Buy বদরুদ্দীন উমর : রচনা সংগ্রহ ১ Online in Bangladesh
লেখক: বদরুদ্দীন উমর
- Author: বদরুদ্দীন উমর
- Publisher: শ্রাবণ প্রকাশনী
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রচনা সংগ্রহ ১ম খণ্ড সাম্প্রদায়িকতা সংস্কৃতির সংকট সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি (প্রথম খণ্ড) বদরুদ্দীন উমর একালের একজন অগ্রগণ্য মার্কসীয় রাজনীতিবিদ এবং শীর্ষস্থানীয় চিন্তক। বিনা তর্কে এ কথা মেনে নেওয়া যায়। তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক তৎপরতা প্রবহমান। সেই সঙ্গে নানামুখী চিন্তার প্রকাশ তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাঁর রাজনীতি এবং চিন্তা দুইই পরস্পর সম্পর্কিত—অবিচ্ছেদ্য। তিনি মানুষের চিন্তার সঙ্গে মানুষের রাজনৈতিক চরিত্র বিচার করতে আগ্রহী। কারণ মানুষের রাজনৈতিক চরিত্র তার চিন্তাকে প্রকাশ করে; আবার মানুষের চিন্তাভাবনাও তার সামাজিক রাষ্ট্রিক ও রাজনৈতিক চরিত্রকে তুলে ধরে। বদরুদ্দীন উমরের সমস্ত চিন্তাভাবনার গোড়ায় রয়েছে এইরকম এক মৌল নীতি। চিন্তাক্ষেত্রে, তিনি ইতিহাসের সমস্ত ঘটনার মধ্যে রাজনীতির শক্তিকে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। দর্শনগত এই মৌল নীতি তাঁর চিন্তাভাবনার প্রধান কথা। বদরুদ্দীন উমরের এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় নব্বই। এ গ্রন্থগুলির অধিকাংশই আজ আর বাজারে পাওয়া যায় না। তিনি বাংলা এবং ইংরেজি দু-ভাষাতেই অক্লান্তভাবে লিখেছেন এবং লিখছেন। দু-ভাষাতেই তাঁর সমান দখল। তাঁর অজ¯্র লেখালেখির সঙ্গে আমাদের সবার পরিচয় সমান নয়। বিশেষত, আজ যাঁদের বয়স ত্রিশ, তাঁদের চেষ্টা থাকলেও বদরুদ্দীন উমর তিন-চার দশক আগে কী লিখেছেন, সেটা তাঁদের জানার কোনো উপায় নেই। অন্তত এই বিবেচনাতেও তাঁর রচনাবলী আরো দশ বছর আগে থেকে প্রকাশ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর রচনাবলীর ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব, সাংস্কৃতিক ও সমকালীনতার গুরুত্ব আজ কারো অজানা ব্যাপার নয়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনায় ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ব্যাখ্যায় তাঁর অতুলনীয় অবদানের কথা জানতে হলে তাঁর সমস্ত রচনা পাঠকদের সামনে থাকা দরকার।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বদরুদ্দীন উমরের অজস্র লেখা প্রথম খণ্ডে ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘সাংস্কৃতিক সংঙ্কট’, ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’, ‘পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তত্কালীন রাজনীতি’ ইত্যাদি বইয়ের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। প্রথম গ্রন্থে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ কীভাবে এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দিয়েছিল এবং কেন তা বিকশিত হতে পেরেছিল, বিকশিত হয়ে আজ কি অবস্থায় সেটার চর্চা হচ্ছে তা নিপুনভাবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ রাজত্বে গোয়েন্দা বিভাগের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং কর্মতত্পরতা সর্ববিদিত। এহেন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মচারীগণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার এতো বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ ছিল একথা সর্ম্পূণ অবিশ্বাস্য। যে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগ সন্ত্রাসবাদীদের সতর্কতা এবং সাবধানতা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সময় তাদেরকে গোপন স্থানগুলি থেকে একটি একটি করে খুঁজে বের করতে সমর্থ ছিল সেই গোয়েন্দা বিভাগ বিহার দাঙ্গার এত সৃবিস্তৃত প্রস্তুতির কোনই খবর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়নি এ যুক্তি নিতান্তই অক্ষম। এর অসারতা প্রমাণের জন্য বেশি আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। ভারতবর্ষকে নিজেদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভক্ত করার কাজকে সহজ এবং ত্বরান্বিত করার জন্য ভারতবাসীর চেতনায় যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়োজন ছিল সে বিভ্রান্তি তারা দাঙ্গার মাধ্যমেই সৃষ্টি করেছিল সম্পূর্ণ এবং চরমতমভাবে। কংগ্রেস-লীগের নেতৃবৃন্দকে নানাভাবে আলোচনার গন্ডীর মধ্যে আবদ্ধ রেখে এবং প্রয়োজনমতো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়ে তারা নিজেদের পরিকল্পনার উপযোগী ক্ষেত্র প্রস্তুত করত সমর্থ হয়েছিল। এজন্য ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতবর্ষ যেভাবে বিভক্ত হলো সেটা কংগ্রেস-লীগের যৌথ পরিকল্পনা অনুযায়ী নয়। দেশ বিভক্ত হল ইংরেজদের পরিকল্পনা অনুযায়ী। তার ফলে তারা শুধু ভারতবর্ষকে ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তানে’ ভাগ করল তাই নয়। তারা বিভক্ত করলো বাংলাদেশ। বিভক্ত এবং বিধ্বস্ত করলো পাঞ্জাব। অনেক কৌশলে তারা বিভক্ত করলো কাশ্মীর (এ ব্যাপারে মাউন্টব্যাটেনের দক্ষতা প্রশংসনীয়) এবং তার মাধ্যমে আজ পর্যন্ত পাক-ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতাকে রাখলো অনির্বাণ।’























