

Buy অ্যাবসেন্টিয়া Online in Bangladesh
লেখক: এম. জে. বাবু
- Author: এম. জে. বাবু
- Publisher: গ্রন্থরাজ্য
- Isbn: 9789849639930
- Number Of Pages: 336
- Language: বাংলা
- Edition: ৩য় মুদ্রণ অক্টোবর ২০২২
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দের মাসের ট্যুর দিয়ে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতিষ্ঠিত অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পরে দিনই দূর্ঘটনার মুখোমুখি হলেন ক্রিমিনাল সাইকোলজিস্ট আব্দুল মান্নান। বিভাগের একজন মনোবিদ মোস্তফা জামান নিজ অফিস কক্ষে করেছেন আত্মহত্যা।একজন সিনিয়র প্রফেসর ও মনোবিদ নিজে আত্মহত্যা কেন করবেন- এমন প্রশ্নের উওর খুজতে ব্যক্তিগত ভাবে হালকা তদন্তে নামলেন আব্দুল মান্নান সাহেব। কিন্তু এরপরেই বেরিয়ে এলো চমকপদ সব তথ্য।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

========= কাহিনী/বইয়ের সার-সংক্ষেপ ========== দেড় মাসের ট্যুর শেষে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতিষ্ঠিত অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব নেয়ার পরে প্রথম দিনই এক অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর ঘটনার মুখোমুখি হলেন ক্রিমিনাল সাইকোলজিস্ট আব্দুল মান্নান। একই বিভাগের অন্য এক মনোবিদ মোস্তফা জামানের নিথর লাশ পাওয়া গেল তারই অফিস কক্ষে। আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও একজন মনোবিদ যখন নিজেই আত্মহত্যা করেন ব্যাপারটি আসলেই দুঃখজনক। তাই মনে কিছুটা খটকা নিয়েই নিজ উদ্যোগে ব্যাপারটি নিয়ে হালকা তদন্ত শুরু করলে আব্দুল মান্নান আরোও জানতে পারেন তার ট্যুর চলাকালীন সময়ে ‘আচরণগত মনোবিদ্যা’ বিভাগের অধ্যাপক দিদারুল ইসলাম নামে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক মনোবিদও আত্মহত্যা করেছেন নিজের অফিসেই! তিনি আরোও খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কোন উপযুক্ত দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে আরোও কয়েকজন মনোবিদ আত্মহত্যা করছেন নিজ বাসাতেই কিংবা অফিসে। মান্নান সাহেব তাই সাহায্য কামনা করলেন সাবেক পিবিআই অফিসার এবং বর্তমানে কলাবাগান থানার ওসি দানিয়ালের। আনঅফিসিয়াল হলেও শ্রদ্ধেয় মান্নান স্যারের অনুরোধটি ফেলতে পারলেন না ওসি দানিয়াল। ব্যক্তিগত উদ্যোগেই আবার নতুন করে শুরু করলেন তদন্ত। দানিয়ালের কাছেও শুরুতে নিছক আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্ত রিপোর্টগুলো দেখেই তার মনে নতুন করে সন্দেহ দানা বাধতে লাগলো যে, সবগুলো ঘটনাই আত্মহত্যা নয় বরং তা হত্যার দিকেই নির্দেশ করে। একের পর এক তথ্য হাতে পেতেই দানিয়ালের ঘাড়ের পেছনে যেন এক শীতল শিহরণ বয়ে গেল। কারণ ইট-কাঠ-পাথরের এই শহরে আগমন ঘটছে নতুন এক ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলার। যেখানে তার হত্যার মূল অস্ত্রই হচ্ছে মস্তিষ্ক! ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== এম. জে. বাবুর পড়া এটা আমার ৩য় বই। লেখকের দিমেন্তিয়া বইটির শেষে যে উনি মাথানষ্ট করা এক টুইস্ট দিয়েছিলেন, তা সত্যিই ছিলো অসাধারণ। সেই টুইস্টের লোভেই শুরু করলাম অ্যাবসেন্টিয়া । আবার একটা মনমতো থ্রিলার পড়লাম। অসাধারণ ও পারফেক্ট এক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বললেও ভুল হবে না বইটাকে। বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় দিকটা হলো ব্যতিক্রমী এক প্লট। যাদের কাজ হচ্ছে মানুষের অসুস্থ মনকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক করে গড়ে তোলা; তারাই যদি মানসিক অসুস্থতার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে শুরু করে তাহলে কেমন হবে বিষয়টা? বইটির লেখনশৈলী, সংলাপ, প্রতিটি চরিত্রের বিশেষত দানিয়াল চরিত্রটির বিকাশ, স্থান, কাল ও বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ ছিলো যথেষ্ট আকর্ষণীয়। যা একজন পাঠককে বইটিকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে বাধ্য করবে। বইয়ের শুরু থেকে ধীরে ধীরে এগোলেও পরে কাহিনী হয়ে উঠেছে দারুণ গতিময়। আর বইয়ের শেষের দিকে এসে একের পর এক লেখক যেভাবে রহস্য ও চরিত্রগুলোর মুখোশ উন্মোচন করেছেন তা ছিলো দারুণ চমকপ্রদ। তবে বইটি এর আগেরটার মতোই শেষ হইয়াও যেন হইলো না শেষ! অর্থ্যাৎ পরের পার্টটি পড়তে হবে। জানিনা সেখানে লেখক কি চমক রেখেছেন পাঠকের জন্য। রহস্য ও থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের জন্য বইটি মিস করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রোডাকশনঃ বইটির কভার ডিজাইন, বাইন্ডিং ও পৃষ্ঠার কোয়ালিটি আমার কাছে আকর্ষণীয় ও দারুণ লেগেছে। কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০।

থ্রিলার হিসেবে বইটা শুরুর দিকে অনেক ভাল লেগেছে কিন্ত শেষটা ভাল লাগেনি।

স্লো বার্ন বাট ভালো।দিমেন্তিয়া পড়ি নাই পড়তে হবে খুব শিগগিরীই।

🔰 বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠বইয়ের নাম : অ্যাবসেন্টিয়া ➠লেখক : এম. জে. বাবু ➠জনরা : সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, সিরিয়াল কিলিং ➠প্রকাশকাল : ২০২২ ➠প্রকাশনী : গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশনী ➠প্রচ্ছদশিল্পী : আদনান আহমেদ রিজন ➠পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৩৩৪ ➠মুদ্রিত মূল্য : ৫৮০ টাকা “𝐓𝐡𝐞 𝐨𝐧𝐥𝐲 𝐬𝐨𝐥𝐮𝐭𝐢𝐨𝐧 𝐟𝐨𝐫 𝐛𝐚𝐝 𝐚𝐧𝐝 𝐯𝐢𝐨𝐥𝐞𝐧𝐭 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐢𝐬 𝐭𝐨 𝐦𝐚𝐤𝐞 𝐭𝐡𝐞𝐦 𝐫𝐞𝐚𝐥𝐢𝐳𝐞 𝐭𝐡𝐚𝐭 𝐰𝐡𝐞𝐧 𝐠𝐨𝐨𝐝 𝐩𝐞𝐨𝐩𝐥𝐞 𝐝𝐨 𝐬𝐨𝐦𝐞𝐭𝐡𝐢𝐧𝐠 𝐛𝐚𝐝 𝐭𝐨 𝐭𝐡𝐞𝐦 𝐭𝐡𝐚𝐭 𝐚𝐫𝐞 𝐦𝐨𝐫𝐞 𝐚𝐫𝐭𝐢𝐬𝐭𝐢𝐜 𝐚𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞𝐲 𝐚𝐫𝐞 𝐦𝐨𝐫𝐞 𝐬𝐤𝐢𝐥𝐥𝐞𝐝 𝐢𝐧 𝐯𝐢𝐨𝐥𝐞𝐧𝐜𝐞.” 🔰 ফ্ল্যাপ থেকে: দেড় মাসের ট্যুর দিয়ে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতিষ্ঠিত অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম দিনই দূর্ঘটনার মুখোমুখি হলেন ক্রিমিনাল সাইকোলজিস্ট আব্দুল মান্নান। বিভাগের একজন মনোবিদ মোস্তফা জামান নিজ অফিস কক্ষে করেছেন আত্মহত্যা। একজন সিনিয়র প্রফেসর ও মনোবিদ নিজেই আত্মহত্যা কেন করবেন এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যক্তিগতভাবেই হালকা তদন্তে নামলেন আবদুল মান্নান সাহেব। কিন্তু