

Buy মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় Online in Bangladesh
লেখক: ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ)
- Author: ইমাম ইবনে রজব আল-হাম্বলী (রাহিমাহুল্লাহ)
- Publisher: শব্দতরু
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2019
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"মাগফিরাতের পথ ও পাথেয়" বইটির সূচিপত্র: গ্রন্থকার পরিচিতি অনুবাদকের কথা * মাগফিরাত লাভের প্রথম উপায় মাগফিরাত লাভের অন্যতম একটি উপায় অনুনয়-বিনয়ের সাথে দুআয় মগ্ন বান্দাকে আল্লাহ পছন্দ করেন, গুনাহের জন্য মাগফিরাতের দুআকারী বান্দার অবশ্যকর্তব্য কখনাে কখনাে দুআ কবুল না হওয়ার কারণ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও নিকট মাগফিরাতের আশা না করা বান্দার গুনাহের তুলনায় আল্লাহ-এর ক্ষমা সীমাহীন * মাগফিরাত লাভের দ্বিতীয় উপায় ইসতিগফার ও মাগফিরাতের অর্থ ইসতিগফার ও তাওবা কখনাে কখনাে ইসতিগফারও দুআ কবুলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিপূর্ণ ও মাকবুল ইসতিগফারের স্বরূপ একই সাথে তাওবা ও ইসতিগফার পাঠ করার বিধান। ইসতিগফারের সাথে তাওবার বাক্য যুক্ত করা ইসতিগফারের উত্তম পদ্ধতি দিনে ক’বার ইসতিগফার করবে? গুনাহের প্রতিষােধক হলাে ইসতিগফার যাদের গুনাহ কম তাদের নিকট ইসতিগফারের দুআ কামনা করা * মাগফিরাতের তৃতীয় উপায় : তাওহীদ মাগফিরাতের উপযুক্ত তাওহীদের স্বরূপ তাওহীদ অন্তরকে পবিত্র করে
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
ইস্তেগফার ও তওবা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিন্তু সারগর্ভমূলক সুন্দর একটি পুস্তিকা। ছোটো ছোটো মনি-মুক্তা বিক্ষিপ্ত আছে পাতায় পাতায়। বইটি নিঃসন্দেহে প্রত্যেকের সংগ্রহের উপযোগী।

লিখতে কাহিল লাগে...
بسم الله الرحمن الرحيم বই : মাগফিরাতের পথ ও পাথেয়। মূল গ্রন্থ : আসবাবুল মাগফিরাহ। রচনা : ইবনু রজব হাম্বলি রাহিমাহুল্লাহ। অনুবাদ : আহমাদ ইউসুফ শরীফ। রিভিউ লেখক : Sazzad S Parvez. প্রকাশনা : শব্দতরু। প্রকাশকাল : শাওয়াল ১৪৪০ হিজরি। পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৬৪। প্রচ্ছদ মূল্য। : ৮০৳। ➤ বই পরিচিতি : বইটার প্রচ্ছদ যখন আমি প্রথম দেখেছি তখনকার অনুভূতি, প্রচ্ছদে অশ্রুর ফোঁটা দুটি দেখা মাত্রই আমার হৃদয়ের গহীনেও 'আল্লাহুম্মাগ ফিরলি' বলে অশ্রু গড়িয়েছিল। আহ জানতে-অজান্তে, গোচরে-অগোচরে, স্বজ্ঞানে-ভুলক্রমে কত ভুল করে ফেলি! মহান আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করেন। বইটির প্রচ্ছদ ও প্রচ্ছদে উপস্থাপিত বইয়ের মূল মেসেজ, কালার-কম্বিনেশন, বাঁধাই, কাগজ ইত্যাদি সব কিছুই দৃষ্টিনন্দন হয়েছে মাশাআল্লাহ। বইয়ের প্রচ্ছদ প্রথম দৃষ্টিতেই পাঠকের নজর কাটবে। আবেগে আন্দোলিত হবে পাঠকের মনন। বইটি মূলত জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ জামিউল উলুম ওয়াল হিকামের ৪২ নং হাদিস ও তার ব্যাখ্যা। যা পরবর্তিতে 'আসবাবুল মাগফিরাহ' পুস্তিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বর্তমানে তা 'মাগফিরাতের পথ ও পাথেয়' নামে শব্দতরুর মাধ্যমে আমাদের হাতে। বইটি লিখেছেন সর্বজন সমাদৃত ও তর্কাতীতভাবে গ্রহণযোগ্য বিদগ্ধ আলিম ইবনে রজব হাম্বলি রাহিমাহুল্লাহ। মহান আল্লাহ তাঁর সম্মান উঁচু করুন। ➤ পর্যালোচনা : গুনাহ করেনা এটা ফিরিস্তাদের সিফাত, গুনাহ করে ক্ষমা চায়না এটা ইবলিসের সিফাত, গুনাহ করে আবার পরক্ষণেই অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায় তার রবের