

Buy তাকফির নিয়ে বাড়াবাড়ি Online in Bangladesh
লেখক: ড. ইউসুফ আল কারজাভি
- Author: ড. ইউসুফ আল কারজাভি
- Publisher: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
- Isbn: 9789849537052
- Number Of Pages: 96
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
একজন দাঈ ও বিচারকের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। বিচারককে অবশ্যই মানুষের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে খুঁটিনাটি অনুসন্ধান করতে হয়, যেন পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দিতে পারেন। সেজন্য বিচারককে বিচারাধীন মানুষজন সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ প্রয়োগ করতে হয়, তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হয়। কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ হলে বিচারক তাদের নির্দোষ ঘোষণা করতে কিংবা দোষী হলে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে একজন দাঈর কর্তব্য হলো-তিনি সবাইকে আহ্বান করবেন, সবার কাছে তাঁর বার্তাগুলো পৌঁছে দেবেন, সবাইকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসবেন। একজন দাঈ ইসলামের বাণীকে সমগ্র মানবজাতির কাছে সাধ্যমতো ছড়িয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করবেন-যাতে একজন পথভ্রষ্ট ব্যক্তি পথ খুঁজে পায়, পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তওবা করে ফিরে আসে, মূর্খ ব্যক্তি শেখার সুযোগ পায়; এমনকী একজন অমুসলিম ব্যক্তিও যেন ইসলামকে সাদরে গ্রহণ করার আগ্রহ অনুভব করে। কোনো ভুলকারীর শাস্তি কী হবে, সেটি নিয়ে কখনো দাঈ কাজ করে না; বরং কীভাবে সেই ভুলকারী ব্যক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয় নিয়েই দাঈ কাজ করে। একজন দাঈ কখনো মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করার জন্য মুরতাদ খুঁজে বেড়ায় না; বরং একজন মুরতাদকে ইসলামের সংরক্ষিত আঙিনায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চালানোকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

