

Buy আবোল তাবোল Online in Bangladesh
লেখক: সুকুমার রায়
- Author: সুকুমার রায়
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9789386389862
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আবােল তাবােল ‘আয়রে ভােলা খেয়াল খােলা স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়। আয়রে পাগল আবােল তাবােল মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।' এমনই অপূর্ব শব্দে, হাসিখুশি ছন্দে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ দিয়ে আসছেন সুকুমার রায়। তার ছড়ার এক অনবদ্য সংগ্রহ হলাে আবােল তাবােল। কাঠবুড়াে', ‘কুমড়ােপটাশ’, ‘হুঁকোমুখাে হ্যাংলা', ‘ট্যাঁশ গরু’ কে নেই এখানে। এ বইয়ে বড়বাবুর গোঁফ চুরি যায়, দ্রুম দ্রাম শব্দে ফুল ফোটে, রানির দাদা পাউরুটিতে পেরেক ঠোকে আরও কত কী যে হয়। পাঠকের কল্পনার ঘােড়া খোঁড়া হলেও সমস্যা নেই। পাতায় পাতায় রয়েছে অপূর্ব ছবি এর পুরাে মজা বুঝতে পড়ে নিতে হবে বইটি। বইটি পড়লে মনে হবে— 'গােপন প্রাণে স্বপন দূত মঞ্চে নাচেন পঞ্চ ভূত! হ্যাংলা হাতী চ্যাং দোলা শূন্যে তাদের ঠ্যাং তােলা।'

বইয়ের নামঃআবোল তাবোল লেখকঃসুকুমার রায় প্রকাশবীঃদে'জ পাবলিশিং মূল্যঃ ১১০টাকা সুকুমার রায়ের এ বইটি সর্বকালের জন্য এবং সমস্ত প্রজন্মের জন্য। এই বইটি পরিষ্কারভাবে অপরিবর্তনীয়। শৈশবে আমি হাস্যকর চরিত্রগুলির বর্ণনা এবং তাদের হাস্যকর অভ্যাসের বিবরণ পড়ে হেসেছিলাম। কৈশোরে যে কৌতুকপূর্ণ হাস্যরস চিত্রিত করতে চেয়েছিল তা আবিষ্কার করতে গিয়ে আমার যৌবনে আমি হাসি। আমি সত্যিকারের হাসি পেয়েছি, চিন্তাভাবনার মুহুর্তগুলি বুদ্ধিমান বিদ্রূপের মধ্য দিয়ে প্রতিদিন চরিত্রগুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে (সাধারণ মানুষ, আমলা, ব্যবসায়ী)। বইটি আমার কাছে সর্বদা নতুন অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আসে এবং আমার অবাক করে দিয়েছিল যে এটি কখনও পুরানো নয়। ভাল লাগল। মা এবং দিদু আমাকে শোনার স্মৃতি শৈশব স্মৃতিতে অবিচল রাখার পক্ষে দুর্দান্ত। একটি অসাধারণ সৃষ্টি করেছেন বলে আমি মনে করি। তবে এটি নিশ্চিত করে যে এটির সর্বজনীন স্বাদ রয়েছে যা সীমানা ছাড়িয়ে গেছেএবং পৌঁছে গেছে কোটি মানুষের হৃদয়ে। অসাধারণ এক লেখার বই৷ পড়তে পেরে আমি ধন্য।
অসম্ভব ভালো লেগেছে,,