এরপরেই বেরিয়ে এলো চমকপ্রদ সব তথ্য। এই একজনই শুধু নয়, ঢাকা চট্টগ্রাম মিলিয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন নিজের বাসায় বা অফিসে, এবং প্রত্যেকেই ছিলেন মনোবিদ! আত্মহত্যাই ঘটছে নাকি সবটাই সাজানো? ডাক পড়লো সাবেক পিবিআই অফিসার এবং ভাগ্যের জেরে বর্তমানে তিন মাস ধরে কলাবাগান থানার ওসি পদে বসে থাকা দানিয়ালের। শ্রদ্ধেয় প্রফেসরের অনুরোধ ফেলতে পারলো না দানিয়াল, খতিয়ে দেখতে শুরু করলো আত্মহত্যার কেসগুলো। কিন্তু আসলেই কী এগুলো আত্মহত্যা? কি ঘটছে দুই বছর ধরে গোপনে যে কারণে এতজন মনোবিদ আত্মহত্যা করলেন? কেন পোস্টমর্টেম-এ প্রতিটি লাশের শরীরেই পাওয়া গিয়েছে একই ড্রাগের উপস্থিতি? আত্মহত্যার কিছু দিন আগে কেন সকলেরই আচরণে ঘটেছিল পরিবর্তন? আত্মহত্যাই কী ঘটছে প্রতিবার নাকি খুন করা হচ্ছে মনোবিদদের? ঘাড়ের পেছনে শীতল শিহরণ বয়ে গেল দানিয়ালের এক বছর আগের সিরিয়াল কিলিং কেসের কথা মনে করে। আবার কী আগমন ঘটেছে অদৃশ্য কোনো শত্রুর?... নাকি পুরনো কেউই...!! পাঠক, এত সব প্রশ্নের জবাব পেতে হলে বসে পড়ুন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার "দিমেন্তিয়া"র দ্বিতীয় কিস্তি "অ্যাবসেন্টিয়া" নিয়ে। নেমে পড়ুন দানিয়ালের সাথে আরেকবার অদৃশ্য শত্রুর বিরূদ্ধে দুর্বার লড়াইয়ে। 🔰 পাঠ প্রতিক্রিয়া: 𝐈𝐭 𝐢𝐬 𝐨𝐧𝐞 𝐨𝐟 𝐭𝐡𝐞 𝐛𝐞𝐬𝐭 𝐬𝐞𝐫𝐢𝐚𝐥 𝐤𝐢𝐥𝐥𝐢𝐧𝐠𝐬 𝐭𝐡𝐫𝐢𝐥𝐥𝐞𝐫𝐬 𝐈'𝐯𝐞 𝐞𝐯𝐞𝐫 𝐫𝐞𝐚𝐝. হ্যাঁ, অন্যতম সেরা। আর আগে যেগুলো পড়েছি সেগুলো বলতে গেলে প্রায় সবই অনুবাদকৃত বিদেশী লেখকদের বই। এক্ষেত্রে এই বইটা আমাদের দেশীয় একজন তরুণ লেখকের লেখা। ❝অ্যাবসেন্টিয়া❞ - সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার "অ্যানার্কিস্ট" সিরিজের দ্বিতীয় বই। বইটা এই বছর বইমেলার সময় গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশনী থেকে রিপ্রিন্ট হওয়ার সময়ই আমার হাতে আসে। তবে বিভিন্ন কারণ বলি আর ব্যস্ততাই বলি বইটা পড়া হয়ে উঠছিল না। অবশেষে কিছুদিন আগে পড়ে শেষ করলাম অ্যাবসেন্টিয়া। ৩৩৪ পেইজের বইটা পড়তে প্রায় ৩ দিন সময় লেগেছে আমার। আর শেষ করার একটা জিনিসই মনে হয়েছে,“𝐓𝐡𝐢𝐬 𝐢𝐬 𝐚 𝐦𝐚𝐬𝐭𝐞𝐫𝐩𝐢𝐞𝐜𝐞.” হিপনোটিজম আর সিরিয়াল কিলিং এর সমন্বয়ে রচিত এক অভূতপূর্ব সাইকোলজিক্যাল উপখ্যান হলো অ্যাবসেন্টিয়া। বইয়ের একদম শুরু থেকেই লেখক যেনো রহস্যের জাল বিছানো শুরু করেছেন। একদম ধীরে ধীরে...আর সেই জালটা আবার গুটিয়ে নিতে শুরু করেছেন ১২৮-১৩০ পেইজের পর থেকে। লেখক মূলত এই ১২৮-১৩০ পেইজের মধ্যেই প্লট স্টাবলিশিং, ক্যারেক্টার বিল্ডাপ করেছেন। এর পরে শুরু হয়েছে আসল কাহিনী। স্লো হলেও এই শুরুর দিকের অংশটাও আমি উপভোগ করেছি, এর কারণ হয়তো লেখকের লেখনী। লেখনী নিয়ে পরে আসছি। পুরো গল্পটাই লেখক চমৎকার ভাবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আমি মনে করি এটা এই বইয়ের কিংবা প্লটটির একটি স্ট্রং পয়েন্ট। কাহিনীর সার্থে লেখক বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের থিওরির আলোকে গল্পটা সাজিয়েছেন। এতো বিস্তারিত এসব তত্ত্ব থাকার কারণে অনেকে নাক কুঁচকাতে পারে, তবে আমার এই অংশগুলো বেশ ভালো