কাছে এটা মানুষের সিফাত। মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। ভুল করে সে বসে থাকবে এটা অস্বাভাবিক। প্রতিনিয়তই মানুষ ভুল করছে, করে চলেছে। ভুল করতে করতে অবহেলায়, উদাসীনতায়, অন্যায় অপরাধের ফলে মানুষ তার মহান রবের করুণার ছায়া থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আল-গফুর। তিনি ক্ষমা করেন, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি প্রতিনিয়ত চেয়ে আছেন গুনাহগার বান্দারা ক্ষমা চাইবে আর তিনি ক্ষমা করতে থাকবেন। তিনি প্রতিনিয়তই তাঁর বান্দাদের জন্য নিজ রহমত ও মাগফিরাতের পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। সময়ে সময়ে তিনি তার মননীত নাবি-রাসূলদের পাঠিয়ে মানুষদের শিক্ষা দিয়েছেন ভুল হলে কিভাবে ক্ষমা চাইবে? যাতে কোন বান্দা এমনটা মনে না করে, যেন সে নিজ যোগ্যতায়, নিজের ইল্মের দরুণ কিংবা আমাল বা কারামতের দ্বারা ইহকালীন ও পরকালীন সাফলের সোপানে আরোহন করবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার রহমত, মাগফিরাত এবং তাঁর একান্ত ইচ্ছা ব্যতীত বান্দা কখনো কোন সাফল্যের বন্দরে নোঙর করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ ত্রুটিহীন ও সমস্ত সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী। তাই হতাশাগ্রস্থ অন্তরের শেষতক প্রশান্তি হচ্ছে আল্লাহর ক্ষমা লাভ করা। বইটির শুরুতে গ্রন্থাকারের পরিচিতি দেওয়া হয়েছে বিস্তারিতভাবে। যাতে উনার নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, শিক্ষাজীবন, তার ছাত্রবৃন্দ, রচনাবলি, মৃত্যু ছাড়াও বিভিন্ন মনীষীদের চোখে তিনি কেমন তা তুলে ধরা হয়েছে। যা পাঠকদের গ্রন্থাকারের ব্যাপারে ভাল ধারণা দিতে সহায়তা করবে। বইটিতে মাগফিরাতের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে অসাধারণ সব পন্থা কুরআন হাদিস থেকে বাতলে দেওয়া হয়েছে। যা পাঠকদের অন্তরে ভয় দূরীভূত করে আশার কচি চারা জন্মানোতে সহায়ক হবে। পুরো বইতে মাগফিরাত লাভের ৩টি উপায় সম্পর্কে আলোচনা এসেছে- ১। আশাবাদী মনে দু'আ করা। ২। ইস্তিগফার। ৩। তাওহীদ। ✪ আশাবাদী মনে দু'আ করা : দু'আ হচ্ছে এক অব্যার্থ তীর। দু'আ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে নি'আমত। দু'আর ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে আদেশ করেছেন। এবং দু'আ কবুলের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, '........তোমরা আমাকে ডাকো আমি সাড়া দিব'। ( ৪০:৬০) আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমার ব্যাপারে অনেক আশা দিয়েছেন। এ জন্য আমাদের তাঁর দেখানো পথেই আগাতে হবে তবেই সাফল্য আসবে। দু'আ কবুলের ক্ষেত্রে হারাম হালাল যাচাই, আমাল পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য শর্ত, আদব ইত্যাদি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কি কি করতে হবে খুব সুন্দরভাবেই বইয়ের প্রতিটি পরতে পরতে ফুটে উঠেছে। আশাবাদি মন নিয়ে কেন আল্লাহকে ডাকতে হবে? জেনেনিই হাদিস থেকে- আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তোমরা আল্লাহর কাছে দু'আ করবে। জেনে রেখো, উদাসীন ও অমনোযোগী মনের দু'আ আল্লাহ কবুল করেন না'। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৪৭৯) দু'আয় আরো কিছু পন্থা হচ্ছে সময় নিয়ে বিনয়ী হয়ে দু'আ করা, আল্লাহ তা'আলা ব্যাতিত অন্য কারও নিকট মাগফিরাতের আশা না করা। এটা খুবই জরুরী কেননা- হাদিসে কুদসীতে এসেছে, 'বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা রাখে, আমি আমার বান্দার সাথে তেমন আচরণ করি'। বইটি পড়লে পাঠকের আরো বিস্তারিত ধারণা আসবে ইনশাআল্লাহ। ✪ ইস্তিগফার : ইস্তিগফার মাগফিরাত লাভের দ্বিতীয় উপায়। ইস্তিগফার, মাগফিরাত ও তাওবাহ এগুলোর আলাদা অর্থ রয়েছে। ইস্তিগফারের এর অর্থ ক্ষমা চাওয়া। আর মাগফিরাত মানে অপরাধীর অপরাধ গোপন রাখার পাশাপাশি তাকে তার কৃত অপরাধের মন্দ পরিণাম থেকে মুক্তি দেওয়া। তাওবাহ মানে আন্তরিক অনুশোচনা থেকে সামগ্রিকভাবে গুনাহ থেকে বিরত থাকা। গুনাহ ছেড়ে গুনাহ মুক্ত জীবনের দিকে ফিরে আসা। বইয়ে ইস্তিগফারের সামগ্রিক স্বরুপ সম্পর্কে সুন্দর আলোচনা এসছে। যা পাঠকের কাছে সহজেই বোধগম্য হবে। সে অনুযায়ী কাজ করাতে প্রয়াস পাবে। যেমন ইস্তিগফারের সাথে তাওবাহর বাক্য যুক্ত করা, ইস্তিগফারের উত্তম পদ্ধতি, দিনে ক'বার ইস্তিগফার করবো। কখন ইস্তিগফারে দু'আ কবুল হয়না ইত্যাদি জানা যাবে। ✪ তাওহীদ : মাগফিরাতের তৃতীয় উপায় তাওহীদ। যারা শিরক করে তাদের আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। তাই সকলের বিশুদ্ধ তাওহীদের জ্ঞান আহরণ আবশ্যক। কেননা তাওহীদ অন্তরকে পবিত্র করে। অতএব সে তাওহীদের স্বরুপ কি তা এ বই পাঠের মাধ্যমে পাঠক জানতে পারবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এক বর্ণনায় বলেন, "কোন আমলই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কে অতিক্রম করতে পারেনা এবং তা কোন গুনাহকে মাফ না করিয়ে ছাড়ে না।"। (ইবনে মাজাহ) ➤ সমালোচনা : বইতে বানানভুল, স্পেস সমস্যা নযরে আসেনি। সমালোচনা করার মত কিছুই দৃষ্টিগোচর হয়নি। আলহামদুলিল্লাহ। ➤ মন্তব্য : মহান আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য, তার সামনে পবিত্র অন্তর নিয়ে দাঁড়ানোর জন্য মাগফিরাতের প্রয়োজনীয়তা অনেক। এ বইতে মাগফিরাতের সমস্ত কলাকৌশল খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। পরিশেষে দুটি নাসিহা পেশ করছি, হাদিস থেকে, রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্নিত, আল্লাহ্ তাআলা স্বয়ং নিজে বলেছেন, 'হে আদম সন্তান! যদি তুমি দুনিয়া পরিমান গুনাহ নিয়ে আমার কাছে হাজির হও, আর আমার সাথে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর তাহলে আমি দুনিয়া পরিমান মাগফিরাত(ক্ষমা) নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসব।' (সুনানে তিরমিজি) কুরআন থেকে, তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। (সূরা নূর, আয়াত: ২২)
‘মাগফিরাতের পথ ও পাথেয়’ বইটিতে মাগফিরাত লাভের তিনটি উপায়ের কথা বর্ণনা করা হয়েছে; 1. আশাবাদী মনে দুয়া করা, 2. তওবা ও ইস্তিগফার এবং 3. তাওহীদ। আল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন, “হে আদমসন্তান, তুমি যতদিন আমাকে ডাকতে থাকবে এবং আমার কাছে আশা করতে থাকবে, তোমার দ্বারা যা কিছু গুনাহ হয়েছে আমি তা ক্ষমা করে দেবো। আর এ ব্যাপারে আমি কোনো পরোয়া করি না। হে আদমসন্তান, তোমার গুনাহ যদি আকাশের মেঘমালায়ও উপনীত হয়, এরপর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবুও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো; এতে আমার কোনো পরোয়া নেই। হে আদমসন্তান, তুমি যদি জমিন পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার কাছে এসে উপস্থিত হও, আর আমার সাথে যদি কিছু শরিক না করে থাকো, তবে আমিও সেই পরিমাণ মাগফিরাত (ক্ষমা) নিয়ে তোমার নিকট আসব। বই - মাগফিরাতের পথ ও পাথেয় লেখক - ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহ.























