না বলতে শিখুন
বই কালেকশন

Buy না বলতে শিখুন Online in Bangladesh

লেখক: পল্লব শাহরিয়ার

3.77
(4 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: পল্লব শাহরিয়ার
  • Publisher: প্রিয়মুখ
  • Isbn: 9789848078419
  • Number Of Pages: 174
  • Language: বাংলা
  • Edition: ২য় প্রকাশ, ২০২৪
৳ 216৳ 36040% ছাড়
স্টক আউট (Stock Out)
ফরম্যাট / সংস্করণ নির্বাচন করুন:
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

‘না’ একটা অতি সহজ শব্দ, কিন্তু আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকরাই এ ‘না’ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারে না। বেশিরভাগ লোকের মুখে শোনা যায় ‘আমার খুবই ভালো লাগবে..., বা আপনার কবে আমাকে প্রয়োজন...’ জোরদার ‘না’কে সুবিধাজনক করার উপায় : ১। যদি আপনাকে কেউ কোনো কাজ করার অনুরোধ করে তবে তা নিয়ে বিচার-বিবেচনা করার জন্য সময় চাওয়া জরুরি। যখন বিচার করবেন তখন একটা কথায় মাথায় রাখবেন যে নির্ণয় আপনার ওপরে নির্ভর করছে। ২। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জোরদার ‘না’ বলার সময় শরীরের ভাষার ব্যবহার করুন। এ কথাটা মাথায় রাখবেন যে আপনার আওয়াজ যেন শক্তিশালী ও স্পষ্ট হয়। ‘না’ বলার সময় সামনের ব্যক্তির চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন এবং মাথা নাড়িয়ে ‘না’ বলে দিন। ৩। মনে রাখুন ‘না’ বলা সম্মানজনক উত্তর। যদি আপনার মনে হয় যেকোনো কাজের জন্য ‘না’ বলা উচিত তবে সততার সাথে ‘না’ বলে দিন। ৪। আপনি যখন ‘না’ বলতে চান অথচ মুখ থেকে ‘হ্যাঁ’ বেরিয়ে যায়, তবে আপনি নিজের উত্তর নিয়ে সমস্যা বোধ করতে পারেন। এর জন্য আপনার শক্তি ক্ষয় হতে পারে এবং আপনি অন্য অসুবিধারও সম্মুখীন হতে পারেন। ‘না’ বলে আপনি এসব সমস্যার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেন। ৫। যদি আপনি এমন কোনো ব্যক্তিকে না বলেন, যাকে আপনি অন্য পরিস্থিতিতে সাহায্য করতে পারেন, তবে তাকে তা স্পষ্টরূপে জানিয়ে দিন।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

3.77
(4 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
75%
4
0%
3
25%
2
0%
1
0%
Halima Akter Tanny
Halima Akter Tanny ভেরিফাইড
16 Aug 2021

