, মধুসুন্দরী দেবীর অপ্রাকৃত প্রেমের সাথে আমরা পরিচিত। তারাদাসের লেখা গল্প গুলো সেই তুলনায় অনেকটাই আড়ালে রয়ে যায়। অথচ বিভূতিভূষণের মতই প্রকৃতি, পরিবেশ নিয়ে খেটেছেন তিনি। ফুটিয়ে তুলেছেন তন্ত্রবিদ্যায় পূর্ণ ভৌতিক আবহে আবৃত এক সুপ্রাচীন গ্রামবাংলার রূপকে। ভূত, প্রেত, অশরীরী, অশুভের চাইতেও ভৌতিক পরিবেশ টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে পারলে লেখককে আশি ভাগ ভয় এমনিতেই পাইয়ে দেয়া যায়। তারাদাস সেদিক দিয়ে সফল। তাঁর লেখায় কখনো আসে মেঘ গুড়গুড় করা আকাশের নীচে মড়া নিয়ে শ্মশানমুখী যাত্রীরা, কখনো বদ্ধ বাতাসে ঘেরা কালো মেঘের চাদরে ঢাকা এক অস্বাভাবিক থমথমে দীঘি, কখনোবা পূর্বদিগন্তের নীচ থেকে চালতা গাছের পেছন দিয়ে উঠে আসা অলৌকিক পঞ্চমীর রাঙা চাঁদ, শুক্লপক্ষের জ্যেৎস্নায় চিকচিক করা শ্মশানের পাশে নদীর ধারের সাদা বালি এবং কখনোবা আসে লালরক্তে গলে গলে যাওয়া জ্বরাসুরের বীভৎস মাটির শরীর। তারানাথ তান্ত্রিকের প্রতিটা গল্পই ইউনিক। একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন। মোট ১৬ টি গল্প আছে, দুটি বিভূতিভূষণের, বাকিগুলো তারাদাসের। একটিমাত্র উপন্যাস - অলাতচক্র। সেটিও তারাদাসেরই। গল্পের মাঝে আছে বৈচিত্র্য। যেমন বডি ট্রান্সফরমেশনের উদাহরণ পাই বিশুঠাকুরের গল্পে। জাতিস্মরের উল্লেখ আছে সুবলার গল্পে। জনৈক কালীপ্রসাদের পৈত্রিক বাড়ি ঘিরে ঘটে চলা অস্বাভাবিক কান্ড নিয়ে একটা দুর্দান্ত কাহিনী আছে - সেই কাহিনীর ভিত মানুষের বিশ্বাস। 'ধর্মের কল বাতাসে নড়ে' এই থিমে লেখা রামরাম চৌধুরীর পরিবারের দূর্ভাগ্যের গল্পটি। রাঙাকাকীমা ও বিরজার গল্পটি অতীন্দ্রিয় ক্ষমতাকে ফোকাস করে লেখা। পঞ্চমুন্ডীর আসন, শয়তান কাপালিক ও বেতাল, ব্রহ্মপিশাচ এগুলো একদম raw তান্ত্রিক হরর। সরষের মধু দিয়ে দীঘির অপদেবতা তাড়ানোর গল্পটি গ্রামবাংলার আবহমান ভূতের গল্প। জ্বরাসুরের গল্পটিতে অলৌকিকতা ছাড়িয়ে উঠেছে পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার বিষয়টি। আর কালভৈরবের গল্পটি একদম পিউর ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে৷ কালভৈরব হলেন সনাতন ধর্মের একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ দেবরূপ। তাঁর রিপ্রেজেন্টেশনটা ছিলো এককথায় চমৎকার। এবং অমাবস্যার বর্ষণে গ্রামের পথে প্রতিহিংসাপরায়ণ শবের হাত থেকে তারানাথকে বাঁচাতে স্বয়ং কালভৈরবের আগমন - চিরন্তন শুভ অশুভের দ্বন্দ্বকেই মনে করিয়ে দেয়! উপন্যাস 'অলাতচক্র' মূলত কিছু ছোটগল্পের সমষ্টি। ঠিক উপন্যাস বলা যায়না। তবে লেখাটা, বিশেষ করে শুদ্ধ হৃদয়ের মানুষ দেবদর্শন, তাঁর ক্ষয়ে পড়া পড়ন্ত জমিদারবাড়ি, পদ্মপলাশাক্ষী