

Buy সালাফদের চোখে দুনিয়া Online in Bangladesh
লেখক: ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রাহ.
- Author: ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রাহ.
- Publisher: মুহাম্মদ পাবলিকেশন
- Isbn: 9789843466037
- Number Of Pages: 272
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
হজরত ইসা আলাইহিস সালাম বলেছেন¾ ‘তোমরা দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে দূরে থাকো। কেননা দুনিয়া আল্লাহর নিকটে নাপাক বস্তুর মতো।’ একবার বাশির ইবনু কা’ব রহিমাহুল্লাহু তার বন্ধুদের বলেন¾ ‘এসো, আজ আমি তোমাদেরকে দুনিয়ার স্বরূপ দেখাব। এ কথা বলে তিনি তাদেরকে একটি নর্দমার কাছে নিয়ে যান। অতঃপর বলেন, দুনিয়া হলো নর্দমায় পড়ে থাকা মৃত প্রাণী, পচা ফলমূল এবং খাবারের উচ্ছিষ্টের মতো।’ আবদুল ওয়াহিদ রহিমাহুল্লাহু বলেন¾ ‘দুনিয়া কী? দুনিয়া তো বেশি কিছু না। প্রচণ্ড তৃষ্ণার সময় মানুষ মাত্র এক ঢোক পানির বিনিময়ে পুরো দুনিয়া বিক্রি করে দিতে চাইবে।’ আবু মুআবিয়া রহিমাহুল্লাহু বলেন¾ ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে তার সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানাবে, আখিরাতে দুশ্চিন্তা তাকে ঘিরে ধরবে।’ এমনই ছিল আমাদের সালাফদের চোখে দুনিয়া। তারা এভাবেই দুনিয়াকে দেখেছেন। কিন্তু বিপরীতে আমরা কীভাবে দুনিয়াকে দেখছি? দুনিয়া কী? দুনিয়ার সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? এখানে মানুষ কেন আসে? আবার কেনই-বা ক’দিন পরে চলে যায়? আমাদের রব, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং সালাফগণ দুনিয়াকে কোন চোখে দেখতেন এই বিষয়টি নিয়েই তৃতীয় হিজরি শতকের মহান একজন প্রসিদ্ধ সালাফ ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রহিমাহুল্লাহু রচনা করেছেন কিতাবুয যুহুদ নামক একটি পুস্তিকা। তারই অনূদিত রূপসালাফদের চোখে দুনিয়া।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

প্রথমে বলবো বইটার কোয়ালিটি অসাধারণ। যাই হোক, এই বইটিতে সাহাবী পরবর্তীদের দুনিয়াবিমুখীতার ব্যাপারে খুব ভালো ভাবে উপস্থাপন করা আছে। এই বইটি পড়লে দুনিয়ার আসল রূপ বুঝতে পারবেন। দুনিয়ায় ধোকায় পরে নিজেদেরকে শেষ করবেন না, এখন থেকেই আখেরাতকে নিয়ে চিন্তা করুন। দুনিয়া মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিক্ষেপ করে।
Oshadaron ekta book.

দুনিয়ার চাকচিক্য, রূপলাবণ্যে যখন আমি উদাসীন চিরস্থায়ী আখিরাত সম্পর্কে, ঠিক তখনই এই বইটি আমাকে গভীরভাবে স্মরণ করিয়েছিল, "কেন বেকার দুনিয়ার জন্য এতো আয়োজন? ঠিক ততটুকুই করবো যতটুকু দরকার আখিরাতের মূলধন সংগ্রহের জন্য ইনশাআল্লাহ।" সালাফরা দুনিয়াকে কোন চোখে দেখতেন আর আমি কোন চোখে দেখি- এইদুটো জিনিস তুলনা করলেই নিজেকে মুক্বররবিন ভাবতে লজ্জা করছিল। বইটি থেকে দুটো শিক্ষা খুব ভালো করেই অন্তরে গেঁথে নিয়েছি যে সবর-শোকরের মাধ্যমে দুনিয়াবিমুখ হয়ে আখিরাতের পর্যাপ্ত পাথেয় সঞ্চয় করতে হবে। দুনিয়াবি বস্তু লাভে যেমন উচ্ছৃঙ্খলতায় মেতে উঠবোনা, আবার দুনিয়াবি ক্ষতিসাধনে নৈরাশ্যের জাঁতাকলে মুষড়েও পড়বোনা। আত্মশুদ্ধিমূলক, দুনিয়াবিমুখ, সুখপাঠ্য একটি বই। যার প্রচ্ছদ, পরিপাটি শব্দচয়নে আমি বিমোহিত।

