

Buy প্রশংসিত রমণী Online in Bangladesh
লেখক: কাউসার আহমাদ
- Author: কাউসার আহমাদ
- Publisher: মাকতাবাতুল মদিনাহ
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
নারী এবং পুরুষ। একে অপরের সম্পূরক। সহোদর। সহযোগী। সহকারী। সহযোদ্ধা। সৃষ্টির শুরু থেকেই পরস্পরের সম্পর্ক ঠিক এমনই। রমণী বা নারী; আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নেয়ামত। সৃষ্টির সূচনাকাল থেকেই নারীর উপাধি—প্রশংসিত। অন্তরঙ্গ বন্ধু। কেন এই দাবি? বেহেশতে আদম আলাইহিস সালামের একাকিত্বের অন্তরঙ্গ বন্ধু হাওয়া রাদিআল্লাহু আনহা। সুখ রাজ্যেও এই নারীর শূন্যতা আদম আলাইহিস সালামকে বেশ আবেগি করে তুলেছিলো। তাঁর চোখ-মুখ এমন একজন সঙ্গীকেই কামনা করছিলো। হৃদয় অপেক্ষা করছিলো—কেউ একজন আসুক বলে। আমার কেউ একজন থাকুক। হাওয়া রাদিআল্লাহু আনহার আগমনে বেহেশতকে তাঁর ‘বেহেশত’ বলে মনে হয়েছিলো। তিনি হেসেছিলেন লজ্জায়। নুয়ে ছিলেন কৃতজ্ঞতায়। যে নারী তার স্বামীর মুখে হাসি ফোটায়, সে নারী প্রশংসিত নয় কি? অবশ্যই সে প্রশংসিত। নারী কেন প্রশংসিত? কোথায় কুড়োবে প্রশংসার ফুল? কীভাবে গাঁথবে প্রশংসার মালা? নিয়ম কী? কুরআন-হাদিসে কোনো নিয়ম আছে কি? বা কোনো মন্ত্র-টন্ত্র? এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমাদের আয়োজন ‘প্রশংসিত রমণী’। নারীমনে প্রশস্য ফুল ফোটাতে, নারীজীবন শ্লাঘ্য করে তুলতে, নারীজীবনের দুঃখ-কষ্ট সব দূর করতে ‘প্রশংসিত রমণী’ অনবদ্য ভূমিকা পালন করবে—আমাদের বিশ্বাস। বইটি পড়ে একজন নারী নিজেকে চিনবে জানবে বুঝবে এবং সেজদায় পড়ে রবের শোকর আদায় করবে—আমরা এমনটাই প্রত্যাশা করি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—‘প্রশংসিত রমণী’তে একজন নারী নিজেকে পুণ্যময়ী করে গড়ে তুলবার কার্যকরী ও ফলপ্রসূ রসদ খুঁজে পাবেন। প্রশংসিত রমণী হবার সহজ-সরল পথের দিশা পাবেন। নারীজীবনের প্রতিটি পদ ও পরিচয়ে স্বস্তিবোধ করবেন। প্রশংসিত রমণী হবার জন্যে ঢের পাথেয় জোগাড় করতে পারবেন। বাঁচতে পারবেন নিজেকে চিনে। বুঝতে পারবেন একজন নারীর মান-মর্যাদা। শান-শওক, ইনশাআল্লাহ! সুন্দর-গোছানো সুখী সংসার, আদর্শ সমাজ রাষ্ট্র ও পৃথিবী গঠনে ‘প্রশংসিত রমণী’ প্রশংসিত ভূমিকা রাখুক—আমাদের গভীর তামান্না।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

‘প্রশংসিত রমণী’ বইটি মূলত নারীর প্রশংসিত হবার সহজ—সরল পথ। তালিবুল ইলম, লেখক কাউসার আহমাদ ভাই এই বইয়ের পাতায় নারী সৃষ্টির রহস্য, নারীর প্রশংসিত হবার উপায়, নারীর সর্বোচ্চ সফলতা কি ও কিভাবে অর্জন করতে হবে সেই সব বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা আমাদের বর্তমান সমাজের দিকে চোখ রাখলে দেখতে পাই অধিকাংশ নারীই আজ বিপথে। অথচ নারীর জন্য জান্নাত লাভ অতি সহজ। তারপরেও কেন নারী বিপথে, কিভাবেই বা সুপথে ফিরে আসবে এসব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে এই বইটির পাতায় পাতায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি—সফলকাম হতে চাইলে প্রত্যেক নারীর উচিত এই বইটি পড়া। অনেক