লেগেছে, রীতিমতো উপভোগ করেছি। পাশাপাশি গল্পের গভীরতার প্রয়োজনে বেশ কিছু যায়গায় যথেষ্ট বিস্তারিত ভাবেই লেখক হিপনোটিজম বা সম্মোহন বিদ্যার ইতিবৃত্ত সহ হিপনোটিজম সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব তুলে দিয়েছেন। গল্প পড়ার সময় অনেকের কাছে এটা বিরক্তিকর হলেও গল্পের গভীরতা, খুনের কৌশল বুঝতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে আমি মনে করি, যদিও এই যায়গাগুলো আমার বেশ ভালো লেগেছে এমনকি সেই পেইজ গুলো আমি মার্কও করে রেখেছি। বইটা পড়ার সময় শেষের দিকে কাহিনী এতো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল যে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়াচ্ছে সেটা বুঝতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল। পুরো বই জুড়েই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে টুইস্ট কিন্তু শেষের দিকে যেনো একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছিলাম। এই বইয়ের আরেকটা জিনিস যেটা অনেক ভালো লেগেছে তা হলো বইটার ❝মুখবন্ধ❞ অংশ। আসলে শুরুতেই যখন মুখবন্ধ অংশটা পড়ি বলতে গেলে পুরোটাই মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। কিছুই বুঝি নাই কোথা থেকে কী শুরু হলো আর কিভাবে শেষ হলো। পরে শেষের দিকে গিয়ে এই অংশটা ক্লিয়ার হয়। এই বিষয়টা লেখকের জিন বই পড়ার সময়ও খেয়াল করেছি। আমার মনে হয় মুখবন্ধ অংশটা জটিলভাবে উপস্থাপন করা লেখকের একটা সিগনেচার স্টাইল যার কারণে শুরুতে কেউ কিছুই ধরতে পারে না। আর লাস্টলি বলতে গেলে বইয়ের এন্ডিংটাও বেশ ভালো ছিল। এটা এই বইটার একটা স্ট্রং পয়েন্ট। কাহিনীর এরকম সমাপ্তি আশা করিনি। বার তিনেক পড়তে হয়েছে এন্ডিংটা বুঝতে। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল এমন এন্ডিং। শেষে এক জটিল ক্লিফহ্যাঙ্গার রেখেছেন লেখক। এক দৃশ্যপটেই যেন লেখক আভাস দিয়ে দিলেন সিরিজের তৃতীয় বইয়ের শত্রুর ক্ষমতা কিংবা ভয়াবহতার। 🔰 চরিত্রায়ন: এবার আসি বইটির চরিত্রায়নের ব্যাপারে। চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে লেখক মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কাহিনীর সার্থে অনেক চরিত্রের অবতারণা করেছেন। অসংখ্য চরিত্র থাকার ফলেও লেখক ভালো ভাবেই তাদের সামলিয়েছেন এবং যথাযথ সিকোয়েন্স রেখে এই গল্পে তাদের ভূমিকা, তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরেছেন যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রতিটা চরিত্রকেই যথেষ্ট বাস্তবভাবে তুলে ধরার প্রয়াস করেছেন লেখক এবং আমার মতে তিনি সফল। 🔰 লেখনশৈলী: লেখক এম.জে. বাবুর লেখার সাথে পরিচয় ঘটে তার লেখা অকাল্ট থ্রিলার "জিন" বইটির মাধ্যমে। সেখানে লেখায় কিছুটা কাঁচাভাব কিংবা কিছুটা জড়তা থাকলেও এই বইয়ে সেই ধরনের কোনো জড়তা চোখে পরেনি। শব্দচয়ন থেকে শুরু করে প্লট স্টাবলিশিং, ক্যারেক্টার বিল্ড আপ সবই লেখক দক্ষতার সাথে করেছেন। বিশেষ করে তদন্ত প্রক্রিয়ার বর্ণনাগুলো। প্রতিটি বর্ণনায় ডিটেইলিং থাকার কারণে এবং দৃশ্যপটগুলো নিখুঁতভাবে তুলে ধরার কারণে ভিজুয়ালাইজ করতে সুবিধা হয়েছে। এতো কিছুর পরেও লেখা বেশ ঝরঝরে এবং মেদহীন লেগেছে। আর পাঠ প্রতিক্রিয়া অংশে যেটা বলেছিলাম, এই বইয়ে হিপনোটিজম এর ইতিহাস এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। এগুলো থেকেই বোঝা যায় লেখককে বেশ ভালোই গবেষণা করতে হয়েছে। তাছাড়া পুরো বই জুড়েই ছিল পর্যাপ্ত টুইস্ট, যেগুলোকে লেখক ভালো ভাবেই উপস্থাপন করতে পেরেছেন। 