

Buy কালো সীমানা Online in Bangladesh
লেখক: জাভেদ হুসেন
- Author: জাভেদ হুসেন , সাদত হাসান মান্টো
- Publisher: প্রথমা প্রকাশন
- Isbn: 9789845250061
- Number Of Pages: 78
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘কালো সীমানা’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ সাদত হাসান মান্টো ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক বিশেষ পর্বের কথক। তাঁর রচনাবলির গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে আছে ১৯৪৭-এর দেশভাগ নিয়ে লেখা গল্প। এই বইয়ের গল্পগুলো সেই সময়ে চলার পথে ঘটতে দেখা ইতিহাসের চিত্রসম্ভার—বীভৎস, নির্মম; কোনো প্রলেপ নেই তাতে। গল্পগুলোর তীব্রতা পাঠককে আনন্দের বদলে বেদনা দেবে বেশি। ইতিহাস থেকে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে মান্টোকে পাঠ করা সম্ভব নয়। মানুষের পক্ষ থেকে ইতিহাস বিনির্মাণের কাজে সাদত হাসান মান্টোকে তাই অনিবার্যভাবে পাঠ করতে হবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

আশা করি নাই এতটা ভাল লাগবে বইটা।আসলেই অসাধারন।

তুলনাহীন

দেশভাগের আগের সময়টা ছিল অন্যরকম।সবসময় একটা শান্তিময় ব্যাপার ছিল চারিদিকে। হিন্দু মুসলিম সবাই ছিল ভাই ভাই, সবাই যেন একই আত্মায় বাধা। হঠাৎ করেই সব বদলে গেলো। মানুষের মাঝ থেকে বের হয়ে আসলো সেই আদিম পশু।মুহুর্তেই বন্ধু হয়ে গেল শত্রু, শান্তির ভূমিতে উঠে এলো এক সীমানা, জ্বলে উঠলো আগুন। এক দিকে মানুষ পালাচ্ছে, আর এক দিকে চলছে লুটপাট খুন। মানুষ লালসার কাছে বিবেক কে বিসর্জন দিয়ে উপমহাদেশের শান্তিকে পদদলিত করে প্রবেশ করলো এক অন্ধকার সময়ের মাঝে, যেখানে সীমানাই হয়ে উঠলো সব সমস্যার মূল। উপমহাদেশের প্রখ্যাত লেখক সদাত হাসান মান্টো সেই সীমানাকেই কাল সীমানা বলে চিহ্নিত করেছেন। সাদত হাসান মান্টো ছিলেন ভারত উপমহাদেশে ৪৭ এর সময়ের লেখকদের মাঝে অন্যতম। দেশ ভাগের পরে তাকে চলে যেতে হয় পাকিস্তানে। কিন্তু তিনি মনেপ্রানে ঘৃণা করেছেন এই কালো সীমানাকে, যা শুধু তার দেশ নয়-হৃদয়কেও দ্বিখন্ডিত করেছে ।তাই তিনি "কালো সীমানা " বইটি লিখে শুধু সেই সময় মানুষের মাঝে লুকানো হিংস্র রূপকে খুব সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকেই তুলে ধরেননি, খুব অল্প ভাষায় মনের তীব্র আবেগকে প্রকাশ করেছেন শক্ত লেখনির মাঝ দিয়ে অবলীলায়। বইটির শুরু একটি দুই লাইনের গল্প দিয়ে।তার গল্পগুলো খুব ছোট ছোটগল্প হলেও গল্পগুলো অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। মান্টোর অধিকাংশ লেখাই ছিলো সমাজের অন্ধকারকে খুব সুক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করে লেখা।সমকালীন লেখকদের প্রথাগত লেখনি থেকে বেরিয়ে এসে সৃষ্টি করেছিলেন আর এক জগত। তাই তিনি নিজেকে স্রষ্টা মনে করতেন। কেউ যদি সাধারণ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে একটু ভিন্নতা খুঁজে পেতে চান, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন মান্টোর কাল সীমানার জগতে।
সাদত হাসান মান্টোর গল্পের বই ‘কালো সীমানা’। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত উপমহাদেশের বিভক্তি, সেই বিভক্তির ফলে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশান্তরি, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও লুটপাট, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারীর সার্বিক লাঞ্ছনা ইতিহাসের পাতায় যতটা চিত্রিত, তার চেয়ে কম চিত্রিত নয় উর্দু সাহিত্যেও।উল্লিখিত দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে যার কলম সবচেয়ে সচল ছিল, তিনি হলেন ক্ষণজন্মা উর্দু সাহিত্যিক সাদত হাসান মান্টো। আমরা যদি ১৯৪৭ সালের দাঙ্গার ইতিহাস নাও পড়ি শুধু ঐ দাঙ্গাকে নিয়ে লেখা মান্টোর গল্পগুলো পড়ি তাহলেই চোখের সামনে দিবালোকের মতো উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে দাঙ্গার স্বরূপ, দাঙ্গার বীভৎসতা এবং তার দূরপ্রসারী পরিণতির ছবি।এই বইয়ের গল্পগুলোও মূলত সেই সময়ে ঘটে যাওয়া বীভৎস ও নির্মম চিত্রসমূহ। ফর্ম এবং বিষয় উভয় দিক থেকেই গল্পগুলো বিস্ময়কর। গল্পগুলোর কোথাও কোথাও কখনও কৌতুকের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু আমরা বুঝতে পারি সাদত হাসান মান্টোর গল্প ব্যক্তিমানুষের নিজ অস্তিত্বের সীমানা ধসে পড়ার গল্প।অার বইটি উর্দু থেকে সুন্দর করে পাঠকদের জন্য অনুবাদ করে দেওয়ায় জাভেদ হুসেনের প্রতিও অামাদের বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করছি।
বইটা পড়ে তৃপ্তি পেয়েছি। সাদত হাসান মেন্টোর লেখা বড় গল্পটা বড়জোড় ১/২ পৃষ্ঠা ছিলো। ছোটোগল্প গুলা একটু বেশিই ছোটো। কিন্তু প্রতিটা গল্প পড়ে আমার শিরদাঁড়া বেয়ে এক ধরনের শিহরণ বয়ে গেছে। আমি জানি না এই শিহরণের উৎস কোথায় এবং কেনো এই শিহরণ বয়ে গেলো। শুধু এটাই বলবো সাদত হাসান মেন্টো আপনাকে হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।




















