

Buy মাআল আইম্মাহ Online in Bangladesh
লেখক: ড. সালমান আল আওদা
- Author: ড. সালমান আল আওদা
- Publisher: গার্ডিয়ান পাবলিকেশনস
- Isbn: 9789849633563
- Number Of Pages: 256
- Language: বাংলা
- Edition: প্রথম প্রকাশ : ১০ মার্চ ,২০২২
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দ্বীনকে সহজতর উপায়ে মানুষের নিকট তুলে ধরতে ইলমুল ফিকহে যে চারজন ইমামের অবদান সর্বাধিক, তাঁরা হলেন—ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)। এ চার ইমামের জীবন ও কর্মই সংক্ষিপ্তরূপে বর্ণিত হয়েছে মাআল আইম্মাহ-এর প্রতিটি পৃষ্ঠায়। এর সুরভিত পাঠ পাঠককে নিয়ে যাবে বহুকাল আগের সেই সোনালি যুগে—যেখানে তাঁরা বেড়ে উঠেছেন, ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে গড়েছেন জগৎখ্যাত ফকিহ হিসেবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
আমাদের মা আমাদেরকে ছোট্টবেলায় গোশত ক!মড় দিয়ে ছিঁড়ে অনেক সময় চিবিয়ে তারপর আমাদের মুখে দেয়। এর পেছনে একটা মারাত্মক দরদ কাজ করে। এটাই যদি আমরা বড় হওয়ার পর ভাবি, আমরা কি অন্যের মুখের খাবার নিজের মুখে নিতে পারবো? শুরুতেই হয়তো বলবো ওয়াক থু। বড়রা আমাদের জন্য শফকতের মাধ্যমে অনেক কিছু করে গিয়েছেন। আমরা যদি তাদের বিষয়গুলো শ্রদ্ধার সাথে বোঝার চেষ্টা করি তাহলে আমাদের শ্রদ্ধা বাড়তেই থাকবে। আর যদি নিজেকেই সব মনে করে বড়দের কাজগুলো দেখি, শ্রদ্ধা তো বাড়বেই না উল্টো নিন্দা করেই আমলের পাল্লা খালি করে ফেলবো। মাআল আইম্মাহ বইটি চার ইমামের শানে চমৎকার এক সংকলন। শুরুতেই একটি ভূমিকায় তৎকালীন পরিবেশ ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই অংশে দু'টো শিরোমামেরশিরোনামের আলোচনা মনে ধরেছে। ১/ হক কি চার মাজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ? ২/ইমামদের ইলম ও চারিত্রিক অবস্থান এই অংশে একটি চমৎকার কথা শেয়ার করি।লেখক লিখেছেন, "বর্তমান যুগে একজন প্রভাবশালী আলেম ও গ্রহণযোগ্য ফকিহর একটা ব্যক্তিগত অফিস থাকা অতীব জরুরী। যেখান থেকে তাঁর ইলমী খেদমতগুলো পরিচালিত হবে। তাঁর বই, প্রবন্ধ নিবন্ধ, গবেষণাকর্ম, কনফারেন্স, সেমিনার, কাজ ও সময় সবকিছু ম্যানেজ করা হবে। এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।একদিন সেখান থেকে তৈরি হবে একদল বিদগ্ধ ফকীহ ও প্রাজ্ঞ আলিম। পরবর্তী সময়ে তারাই সেই আলেম বা ফকীহর যোগ্য উত্তরসূরী হবে। " আবু হানীফার যেমনটা ছিলো। এরপর ওয়াফাত সাল এর ধারাবাহিকতায় চার ইমামের আলোচনা এসেছে। প্রথম এসেছে ইমামে আযম আবু হানীফা নোমান ইবনে সাবেত রহঃ এর আলোচনা। এই অংশের সবচেয়ে চমৎকার আলোচনা মনে হয়েছে, আবু হানীফা কিভাবে তার উস্তাদের মসনদে বসেছিলেন। যুগ তাকে ফকিহ বানিয়েছে। তিনি ছিলেন মাদরাসাতুর রায়-র প্রতিষ্ঠাতা। এই অংশে আরেকটি আলোচনা সুন্দর ছিলো। "ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহঃ বলেন,আমরা ইতোপূর্বে আহলুর রায়কে অভিশাপ দিতাম।তারাও আমাদেরকে অভিশাপ দিতো।অবশেষে ইমাম শাফেয়ী রহঃ এসে আমাদের মাঝে সমন্বয় সাধন করলেন।আমাদের মাঝে বিদ্যমান ভুল বুঝাবুঝির নিরসন করলেন।" এই ঘটনার অধীনে দীর্ঘ আলোচনা এসেছে খুব সুন্দর করে। দ্বিতীয় নম্বরে এসেছে ইমামু দারিল হিজরহ মালেক ইবনে আনাস রঃ এর আলোচনা। আমরা জানি,অনেকগুলো প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন "আমি জানি না।" আমরা কি জানি," তিনি ততক্ষণ ফতোয়া দেন নি যতক্ষন ৭০ জন আলিম তাকে ফতোয়া প্রদানের যোগ্য বলে সাক্ষ্য দেন নি"! এই অংশের সবচেয়ে চমৎকার আলোচনা এসেছে "নেতৃত্ব দেওয়ার আগে যোগ্যতা অর্জন করুন" শিরোনামের অধীনে। তৃতীয় নম্বরে এসেছে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস শাফেয়ী রহঃ এর আলোচনা। ইমাম শাফেয়ী আর ইমাম আবু ইউসুফ দু'জনেরই পুরো জীবনই আমার জন্য আদর্শ। আমার তালীমী মুরব্বি মুফতি হাবীবুর রহমান ইসলামবাগী সাহেব আমাকে প্রায়ই তাদের অসহায়ত্ব ও গরিবানা জিন্দেগীর গল্প শুনিয়ে সাহস জোগাতেন। এই অংশে অনেকগুলো বিষয়ই চমৎকার। ইলমের প্রতি তীব্র আগ্রহ, বিতর্কের শিষ্টাচার : তর্কের সৌন্দর্য। আর রিসালাহ গ্রন্থ। আর রিসালা আমি অনেক আগেই পড়েছিলাম। কিন্তু বোঝার যোগ্যতা আমার তখন ছিলো না। আশ্চর্য, ইমাম শাফেয়ীর ব্যাপারে "শীয়া ও মু'তাজিলা " হওয়ার অভিযোগ ছিলো! এত বছরেও একটা বারের জন্যও আমার কানেও পড়ে নি,চোখেও বাড়ি খায় নি। চতুর্থ নম্বরে এসেছে ইমামু আহলিস সুন্নাহ আহমাদ ইবনু হাম্বল রহঃ এর আলোচনা। এই অংশে "তাফসীর ও হাদীসের প্রতি আগ্রহ" শিরোনামে জানলাম,তাফসীরে কাবীর নামে তার একটি তাফসীর গ্রন্থ সংকলিত হয়েছিলো। সেটির সন্ধান কেউ দিতে পারলে কৃতজ্ঞ থাকবো। খলকে কুরআনের মাসআলায় ইমাম আহমাদের অবিচলতা থেকে কি আমরা কিছু শিখবো না! ইমাম আহমাদ রহঃ তার জীবনযাপনে গুরবত ও ফকীরীকেই বেছে নিয়েছিলেন। হিম্মত পেলাম নিজের জন্যও। এই অংশের চমৎকার আলোচনার শিরোনাম হচ্ছে, "দুনিয়ার সাথে আমার কী সম্পর্ক! " তার জানাযায় অংশগ্রহণ করেছিলো..............…............................ أولائك آبائي فجئني بمثلهم নিজেকে গড়তে হবে বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে। আদর্শের বারোটা বাজিয়ে কেউ হকের মানদণ্ডে টিকতে পারে না। মাআল আইম্মাহ। 🖋️ জহির বিন আইয়ুব ০৮/১২/২০২৫ সোমবার