#priyomukh_rokomari_book_club_2021 📚রিভিউ নং-২ 🖋️রিভিউকারী: হালিমা আক্তার তন্বী বইয়ের নাম: না বলতে শিখুন লেখক: পল্লব শাহরিয়ার প্রকাশনী: প্রিয়মুখ ধরণ : আত্ম-উন্নয়নমূলক পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৭৪ মুদ্রিত মূল্য: ৩২০ ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০ সূচনা-পূর্ব সূচনা : আমাদের জীবনে ইতিবাচক মনোভাবের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইতিবাচক মনোভাব আমাদের সুন্দর করে বাঁচতে শেখায়। তবে কি 'না' বলা নেতিবাচক? মোটেই নয় বরং পারিবারিক, সামাজিক, কর্মক্ষেত্রে বা অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের 'না' বলার প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাপারটা আরো একটু ভালোভাবে বুঝতে চলুন নিচের ঘটনাবলির দিকে মনোযোগ দেই- ঘটনা-১ - "দোস্ত, তুই যে কি, নে একটা টান দে, হেব্বি মজা।" - "দোস্ত, আমি সিগারেট খাই না।" -" আরে, একটা টান দে, তাতে কিছু হবে না।" -" কিন্তু, দোস্ত..." ঘটনা-২ -"এই শোন, তোর টিকটক এ্যাপ ডাউনলোড করা আছে?" -" না,রে। আমি টিকটক ব্যবহার করি না, আমার ভালো লাগে না।" -" এ্যাপটা ডাউনলোড কর, এ্যাপ ডাউনলোড করলেই টাকা পাবি। আমার রেফার কোডটা ইউস করিস।" -" কিন্তু....." - "আরে ডাউনলোড করা না, প্লিজ। তুই না আমার বেস্টফ্রেন্ড?" এভাবেই না বলতে চাইলেও বেস্টফ্রেন্ডের সাথে বা অন্যবন্ধুর সাথে সম্পর্ক খারাপ হবে ভেবে আমরা উপরিউক্ত পরিস্থিতিতে কাজটা করতে রাজি হয়ে যাই। 'হ্যাঁ', বলে দেই।এরকম সাধারণ ঘটনা আমাদের জীবনে হরহামেশাই ঘটে থাকে। আমরা কাউকে অনুরোধ করি বা অন্যেরা আমাদের এইরকম বিভিন্ন কাজের জন্য অনুরোধ করে। যদি আপনি বা আমি প্রথম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হই তাহলে খুবই দ্রুত আমাদের এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। অন্যদের উপর নিজের কাজ চাপিয়ে না দিয়ে তাদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে হবে। তবে যদি দ্বিতীয় শ্রেণিতে অবস্থান করি তাহলে আমাদের এই ধরণের অনুরোধে ঢেঁকি গেলা বন্ধ করতে হবে। মনে হতে পারে যে, 'না'- এই ছোট্টো একটি শব্দ বলা যতটা সহজ মনে করা হচ্ছে আসলেই অত সহজ নয়। হ্যাঁ, আসলেই আমাদের অনেকেরই 'না' বলতে দ্বিধাবোধ হয়। এর পেছনে রয়েছে বিভিন্ন কারণ। তবে কারণ যাই হোক না কেন 'না' বলতে শিখতে পারাটা আমাদের খুবই জরুরি। 'না' বলতে শেখার জন্য এবং তার যথাযথ প্রয়োগের জন্যই এই বই। বইয়ের বিষয়বস্তু: উপরিউক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই আঁচ করা যাচ্ছে যে, বইয়ের বিষয়বস্তু কী হবে। আমাদের জীবনে না বলার গুরুত্ব শেখানো নিয়েই এই বইয়ের বিষয়বস্তু বিন্যস্ত করা হয়েছে। সমগ্র বইকে প্রারম্ভিক সূত্র, ভালো মানুষ আশীর্বাদ না অভিশাপ, আপনি কি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ভালো মানুষ? না বলার শক্তি, না বলা এক মহান কলা ইত্যাদি ২০টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। বিভিন্ন ছোটো ছোটো উদাহরণ দিয়ে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটির ভাষা অত্যন্ত সহজ আর এক বসায় পড়ে ফেলার মত বই। আপনি আমি যারা না বলতে দ্বিধায় ভোগেন, সে 'না' বললে কী ভাববে? 'না' বললে মানুষটির সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে, কর্মক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে ইত্যাদি ইত্যাদি আকাশপাতাল চিন্তা করি তাদের জন্য বইটি খুবই সহায়ক। এছাড়া জীবনে আমাদের কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি আসে যখন আমাদের দৃঢ়চিত্তে 'না' বলা জরুরি। বিভিন্ন অনৈতিক, অন্যায় প্রস্তাবে 'না' বলাই এক এবং একমাত্র উত্তর হওয়া উচিত। যদি তা না হয় তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে। আর আমরা জানি, "অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।" আমাদের যাদের মধ্যে দয়া-মায়া, বিনয় বেশি তাদেরই 'না' বলতে সমস্যা বেশি হয়। দয়া-মায়া বিনয় থাকা ভালো কিন্তু সেটা নিজের ভালো থাকার বিরুদ্ধে যেয়ে নয়। আমি আগে 'না' বলতে না পারার সমস্যায় বেশি ভুগতাম। এখনো যে ভুগি না তা নয় তবে বইটি আমাকে ভবিষ্যতে আরো বেশি সহায়তা করবে। এটি একটি চমৎকার বই। শেষকথা: শুরুতে যে প্রশ্নটা করেছিলাম, আপনাদের কী মনে হয় না বলা নেতিবাচকতা এতক্ষণে নিশ্চয়ই ব্যাপারটি পরিস্কার হয়েছে যে, 'না' বলা মোটেই নেতিবাচক নয় বরং নিজের মানসিকতা, মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে যেয়ে 'না' বলার মাধ্যমে নেতিবাচকতার সূচনা হয়। 'না' তো বলতে হবে বুঝলাম কিন্তু এই ছোট্টো কথাটি বলার জন্যও বিভিন্ন কলাকৌশল রয়েছে যাতে অপরদিকের মানুষটি কষ্ট না পায় বা তার সাথে সম্পর্ক খারাপ না হয়। সেগুলো কী? জানতে চান? তাহলে অবশ্যই পড়ুন 'না বলতে শিখুন' বইটি।

