

Buy অভিযাত্রিক Online in Bangladesh
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Author: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Isbn: 8172936850
- Number Of Pages: 139
- Language: বাংলা
- Edition: 9th Printde, 2008
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
আজ চোদ্দ-পনেরো বছর আগের কথা। কি তারও বেশী হবে হয়তো। আমার বধ, রমেশবাব, আর আমি দুজনে কলকাতার মেসে একঘরে আছি বহুদিন। ভালো লাগে না এ রকম কলকাতায় পড়ে থাকা । দেশেও তখন যাওয়ার নানারকম অসুবিধা ছিল। কিন্তু একট, বাইরে না বেরলে ধূলো আর ধোঁয়ায় প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো। রমেশবাব্দকে বললাম—চলন কোথাও বেড়িয়ে আসি। রমেশবাবর ট্যাঁকের অবস্থাও খুব ভাল নয় আমার চেয়ে। তিনি অবাক হয়ে চেয়ে বললেন—বেড়াতে যাবো কিন্তু হাতে টাকাকড়ি কই— —টাকাকড়ি লাগবে না— —বিনা টিকিটে গিয়ে জেল খাটবো নাকি ? রেলে চড়ে নয়, পায়ে হেটে। —কতদূর যাবেন পায়ে হেটে ? তাঁকে বুঝিয়ে বললাম—বেশীদুর মোটেই নয়। ব্যারাকপুরে ট্রাঙ্ক রোড দিয়ে বার হয়ে পায়ে হেটে যতদূর যাওয়া যায়। কি করবো যখন হাতে পয়সা নেই, এ এছাড়া তখন উপায় কি? তিনি কি মনে করে রাজি হয়ে গেলেন। হাঁটতে হাঁটতে বারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডের ধারে একটা বাগানবাড়িতে আমরা কিছুক্ষণ বসি। বাগানের উড়ে মালী এসে আমাদের সঙ্গে খানিকটা গল্প করে গেল। তাকে দিয়ে আমরা বাগানের গাছ থেকে ভালো কাশীর পেয়ারা পাড়িয়ে আনলাম। সে ডাব পেড়ে দেওয়ারও প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু তাতে দেরি হবে বলে আমরা রাজি হইনি। ডানদিকের একটা পথ ধরে আমরা বড় রাস্তা ছেড়ে দিলাম। অনেকদিন পরে কলকাতা থেকে বার হয়েছি—কতদূর আর এসেচি, না হয় মাইল পাঁচ-ছয় হবে—কিন্তু যেন মনে হচ্ছে কতদূর এসে গিয়েছি কলকাতা থেকে স্বপ্নপরীর দ্বারে এসে পৌঁছে গিয়েছি যেন। প্রত্যেক বন ঝোপ যেন অপূর্ব্ব, প্রতিটি পাখীর ডাক অপৰ্ব্ব, ডোবার জলে এক-আধটা লালফল তাও অপূৰ্ব্ব । জীবনে একটা সত্য আবিষ্কার করেচি অভিজ্ঞতার ফলে। যে কখনো কোথাও বার হবার সংযোগ পায়নি, সে যদি কালেভদ্রে একটা আধট, বাইরে বেরবার সংযোগ পায়—যতটকুই সে যাক না কেন, ততটুকুই গিয়েই সে যা আনন্দ পাবে—একজন অর্থ ও বিত্তশালী Blase ভ্রমণকারী হাজার মাইল ঘুরে তার চেয়ে বেশি কিছু, আনন্দ পাবে না। কাজেই আমার সেদিনকার ভ্রমণটা এদিক থেকে দেখতে গেলে তুচ্ছ তো নয়ই—বরং আমার জীবনের মধ্যে অত্যন্ত মূল্যবান সেদিনটির আনন্দ। কারণ, আসলে দেখে চোখ আর মন । যখন ওই দুটি ইন্দ্রিয় বহুদিন ব,ভুক্ষ,, তখন যে কোন মুক্ত স্থান, সামান্য একটা বাঁশঝাড়, একটি হয়তো ধানের মরাইওয়ালা গৃহস্থবাড়ি, আঁকা-বাঁকা গ্রাম্য নদী, কোথাও একটা বনের পাখীর ডাক—মধর, স্বপ্নময় হয়ে ওঠে। পয়সা যাদের আছে, খুব ঘুরে বেড়াতে পারে তারা—ভালো কথাই, কিন্তু Blase' হবার ভয়ও যথেষ্ট। তখন ভীম নাগের সন্দেশও মুখে রোচে না । পরবর্ত্তীকালে জীবনে অনেক বেড়িয়েচি, এখনও বেড়াই—পাকা Blase টাইপ অনেক দেখেছি, যথাস্থানে তাদের গল্প করবো।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

অনন্য অসাধারণ
বিভূতিভূষণ বাডুজ্জের সব লেখার মতো এটাও 'অনন্য' !

বিভূতি বাডুজ্জের ভ্রমণ কাহিনির তারিফ না করে পারা যায় না। এ এক অদ্ভুত 'অভিযাত্রিক' বিভূতিভূষণ৷ সারা ভারতবর্ষের অরণ্য চড়িয়ে বেরিয়েছেন এই বাঙালি সন্তান। তার বেশিরভাগই পদব্রজে! বুঝুন। অরণ্যের প্রতি অকৃত্রিম মুগ্ধতা সে তো বিভূতিভূষণের লিখবার কমন বিষয়। কিন্তু এই বন সৌন্দর্য যতটা নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করেছেন, ততটা আর তো কেউ পারেনি। নিজে যা দেখেছেন দু'চোখে ঠিক তাই কলম এসেছে তাঁর। এতটুকুও কৃত্রিম আতিশয্য নেই। এইটাই বিভূতির ভ্রমণকথার বড় গুণ। অনেকেই তো ভ্রমণকাহিনি পড়েছি। এমন সাচ্চা দিলের বর্ণনা খোদ বাংলা সাহিত্য নয় ; বিশ্বসাহিত্যেও খুব বেশি নেই। শুধু বইটির সময়কাল মনে রাখুন। গেল শতকের ত্রিশের দশক। বাঙালি হিন্দু আর বাঙালি মুসলমানের সম্পর্ক তেতে উঠছে সবে। তখন বিভূতিভূষণ বাংলার পল্লীগ্রামে ঘুরছেন। নিজের পর্যবেক্ষণে - " পায়ে হেঁটে বাংলার অনেক গ্রামেই ঘুরেচি, সর্বত্রই দেখেচি, একই অবস্থা - ভদ্রলোকের পতন, মুসলমান ও অনুন্নত জাতির অভ্যুদয়। " ভদ্রলোক বলতে তিনি কাদের বোঝালেন? বেশ খানিকক্ষণ পড়া বাদ রেখে ভাবলাম। বাঙালি উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বোঝাতে তিনি 'ভদ্রলোক ' প্রত্যয় ব্যবহার করলেন। একটি নির্দিষ্ট বর্নের বা গোত্রের লোককেদের 'ভদ্রলোক ' আর বাকিদের বাঙালি তো নয়ই। 'মুসলমান, অনুন্নত জাতি' প্রভৃতি শব্দে যিনি পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি কী বুঝেছিলেন নিজের মনের অজান্তেই কী বিষ ঢেলে দিচ্ছিলেন পাঠকদের মনে। বিশেষত, বড় লেখক মাত্রই বড় মানুষ - ভাববার সুযোগ সম্ভবত পাঠককে দিতে চাননি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বড় কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ।























