

Buy জিন্দেগী গুলজার হ্যায় Online in Bangladesh
লেখক: উমেরা আহমেদ
- Author: উমেরা আহমেদ
- Publisher: নোঙর প্রকাশন
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
জিন্দেগী গুলজার হ্যায়—শুধু একটি উপন্যাস নয়; বরং এক সংগ্রামী জীবনের খণ্ডচিত্র, ডায়েরির পাতায় পাতায় লেখা এক অনন্য দলিল। কাশ্ফের কলমে লেখা সেই ডায়েরিই হয়ে ওঠে গল্পের দর্পণ, যেখানে প্রতিটি শব্দ তার আত্মার প্রতিচ্ছবি।প্রাচুর্যের প্রলোভন নয়, বরং পরিশ্রম, আত্মসম্মান আর অটল বিশ্বাসকে মূলধন করে কাশ্ফ গড়ে তোলে নিজের জীবন। কলমের আঁচড়ে সে শুধু নিজের গল্পই লেখেনি; লিখেছে সমাজ, রাষ্ট্রনীতি আর বৈষম্যের নির্মম বাস্তবতাও।সংসার, দায়িত্ব, ভালোবাসা আর আত্মমর্যাদার টানাপোড়েনের ভেতর দিয়েও কাশ্ফ খুঁজে পেয়েছে এক চিরন্তন সত্য—আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতই আসলে একটি পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় সফল হওয়ার প্রকৃত মূলধন হলো ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং অবিচল ইমান।এই উপন্যাস তাই কেবল পাঠ নয়, বরং এক গভীর উপলব্ধির যাত্রা—যেখানে সংগ্রাম রূপ নেয় শক্তিতে, আর জীবন হয়ে ওঠে সত্যিকার অর্থেই গুলজার।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
"জিন্দেগী গুলজার হ্যায়" কি সুন্দর নাম! এই বই পড়ার আগেই নামের প্রেমে পড়েছিলাম আমি। আর বই পড়ে তো একদম🔥... বইটা আমার নয়। আমার বান্ধবীর থেকে ধার করে এনেছিলাম মে মাসে সম্ভবত। পড়েছিলাম ১৩ মে,২০২৬ তারিখে। মাত্র কয়েকঘন্টায় খতম! টানা পড়েছি বলতে গেলে, মাঝে এক দুইবার উঠতে হয়েছে। প্রথমবার পড়ার পর থেকে যখনই টেবিলে বসতাম "জিন্দেগী গুলজার হ্যায়" হাতে নিয়েই র্যান্ডমলি যেকোনো পৃষ্ঠা খুলে পড়া শুরু করতাম। আর গতকাল আবার প্রায় পুরোটা পড়ে ফেলেছি শুধু রিভিউ লিখবো এই উদ্দেশ্যে। বইয়ের পুরোটাই আমার মনে গেঁথে আছে তবুও একটু চোখ বুলাই বলতে বলতে আবার পড়ে ফেলেছি🫣 আমি যে প্রচুর সময় নিয়ে ঘুরতেছি এমনও না। একাডেমিক পড়াশোনা সাইডে রেখেই পড়ে ফেলি😬... এই বইটা লেখিকা উমেরা আহমেদের লেখা প্রথম বই। "প্রথম" যেকোনো কিছুই বেশিই সুন্দর আর স্পেশাল হয় সম্ভবত। লেখক সমাজ নিজের প্রথম বইকে কাঁচা হাতের লেখা বলে দাবি করেন কিন্তু এই কাঁচা হাতের লেখা বইটাই আমার এত্তো সুন্দর লাগে। ক্ষেত্রবিশেষ পাকা হাতের লেখা থেকে বেশি মানসম্মত মনে হয়। বাংলাদেশী লেখক-লেখিকাদের ক্ষেত্রেও আমি দেখেছি প্রথম বইটা এত্তো চমৎকার হয় মাশা-আল্লাহ বারাকাল্লাহ। পাকিস্তানি বয়োজ্যেষ্ঠ সম্মানিতা এই লেখিকাকে আমি একজন তরুণী ভেবেছিলাম। পরে উনার পরিচিতিতে দেখলাম উনার চমৎকার এই লেখকসত্তা বয়সকে সাথে নিয়েই এগিয়েছে। "জিন্দেগী গুলজার হ্যায়" পড়ার আগে আমি উনার লেখা "পীরে কামেল" পড়েছি। "পীরে কামেল" সুন্দর। নিঃসন্দেহে তারচেয়েও বেশি সুন্দর "জিন্দেগী গুলজার হ্যায়"। "জিন্দেগী গুলজার হ্যায়"– কাশফ মুর্তজা আর জারুন জুনায়েদের ডায়েরির পাতায় পাতায় এগিয়ে চলেছে এক সুখময় গন্তব্যে। তবে সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। কাশফ মুর্তজার জন্য একটু বেশিই কণ্টকাকীর্ণ ছিল। কাশফ মুর্তজা– দেখতে খুবই সাধারণ, দায়িত্বের ভারে ন্যুব্জ একজন মেয়ে, নেই বিলাসবহুল জীবনযাপনের রসদ কিন্তু আছে টানটান আত্মসম্মান আর নিষ্কলুষ এক চরিত্র। যে নিজের চেয়েও বেশি বিভোর থাকে পরিবারের চিন্তায়। আর জারুন জুনায়েদ– শিল্পপতির ছেলে, সৌন্দর্য, ধনসম্পদ, আত্ম অহামিকা সবদিক দিয়েই সম্পূর্ণ। সাথে বোনাস হিসেবে আছে নারীসঙ্গ উপভোগের বাতিক! তাই বলে জারুন জুনায়েদকে অপছন্দ করার কোনো স্কোপই খুঁজে পাইনি আমি😑 কেন? জানি না। কাশফ মুর্তজার ডায়েরির পাতায় ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ সালে শুরু হয়েছিল এই উপাখ্যান আর শেষও হয়েছে একই ডায়েরির পাতায় ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫ সালে। সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের এই সময়কালে কিভাবে কিভাবে যেন পরস্পরের প্রতি চরম বিদ্বেষপূর্ণ দুইটা জীবন একই সুতোয় গেঁথে গেল! কাশফ মুর্তজা আর জারুন জুনায়েদকে পড়তে গিয়ে পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে যাদের দেখা পেয়েছি তাদের মধ্যে আবরার স্যারকে চমৎকার লেগেছে। পাশাপাশি এম.