roky hossain
roky hossain ভেরিফাইড
14 Aug 2021

#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 রিভিউ লেখক: রকি হোসেন বই: না বলতে শিখুন লেখক: পল্লব শাহরিয়ার ★★না’ শব্দটি খুবই ছোট ও সহজ হওয়া সত্বেও অধিকাংশ মানুষ না বলাকে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে, যদি ‘না’ বলতে পারি তাহলে জীবনের অনেক জটিলতা থেকেই মুক্তি পেতে পারি। এই বইয়ে বেশ কিছু সফল উপায় বলে দেয়া হয়েছে, যেগুলো নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করে যেকোনো ব্যাক্তি ‘না’ বলার শিল্পে পারদর্শী হয়ে নিজেদের জীবনকে হতাশামুক্ত করে আনন্দময় জীবন উপভোগ করতে পারেন। . বইটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা: ———————- ১। যদি আপনাকে কেউ কোনো কাজ করার অনুরোধ করে, তবে তা নিয়ে বিচার-বিবেচনা করার জন্য সময় চাওয়া জরুরি। ২। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জোর দিয়ে ‘না’ বলার সময় শরীরের ভাষার ব্যবহার করুন। এ কথাটা মাথায় রাখবেন যে আপনার আওয়াজ যেন শক্তিশালী ও স্পষ্ট হয়। ৩। সুন্দর করে ‘না’ বলা অসম্মানজনক কিছু নয়। যদি আপনার মনে হয় যেকোনো কাজের জন্য ‘না’ বলা উচিত, তবে নিষ্ঠার সাথে ‘না’ বলে দিন। ৪। একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি যখন ‘না’ বলতে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলে দিচ্ছেন, তখন সমস্যা আপনার নিজেরই হবে। তাই সমস্যার কথা মাথায় রেখে হলেও ‘না’ বলুন। ৫। যদি এমন সুযোগ থাকে, যাকে আপনি না করে দিচ্ছেন, তাকে অন্য কোনো কাজে বা পরিস্থিতিতে আপনি সাহায্য করতে পারবেন, তাহলে সেটাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিন। এতে করে সে মনঃক্ষুণ্ণ হবে না, আপনিও আপনার ইমেজ বজায় রাখতে পারবেন।