গিন্নিমা, দুর্গাপূজার মন্ডপ, বিশালাক্ষীর মন্দির, তোপের ধ্বনি, কবিগান, ভরা জ্যোৎস্না, হিমেল হাওয়া, টলটলে দীঘি, ছায়াভরা বাগান আর জমিদারবাড়ির আনাচে কানাচে গজিয়ে ওঠা বটের চারা, কার্নিশের পায়রার বাকবাকুম সব যেনো আমাদের মনকে আর্দ্র করে দেয়। অজান্তেই দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে - সে দিন গেছে তো একেবারেই গেছে। আর কি ফিরে আসবে? যান্ত্রিকতায় ভরা ইট পাথরের এই শহরে তারানাথ তান্ত্রিকের মেঠো বাংলার চিরায়ত গল্পগুলো ছিলো আমার জন্য বহুল আকাঙ্খিত রিফ্রেশমেন্টের মতো। স্বপ্নের মতো। যে স্বপ্ন ভাবালু করে দেয়। রেটিং ৫/৫। ভৌতিক গা শিরশিরে আবহ, ধর্মীয় নানাবিধ জ্ঞান আর আবহমান গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের চমৎকার বিবরণের কারণে তারানাথ তান্ত্রিক বাঙালি সাহিত্যে এক অমূল্য সংযোজন হয়ে থাকবে। ধন্য বিভূতি। ধন্য তারাদাস।
[তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র] বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ও তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ এর কাহিনীগুলো এক কথায় বললে বলতে হয়— অতো বেশী ভালো লাগেনি। প্রথমত, বইটি বিভূতিভূষণ পর্যায়ের বই নয়। প্রথম দুটি গল্প বিভূতিভূষণের লেখা এবং পরবর্তী লেখাগুলো তারাদাস বন্দোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত। বিভূতিভূষণ বেঁচে থাকলে তিনি আরও কিছু গল্প লিখতেন কিনা, লিখলেও সেগুলোর মান কেমন হতো সে বিষয়ে আমার ধারণা নেই। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরে তারাদাস বন্দোপাধ্যায় যতটা লিখলেন, আমার মনে হয়েছে এতখানি না লিখলেও চলত। দুই-তিনটা গল্প লিখেই খান্ত দিলে মন্দ হতো না। কাহিনীগুলো অতিপ্রাকৃতিক, আধিভৌতিক; ভারতীয় উপমহাদেশের তন্ত্র-মন্ত্র ও সাধু-সন্ন্যাসীদের জীবন-যাপন-এর আংশিক অংশ একজন তান্ত্রিকের জবানীতে উঠে আসছে। সবগুলো কাহিনীতে লেখক কোন যুক্তির ধার ধারেননি, গল্পের ভৌতিক বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। গল্পের শ্রোতা লেখক ও তার বন্ধু কিশোরীর মুখে কখনই তেমন কোন যুক্তি শোনা যায় না। ফলে গল্পগুলো জমজমাট হয়ে ওঠেনি কখনই। অতিপ্রাকৃত গল্প হয়েও সেরকম শিহরণ জাগানিয়া বা ভয়-ভয় ভাব তৈরীতে সম্পূর্ণরূপেই ব্যর্থ বলে মনে হয়েছে এবং একই ধরণের গল্প ঘুরে ফিরে এসেছে বারকয়েক। কিছু-কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি লক্ষ করা যায়— বিভূতিভূষণের লেখা প্রথম গল্পে তারানাথের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে তারানাথ তান্ত্রিকের বয়স ষাট-বাষট্টি, শেষ গল্প অব্দি তারানাথের বয়স হয়ে