

Buy নন্দীবাড়ির শাঁখ ( অদ্ভুতুড়ে সিরিজ ২৯ ) Online in Bangladesh
লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Author: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9789350407493
- Number Of Pages: 119
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Printed, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
মৃদঙ্গবাবু ঘুম থেকে উঠে চোখ চেয়েই ভারী অবাক হয়ে দেখতে পেলেন, তাঁর পায়ের কাছে খাটের পাশেই একটা ঝাঁকামুটে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঝাঁকাতে ঝিঙে, লাউ আর বেগুনও দেখতে পেলেন তিনি। শশব্যস্তে উঠতে গিয়ে তিনি আর-এক দফা অবাক হলেন, কারণ তাঁর খাটের পাশ দিয়েই সাঁ করে একটা সাইকেল টিং টিং করে বেল বাজাতে-বাজাতে চলে গেল। চারদিকে চেয়ে তিনি হাঁ। এ কী! তিনি যে রাস্তার উপর খাট পেতে শুয়ে আছেন! চারুবাবু থলি হাতে বাজারে যেতে-যেতে তাঁর দিকে চেয়ে বললেন, "আহা, আর-একটু সরিয়ে খাটটা পাতবেন তো যাতায়াতের যে বড্ড অসবিধে হচ্ছে মশাই।”
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বই রিভিউঃ বইঃ নন্দী বাড়ির শাঁখ লেখকঃ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ক্যাটাগরিঃ কিশোর সাহিত্য প্রকাশনীঃ আনন্দ পাবলিশার্স পৃষ্ঠাঃ ১১৯ মূল্যঃ ২৭০ টাকা রিভিউঃ গোপাল নন্দী অদ্ভুত এক মানুষ। তিনি যুগের মানুষ হয়েও সব রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি বাদ দিয়ে আগেকার দিনের মত করেই বাঁচতে চান। তার পূর্বপুরুষ প্রদত্ত ভগ্ন জমিদার বাড়িটিতে সময় দেখার মত একটা ঘড়ি পর্যন্ত নেই। তিনি সেকেলে সান ডায়াল আর বালু ঘড়িই ব্যবহার করেন। এই নন্দী বাড়ি অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে বটে। তবে গোপাল নন্দী এসবে গাঁ করেন না। বাড়ির পুরনো কাজের লোক মহাদেবদা আর সুখীলতাও এসবে গাঁ করেন না। কিন্তু গায়ের স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক নরেশ পালের অনেক চিন্তা হয়। অনেক কিছুই তিনি দেখতে পান। তার ধারনা গোপাল নন্দীও এসব দেখতে পায় বা জানে। নরেশ পাল একদিন ঠাকুরদালানের বিষ্ণুমূর্তিটা দেখে বলেন, এর পদ্ম, গদা, চক্র তিনটিই পিতলের। কিন্তু শঙখটা আসল। গোপাল নন্দীও এটা ভালো করেই জানেন। বিষ্ণুমূর্তিটা দেড়-দুশো বছরের পূরনো। আর এই শঙখটার সাথে জড়িয়ে আছে অনেক ইতিহাস। শঙখটা আপনাতেই বেজে উঠেছিল, আর ঘটেছিল অকল্পনীয় একটা ঘটনা। গায়ের লোকেনবাবু ঠান্ডা মাথার কুচক্রী মানুষ। গোপালের শাঁখের কথাটা তিনিও জানেন। এর মূল্যটাও তার জানা। আর জানেন বলেই এর পিছনে লেগেছেন। গোপালকে অনেক প্রস্তাবই দিয়েছেন। কিন্তু গোপাল পারিবারিক সম্পত্তি বলে রাজি হয়নি। তাই লোকেনকে খুজতে হয় অন্য পথ। মৃদঙ্গবাবুর ঘুম বড় অদ্ভুত ঘুম। ঘুম ভেঙে দেখেন ঘুমের মধ্যেই আছেন। পরে আবার ঘুম ভাঙে। এরকম চার-পাচবার ঘুম ভেঙে জাগেন তিনি। একরাতে এরকম ঘুম ভেঙে দেখেন একটা লোক। চোর বলেই মনে হয় তার। আবার ভাবেন এও বুঝি ঘুমের মধ্যেই