জাযাকাল্লাহু খায়রান جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا
একজন দাঈ ও বিচারকের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। বিচারককে অবশ্যই মানুষের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে খুঁটিনাটি অনুসন্ধান করতে হয়, যেন পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দিতে পারেন। সেজন্য বিচারককে বিচারাধীন মানুষজন সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ প্রয়োগ করতে হয়, তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে হয়। কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ হলে বিচারক তাদের নির্দোষ ঘোষণা করতে কিংবা দোষী হলে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে পারেন। অন্যদিকে একজন দাঈর কর্তব্য হলো-তিনি সবাইকে আহ্বান করবেন, সবার কাছে তাঁর বার্তাগুলো পৌঁছে দেবেন, সবাইকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসবেন। একজন দাঈ ইসলামের বাণীকে সমগ্র মানবজাতির কাছে সাধ্যমতো ছড়িয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করবেন-যাতে একজন পথভ্রষ্ট ব্যক্তি পথ খুঁজে পায়, পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তওবা করে ফিরে আসে, মূর্খ ব্যক্তি শেখার সুযোগ পায়; এমনকী একজন অমুসলিম ব্যক্তিও যেন ইসলামকে সাদরে গ্রহণ করার আগ্রহ অনুভব করে। কোনো ভুলকারীর শাস্তি কী হবে, সেটি নিয়ে কখনো দাঈ কাজ করে না; বরং কীভাবে সেই ভুলকারী ব্যক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয় নিয়েই দাঈ কাজ করে। একজন দাঈ কখনো মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করার জন্য মুরতাদ খুঁজে বেড়ায় না; বরং একজন মুরতাদকে ইসলামের সংরক্ষিত আঙিনায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চালানোকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে।
তাকফিরের ব্যাপারে সর্বপ্রথম বাড়াবাড়ি করেছিলো খারেজীরা। জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদেরকে তারা ‘কাফির’ মনে করতো। তারা আলী ইবনে আবি তালিবকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত কাফির ভাবতো! তাদের পরবর্তী তাকফির নিয়ে বাড়াবাড়ি করে শিয়াদের কিছু গ্রুপ। তারাও বড়ো বড়ো কয়েকজন সাহাবীকে কাফির ভাবতো। তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠায় যেসব সাহাবীকে প্রতিবন্ধক মনে করতো, তাঁদেরকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দিতো। যেমন: আবু বকর, উমর, উসমান, আয়িশা, মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ব্যক্তিগত আক্রোশ, যুলুম-নিপিড়ন, ভিন্নমতের ফলেও কেউ কেউ অন্যকে কাফির বলতে দেখা যায়। শায়খ ইউসুফ আল-কারজাভী (হাফিজাহুল্লাহ) মিশরের কিছু যুবকদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য দেখতে পেলেন। তাদের মধ্যে তিনি দুটো জিনিস লক্ষ্য করলেন। তারা যুবক তারা দাওয়াতের ফিল্ডে অনভিজ্ঞ অন্যরা তাদের ইখলাস নিয়ে প্রশ্ন করছে, তাদেরকে কারো ‘দালাল’ বলে উল্লেখ করছে। কিন্তু, তিনি দেখলেন যে, তাদের মধ্যে ইখলাসের ঘাটতি নেই। মিডিয়া তাদেরকে যেভাবে উপস্থাপন করছে, ফলে তারা আরো বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ইসলামের মৌলিক বিষয় নিয়ে ভালোরকম পড়াশোনা না থাকায়, ভাসাভাসা পড়াশোনার ফলে তারা মূলত ভুল পদ্ধতির অনুসরণ করছে। মানুষকে তাকফির করার মতো গুরুতর কাজ তারা করে যাচ্ছে। তখন তার কাছে দুটো চিঠি যায়। সেগুলোর প্রেক্ষিতে তিনি লিখেন- ‘জাহিরাতুল গুলু ফিত-তাকফির’। বাংলায় যা ‘তাকফির নিয়ে বাড়াবাড়ি’ নামে অনূদিত। বইটিতে মূলত চারটি অধ্যায়। সেগুলো হলো: তাকফির নিয়ে উগ্রতা তাকফির: কারণ, উপযুক্ততা, পার্থক্য, ঝুঁকি তাকফির সংক্রান্ত মূলনীতি ফকিহগণের মতামত তাকফির নিয়ে বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে তিনি যে হাদীসটির প্রেক্ষিতে আলোচনা সাজান, সেটা হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “সাবধান! তোমরা দ্বীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, তোমাদের পূর্বে যারা ছিলো, তারা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে ধ্বংস হয়েছে।” [সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩০২৯] দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির অন্যতম উদাহরণ খারেজীরা। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে তাদের ব্যাপারে সাবধান থাকার ১০ টি কারণ এসেছে। তারা আর দশজনের চেয়ে বেশি ইবাদাত করতো, কিন্তু বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে প্রান্তিকতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাকফির সংক্রান্ত আলোচনায় খারেজীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে। কুরআনের আক্ষরিক অর্থ দিয়ে নিজেদের বুঝকে একমাত্র বুঝ মনে করে তারা সাহাবীদের পর্যন্ত তাকফির করেছিলো! ইমাম হাসান আল বাসরি তাদের সম্পর্কে বলেন: “ইতোপূর্বে একটি দল (খারেজীরা) জ্ঞান বাদ দিয়ে ইবাদাত শুরু করেছিলো বলেই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর উম্মতের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্রধারণ করেছিলো।” ‘উপযুক্ত ব্যক্তিকে তাকফির করা’ অনুচ্ছেদে আলোচনা করতে গিয়ে শায়খ কারজাভী আলোকপাত করেন কাদেরকে তাকফির করা যাবে, কিসের উপর ভিত্তি করতে তাকফির করতে হবে। তাকফির করতে গেলে ব্যক্তির মতামত কতোটা স্পষ্ট হওয়া উচিত সেটা নিয়ে আলোচনা করেন ‘ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য’ অনুচ্ছেদে। বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিলো ‘তাকফির সংক্রান্ত মূলনীতি’। একজন ব্যক্তিকে কী কারণে কাফির ঘোষণা করা যায় এবং কী কারণে ঘোষণা না করে ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে হয় এই সংক্রান্ত কুরআন-হাদীস ও পূর্ববর্তী স্কলারদের আলোচনা সাপেক্ষে ৮ টি মূলনীতি পেশ করেন। খারেজীরা মনে করে কেউ কবীরা গুনাহ করলে, কবীরা গুনাহে লিপ্ত থাকলে কাফির হয়ে যায়। এটা যে আহলুস সুন্নাহর আকীদার বিপরীত সেটা তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে প্রমাণ করেন। তিনি দেখান, রাসূলের (সা:) যুগে একজন সাহাবী একাধিকবার মদপানের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁকে ‘কাফির’ হিশেবে বিবেচনা করেননি। তাঁর পাপের জন্য তাঁকে যেমন শাস্তি দেয়া হয়েছিলো, তেমনি ইসলাম থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়নি। শিরকের শ্রেণীবিভাজনের মতো কুফরের শ্রেণীবিভাজন নিয়ে তিনি একটি মূলনীতিতে আলোচনা করেন। কোন কুফরী করলে একজন কাফির হয়ে যায় আর কোন কুফরী করা সত্ত্বেও একজন কাফির হয় না সেটার আলোচনা করেন ‘ছোটো কুফর, বড়ো কুফর’ মূলনীতিতে। বইয়ের ওজন বৃদ্ধিকারী অধ্যায় হলো শেষ অধায়। শেষ অধ্যায়ে পূর্ববর্তী ফকীহগণের তাকফির সংক্রান্ত মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন: আশআরি ও অন্যান্য ফকীহগণের মতামত হানাফী ফকীহগণের মতামত মালেকী ফকীহগণের মতামত শাফেয়ী ফকীহগণের মতামত হাম্বলী ফকীহগণের মতামত মাজহাব-নিরপেক্ষ ফকীহগণের মতামত তাকফির করার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী স্কলারদের সতর্কতার বিষয়গুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় এই অধ্যায়ে। হানাফী মাজহাবের ‘আল-ফাতাওয়া আস-সুগ্রা’ গ্রন্থে এসেছে: “তাকফির পরিহার করার জন্য একটি মাত্র কারণ পাওয়া গেলে একজন মুফতির কর্তব্য হলো- সেই একটি কারণ মাথায় রেখে ফতোয়া দেয়া; তাকে কাফির সাব্যস্ত না করা।” আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তাকফিরের বিষয়টি প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক। একজন অনিচ্ছাকৃতভাবে কুফরি করে ফেলতে পারেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি ঘটে। তাই, একজন মুফতিকে তাকফির করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। আমাদের অতীত ও বর্তমানের ফকীহগণ এই মতটি পোষণ করেন।”
অনেক ভালো একটি ইসলামি সাহিত্য।

এই বিষয়ে সঙক্ষিপ্ত অথচ ইলমী আলোচনায় ভরপুর একটি নির্ভরযোগ্য বই। সময়ের চাহিদা পূরণ করতে এই ছোট্ট বইটিই যথেষ্ট