Mishty Jannat
Mishty Jannat ভেরিফাইড
07 Aug 2021

#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 বইঃ না বলতে শিখুন লেখকঃ পল্লব শাহরিয়ার জনরাঃআত্নউন্নয়ন মূলক পৃষ্ঠাঃ১৭৮ মূল্যঃ৩২০টাকা প্রকাশনীঃ প্রিয়মুখ আসলে এই বইটির নাম যখন দেখলাম ঠিক তখনই ভাবলাম পড়ে দেখা উচিত বইটি কেমন। কারন এই রকম টাইপের বই আমি আরো পড়েছি তবে সেগুলো বাইরের কান্ট্রির। তাই এই বইটার নাম আসলে রকমারী থেকে দেখা অন্য একটি বই কেনার জন্য ঘুরছিলাম যদিও তা দেখা মাএই চোখে পরল আসলে কভার পেইজটা দারুন পুরোটা কালো তার মাঝে সাদা আর হলুদ এর কম্বিনেশন টা খুবই সুন্দর লাগছিল। যা হোক রকমারী থেকে অর্ডার করার মাএ ৩ দিনের মধ্যই বইটা পেয়ে গেলাম। পরা শেষ করলাম পুরো বইটা শেষ করতে আমার ২ঘন্টা লাগল এত সুন্দর করে লিখেছেন যা বইটি ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছিল না। যতটা ধারণা করেছিলাম তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি ভালো বইটা। এবার আসি বইটার কোন কোন বিষয় গুলো আমার মন কেড়েছে প্রথমেই আসিঃ ★আমরা মনে করি সব সময় হ্যা বললে মানুষ এর কাছে হয়তোবা ভালে হওয়া যায় বেশি কিন্তু লেখক তা ভুল প্রমান করে দিয়ে বলেছেন যে সব সময় হ্যা বললে আসলে আপনার দাম কমে যায় আপনাকে যখন তখন পাবে। আর যখন তখন পাওয়ার মাঝে আসলে গুরুত্বটা কমে যায়। ★বইটাতে আর একটি বিষয় সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হইছে তা হলো আপনি এমন সব জিনিসে হ্যা বলে থাকেন যে গুলা আপনার দরকার নেই বা অন্য ভাবে করা যেত। ★ ঠিক কখন আপনার না বলা উচিত এই সুন্দর একটি বাক্য নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে,না বলা মানেই কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং না বলার মাঝে আপনি আপনার নিজেকে বেশি প্রায়োরিটি দিলেন। ★এবং লেখক আরো বুঝাতে চেয়েছেন যে, না বলা মানে কোনো অপরাধ করা নয়, অনেকে আমরা মনে করি না বললাম তার মানে আমি খারাপ, বদমেজাজী বা অপরাধী এমন চিন্তা ভাবনা থেকে লেখক বের হয়ে আসতে বলেছেন। ★ আমরা সকলকে না বলতে গিয়ে নিজেকে টাইম দিতে পারছি না অনেক সময় এমন ও হয় যে কারো মুখের উপর না বলা যায় না কিন্তু পরে কাজটা করতে অনেক প্যারা লাগে বা কাজটা করাই হয় না তো এই সিচুয়েশনে যদি আমরা আগেই না করে দিতাম হয়তো একটু নিজের কাছে গিল্টি কাজ করত কিন্তু এমনটা তো হত না পরে দেখা গেলো মন রক্ষা করতে গিয়ে সম্পর্ক আরো খারাপ হল। ★লেখক আরো বেলেছেন যখন আপনি না বললেন তখন কাউকে কোনো, ব্যাখ্যা, বাহানা এগুলা দিবেন না, আপনি আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান দিন এবং লেগে থাকুন। ★না বলতে পারাটা একটা শিল্প মনে করেন লেখক। ★ যদি কারো অনুরোধের জবাবে না বলতে চান অথচ না এর বদলে হ্যা বলে ফেলেন তাহলে আপনার ভিতর অনেক চাপ লাগবে। আমি মনে করি এটা একটা খুব ভালো আত্ম উন্নয়ন মূলক বই এবং এটা সবার পরে দেখা উচিত। আমরা সবাই লাইফের কোনো না কোনো জায়গায় এই কথা গুলো কাজে লাগাতে পারব। ধন্যবাদ পল্লব ভাইয়া এত সুন্দর একটি বই আমাদেরকে দেয়ার জন্য। এবং ধন্যবাদ #প্রিয়মুখ প্রকাশনীকে। রেটিংঃ৫/৫

