

Buy পালামৌ Online in Bangladesh
লেখক: সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Author: সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- Publisher: ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানি (ভারত)
- Isbn: 9789381200452
- Number Of Pages: 94
- Language: বাংলা
- Edition: 15th Printed, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পালামৌ ভূমিকা সঞ্জীবচন্দ্রের ‘পালামৌ' বাংলা সাহিত্যে বোধ করি সবচেয়ে মনোরম ও মধুর রচনা । ‘মনোরম’ শব্দটি প্রয়োগ করা উচিত কি না সন্দেহ ছিল, কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের ‘সঞ্জীবনী সুধা' ও চন্দ্রনাথ বসুর সঞ্জীব-সাহিত্য-সমা লাচনা'য় সন্দেহের নিরসন ঘটল। দুজনেই রচনাটির মিষ্টতা ও মনোহারিতার উল্লেখ করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে সঞ্জীবচন্দ্র প্রীতিপরবশ, চন্দ্রনাথ বসুর মতে পালামৌ “মিষ্টতা মনোহারিত্বে” উপন্যাসের সমতুল্য; রবীন্দ্রনাথ অন্যত্র সঞ্জীবচন্দ্র প্রসঙ্গে তাঁর হৃদয়ের মাধুর্যের উল্লেখ করেছেন। তিনজনেরই সাক্ষ্যে একই সত্যের স্বীকারোক্তি, সঞ্জীবচন্দ্রের হৃদয় মাধুর্যে পূর্ণ। সেই মধুর রস হৃদয় থেকে উদ্গত ও কল্পনায় পরিস্রুত হয়ে “পালামৌ” গ্রন্থখানিকে আবিষ্ট করে রেখেছে, ফলে পালামৌ বাংলা সাহিত্যের মধুরতম গ্রন্থে পরিণত। অন্য লেখকদের হৃদয়ে বিচিত্র রসের স্ফূর্তি হয়ে থাকে, তাই তাঁদের গ্রন্থেও বিচিত্র রসের প্রকাশ; সঞ্জীবচন্দ্রের হৃদয়ে কেবল মধুর রস, পালামৌ মাধুর্যস্বরূপ। এ গ্রন্থ ভালো লাগল না এমন কারো মুখে শুনি নি, এ গ্রন্থ যার ভালো না লাগবে তার হৃদয়ে মাধুর্য নেই। বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ দুজনকেই স্বীকার করতে হয়েছে যে প্রতিভার যোগ্য ফল সঞ্জীবচন্দ্র ফলিয়ে যেতে পারেন নি। বঙ্কিমচন্দ্ৰ বলেন, তার কারণ নিরুদ্যমতা, রবীন্দ্রনাথ বলেন গৃহিণীপনার অভাব। প্রকৃত কারণটা সঞ্জীবচন্দ্রের মাধুর্যময় প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত। খাঁটি সোনায় অলংকার তৈরি হয় না, অলংকার তৈরি করতে হলে একটুখানি খাদ মিশিয়ে সোনাকে শক্ত করে নিতে হয়। সঞ্জীবচন্দ্রের হৃদয়ে সেই খাদটুকু মিশ্রিত হয় নি, তাই তাঁর নিখাদ-হৃদয় সংসারের বা সাহিত্যের কাজে তেমন করে লাগল না। বঙ্কিমচন্দ্র অগ্রজের নিরুদ্যমতা, আলস্যের বারংবার উল্লেখ করেছেন, সেই সঙ্গেই বলেছেন মাঝে মাঝে তাঁর প্রতিভার অগ্নিশিখা উজ্জ্বল হয়ে উঠত, তার পরেই আবার সেই পূর্ববৎ। এ সেই খাদের অভাব, যে খাদ সোনাকে শক্ত করে তুলে সংসারের কাজের উপযোগী করে তোলে। চন্দ্রনাথ বসু-লিখিত “সঞ্জীব-সাহিত্য-সমালোচনা” পড়লে বুঝতে পারা যাবে যে নিরুদ্যমতা এক বিচিত্র রূপ নিয়েছে সঞ্জীবচন্দ্রের আলোচনায়। তিনি কোনো সূত্রকে ঋজুভাবে অনুসরণ করে যেতে পারেন না, মাঝে মাঝে নানারকম উপসূত্র এসে পড়ে, সূত্র ছিন্ন হয়ে যায়, তার পরে হঠাৎ সচেতন হয়ে ওঠেন লেখক, তখন ছিন্ন সূত্রের খেই ধরে আবার চলতে শুরু করেন, গল্প হিসাবে তেমন আর জমে না, কিন্তু সব অভাববোধ পূর্ণ হয়ে যায় সঞ্জীব-হৃদয়ের মাধুর্যরসে। বস্তুত পালামৌ একটানা লিখিত হয় নি, এতটুকু রচনা, তবু নানা সময়ের ব্যবধানে যে লিখিত হয়েছে, তার কারণ একটানা লিখতে গেলে যে উদ্যমের আবশ্যক হয় সঞ্জীবচরিত্রে তা ছিল না। এ-সব সত্ত্বেও 'পালামৌ' বাংলা সাহিত্যে একখানি অতি শ্ৰেষ্ঠ গ্ৰন্থ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
