

Buy লেখালেখি Online in Bangladesh
লেখক: শাহাদুজ্জামান
- Author: শাহাদুজ্জামান
- Publisher: ঐতিহ্য
- Isbn: 9789848863909
- Number Of Pages: 111
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা মননশীল কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান লেখালেখি করছেন দু’দশকের বেশি সময় ধরে। এই বইয়ে তাঁর নিজের লেখালেখি, পছন্দের লেখক, প্রিয় বই ইত্যাদি বিষয়ক লেখাগুলো সংকলিত হলো। ভূমিকা লেখালেখি করছি দু’দশকের উপর। নিজের লেখালেখি, পছন্দের লেখক, প্রিয় বই ইত্যাদি সংক্রান্ত আমার রচনাগুলো সংকলিত হলো এই বইয়ে। সবগুলো লেখাই ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। একটি রচনা সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠন ‘প্রস্তুতিপর্বের’ একিট অনুষ্ঠানে পাঠ করেছিলাম। লন্ডন ভিত্তিক সংগঠন ‘লিংকবাংলার’ পক্ষ থেকে আমার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, যেখানে কথা বলেছিলাম আমার লেখালেখি নিয়ে, বইয়ে অন্তর্ভুক্ত হলো সাক্ষাৎকারটিও। বইটি প্রকাশের জন্য প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানাই। শাহাদুজ্জামান সূচিপত্র* রবীন্দ্রনাথ : ব্যক্তিগত লোকাজ* শহীদুল জহিরের মৃত্যু : থেমে গেল দক্ষিণ মৈশুন্দি আর ভূতের গলির গল্প* আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ : প্রস্তুতিপর্বের একটু আধটু* আখতারুজ্জামান ইলিয়াস : অন্তর্দীপ্তির লেখক* উজান : হাসান আজিজুল হকের বাড়ি* সুচরিত চৌধুর : ঘুড়িটা সাদা কিন্তু লাল* মিলান কুন্ডেরার লাইফ ইজ এলসহোয়ার* ক্রাচের কর্ণেল : প্রেক্ষাপট* বইমেলা* ঝগড়াপুরের লেখক ইওস ভ্যান বুরদেনের সঙ্গে আলাপ* আমার লেখালেখি : একটি সাক্ষাৎকার
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Good.

শাহাদুজ্জামান বিবিধ বিষয়ে লেখালেখি করেন। গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার প্রভৃতি বিষয়ে দীপ্তি ছড়াচ্ছেন বহুদিন ধরে। তাঁর দীর্ঘদিনের লেখালেখি এবং প্রিয় লেখকদের ব্যপারে ছোটখাটো মতামতের নিমিত্তে বইটি লেখা। বইটিতে ৯ টি প্রবন্ধ এবং দুইটি সাক্ষাৎকার আছে। তার মধ্যে একটি সাক্ষাৎকার স্বয়ং লেখকের। প্রথমেই আসে রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখকের যে ফ্যান্টাসি কাজ করে তাই নিয়েই মূলত প্রবন্ধটা। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ কম সমালোচিত নন।এমনকি যখন নোবেল পুরস্কার লাভ করলেন তখনও বিশ্ব দরবারে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।রবীন্দ্রনাথ আসলে সর্ব স্তরের লেখা লিখতে পারেন নি তার আভিজাত্যের কারণে। এখানে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেটা রবীন্দ্রনাথের ব্যর্থতার বিষয়ে একটি দায় বলা যায়। তারপর শহীদুল জহির যেরকম প্রচারবিমুখ লেখক ছিলেন, তার কোনো কোনো সহকর্মী পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি লেখালেখি করেন। জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা কিংবা ভূতের গলির গল্পের মাধ্যমে তিনি যে তৎকালীন সময়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছেন তা বিরল। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা লিখতে লেখকের যে পরিশ্রম করতে হয়েছে তা নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন শাহাদুজ্জামান।