Mohammad Jahedul Islam
Mohammad Jahedul Islam ভেরিফাইড
04 Aug 2021

#priyomukh_rokomari_book_club_review_2021 রিভিউ : ০১ রিভিউ লেখক : মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম ❝স্বার্থপর হওয়া খারাপ আর নিঃস্বার্থ হওয়া ভালো। কিন্তু বেচারা ভালো মানুষরা এটা বুঝতে পারে না যে, স্বার্থপর হওয়া বলতে কী বোঝায়।❞ স্বার্থপর এমন একটা শব্দ, যে শব্দটা ভাবনায় এলে মনের পর্দায় ভেসে ওঠে খারাপ চিন্তাভাবনা। তখন স্বার্থপর তকমা লেগে যাওয়া মানুষটা সম্পর্কে ভুল ধারণা চলে আসে। স্বার্থপর শব্দটার অর্থ একেকজনের কাছে একেকরকম। কারো কাছে স্বার্থপর মানে - খারাপ, নিষ্ঠুর। আবার কারো কাছে স্বার্থপর মানে - নিজের ভালো বোঝা অর্থাৎ আত্মকেন্দ্রিক। এ শব্দের অর্থ অনেকাংশে নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। তবে স্বার্থপর শব্দটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের ব্যবহার শোধরানোর জন্য করা হয়। যে-ই মুহূর্তে মানুষ নিজের ব্যবহারে পরিবর্তন নিয়ে আসে, নিজের জন্য আলাদা একটা পথ নির্বাচন করে নেয়, সেই মুহূর্তে মানুষটার ওপর লেগে যায় স্বার্থপরের তকমা। অন্যদিকে ভালো মানুষের তকমা লেগে যাওয়া মানুষ কখনও চায় না, তার সম্পর্কে অন্যদের মনে খারাপ চিন্তাভাবনা জাগ্রত হোক। তারা নিজেদের এ অবস্থানটা ধরে রাখতে গিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে দিয়ে দেয়। স্বার্থপর হওয়া বলতে কী বোঝায় তা বুঝতে পারে না বলে নিজের ব্যবহারে পরিবর্তন নিয়ে আসা, নিজের জন্য আলাদা গন্ডি তৈরি করা তার কাছে অসম্ভব হয়ে ওঠে। স্বার্থপর শব্দ সম্পর্কে নতুন করে পরিচয় হওয়া, নিজের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে নিয়ে আসা, বাচ্চাদের ওপর পরিবারের প্রভাব নিয়েই আত্ম-উন্নয়নমূলক বই ❛না বলতে শিখুন❜। ➤ কাহিনী সংক্ষেপ :- "লীলা, মার্কেটিং শেষ হলে আমার ঘরে এসো।" "স্যার, মার্কেটিং এর পর তো আমি নিজের ঘরে গিয়ে শোব।" "আমি অফিসিয়াল ট্যুরে তোমাকে সঙ্গে করে কেন নিয়ে এসেছি?" "আপনার ধারণাটা ভুল, আমি সেরকম মেয়ে নই।" "তুমি চাকরি করতে চাও কি না?" "ঠিক আছে স্যার, আমি আসবো।" এভাবে একটা মেয়ে অফিসের বসের সাথে রাত কাটাতে বাধ্য। বাসস্ট্যান্ডে এক মা তার পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মেয়েটার হাতে ছিল সুন্দর একটা গিফট প্যাকেট। সে বলে, "আমি নিশিতার পার্টিতে যাবো না, আমার নিশিতাকে ভালো লাগে না।" "না, এমন বলতে নেই। নিশিতা, তোমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, ও ভালো, তোমাকে যেতেই হবে।" "ও খারাপ, আমি ওর মুখ দেখতে চাই না, আমি যাবো না।" "আমি কোনো কথা শুনতে চাই না। বাস আসছে, চলো।" এখানে মায়ের ইচ্ছা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হলো পাঁচ বছরের মেয়ের ওপর। অফিসে বসের অনৈতিক ইচ্ছা, ছোটদের প্রতি বড়দের অনৈতিক শোষণ সহ প্রতিনিয়ত মানুষের বিভিন্ন অনুরোধের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এরকম পরিস্থিতিতে "না" বলতে পারলে জীবনের অনেক জটিলতা দূর হয়ে যায়। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে "না" বলতে চেয়েও মুখ থেকে বেরিয়ে আসে "হ্যাঁ"। যা আমাদের জীবনকে আরও জটিল করে তোলে। এসব থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে গড়ে উঠেছে ❛না বলতে শিখুন❜। ➤ পাঠ - প্রতিক্রিয়া :- বইয়ের প্রচ্ছদের ওপর ভেসে ওঠা ❛না বলতে শিখুন❜ লেখাটা দেখে মস্তিষ্কের ভেতর প্রথমে যে চিন্তাভাবনা চলে আসে তা হলো - জীবনের জটিল কোনো পরিস্থিতিতে কীভাবে "না" বলতে হবে সেটা নিয়েই হয়তো লেখা হয়েছে এ বই। এরকম চিন্তাভাবনা নিয়ে কেউ বইটি পড়া শুরু করলে মাঝপথে এসে বুঝতে পারবে তার চিন্তাভাবনায় ভুল ছিল। এই বইয়ে এমন ঘটনা ও পরিস্থিতির উল্লেখ করা আছে যার মধ্যদিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবন অতিবাহিত হয়। যেখানে শুধু "না" বলার শিল্পে পারদর্শী হলে জীবন জটিলতা মুক্ত হয় না, এর সাথে ব্যক্তির নিজের ব্যবহারে পরিবর্তন এনে দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন করতে হয়। বইয়ের মূল বিষয়গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা না করলেই নয়। প্রথম ভাগ - সমস্যার উৎপত্তি। এখানে এমন পরিস্থিতি ও ঘটনার উল্লেখ আছে, কম-বেশি সবাইকে প্রতিনিয়ত এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এখানে অনেকগুলো প্রাসঙ্গিক উদাহরণের মাধ্যমে এসব সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সমস্যার উৎপত্তি হওয়ার কারণ হচ্ছে পরিণামের ভয় কিংবা সংকোচবোধ। মধ্য ভাগ - বাচ্চাদের ওপর পরিবারের প্রভাব। এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। প্রায় দেখা যায়, শৈশবের সাথে সম্পর্কিত অভিজ্ঞতার চর্চা করতে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাবা-মা অনেক উপায় পরখ করে। বাচ্চাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নিজেদের ইচ্ছাগুলো চাপিয়ে দেয়। বাচ্চাদের দুঃখ আর উদাস দেখলে অসহায়বোধ এবং চিন্তাভাবনা না করে যে কোনো কিছু বলে দেয়। যা বাচ্চাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করা জন্য বাবা-মা যেসব ভুল পন্থা অবলম্বন করে সেগুলো প্রাসঙ্গিক উদাহরণের মাধ্যমে এখানে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শেষ ভাগ - মুক্তির উপায়। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বইয়ে উল্লেখিত যেসব পরিস্থিতি ও ঘটনার মুখোমুখি হয় সেগুলো থেকে মুক্তির উপায় নিয়েই এ অংশ। এখানে এমন কিছু পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলো রপ্ত করতে পারলে জীবনের প্রতি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে ও আনন্দময় জীবন উপভোগ করা যাবে। ❛না বলতে শিখুন❜ এক নিমিষে পড়ে ফেলার মতো একটা বই। চমৎকার বর্ণনাভঙ্গির জন্য বিন্দুমাত্র বিরক্তি আসার কারণ নেই। অসংখ্য প্রাসঙ্গিক উদাহরণের মাধ্যমে বাস্তবতাকে সম্পূর্ণরূপে চোখের সামনে তুলে ধরেছে। এ উদাহরণগুলো বইয়ের মূল বিষয়গুলোকে জীবন্ত করে তুলেছিল। যার কারণে বিষয়গুলো বুঝতে সহজ হয়েছে। জীবনে আকার প্রদানের ক্ষেত্রে ভাষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এখানে