হচ্ছে। লোকটা মৃদঙ্গবাবুর কাছে একটা জিনিস আমানত রাখে। নাম বলে যায় জগাই দাস। পরে মৃদঙ্গবাবু দেখেন কারুকার্য করা একটা আসল শাঁখ। শাঁখের মাঝ থেকে আসে মহাসমুদ্রের গর্জন। তারপর মৃদঙ্গবাবুর সাথে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা। এই শাঁখটাই কি নন্দী বাড়ির শাঁখ? জগাই দাসটাই বা কে? লোকেনবাবু কি হাতিয়ে নিতে পেরেছিল শাঁখটি? গোপাল নন্দী কি ফিরে পেয়েছিল তার শাঁখ? এতসব প্রশ্নের উত্তর জানতে, পড়ে ফেলুন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা- "নন্দীবাড়ির শাঁখ"। পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ অদ্ভুতুড়ে সিরিজের গল্পগুলো বরাবরই ভালো লাগে। এটাও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে গল্পের কিছু চরিত্র ভালো ফুটে উঠেনি। কাহিনীর গভীরতা কম ছিল। সব মিলিয়ে ভালো লেগেছে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৮

গ্রামের অদূরে যে গহীন জঙ্গল, সেইখানে ভাঙ্গা এক জমিদার বাড়ি। নন্দীবাড়ি বলে লোকে। গাঁয়ের সকলেই জানে, বাড়িটাতে অনেক অশৈলী কাণ্ডকারখানা হয়! কখনও ফাঁকা ঘরগুলোতে দীর্ঘশ্বাস ভেসে বেড়ায়, বা পায়ের শব্দ আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যায়। গভীর রাতে কুয়োর জল তুলে কারা যেন স্নান করে নেয়। এগুলো তো কিছুই নয়। সাহস করে রাত্তিরবেলা নন্দীবাড়ির উঠোনে ঢুকে পড়লে দেখা যায়, নাটমণ্ডপে কথকতার আসর বসেছে। একতলার রোয়াকে মাদুর পেতে দাবা খেলা জমে উঠে। চাতালে যাত্রার পালাও বসে। বেশী কাছে যেতে চাইলেই, স-ব দুম করে অন্ধকার আর ফাঁকা। তেনারা ঘেঁষাঘেঁষি বিশেষ পছন্দ করেন না কিনা! তাই বলে বাড়িটা পরিত্যক্ত নয় কিন্তু! জমিদার বংশের শেষ পুরুষ গোপাল একাই থাকে এখানে। সাথে থাকে বুড়ো কাজের লোক মহাদেব, সুখলতা আর প্রবীণ ঠাকুরমশাই। তাদের সকলেরই এসব গা সওয়া। নন্দীবাড়ি নিয়ে নানারকম গুজব আছে গ্রামে। বাড়িটাতে যে দুশো বছরের পুরোনো পিতলের বিষ্ণুমূর্তি রয়েছে না? তার হাতে রয়েছে বিশাল এক দক্ষিণাবর্ত শাঁখ। কথিত আছে, বিপদে আপদে শাঁখটা আপনাতেই বেজে উঠে! একদিন শেষরাতে, গোপালের ঘুম ভাঙ্গলো সেই শঙ্খধ্বনিতে। গভীর, বিষন্ন, কান্নার মতো আওয়াজ, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। মশাল জ্বালিয়ে ঠাকুরদালানে গিয়ে দেখে, বিষ্ণুর হাতে শাঁখটা যে নেই! চুরি গেছে নন্দীবাড়ির শাঁখ! অদ্ভুতুড়ে সিরিজ এর সব গল্পের মতোই এটাতেও আছে চোর, ভূত, পালোয়ান, হাস্যরস, বাস্তব আর অবাস্তবের মিশেল! অদ্ভুতুড়েগুলো যারা পড়েন তারা তো জানেনই, এর মজাই হলো - আপনার মনে হবে ভূতেরাও আমাদের চারপাশেরই অংশ, চোরও দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য! এই বইয়েও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এই সিরিজের অন্য গল্পগুলোর তুলনায় এটাতে তেমন মজা পাইনি। মালমশলা কম ছিল। কল্পবিজ্ঞানের মিশেল ছিল না, ভূত আর বিগত পূর্বপুরুষরাও গল্পে তেমন ভূমিকা রাখেননি। সবমিলিয়ে শীর্ষেন্দু এই