

Buy দেশে বিদেশে Online in Bangladesh
লেখক: সৈয়দ মুজতবা আলী
- Author: সৈয়দ মুজতবা আলী
- Publisher: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
- Number Of Pages: 224
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘দেশে বিদেশে’ বইটির কিছু অংশঃ এক চাঁদনি থেকে নসিকে দিয়ে একটা শর্ট কিনে নিয়েছিলুম। তখনকার দিনে বিচক্ষণ বাঙালির জন্য ইয়োরোপিয়ন থার্ড নামক একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ভারতের সর্বত্র আনাগোনা করত। হাওড়া স্টেশনে সেই থার্ডে উঠতে যেতেই এক ফিরিঙ্গি হেঁকে বললে, ‘এটা ইয়োরোপিয়নদের জন্য।’ আমি গাঁক গাঁক করে বললুম, ইয়োরোপিয়ন তো কেউ নেই। চল, তোমাতে-আমাতে ফাকা গাড়িটা কাজে লাগাই।’ এক তুলনাত্মক ভাষাতত্ত্বের বইয়ে পড়েছিলুম, বাংলা শব্দের অন্ত্যদেশে অনুস্বার যোগ করিলে সংস্কৃত হয়; ইংরেজি শব্দের প্রাদেশে জোর দিয়ে কথা বললে সায়েবি ইংরেজি হয়।’ অর্থাৎ পয়লা সিলেবলে অ্যাকসেন্ট দেওয়া খারাপ রান্নায় লঙ্কা ঠেসে দেওয়ার মতো— সব পাপ ঢাকা পড়ে যায়। সোজা বাংলায় এরি নাম গাঁক গাঁক করে ইংরেজি বলা। ফিরিঙ্গি তালতলার নেটিব, কাজেই আমার ইংরেজি শুনে ভারি খুশি হয়ে জিনিসপত্র গোছাতে সাহায্য করল। কুলিকে ধমক দেবার ভার ওরি কাঁধে ছেড়ে দিলুম। ওদের বাপখুড়ো, মাসিপিসি রেলে কাজ করে- কুলি শায়েস্তায় ওরা ওয়াকিফহাল। কিন্তু এদিকে আমার ভ্রমণের উৎসাহ ক্রমেই চুবসে আসছিল। এতদিন পাসপোর্ট জামাকাপড় যোগাড় করতে ব্যস্ত ছিলুম, অন্য কিছু ভাববার ফুরসত পাইনি। গাড়ি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম যে ভাবনা আমার মনে উদয় হল সেটা অত্যন্ত কাপুরুষজনোচিত— মনে হল, আমি একা। ফিরিঙ্গিটি লোক ভালো। আমাকে গুম হয়ে শুয়ে থাকতে দেখে বলল, ‘এত মনমরা হলে কেন? গোয়িঙ ফার?’ দেখলুম বিলিতি কায়দা জানে। ‘হোয়ার আর ইউ গোয়িঙ?’ বলল না। আমি যেটুকু বিলিতি ভদ্রস্থতা শিখেছি তার চোদ্দ আনা এক পাদরি সায়েবের কাছ থেকে। সায়েব বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, ‘গোয়িঙ ফার?’ বললে বাধে না, কারণ উত্তর দেবার ইচ্ছা না থাকলে ইয়েস’ ‘নো’ যা-খুশি বলতে পার— দুটোর যে কোনও একটাতেই উত্তর দেওয়া হয়ে যায়, আর ইচ্ছে থাকলে তো কথাই নেই। কিন্তু ‘হোয়ার আর ইউ গোয়িঙ' যেন ইলিসিয়াম রো’র প্রশ্ন ফাঁকি দেবার জো নেই। তাই তাতে বাইবেল অশুদ্ধ হয়ে যায়।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
দশম শ্রেনিতে খণ্ডাংশ পড়ে পুরো বই পড়ার লোভ জন্মেছিলো! মাঝে মাঝে লোভী হওয়া ভালো! খুবই সুন্দর একটা ভ্রমনকাহিনি!
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যের একজন অন্যতম ছোট গল্পকার ও ঔপন্যাসিক । তাঁর এই বইটি পড়ে বেশ ভালো লেগেছে ।

সৈয়দ মুজতবা আলীর বই কেনার জন্য রিভিউ পড়ার প্রয়োজন নেই। Just কিনুন আর পড়া শুরু করুন।
আব্দুর রহমান, এক বিশ্বস্ত নাম,হরফুন মৌলা,যার উপর নির্ভর করা যায় নিশ্চিন্ত।,লেখকের প্রবাস জীবনের বন্ধু। অসাধারণ লেখনির মাধ্যমে যাকে প্রায় অমরত্ব দান করেছেন সৈয়দ মুজতবা আলী। বিয়ের অনুষ্ঠানের সেই বৃদ্ধের গান,, এবং লেখকের উপলব্ধি,, অসাধারণ অসাধারণ।পানশিরের বরফের টুকরোর মতো স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যায় অন্তরে।।

মাধ্যমিক বাংলা বইয়ে ঠিক এই বইটা থেকে একটা অংশ ‘প্রবাস বন্ধু’ নামে অন্তর্ভুক্ত আছে। গল্পটা ছিল আবদুর রহমানের সাথে লেখকের প্রথম পরিচয় নিয়ে। আবদুর রহমান ছিল আফগানিস্তানে থাকাকালীন লেখকের ভৃত্য। বইয়ে গল্পটা বারবার পড়ে খুব ইচ্ছে হয়েছিল আবদুর রহমান সম্পর্কে আরও জানতে এবং এই আবদুর রহমানকে আরও আবিষ্কার করতেই বইটি কেনা। আমার বইটি কেনা সার্থকই হয়েছে বলা যায়। প্রথমদিকে ভ্রমণকাহিনী হিসেবে এগোলেও শেষের দিকে গিয়ে অনেক ইতিহাসও জানতে পেরেছি। বইটি পাঠকদের নিরাশ করবে নাহ বলে আমার বিশ্বাস।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
Which version is it? Indian or Bangladeshi?
Bangladeshi.
বইটির পৃষ্ঠা কত?
The Number of Pages 224.
বইয়ের প্রকাশকের নাম টা বলেন প্লিজ?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির প্রকাশক বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ধন্যবাদ।
বই টি কি লেখকের সত্য জীবন কাহিনি থেকে লিখা ?
প্রিয় গ্রাহক, জি, এটি লেখকের সত্য জীবন কাহিনি থেকে লেখা।