ইলিয়াস সাহেবের ভারাক্রান্ত মনের কারণ খুঁজেছেন নিজ থিকেই। হাসান আজিজুল হকের রাজশাহীর বাসায় চট্টগ্রাম থেকে গিয়েছেন সাক্ষাৎকার নিতে। রাত একটা পর্যন্ত সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরেছেন নিজ ডেরায়। আরো অনেক রোমাঞ্চকর স্মৃতি নিয়ে কথার বুননে পাঠককে মুগ্ধ করেছেন। বই মেলা নিয়ে একটি প্রবন্ধ আছে, সেখানে বলেছেন যে বইকে পণ্য হিসেবে প্রচার করার কারণে এর মান কিছুটা হলেও কমে যাচ্ছে।যেসব দেশে এত নিয়মিত মেলা হয়না তাদেরও সাহিত্যও কিন্তু সমৃদ্ধ। তবে বইটাতে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো একটি সাক্ষাৎকার। ডাচ গবেষক ইওস ভ্যান বুরদেন এবং ইয়েনেকো আরেন্স ১৯৭৩ সালে গবেষণার কাজে বাংলাদেশে আসেন।তখন তারা গবেষণার জন্য কুষ্টিয়ার একটি গ্রামকে বেছে নেন।দীর্ঘ একবছর সেই এলাকার মানুষকে পর্যবেক্ষণ করে একটি বই লিখেন।তারা ওই গ্রামে থাকতে সবচেয়ে বেশি ঝগড়ার মুখোমুখি হন এবং গবেষণাগ্রন্থটির নাম দেন 'ঝগড়াপুর'। বইটি পরবর্তীতে বেশ আলোচিত হয়। আমারও ইচ্ছা আছে বইটি পড়ার। শাহাদুজ্জামানের মননশীল লেখনীতে বরাবরের মতই মুগ্ধ। কয়েকজন লেখক সম্পর্কে বিদগ্ধ আলোচনা করেছেন যা কৌতুহলী পাঠক মাত্রই পড়ে আনন্দ পাবেন। শুভপঠন ❤️❤️❤️

লেখালেখিঃ গুণর প্রশংসা আর গুণ কীর্তন এক জিনিস নয়। গুণের প্রশংসা যদি হয় আগুন তবে গুণ কীর্তন হবে ভস্মীভূত ছাই। গুণের প্রশংসা আমার কাছে একটা শিল্প, উচুমানের শিল্প। সবার দ্বারা গুণের প্রশংসা করা হয়ে উঠেনা, যেটা হয়ে উঠে সেটা গুণ কীর্তন। এই কাজটা আমার মতে দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ কাজ, স্রোতের অনুকূলে দাঁড় বাওয়ার মতো এবং গুণ কীর্তন যে শেষ পর্যন্ত তৈল মর্দনে পর্যবাসিত হয় তার উদাহরণ আমাদের জীবনের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে আছে। স্রোতের প্রতিকূলে দাঁড় বাওয়াটা পরিশ্রমের কাজ সেখানে নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে জীবনী-শক্তি ব্যয় করতে হয়। গুণ প্রশংসা সেই প্রতিকূলের কাজ, কারও গুণ প্রশংসা করতে গেলে নিজের অনেক বড় অর্জনকে তুচ্ছ জ্ঞানে স্বীকার করে নিতে হয়, অন্যের অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে রাখতে হয় বিনয়ী। শাহাদুজ্জামানের "লেখালেখি" বইটি বিনম্রতার এক উদাহরণ। বইয়ের একটি অংশে লেখক আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন সুনিপুণ ভাবে, ইলিয়াসের লেখনি শক্তির গুণ প্রশংসা করেছেন তাকে টোটালি বিচার বিশ্লেষণ করে। আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের "খোয়াবনামা" "চিলেকোঠার সেপাই" উপন্যাসের প্রেক্ষাপট, চরিত্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন নৈব্যক্তিক ভাবে। হাসান আজিজুল হক ও সুচরিত চৌধুরী সম্পর্কে লিখেছেন। লেখকের নিজের উপন্যাস "ক্রাচের কর্নেল" এর বিশাল প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন একদম সাধারণ ভাবে। এই উপন্যাস লিখতে গিয়ে লেখক পরিশ্রমকে মেনে নিয়েছেন অবলীলায়। বইয়ের শেষ অংশে লেখকের নিজের সাক্ষৎকারে তুলে ধরেছেন নিজের জীবনের কথা, লেখক হয়ে উঠার কথা। সবকিছু মিলিয়ে শাহাদুজ্জামানের এই বইটি উনাকে চিনতে সহযোগিতা করেছে আমাকে। একজন লেখক অন্য আরেকজন লেখকের কাছে একজন পাঠকমাত্র, শাহাদুজ্জামান হয়তো তাই বলতে চেয়েছেন লেখালেখি-তে।