আমার স্বল্প সময়ের পাঠক জীবনে যেসকল বই অনুভূতির বিশেষ জায়গাটুকু দখল করে আছে , 'সালাফদের চোখে দুনিয়া ' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। বইটি ভাষাগতভাবে এতটাই নান্দনিক যে , পড়ার সময় মনেই হবে না বইটির পরতে পরতে আমাদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সবক। একজন মুমিনের চোখে দুনিয়া কেমন হওয়া উচিত - সেটাই বইটিতে বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে সালাফদের দৃষ্টিকোণ থেকে। মানুষ দুনিয়াবী বিষয়গুলোতে যতটা সচেতন , দ্বীন ও পরকালীন বিষয়ে ততটাই উদাসীন। কিন্তু মৃত্যুর বিছানায় ঠিকই মানুষের কাছে সবকিছু ধূসর মনে হয়। অথচ, অন্তিম মূহুর্তে তো আফসোস করে লাভ নেই। তাই মুহাম্মদ পাবলিকেশনের আন্তরিক নিবেদন এই বই, যদি সময় থাকতে আমাদের চৈতন্য ফেরে...
বর্তমান মুসলিম সমাজ অবাধ স্বাধীনতা ও তথ্য প্রবাহের এই যুগে ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ। তাদেরকে আজ পেয়ে বসেছে সমাজের অশ্লীলতা, অন্ধ গোড়ামী, সহ নানা রকম ইস্যু। অনেকেই জড়িয়ে পড়ছে সুদ, ঘুষ, খুন, রাহাজানি ইত্যাদির সাথে। যেকোনো ভাবেই হোক আজ মানুষকে যেন সম্পদ আহরণ করতেই হবে। অথচ এর বিপরীতে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে সালাফগণ কত সাধারণ ভাবেই না জীবনযাপন করেছেন। সালাফদের দুনিয়ার জীবন কেমন ছিল সেই আলোকে লেখা একটি অন্যতম বই হলো "কিতাবুয যুহদ্"। যার লেখক হলেন ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রহিমাহুল্লাহ। যিনি তৃতীয় হিজরী শতকের একজন প্রসিদ্ধ সালাফ। বইটির অনুবাদ করেছেন প্রখ্যাত অনুবাদক সাইফুল্লাহ আল মাহমুদ। বাংলায় অনুবাদের পর যার নাম দেয়া হয়েছে "সালাফদের চোখে দুনিয়া"। ➤ সার-সংক্ষেপঃ- 'যুহদ্' শব্দের আভিধানিক অর্থ "দুনিয়া-বিরাগ"। বইটিতে সালাফদের দুনিয়া সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে লেখক ২০ টি অধায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করেছেন। যাদের কাজকর্ম, জীবনযাপন সবটাই ছিল আখিরাত কেন্দ্রিক। সালাফগণ জানতেন পরকালে শান্তিময় জীবন পেতে হলে দুনিয়ার জীবনে ক্ষণিকের আরাম আয়েশ, ভোগ-বিলাসে মত্ত জীবন যাপনের কিছুই কাজে আসবে না। যেমন প্রসিদ্ধ একজন সালাফ ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রহিমাহুল্লাহ বলেন- দ্বীনের সবচেয়ে প্রিয় স্বভাব হলো দুনিয়াবিমুখতা। আর সবচেয়ে অপ্রিয় স্বভাব হলো প্রবৃত্তির তাড়নায় সাড়া দেওয়া। আবু হাযিম রহিমাহুল্লাহ বলেন যে ব্যক্তি দুনিয়ার ব্যাপারে জানে, সে কখনো দুনিয়ার সুখ পেয়ে আনন্দিত হয় না। আবার সামান্য দূঃখে মুষড়ে পড়ে না। এভাবে সালাফদের দুনিয়া সংক্রান্ত অসংখ্য কথামালার সাহায্যে সাজানো হয়েছে বইটিকে। এছাড়া সালাফগণের রচিত বেশকিছু কবিতাও বইতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদের সময় অনুবাদকও সালাফদের সেই কাব্যিক ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি মূল আরবি কবিতাটিও উল্লেখ করে দিয়েছেন। . ➤ বইটি কেন পড়বেনঃ- ১। আপনি যদি দুনিয়ার চিন্তায় সারাক্ষন ব্যস্ত থাকেন। দুনিয়ায় ব্যস্ততায় আল্লাহর ইবাদত করার মত সময় পাচ্ছেন না। তাহলে বইটি একবার হলেও পড়ুন। জানতে পারবেন সালাফগণ কত সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু তারপরও তারা আল্লাহর ইবাদত করা থেকে পিছপা হননি। ২। বইটি এ জন্য পড়বেন যে বইতে পাবেন সালাফদের দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং আখিরাতের প্রতি আসক্তি বিষয়ক অনেক অমূল্য বাণী। ৩। আপনার জন্য বইটি হতে পারে সালাফদের যুহদ সম্পর্কে জানার এবং তাদের আদর্শ জীবনে বাস্তবায়ন করার এক অনন্য মাধ্যম। . ➤ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ- সালাফদের চোখে দুনিয়া বইটি এক কথায় অসাধারন। বইটি পড়ার পর বুঝতে পেরেছি সালাফদের দুনিয়ার জীবন কেমন ছিল। তাদের আচার আচরণ ও কর্মপন্থা সম্পর্কে। যা আমাদের জন্য অনুসরণীয়। বইটি পড়ার সময় পাঠকের চিন্তায় ভেসে উঠবে দুনিয়ায় আমরা কি করছি? কেনইবা করছি? আখিরাতের অনন্ত জীবনের জন্যই বা কি করেছি? কল্পনায় ভেসে উঠবে সালাফদের সেই সময়ের ইমানদীপ্ত মুহুর্তগুলো। সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী। তাই সকল পাঠকের প্রতি অনুরোধ বইটি একবার হলেও পড়ুন আর জীবনকে রাঙিয়ে তুলুন সালাফদের জীবন ও আদর্শের আলোকে। . ➤ সমালোচনাঃ- বইতে সমালোচনা করার মত তেমন কিছু নেই। প্রথম সংস্করণ হিসেবে বানান বিভ্রাট বা মুদ্রণত্রুটি খুব বেশি চোখে পড়েনি। এদিক থেকে প্রকাশনী প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে বইতে সালাফদের বানীগুলো রেফারেন্স সহকারে দেয়া থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর রেফারেন্স দেয়া হয়নি। . ➤ শেষ কথাঃ- এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বই পাঠকের হাতে পৌছে দেয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা বইটির সাথে জড়িত লেখক, প্রকাশক, অনুবাদক সহ সবাইকে উত্তম বিনিময় দান করুন। এ কাজে বারাকাহ দিন এবং আমাদের সবাইকে আখিরাতের সাফল্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে দুনিয়ার জীবনে চলার তৌফিক দান করুন, আমিন।




