মাশা আল্লাহ উস্তাদে মোহতারাম সাইফুল ইসলাম তাওহীদ হাফিযাহুল্লাহ অসাধারণ খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন উম্মাহর জন্য।



এই গ্রন্থে চার ইমামের জীবনের বিভিন্ন বিষয় অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্য প্রখ্যাত স্কলার ড. সালমান আল আওদাহকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ তায়ালা যেন তার এই পরিশ্রমের বিনিময়ে উত্তম জাজা দান করেন।

ড.সালমান আল আওদাহ, মজলুম আলিম যিনি সত্য ন্যায় হক কথা বলার কারনে সৌদি কারাগারে বছরের পর বছর বন্দীত্ব জীবন অতীবাহীত করছেন, লেখকের জনপ্রিয় গ্রন্থ মাল মুস্তফা বিখ্যাত সীরাহ গ্রন্থ যা গার্ডিয়ান বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, লাখ লাখ কপি সেল করেছেন, লেখকের মাআল আইম্মাহ মা-আল্লাহ সমানভাবে প্রসিদ্ধ
ইসলাম বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন কুসংস্কারে আক্রান্ত হয়েছে। আর তা ছেঁকে ছেঁকে বিশুদ্ধ করেছে আমাদের মুজাদ্দিদ ও ইমামগণ। তন্মধ্যে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলছে আমাদের চার ইমাম।