লিখিয়েদের নিয়ে লেখালেখির সংকলন এ বই। কাদের নিয়ে লিখেছেন সুস্বাদু গদ্যকার শাহাদুজ্জামান? রবীন্দ্রনাথ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, মিলান কুন্ডেরাদের সাহিত্যজীবন আর লেখনী নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বইতে তার গৃহীত সাক্ষাৎকার আছে, আছে নিজের দেয়া সাক্ষাৎকারও-এসব বইকে বেশ বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে। নিজে ব্যক্তিগতভাবে মেডিকেলের শিক্ষার্থী ছিলেন শাহাদুজ্জামান। কিন্তু সাহিত্যের প্রতি অনুভূতি সৃষ্টিতে তা বাঁধা হতে পারেনি। বাবা আর মায়ের সাহিত্য সম্পর্কে আগ্রহ সন্তান হিসেবে ধারণ করেছেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যজীবন এতো ব্যাপক যে, তা নিয়ে ক্ষুদ্র কায়ার একটি প্রবন্ধে আলোচনা সম্ভব নয়। তবুও শাহাদুজ্জামান নিজস্ব ভঙ্গিতে শব্দের সাথে শব্দ জুড়ে দিয়ে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে নিজের ধারণা পাঠককে জানিয়েছেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের সাথে তার অন্তরঙ্গতা কতো নিবিড় ছিলো তা বুঝতে পারা যায় এই জিনিয়াসকে নিয়ে লেখা প্রবন্ধ দুটো পড়লেই। "খোয়াবনামা " কিংবা "চিলেকোঠার সেপাই " লেখার বাস্তব ভিত্তি কোথায় পেয়েছিলেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তার সদুত্তর গদ্যচ্ছলে পাঠককে জানিয়ে দেন শাহাদুজ্জামান। শহীদুল জহির মিডিয়ার আলোয় আলোকিত হননি, শহীদুল জহির অনন্য উচ্চতার গদ্যশক্তিতে ভরপুর এক মানুষ। কলিকাতার ভিন্নমাত্রিক লেখকদের নিয়ে আলোচনার অন্ত নেই। অথচ, শহীদুল জহির বাংলাদেশে ভিন্নমাত্রিক লেখনীর জোয়ার এনেছিলেন। তার ব্যক্তিজীবন আর সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশ্লেষণী লেখাটি হাহাকার আনে পাঠক মনে আর প্রচন্ড আগ্রহ জাগায় শহীদুল জহির পাঠ করতে। হাসান আজিজুল হকের সাথে ব্যক্তি হিসেবে শাহাদুজ্জামানের সখ্যতা দীর্ঘদিনের। সেই সখ্যতা আর হাসান আজিজুল হকের সাহিত্য রচনার উপাদান নিয়ে সল্পদৈর্ঘ্যের প্রবন্ধ। মিলান কুন্ডেরার "Life is elsewhere " নিয়ে লিখতে বসে শাহাদুজ্জামানের গদ্যের জাহাজ কুন্ডেরাকে ছাড়িয়ে বিশ্বসাহিত্যে চক্কর দিয়ে আসে। শাহাদুজ্জামান তার "ক্রাচের কর্ণেল" লেখার উপাদান কীভাবে পেলেন? কোন দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি, বিপ্লবের স্বপনে মশগুল আবু তাহেরকে নিয়ে লিখলেন "ক্রচের কর্ণেল"? এসবই গল্পচ্ছলে বলে যান তিনি। দেশস্বাধীন হওয়ার পর এনজিও "কারিতাসের " দুই নেদারল্যান্ডের নাগরিকের সেসময়ের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে "ঝগড়াপুর " নামে একটি গবেষণাগ্রন্থ লিখেছিলেন। সেই দুই ব্যক্তির দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন শাহাদুজ্জামান। এই সাক্ষাৎকার যুুদ্ধত্তোর বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মনোজগৎ বুঝতে সহায়ক হবে। তবে ভুলে গেলে হবে না, এই দুই বিদেশী এনজিও কর্মী হিসেবে তৎকালীন বাংলাদেশকে উপস্থাপন করবেন, সেইসাথে তুলনা করবেন বর্তমান বাংলাদেশকে। শাহাদুজ্জামান ২০১০ সালে একটি সংগঠনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সেই আলাপচারীতায় খোলামেলা কথা বলেছেন লেখালেখি নিয়ে একান্তই নিজে কী ভাবেন,কাদের লেখা পড়েন কিংবা লেখালেখি র ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই সাক্ষাৎকারটা বেশ ভালো। এই বইয়ের সবচেয়ে দূর্বল দিক মনে হয়েছে সমন্বয়হীনতা অর্থাৎ, চমৎকারসব কনটেন্ট থাকার পরও কোথায় যেন একটা অগোছালোভাব ছিলো। ওভারঅল,ভালো ছিলো ।




















