

Buy মাদারিজুস সালিকীন Online in Bangladesh
লেখক: ইমাম ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
- Author: ইমাম ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.)
- Publisher: মাকতাবাতুল বায়ান
- Number Of Pages: 640
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ভালো মানুষ হওয়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন আত্মার সংশোধন। আত্মার সংশোধন ছাড়া দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ লাভ করা সম্ভব নয়। যার অন্তর সংশোধন হয়ে যায়, সে-ই প্রকৃত সফল। কিন্তু আত্মশুদ্ধির পথে রয়েছে নানান তরীকা। সঠিক তরীকা খুঁজে না পাওয়ার ফলে মানুষ অন্তরকে জীবন্ত করার বদলে মেরে ফেলে। কোন তরীকাটি সঠিক সাধারণ মানুষের জন্য তা খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন। এই কঠিন কাজটি সহজ করে দিয়েছেন অষ্টম শতাব্দীর মহান ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি ছিলেন আত্মার অভিজ্ঞ চিকিৎসক। প্রায় ছয়শত বছর পূর্বে তিনি আত্মশুদ্ধি-বিষয়ে পৃথিবীর সেরা একটি কিতাব রচনা করেছেন, যার নাম মাদারিজুস সালিকীন। সচেতন মুসলিম মাত্রই এই বইটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। পৃথিবীর অসংখ্য ভাষায় এই বইটি অনূদিত হয়েছে। হাজার হাজার বইয়ে এর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। এটি আত্মশুদ্ধি-বিষয়ে রেফারেন্স-বুক হিসেবে সমাদৃত। আলহামদুলিল্লাহ, দীর্ঘ পরিশ্রমের পর বিখ্যাত এই বইটির প্রাঞ্জল অনুবাদ নিয়ে এসেছি আমরা। বইটি যত বেশি পড়া হবে, পাঠক তত বেশি উপকৃত হবে এবং নিজেকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করতে উৎসাহ পাবে। লেখক বইটিতে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আত্মশুদ্ধির সঠিক পথ দেখিয়েছেন। আত্মশুদ্ধি অর্জন করার জন্য তিনি অর্ধশত মানযিলের বর্ণনা দিয়েছেন। এ রকম কিছু মানযিল হলো—তাওবা, আল্লাহভীতি, গভীর ধ্যানে মগ্ন হওয়া, আল্লাহর ওপর ভরসা করা, সবর, শোকর, উত্তম চরিত্র, আল্লাহর স্মরণ, আত্মসম্মানবোধ ইত্যাদি। আত্মশুদ্ধির পথে এই বইয়ের প্রতিটি মানযিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বইয়ে রয়েছে এক মানযিল থেকে আরেক মানযিলে সফর করার দিকনির্দেশনা। যে নির্দেশনায় বান্দা একের-পর-এক মানযিল পাড়ি দিয়ে হয়ে ওঠে আল্লাহওয়ালা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
antor ke porishuddho korar Jonno best akta boi
আত্মশুদ্ধির জন্য খুবই ভালো বই
নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য খুব ভালো বই। আল্লাহ আমাদের আমলকে কবুল করুন।

◾প্রারম্ভিকা: ______________ আমরা প্রতিদিন শুধু ফরজ সালাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করি সতেরো বার। কেউ কেউ হয়তো সূরা ফাতিহার অর্থ জানি, কেউ আবার জানিনা। কেউ হয়তো সালাতে সূরা ফাতিহা ধীরে সুস্থে তেলাওয়াত করি, আবার কেউ বিড়বিড় করে পাঠ করে যাই। কেউ কেউ হয়তো তাফসির পড়েছি, আবার কেউ হয়তো তাদাব্বুর করেছি। সুবহানাল্লাহ! ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ! তিনি এক মহীরুহ। পূর্ববর্তী উত্তম ব্যক্তিবর্গের অন্যতম একজন। তিনি আকাইদ, ফিকহ, তাফসির, আখলাক প্রভৃতি শাস্ত্র-গুণে গুণান্বিত। আত্মশুদ্ধির জগতে তিনি তাঁর এক অনবদ্য রচনা আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন। আর তা হলো “মাদারিজুস সালিকীন”। সুবহানাল্লাহ! আমার ভাবনারও বাহিরে এটা, যে তিনি শুধুমাত্র সূরা ফাতিহার ৫ নং আয়াতকে কেন্দ্র করে পুরো বইটি রচনা করেছেন। যেখানে, বর্তমান প্রজন্মের আমরা সূরা ফাতিহার অর্থই ঠিকমতো জানিনা, সেখানে একখানা আয়াত নিয়ে পুরো বই রচনা আশ্চর্যজনক বটে। বইটি মূলত শাইখুল ইসলাম আবূ ঈসমাঈল আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ হারাবি রাহি. এর “মানাযিলুস সায়িরীন” গ্রন্থের সংক্ষেপিত রূপ। যেখানে শুধুমাত্র ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহি. এর কথাগুলোই একত্র করা হয়েছে। বইটি সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জন করেছেন আরবের বিখ্যাত আলিম, লেখক, সাহিত্যিক সালিহ আহমাদ শামি হাফি.। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য অনুবাদ করেছেন মাওলানা আসাদ আফরোজ। প্রকাশনায় রয়েছে মাকতাবাতুল বায়ান। . ◾বই অভ্যন্তরে: ________________ মাদারিজুস সালিকীন শব্দের অর্থ বলা যায় আল্লাহর পানে যাত্রা। অর্থাৎ আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হয়ে উঠার যাত্রা। আল্লাহর কাছাকাছি অবস্থানে যাওয়ার জন্য সূরা ফাতিহা থেকে আমাদের শিক্ষাসমূহ আলোচনা করা হয়েছে বইটিতে। যা থেকে আমরা অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে অনুধাবন করবো আমাদের অজানা অনেক বিষয়। বইটিতে থাকবে মোট তিনটি অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়- সূরা ফাতিহা সম্পর্কে আলোচনা। এখানেও রয়েছে ছয়টি পরিচ্ছেদ। শুরুর দিকে সূরা ফাতিহার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, সূরা ফাতিহার একত্ববাদ, ইবাদাত এবং সাহায্য প্রার্থনা, সাহায্য প্রার্থনার আগে ইবাদাতকে স্থান দেওয়ার কারণ অর্থাৎ “ইয়্যা কানা'বুদু ওয়া ইয়্যা কানাসতা'ঈন- আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি” এর পেছনের হিকমাহ এবং “ইহদিনাস সিরাত্বল মুসতাকিম” আয়াতের ইহদিনা শব্দের বিভিন্ন স্তরও আলোচিত হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়- বইয়ের মূল অংশ অর্থাৎ সূরা ফাতিহার পঞ্চম আয়াত থেকে ৫৮ টি মনযিল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের কাছে যা এক লাইন বা এক আয়াত তা থেকেই ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ ৫৮ টি মনযিল দেখিয়ে দিয়েছেন। যেখানে রয়েছে- তাওবা, আল্লাহভীতি, ভালোবাসা, হিংসা, দুনিয়াবিমুখতা, একাগ্রতা, বিনয়, উদারতা, প্রজ্ঞা, প্রশান্তি, পরিচ্ছন্নতা, অপরিচিত হয়ে বসবাস করা ইত্যাদি। অর্থাৎ- উত্তম আখলাক, জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা যা যা জানি তার সবই রয়েছে এই আয়াতকে কেন্দ্র করে। এই আয়াতের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের ৫৮ টি মনযিল। অবশ্য প্রথমে- মানযিল কী, এর প্রকারভেদ, এর স্তর ও সংখ্যা এগুলো আলোচনা থাকবে। ২ নং ভূমিকায় থাকবে- মানযিলে পৌঁছানোর যাত্রা শুরুর আগে আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা। “নির্বাচিত প্রবন্ধমালা” শিরোনামে রয়েছে তৃতীয় অধ্যায়। যেখানে ৭ টি প্রবন্ধ থাকবে৷ এই প্রবন্ধগুলো আমাদের করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোই আমাদের জানাবে বলে মনে হচ্ছে। পরিভাষা সম্পর্কেও আমরা ভালো একটা ধারণা পাবো এই অধ্যায় থেকে। জানতে পারবো কোন কোন বিষয় আল্লাহর সাথে আমাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়, অন্তর বিনষ্টকারী বস্তুসমূহ, আখিরাত থেকে দূরে থাকার কারণসমূহ, বিভিন্ন আমলের ফলাফল ও উপকারিতা। . ◾শর্ট পিডিএফ পড়ে অনুভূতি: ________________________ বিশাল কলেবরের বইটির মাত্র ৪৫ পৃষ্ঠাই পিডিএফে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে পুরো বই থেকেই অল্প অল্প সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছিলো। যার দরুন, পুরো বইয়ের ব্যাপারেই কিছুটা ধারণা করতে পেরেছি। তো আমার মনে হয়েছে, অন্তরের যাবতীয় আমল বইটিতে একীভূত করা হয়েছে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায়। সূরা ফাতিহার অবস্থানে অন্য কোনো সূরাই নেই। এমনকি তাওরাত ইঞ্জীল বা কুরআনেও এর অনুরুপ কোনো সূরা আল্লাহ নাযিল করেননি। এই সূরাকে ঘিরে রয়েছে আল্লাহর হিকমাহ যা আমাদের অজানা। বিশেষ করে ৫ম আয়াতেই রয়েছে মুমিনের জন্য অনেক অনেক বার্তা। মুমিনের অন্তরের পরিচর্যার বিষয়গুলোই উঠে এসেছে বক্ষমান গ্রন্থটিতে। দেহের চিকিৎসা করলে দেহ সুস্থ হয় আর আত্মিক চিকিৎসায় মন সুস্থ হয়। দেহ আর মনের মধ্যে মনই উত্তম। আর মুমিন মাত্রই বাহ্যিক বা দেহের সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মিক সৌন্দর্যের খোঁজ করে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে মারফূ‘ হিসেবে বর্ণিত, “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতির ওপর ভিত্তি করে সাওয়াব এবং প্রতিদান দেন না, আর এর মাধ্যমে তোমাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন হবে না; বরং তোমাদের অন্তরের ইখলাস, সততা ও সৎ আমলের ওপর ভিত্তি করে পুরস্কার অর্জিত হবে, যা তোমরা আঞ্জাম দাও।” (সহীহ মুসলিম থেকে) ৪৫ পৃষ্ঠার শর্ট পিডিএফ পড়ে মনে হয়েছে মাকতাবাতুল বায়ান থেকে এবার আমরা অনবদ্য একটি গ্রন্থ পেতে যাচ্ছি। মা শা আল্লাহ! এমন বই নিয়ে কাজ করা বা এমন বই পাঠকদের উপহার দেওয়া খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জ্ঞান অন্বেষণপ্রেমী বা আল্লাহপ্রেমী পাঠক মাত্রই বইটি সংগ্রহে রাখার চেষ্টা করবে। বই সংশ্লিষ্ট সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিক। আমাদের সকলকে আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দা হওয়ার তাওফিক দিক। আমিন!