মাধ্যমিকের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিধায় 'পালামৌ' গ্রন্থটি প্রথমবার পড়ার সুযোগ হয়েছিল।এবং কৌতুহলবশত দ্বিতীয়বার পড়ে শেষ করলাম। 'পালামৌ' বাংলাসাহিত্যের একটি সার্থক ভ্রমণকাহিনী।ভ্রমণকাহিনী বলা হলেও রচনাটিতে লেখক ব্যক্তিগত জীবন উপলব্ধির আলোকে ভাষ্য রচনা করছেন ফলে দার্শনিকতা লক্ষণীয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ''সঞ্জীবচন্দ্র"(পালামৌ) একটি প্রবন্ধে এই বইটির উজ্জ্বল ও ব্যর্থ দুটি দিকই সমান সহানুভূতিতে বর্ণনা করছেনে।রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রবন্ধে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বলেছেন: "সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিভা পূর্বোক্ত শ্রেণীর।তাঁহার রচনা হইতে অনুভব করা যায় তাঁহার প্রতিভার অভাব ছিল না,কিন্তু সেই প্রতিভাকে তিনি প্রতিষ্ঠিত করিয়া যাইতে পারেন নাই।তাঁহার হাতের কাজ দেখিলে মনে হয়,তিনি যতটা কাজে দেখাইয়াছেন তাঁহার সাধ্য তদপেক্ষা অধিক ছিল" এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের রচিত প্রবন্ধে পালামৌ সম্পর্কিত বিষয়াবলী এই বইয়ের ভূমিকাতে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পালামৌ ভ্রমণকাহিনীটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বৃদ্ধ বয়সে লেখা।তিঁনি এই গ্রন্থে প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনার পাশাপাশি অনেক প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করেছেন।বিশেষ করে কোল জাতিদের জীবনদর্শন,ভাষা,কোল নারীদের বর্ণনা উল্লেখ্যযোগ্য।বইটি পাঠকালে সবচেয়ে মজার লেগেছে,কোলদের বিবাহপ্রথা।তাদের বিবাহকে একধরনের কন্যা-হরণ বলা চলে।কোলদের উৎসব সর্বাপেক্ষা বিবাহে।পালামৌ রচনায় লেখকের বিভিন্ন উপমায় রম্যের ব্যবহার,রসবোধ তৃপ্তি জোগায়।পরিশেষে বলা চলে,লেখকের বর্ণনা প্রতিভা যেকোনো পাঠকহৃদয়ে সাড়া জাগাবে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উক্তি: ★'বন্যেরা বনে সুন্দর,শিশুরা মাতৃক্রোড়ে' ★'গল্প করা বৃদ্ধ বয়সের রোগ,কেহ শুনুন বা না-শুনুন,বৃদ্ধ গল্প করে' ★'নিত্যমুহূর্তে এক-একখানি নূতন পট আমাদের অন্তরে ফোটোগ্রাফ হইতেছে এবং তথায় তাহা থাকিয়া যাইতেছে।আমাদের চতুঃপার্শ্বে যাহা কিছু আছে,যাহা কিছু আমরা ভালোবাসি,তাহা সমুদয় অবিকল সেই পটে থাকিতেছে"। ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৮৮/৫ বই: পালামৌ লেখক: সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রকাশনী: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পৃষ্ঠা: ৩৮ মুদ্রিত মূল্য: ৬০ টাকা মাত্র #নয়টাচার #সাতএকদুইহাজারবিশ

বই পড়ার ক্ষেত্রে আমার পছন্দনীয় কয়েকটি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র আছে। এর মধ্যে একটা হলো বন জঙ্গল। বুদ্ধদেব গুহর "কোয়েলের কাছে" উপন্যাস পড়ার মাধ্যমে "পালামৌ" জঙ্গলে কিছুদিন খুব আনন্দের সাথে বাস করেছিলাম। তখনই পালামৌর প্রেমে পরে গিয়েছিলাম। আজ পড়লাম সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রমণ কাহিনী "পালামৌ"।ছোট্ট একটা বইতে লেখক তার অসাধারণ প্রতিভার সুন্দর প্রকাশ ঘটিয়েছেন। চমৎকার বর্ণনায় একেবারে মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ে গেছি বইটা একটানা।