সুন্দরভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। ভাষার প্রভাব এতটা গভীর হয় যে, বেশিরভাগ সময় বুঝতে পারি না আমরা কি শব্দের প্রয়োগ করছি। মুহূর্তের মধ্যে শব্দ মানুষের আত্মবিশ্বাসকে নড়বড়ে করে দিতে পারে। ছোট বয়সে বাচ্চার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়ে থাকে বলে বয়স কালে তাদের অক্ষম বা দুর্বল হওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই বাচ্চাদের ওপর ভাষার সঠিক প্রয়োগ করা উচিত। যাতে সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। "না" বলার অর্থ এই নয় যে, মানুষ সবসময় নিজের স্বার্থের কথা ভাববে, কখনও অপরের সাহায্য করবে না। সমস্যার সৃষ্টি তখনই হয়, যখন সবার কথা রাখতে গিয়ে ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় পড়ে যান। এই বই ব্যক্তিকে সোজা পথ দেখাবে না, বরং অন্য পথ অন্য বিকল্পের সাথে দেখাবে। কোন পরিস্থিতিতে কোন পথ নির্বাচন করতে হবে তার অধিকার সর্বদা ব্যক্তিরই। এখানে সচেতনতার সাথে এমন ছোট - ছোট জয়ের চর্চার কথা বলা হয়েছে, যেগুলো জীবন বদলাতে সাহায্য করবে ও সুন্দর করে তুলবে জীবন। ❛না বলতে শিখুন❜ বইটি সব বয়সী মানুষের, বিশেষ করে বাবা-মা'দের পড়া উচিত। তারা বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে ভুল পন্থা অবলম্বন করে সেগুলো বাচ্চাদের ওপর কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে তা জানার জন্য হলেও বইটি পড়া উচিত। এই বই সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে শেখাবে। ➤ লেখনশৈলী :- রেনু সরনের বই অবলম্বনে ❛না বলতে শিখুন❜ বইয়ের প্রেক্ষাপট সাজানো হয়েছে। পল্লব শাহরিয়ারের বর্ণনাভঙ্গি ছিল বেশ সাবলীল, যা প্রশংসার দাবিদার। বইটাতে অন্যমাত্রা যোগ করে দিয়েছে প্রাসঙ্গিক উদাহরণগুলো। সেই উদাহরণগুলোতে ফুটে উঠেছিল সেই-সব ঘটনা ও পরিস্থিতি, প্রতিনিয়ত যেগুলোর মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এ উদাহরণগুলো আলাদা প্রাণ দিয়েছে বইয়ে। ➤ বানান ও সম্পাদনা :- প্রতিটা বইয়ে কম-বেশি ভুল বানান লক্ষ করা যায়। এ বইয়ে ভুল বানানের সংখ্যা ও প্রিন্টিং মিসটেক ছিল নেহায়েত কম। যা বর্ণনাভঙ্গিতে প্রভাব ফেলতে পারেনি। সম্পাদনা নিয়েও কোনো অভিযোগ নেই। বাক্য বিন্যাসে কোনো অসংগতি লক্ষ করা যায়নি। ➤ প্রচ্ছদ ও প্রোডাকশন :- প্রচ্ছদটা সহজে যে কারো নজর কেড়ে নেবে। বিশেষ করে, কালার কম্বিনেশনের কারণে প্রচ্ছদটা আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। টাইপোগ্রাফিটাও বেশ সুন্দর ও স্পষ্ট। প্রিয়মুখ প্রকাশনীর প্রোডাকশন আমার ভালো লেগেছে। বইয়ের ভেতরের নজরকাড়া ইলাস্ট্রেশন বই পড়াকে আনন্দদায়ক করেছিল। বইয়ের মলাট, বাঁধাই, পৃষ্ঠার মান যথেষ্ট রকমের ভালো ছিল। ➤ এক নজরে :- ◑ বই : না বলতে শিখুন ◑ লেখক : পল্লব শাহরিয়ার ◑ জনরা : আত্ম-উন্নয়নমূলক ◑ পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৭৪ ◑ মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা ◑ প্রকাশনা : প্রিয়মুখ ❝জ্ঞানের আলোয় পৃথিবী ভালো মানুষের হোক।❞

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)