প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের জীবনের পরম লক্ষ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত যে সব গুণাবলি অর্জন করলে মহান আল্লাহ্ তায়ালা খুশি হন সেসব গুণে নিজেকে সাজানো।কোরআন-হাদিস অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।প্রকাশ্য ও গোপন সব ধরনের পাপ কাজ আল্লাহর ভয়ে পরিত্যাগ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পরকালীন চিরস্থায়ী জীবনে কঠিন আযাবের স্থান জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত হাসিল করা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে এবং আমাদের আল্লাহ্ পযর্ন্ত পৌঁছাতে যে সব গুণাবলি অর্জন করতে হবে সে সব উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে "মাদারিজুস সালিকীন" বইটিতে। "মাদারিজুস সালিকীন" বা আল্লাহর পানে যাত্রা বইটিতে একজন বান্দা যে সকল পদ্ধতি অবলম্বন করে আল্লাহর প্রিয় বা সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে সে সকল বিষয় সমূর "সূরা ফাতিহার " আলোকে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। বইটি তিনটি অধ্যায়ের প্রথম অধ্যায়ে ৭টি পরিচ্ছেদে সূরা ফাতিহার অর্থ ও এর লক্ষ-উদ্দেশ্য,ইবাদাত এবং সাহায্য প্রার্থনা, সাহায্য প্রার্থনার আগে ইবাদাতকে স্থান দেওয়ার কারণ, ইবাদতের ভিত্তি,দাসত্তের বিভিন্ন স্তর ও হিদায়েতের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে । দ্বিতীয় অধ্যায়ে সূরা ফাতিহার ৫ নাম্বার আয়াতের আলোকে ৫৮ মনযিল বা স্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারবে। মনযিল সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো তওবা, আল্লাহভীতি, ভালোবাসা, হিংসা, দুনিয়াবিমুখতা, একাগ্রতা, বিনয়, উদারতা, প্রজ্ঞা, প্রশান্তি, পরিচ্ছন্নতা,লাজুকতা,উত্তম চরিত্র,জ্ঞান, দারিদ্র্যতা ইত্যাদি। তৃতীয় অধ্যায়ে নির্বাচিত ৭টি প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রবন্ধ গুলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে পাশাপাশি বিভিন্ন আমলের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। পাঠকদের সুবিধার্থে "মাকতাবাতুল বায়ান" ৪৫ পৃষ্ঠার একটি শর্ট পিডিএফ প্রকাশ করেছে। সহজ-সাবলীল অনুবাদ ও তথ্য বহুল সূচিপত্র ও বইটি বিভিন্ন চুম্বকাংশ পড়ে মনে হয়েছে যে বইটি আমাদের সবার জন্য উপকারী। বইটিতে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ এখানে একজন মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাতে কী কী গুণ অর্জন করা আবশ্যক, কোন কোন মানযিল তাকে পাড়ি দিতে হবে আর কোন কোন বাধা তার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং এই প্রতিবন্ধকতা সমূহ থেকে মুক্তির উপায় সহ সব সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। পরিশেষে আল্লাহ্ তা'আলার কাছে দু'আ করি, এই বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক,সম্পাদক, পাঠক-পাঠিকা সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন। আমিন। বই সম্পর্কে 👇 বইয়ের নাম : মাদারিজুস সালিকীন : আল্লাহওয়ালা হওয়ার সার্বিক দিকনির্দেশনা লেখক : ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) পরিমার্জন : শাইখ সালিহ আহমাদ শামি অনুবাদ : মাওলানা আসাদ আফরোজ প্রকাশনী : মাকতাবাতুল বায়ান পৃষ্ঠা : ৬৪০ মুদ্রিত মূল্য: ৮০০৳