উপন্যাসটা ঠিক খেলিয়ে তুলেননি। তবু অদ্ভুতুড়ে সবসময়ই প্রিয়। দেবাশীষ রায়ের মজাদার অলংকরণ আর প্রচ্ছদ তো রয়েছেই বইয়ে। মাত্র ১১৮ পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটি প্রকাশ পেয়েছে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। বানান ভুল একেবারেই নেই, তবে দুঃখজনক হল বইটির বাঁধাই খুলে এসেছে। বই: নন্দীবাড়ির শাঁখ (অদ্ভুতুড়ে সিরিজ) লেখক: শীর্ষেন্দু মুখ্যোপাধ্যায় প্রকাশনায়: আনন্দ পাবলিশার্স প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি, ২০১৭ ভারতীয় মূল্য: ১৫০ টাকা
বই : নন্দী বাড়ির শাঁখ। (অদ্ভুতুড়ে সিরিজ) লেখক : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। মূল্য : ১৮০ টাকা। (রকমারি) প্রকাশনী : আনন্দ পাবলিশার্স। #কাহিনী_শুরু মৃদঙ্গ বাবু ঘুম থেকে জেগে দেখেন তার খাট চৌরাস্তার মোড়ে। সেইখানে তিনি ট্রাক চাপা পড়তে পড়েতে বেঁচে যান। কিন্ত ঘুম ভেঙ্গে দেখেন তার শোবার ঘরে জলের তলায় তিনি দিব্যি শুয়ে। নানা রকমের মাছ কানের দু'পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপরের বার জেগে উঠেন চোর জগাইয়ের গুঁতানোতে। জেগে গিয়ে তিনি ভাবতে লাগলেন এও তার স্বপ্ন। স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন তার ভেতরে স্বপ্নই দেখে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু জগাই তাকে চিমটি দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে জেগে আছে। কিন্তু মৃদঙ্গ বাবুর এক কথা, না বাপু, এ যে আমার স্বপ্ন, পেঁয়াজ এর মত পরতের পর পরত জড়ানো স্বপ্ন। জগাইয়ের সাথে বিস্তর আলাপসালাপ করতে করতে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে উঠে টের পান বাড়িতে সত্যি চোর এসেছিল,কিন্তু চোর ঢুকলেও চুরি হয়নি কিছুই। পাড়ায় যে ছ্যে ছ্যে পড়ে যাবে! মৃদঙ্গবাবু তার বাবা ভজঙ্গ বাবুকে বলেন, "বাবা তবে কি আপনি চুরি না হওয়াতেই মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন?" সহজ সরল মানুষের কথাও হয় সহজ সরল। চোরের সাথে তার কথা হয়েছে তা প্রকাশ হবার পরে বাড়িতে প্রচণ্ড সোরগোল শুরু হয়। মা, বাবা এমনি বউও তাকে কথা শোনাতে বাকি থাকে না। মৃদঙ্গবাবু ভেবেই পায় না চোর চুরি না করে চলে গেছে এতে খুশি না হয়ে সবাই এমন হাপিতাশ কেন করছে? তবে কি চুরি হলেই ভালো ছিল? ওদিকে শহুরে জীবন বর্জিত গোপালের পৈত্রিক বাড়ি থেকে এক শতবষ পুরাতন শাঁখ চুরি যায়। যে বাড়িতে দিবের বেলায় মানুষ যেতে সাহস পায়না, সে বাড়ি থেকে শাঁখ চুরি করলো কোন চোরে? আর একটা শাঁখই তো! এ দিয়ে হবে টা কি? চোরে কি তবে পূজো অর্চনা করতেই শাঁখ চুরি করলো? তাই নিয়েই শুরু হয় বড্ড গোলমাল। গোপালের বাড়ির প্রাচীন শাঁখ কে চুরি করল? কেনই বা চুরি করল? আর মৃদঙ্গবাবুর বাড়িতে চোর এলেও কিছু চুরি না করেই বা কেন পালালো? জানতে চাইছেন? তবে আর কি! দেরি না করে পড়ে ফেলুন শীর্ষেন্দুর মুখোপাধ্যায়ের "নন্দী বাড়ির শাঁখ" গল্প টা।