যায় প্রায় তিয়াত্তর-চুয়াত্তর। কিন্তু সমগ্র গল্পেই যেন মনে হয় তার বয়স একই জায়গায় আটকে আছে এবং প্রতিটি গল্পই যেন এক বসায় শুনছি। গল্পের শুরুতেই তারানাথের বাড়িতে একটা ছোট ছেলের কথা উল্লেখ করা আছে, কিন্তু তারপরে সম্পূর্ণ বইয়ে তার কথা আর উল্লেখ নেই! একইসাথে তারানাথের সংসার সম্পর্কেও একটা ধোঁয়াশা থেকে যায়। তারানাথের ঋণগ্রস্থ মানুষ হবার কথা উল্লেখ থাকলেও সেটার প্রমাণ আর কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি বিভূতির বক্তব্যমতে তারানাথের তিনটি নেশার কথা শোনা যায়- ঘোড়দৌড়, নারী ও সুরা। কিন্তু এই তিন নেশা নিয়ে তারানাথের জীবনের কোন গল্প নেই। মধুসুন্দরী দেবীর যে গল্পটা আছে সেটাকেও নারীর প্রতি নেশার পর্যায়ে ফেলা যায় না। তারানাথের জবানীতে যেসকল গল্প বলা হয়েছে তার সবই অতীত কাহিনী। সেই গল্পগুলো তারানাথ এমন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলে চলেছে যেন জীবনের কিছুই সে ভোলেনি। এছাড়া ছোট-খাটো কিছু খটকা আছে, যেমন ‘অলাতচক্রে’ আমরা দেখি কিশোরী বলছে-‘চার-পাঁচ বছর আগেও তারনাথ চক্কোত্তিকে আমরা চিনতাম না।’ কিন্তু ‘ব্রজভূষণের বিশ্বাসপ্রাপ্তিতে’ই আমরা দেখতে পাই তারা প্রায় দশ বছর হলো তারানাথের গল্প শুনছে। সর্বশেষ যেটা বলতে চাই, সেটা হলো ‘ঘোষ এন্ড মিত্র’ প্রকাশনীর এই বইটি ভারতে ৪৫০ টাকা হলেও বাংলাদেশে সেই একই কপির বই কিনতে প্রায় আট শতাধিক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বইয়ের পাতা ভালো, প্রিন্ট ভালো, কিন্তু এত দাম দিয়ে এই বই কেনাটা একটু বেশী খরচাই হয়ে যায়। তবুও ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ বাংলা সাহিত্যের একটি পরিচিত চরিত্র, এবং বহুদিন বাঙালির ঘরে বইটি শোভা পাবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। যারা অতিমাত্রায় আস্তিক, ভুত বিশ্বাস করেন তারা বইটি কিনে পড়তে পারেন।ত

Superb
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
কত page এর বই এটা
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৭৫, ধন্যবাদ।
বইটিতে কয়টি গল্প আছে?
প্রিয় গ্রাহক, এই বইয়ে বিভূতিভূষণের তারানাথ তান্ত্রিক কেন্দ্রিক দু'টি গল্প, তারাদাসের 'তারানাথ তান্ত্রিক' গ্রন্থটি এবং 'অলাতচক্র' উপন্যাস সবগুলি একত্র করে 'তারানাথ তান্ত্রিক সমগ্র' নামে এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হল। ধন্যবাদ।
এই বইটির 2021 সালের সম্পাদনাটি হবে আপনাদের কাছে?
প্রিয় গ্রাহক, ২০২১ সালের সম্পাদিত সংস্করণটি হবেনা। ধন্যবাদ।
এটা কি অরিজিনাল ইন্ডিয়ান টা?
প্রিয় গ্রাহক, জি, এটি অরিজিনাল ইন্ডিয়ান কপি। ধন্যবাদ।






