আবোল তাবোল বইটাকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নন-সেন্স ছড়া সমগ্র। অথচ বিশ্বে এমন সেন্স অব হিউমারের কবিতা আর দ্বিতীয়টি নেই। সত্যি বলছি নেই। চলুন আজ কিছুটা সুকুমারের জগতে ভ্রমণ করে আসি। হাঁস ছিল সজারু, (ব্যাকারণ মানি না) হয়ে গেল হাঁসজারু কেমতে তা জানিনা! 'খিচুড়ি' ছড়াতে সুকুমার রায় অসম্ভবকে করেছেন সম্ভব! অদ্ভুত হলেও সত্য জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াং নিয়ে বাংলা সাহিত্যে প্রথম এবং একমাত্র ছড়া এটা! অথচ তখন এই বিষয়টা সারা বিশ্বে অতটা জানশোনা ছিল না। একেই বলে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ! আবার ঘুষখোর বাবু কে নিয়ে লিখেছেন স্যাটায়ার ছড়া 'গোঁফ চুরি'। কেউ যদি তার মেয়ের জন্যে পাত্র খুঁজতে চায় তবে তাকে অবশ্যই 'সৎপাত্র' ছড়া পড়তে হবে। আহা! শব্দের কি নৃত্য! ছড়া নয় যেন নৃত্যানুষ্টান! 'খুড়োর কল' এবং 'লড়াই ক্ষ্যাপা' ছড়া দিয়ে হাসির ছলে বলেছেন মানুষের অদম্য ইচ্ছে শক্তির কথা। যে 'সাবধান' ছড়াটা আজও পড়েনি সে কিভাবে সাবধান হবে বলুন? অথবা 'ছায়াবাজী' ছড়া যে পড়েনি তার ভিতর কিভাবে স্বপ্ন এবং ভাবতে শেখার ইচ্ছে জাগ্রত হবে? সে তো 'কুমড়োপটাশ'এর মতো সবখানে পরে থাকবে! 'ভাল রে ভাল' ছড়ার মত এত ইতিবাচক ছড়া বাংলা সাহিত্যে নেই। 'অবাক কাণ্ড' 'কাতুকুতু বুড়ো' 'শব্দকল্পদ্রুম'-এর মত এমন অদ্ভুত সুন্দর ছড়া আজও সৃষ্টি হয়নি। আমার তো 'ব্যোম্বাগড়ের রাজা' ছড়াটা পড়ে হাসতে গিয়ে চোখে পানি চলে এসেছিল। কয়টা ছড়ার কথা বলব , বলুন? কেউ যদি সাইকোলজিক্যাল বিশ্রাম চান, কেউ নতুন করে ভাবতে চান, কেউ যদি অন্য আঙ্গিকে সব কিছু দেখতে চান , কেউ যদি শব্দের ছন্দে, গন্ধে, জাগরণে, বিস্ময়ে অসাধারন সুন্দর এক জগতে প্রবেশ করতে চান তাকে অবশ্যই সুকুমার রায়ের 'আবোল-তাবোল' পড়তে হবে।

আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়, আয়রে পাগল আবোল তাবোল মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়। আয় যেখানে ক্ষ্যাপার গানে নাইকো মানে নাইকো সুর। আয়রে যেথায় উধাও হাওয়ায় মন ভেসে যায় কোন সুদূর। আয় ক্ষ্যাপা-মন ঘুচিয়ে বাঁধন জাগিয়ে নাচন তাধিন্ ধিন্, আয় বেয়াড়া সৃষ্টিছাড়া নিয়মহারা হিসাবহীন। আজগুবি চাল বেঠিক বেতাল মাতবি মাতাল রঙ্গেতে-- আয়রে তবে ভুলের ভবে অসম্ভবের ছন্দেতে।। কৈফিয়তে লেখা কথা: যাহা আজগুবি, যাহা উদ্ভট, যাহা অসম্ভব, তাহাদের লইয়াই এই পুস্তকের কারবার। ইহা খেয়াল রসের বই। সুতরাং সে রস যাঁহারা উপভোগ করিতে পারেন না, এ পুস্তক তাহাদের জন্য নহে। পুস্তকের অধিকাংশ ছবি ও কবিতা নানা সময়ে "সন্দেশ" পত্রিকা হইতে সংগৃহীত হইয়াছে। এক্ষণ আবশ্যক মত সংশোধন ও পরিবর্তন করিয়া এবং নানা স্থলে নূতন মালমশলা যোগ করিয়া সেগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হইল। ছোটদের ছড়ার বইয়ের শুরুতে অমন ঘটা করে ভুমিকা লেখার কী দরকার ছিল? দরকার হয়ে পড়েছিল এ জন্য যে, এর আগে বাংলায় কেউ খেয়াল রসের বই-ই লেখেনি। খেয়াল রস মানে অদ্ভুত রস; যত সব অদ্ভুতুড়ে কথাবার্তা, ননসেন্স লিটারেচার। বাংলায় খেয়াল রসের লেখা সেই প্রথম। আর অমন সব অদ্ভুতুড়ে ছড়া, সবার ভালো না লেগে পারে! ছোটদের তো বটেই, এমনকি বড়-বুড়ো সক্কলে ছড়াগুলোতে মজে গেল। ‘আবোল তাবোল’। বইটির অনেকগুলো ছড়া এত্ত জনপ্রিয় যে, রীতিমতো কিংবদন্তি হয়ে গেছে। এখনও সেসব ছড়া মানুষের মুখে মুখে ফেরে। আর ছড়াগুলোও কী অদ্ভুতুড়ে! যতসব আজগুবি কথাবার্তায় ছন্দের শক্তিশালী গাঁথুনি।