এ পড়তে আসা উচ্চবিত্ত পরিবারের কিছু ছেলে-মেয়ের দেখাও মিলেছে যারা এতো শিক্ষিত হয়েও প্রকৃত ভালো মানুষ হতে পারেনি। আমরা মানুষ! সবারই ভুলত্রুটি আছে। সত্যি বলতে এদের সাথে ১৫ বছরের সময়টুকু আমার তেমন মন্দ লাগেনি। কাল্পনিক এই চরিত্র গুলোকে আমি বরং মিস করি। আর "ইসমারা" নামটি আমার অনেক পছন্দ হয়েছে! কাশফ মুর্তজা নামের আত্মমর্যাদাবান মেয়েটিকে আমার ভীষণ ভীষণ ভালো লেগেছে। তবে দারিদ্র্যতা আর অসহায়ত্বের কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে ও যখন বারবার আল্লাহর প্রতি অভিযোগ করতো সেটা আমার খারাপ লাগতো। বিরক্তও হতাম বটে! দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা। দুঃখ কষ্টের বিনিময়ে আল্লাহ আমাদেরকে কল্পনাতীত প্রতিদান দিবেন ইনশাআল্লাহ– এটা ভেবেই আমাদের উচিত কঠিন সময়েও কৃতজ্ঞ থাকা। আল্লাহ সেই তাওফিক দান করুন💚 বইয়ের অনুবাদ টা এতো প্রাঞ্জল হয়েছে বারাকাল্লাহ। অনুবাদ আমি কম পড়েছি। পাকিস্তানি উপন্যাস এই নিয়ে দ্বিতীয় অনুবাদ পড়লাম। এটার অনুবাদ বেশি ভালো লেগেছে আগেরটায় তুলনায়। মজার বিষয় হলো, এটা লেখিকার যেমন প্রথম বই, অনুবাদকেরও তেমন প্রথম অনুবাদ। "প্রথম" মানেই আমার কাছে বিশেষত্বপূর্ণ বলেই হয়তো অনুবাদ টাও প্রয়োজনের চেয়ে আরো বেশি ঝরঝরে মনে হয়েছে। বানান বা অন্য কোনো ভুলত্রুটি খুব একটা চোখে পড়েনি। পরিশেষে– সম্পর্ক, সংসার, ভালোবাসা আর দারিদ্র্যতা ছাপিয়ে কাশফ মুর্তজার স্বচ্ছলতার জীবন রব্বের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মিশে গিয়েছে। আর জারুন জুনায়েদের জীবন এক অপার্থিব শান্তিতে ভরে উঠেছে। একটা ঘর, প্রেমময়ী স্ত্রী, সন্তান... আর কী চাই! নবজীবনের প্রারম্ভে কাশফ মুর্তজা জারুন জুনায়েদকে ভালোবাসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জীবনভর ভালোবেসেছে। পাশাপাশি অনেক সংগ্রামের পর এই সাধারণ অথচ অসাধারণ মেয়েটিকে জারুন জুনায়েদ নিজের জীবনের সাথে বেঁধে ফেলতে পেরেছে– এরচেয়ে মধুর আর কী হতে পারে! সবমিলিয়ে, এতোসব ত্যাগ ছাপিয়ে ১২৫ পৃষ্ঠার এই বই ভরে উঠেছে পুষ্পরাজিতে... আমাদের সবার জিন্দেগী গুলজার হয়ে যাক🌷 বই: জিন্দেগী গুলজার হ্যায় লেখক: উমেরা আহমেদ অনুবাদক: আহমেদ মুসাফির প্রকাশনী: নোঙর প্রকাশন মুদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা রিভিউ দাতা: সিদ্দিকা বেগম




i like this book
প্রথম দিকে বইটি পড়তে খুব একটা ভালো লাগছিলো না, কিন্তু বইয়ের শেষ কয়েকটা পাতার জন্য পুরো বইটি ভালো লাগার লিস্টে চলে আসলো।
উমেরা আহমেদের এটি প্রথম বই আমার পড়া। বইটা অনেকদিন থেকে উয়িশলিস্টে ছিল ফাইনালি বইটা পড়া হলো গল্পটা আমার জন্য অনেক শিক্ষনীয় ছিল। তাড়াতাড়ি ডেলিভারি করার জন্য ধন্যবাদ।


উমেরা আহমেদের জিন্দেগী গুলজার হ্যায় বইটা পড়েছি আহমেদ মুসাফির কর্তৃক অনুবাদ কৃত, বইটি জীবনের বাস্তবতা ও নানা উত্থান পতন সম্পর্কে রচিত। এক কথায় অসাধারণ লেগেছে । আমার মনে হয় প্রত্যেকের উচিত এই চমৎকার বঈখানা পড়া
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
এটা কি বাংলা অনুবাদ
জি
বইটার পেজ কত?
১১২
Koto page aitay?
১১২
কত পেইজ এর বই এটা?
১১২