🔰 বানান ও সম্পাদনা: বইটার সম্পাদনা বেশ ভালো হয়েছে। আর পড়ার সময় তেমন বানান ভুল চোখে পড়েনি, যাও পড়েছে তা এই কলেবরের বইয়ে থাকা স্বাভাবিক। মানে টুকটাক ভুল আরকি। তবে এক জায়গায় তাশফী কে তাফশী লেখা হয়েছিল। টাইপিং মিস্টেক সম্ভবত। এছাড়া আর কোনো নাম বিভ্রাট ছিল না। 🔰 প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন কোয়ালিটি ও অন্যান্য: বইটির প্রচ্ছদ করেছেন বর্তমানের অন্যতম জনপ্রিয় প্রচ্ছদ শিল্পী আদনান আহমেদ রিজন। গল্পের বিভিন্ন উপকরণাদি দিয়ে চমৎকার এই প্রচ্ছদটি করেছেন তিনি। আর লেটারিংটাও ভালো লেগেছে। এছাড়া বইটায় ৮০ গ্রামের ক্রিম কালারের কাগজ ব্যবহৃত হয়েছে। ডাস্ট কভারের কাগজের মানও বেশ ভালো। প্রোডাকশন নিয়ে মোটামুটি সন্তুষ্ট তবে এই বইটার বাইন্ডিং একটু বেশিই শক্ত লেগেছে। এর বাইরে প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। এবার যদি বইটার দাম নিয়ে কথা বলি, এমন প্রোডাকশনের ৩৩৪ পেইজের একটা বইয়ের মুদ্রিত মূল্য ৫৮০ টাকা খুব বেশি মনে হয়নি, মোটকথা আমি স্যাটিসফাইড। 🔰 বইয়ের প্রিয় কিছু অংশ: ✪ “মাঝেমধ্যে ধূর্ত শ্রেণির মানুষেরা সহজেই বিপদে পড়ে যায়। যদি তাদের ধূর্ততা ঠিক সময়ে তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করতো তাহলে তাদের পায়ের নিচে ভালো মানুষেরা পদদলিত হয়ে থাকতো জীবনভর। কিন্তু বুদ্ধির বিশ্বাসঘাতকতাই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।” ✪ “কুয়াশা ডাকে আমাদের অন্ধ প্রহরে সলিল সমাধি হবো আমরা কোনো এক ধোঁয়াশার শিকার হয়ে।" 🔰 ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.২/১০ 🔰 পরিশিষ্ট: লেখক এম. জে. বাবু মানেই হাইপ। কেননা, সিরিজের প্রথম বই প্রচন্ড হাইপে ছিল। তারপর সতীর্থ থেকে প্রকাশিত পিনবল এবং গ্রন্থ রাজ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত জিন-এর হাইপ ছিল প্রচুর। এমন এখনো জিনের আবেদন পাঠকের কাছে কম নয়। কিন্তু লেখক নিজে মনে করেন যে এগুলো কোনটাই অ্যাবসেন্টিয়ার সমতূল্য হয় এমনকি দিমেন্তিয়াও না। আমিও মনে করি অ্যাবসেন্টিয়া বইটা এগুলোর একটারও ধারে কাছেও না। অ্যাবসেন্টিয়ার প্লট অনেক জটিল এবং সমৃদ্ধ। আমার মতে লেখকের লেখা এখন পর্যন্ত সেরা বই এটা। অ্যাবসেন্টিয়ার আরো জনপ্রিয় হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই বইটাকে নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। যারা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, সিরিয়াল কিলিং এসব জনরার বই পছন্দ করেন তারা বইটা অবশ্যই পড়বেন, আশাকরি ভালো লাগবে। আর সিরিজের বই হলেও বইটা স্ট্যান্ড এলোন, তাই দিমেন্তিয়া না পড়লেও এটা পড়তে কোনো সমস্যা হবে না।


best experiences ever






