মা বোনেরা আছেন নামাজ পড়েন, পর্দা করেন মাশাআল্লাহ। কিন্তু দেখা যায় অতি ছোট ছোট কারণে সংসারে ঝামেলা বাঁধে, অশান্তি সৃষ্টি হয়। অথচ এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কিন্তু অতি সহজ। আমি নিজেও আগে মনে করতাম হয়তো অনেক কঠিন। কিন্তু বইটি পড়ার পর আমার সেই ধারণা পাল্টে গেছে। শুধু যে মা বোনেরা পড়বে বইটি এমনটা নয়; ভাইদেরও উচিত পড়া। কিন্তু কেন? কারণটা হচ্ছে—নারীর হাত ধরেই পুরুষের সফলতা। তাই সফলকাম হতে চাইলে আপনার কেমন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা দরকার তাও লেখক এই বইয়ে তুলে ধরেছেন। কি কি গুণ দেখে আপনি বিয়ে করলে সুখী হবে তার সহজ—সরল ব্যাখ্যা এই বইয়ের পাতায় পেয়ে যাবেন। প্রশংসিত নারীর প্রকৃত গুণ আর আমাদের আশেপাশের নারীদের গুণ আকাশ পাতাল পার্থক্য। তাই আমি সাজেশন দিবো এই বইটি পড়ে প্রত্যেক মা বোন নিজেকে প্রশংসিত করে তুলুন। আমার আম্মু বইটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে আছেন বহু আগে থেকে। দূরে থাকায় পাঠাতে পারছি না। মেজো মামি ও খালা মণি যে যখন পাড়ছে বইটি নিয়ে বসে যাচ্ছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে—কাউসার ভাইয়ের লেখা মামির কাছেও অনেক ভালো লাগে। আমার কাছে এই বইটির কথা শুনে বার বার তাগাদা দিচ্ছিলো বইটি নিয়ে আসতে। বইটির বাহ্যিক দিকটাও মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর ছিল। ছোট্ট এই ৬৪ পৃষ্ঠার বইটি ছিল কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য রেফারেন্সে ভরপুর। লেখক তার মনগড়া কোন কথা বইয়ের পাতায় লেখেননি। আল্লাহর যা বলেছেন, নবি করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সেগুলোই লেখক তুলে ধরেছেন প্রমাণসহ। ৬৪ পৃষ্ঠার এই বইটিতে ১০০+ কুরআন ও হাদীসের রেফারেন্স ছিল। মাশাআল্লাহ। বইয়ের কিছু লাইন নিয়ে একটু ব্যক্তিগত কথা বলি— “একজন সর্বোত্তম নারীর সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ হলো—স্বামীর সমব্যথী হওয়া। স্বামীর পেরেশানিতে সান্ত্বনা দেয়া। কাছে এসে বসে শক্তি—সাহস দেয়া। পুরুষ যখন হাজারো পেরেশানিতে ডুবে থাকে তখন যদি ঘরের রানি হাসিমুখে বসে দুই অক্ষর কথা বলে তাকে সান্ত্বনা দেয়, শক্তি দেয়, মনে সাহস জোগায়—ধীরে ধীরে স্বামীর সব পেরেশানি দূর হতে থাকে।” অথচ আমাদের সমাজের নারীরা করে কি—স্বামীর পেরেশানিতে তাকে আরো মানসিক চাপ প্রয়োগ করে, কটু কথা শোনায়। ঘরের রানির এমন আচরণ কোন পুরুষই মেনে নিতে পারে না। ফলে তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। কিন্তু এই সময়ে যদি ঘরের রানি সাহস জোগায়, শক্তি জোগায় তবে যেকোনো কঠিন কাজও পুরুষ খুব সহজেই সম্পাদন করতে পারে। আর যে স্বামীর ব্যথায় সমব্যথী হয় সেই তো সফলকাম। এমন নারীকে যে পুরুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছে সেও ভাগ্যবান। আল্লাহ তাআলা সকল নারীদেরকে করে তুলুন চির প্রশংসিত, সকল পুরুষের জীবনে প্রশংসিত রমণীকে পাঠিয়ে মা, বোন ও জীবনসঙ্গী হিসেবে। আমিন!






















